৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৯৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৯৭১
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদায় গিয়ে বলতেনঃ “আল্লাহুম্মাগফিরলি যাম্বি কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আউয়ালুহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলানিয়াতাহু ওয়া সিররাহু”অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়।
৯৭২
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু ও সিজদায় এ দোয়া অধিক পরিমাণে পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফির লি।” অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমার প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।” তিনি কুরআনের উপর আমল করতেন।
৯৭৩
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে এই দোয়াটি খুব বেশি মাত্রায় পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক”। অর্থাৎ, “মহান পবিত্র আল্লাহ, সকল প্রশংসা প্রাপ্য একমাত্র তাঁর, আমি তোমার নিকট সকল পাপের ক্ষমা চাচ্ছি ও তাওবা করছি।”রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে এ সব নতুন বাক্য পড়তে দেখছি- এগুলো কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে আমার একটি নিদর্শন বা চিহ্ন রাখা হয়েছে। যখন আমি তা দেখি তখন এগুলো বলতে থাকি। আমি দেখেছি: “ইজা-জা-আ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ” সূরার শেষ পর্যন্ত।
৯৭৪
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
“ইজা-জা-আ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ” (সূরা আন-নাসর) নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি নবী (ﷺ)-কে এ দোয়া পাঠ করা ব্যতিরেকে কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি। অথবা তিনি সেখানে (সালাতে) বলতেনঃ “সুবহানাকা রব্বি ওয়াবি হামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি”। অর্থাৎ ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন’।
৯৭৫
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিক সংখ্যায় এ দোয়া পড়তেনঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি আসতাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি”। অর্থাৎ, “মহান পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তাঁর কাছে তাওবা করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি।”রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে অধিক সংখ্যায় এ কথা বলতে দেখেছি “সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি আসতাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি”।রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। যখন আমি সে আলামত দেখতে পাই তখন অধিক সংখ্যায় এ দোয়া পাঠ করতে থাকিঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি আসতাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি”। সে নিদর্শন সম্ভবত এই “ইজা-জা-আ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ...”। অর্থাৎ “যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং বিজয় লাভ হবে (অর্থাৎ- মাক্কা বিজয়), তুমি দেখতে পাবে, দলে দলে লোক আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে; তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তাঁর তাসবীহ করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি খুবই তাওবা গ্রহণকারী। (সূরা আন-নাসর)
৯৭৬
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়য (রহঃ)
আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকুতে কি পড়েন? তিনি বলেন, “সুবহানাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলাহা ইল্লা- আনতা।” অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই।” কেননা ইবনু আবু মুলাইকা আমাকে আয়িশার সূত্রে অবহিত করেছেন যে, তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী (ﷺ)-কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারণা করলাম, তিনি হয়তো তাঁর অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তাঁর খোঁজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকু অথবা (রাবীর সন্দেহ) সিজদায় আছেন এবং বলছেন “সুবহানাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলাহা ইল্লা- আনতা।” আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারণায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন।
৯৭৭
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিছানায় পেলাম না। আমি তাঁকে খোঁজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তাঁর উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সিজদায় ছিলেন এবং তাঁর পা দুটো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলেছেনঃ “আল্লাহুম্মা আউযু বিরিজাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমুআফাতিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আউযুবিকা মিনকা লা উহসি সানাআন আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা আলা নাফসিকা”।অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চাই। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রূপ।”
৯৭৮
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু ও সিজদায় এ দোয়া পড়তেনঃ “সুব্বূহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ”। অর্থাৎ “সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ) –এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র”।
৯৭৯
রুকু’-সাজদায় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৯৮০
সাজদার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
মা’দান ইব্‌নে তালহাহ্‌ আল ইয়া’মারী (রহঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আজাদকৃত গোলাম সাওবান (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, আমাকে একটি কাজের কথা বলে দিন যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর প্রিয়তম ও পছন্দনীয় কাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন।আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখন আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। মাআদান বলেন, অতঃপর আমি আবু দারদা (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। সাওবান (রাঃ) আমাকে যা বলেছেন, তিনিও তাই বললেন।