৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৮৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৮৩১
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আমি সোমবার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে শেষবারের মতো দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরিয়ে ছিলেন। এ মর্মে সালিহ-এর হাদিস অধিক পূর্ণাঙ্গ।
৮৩২
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
যখন সোমবার দিন হলো,......... পূর্বের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৮৩৩
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) তিন দিন যাবৎ আমাদের কাছে আসতে পারেননি। সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলো। আবু বকর (রাঃ) সামনে এগুতে যাচ্ছিলেন। নবী (ﷺ) নিজের হুজরার পর্দা উঠাতে বলে তিনি নিজেই তা উঠিয়ে ফেললেন। আমাদের সামনে নবী (ﷺ)-এর চেহারা দেখা গেল। তিনি যখন আমাদের জন্য দেখা দিলেন, তাঁর চেহারা এত সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমরা ইতোপূর্বে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি।রাবী (আনাস) বলেন, নবী (ﷺ) নিজের হাতের ইশারায় আবু বকরকে সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত পড়াতে বললেন। অতঃপর আল্লাহর নবী (ﷺ) পর্দা টেনে দিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি আর বাইরে বের হতে পারেননি।
৮৩৪
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মুসা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং তা দিন দিন বাড়তে লাগল। তিনি বললেন: আবু বকর (রাঃ)-কে লোকদের সালাতের ইমামতি করতে বলো। আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আবু বকর (রাঃ) নরম হৃদয়ের মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকেদের সালাত পড়ানোর শক্তি তাঁর নেই। তিনি বললেন আবু বকরকে নির্দেশ দাও, সে যেন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। তোমরা তো ইউসুফের ঘটনা সংক্রান্ত মহিলাদের মতই। রাবী বলেন, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবিত থাকাবস্থায় তাঁদের সালাতে ইমামতি করলেন।
৮৩৫
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া পরিচ্ছেদ নাই
সাহল ইবনু সা'দ আস্ সা'ইদী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনি আমর ইবন আওফ গোত্রের মধ্যে (তাদের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। সালাতের সময় হয়ে আসলো। মুয়াজ্জিন এসে আবু বকর (রাঃ)-কে বলল, আপনি কি লোকদের সালাত আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামত দেই। তিনি বললেন হ্যাঁ।রাবী বলেন, আবু বকর (রাঃ) সালাত আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে গেলেন। তখন লোকেরা সালাত আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবু বকর (রাঃ) সালাতরত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশি তালি বাজাতে লাগল, তিনি এদিকে ফিরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো।আবু বকর (রাঃ) তাঁর দু’হাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত সমাপ্ত করে তিনি বললেন, হে আবু বকর! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপস্থিতিতে আবু কুহাফার পুত্রের জন্য সালাতে ইমামতি করা কক্ষনো মানায় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সালাতে কোনো কিছু ঘটলে সে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সে যখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল তখনই ইমামের কিছু আকর্ষণ করা হলো। মহিলারাই কেবল ‘তাসফীহ’ (হাততালি) দিবে।
৮৩৬
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া পরিচ্ছেদ নাই
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে মালিক
উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ আবু বকর (রাঃ) উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন।
৮৩৭
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা'দ আস্‌ সা'ইদী (রাঃ)
আল্লাহর নবী (ﷺ) বনি আমর ইবন আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করতে গেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সারি ভেঙে সামনের সারিতে আসলেন। আর আবু বকর (রাঃ) উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন।
৮৩৮
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুগীরাহ্‌ ইবনু শু'বাহ্‌ (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুগিরা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁর উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তাঁর উভয় হাত তিনবার ধুয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নিচের দিক দিয়ে বাইরে বের করলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন।মুগিরা (রাঃ) বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌঁছে দেখলাম, লোকেরা আবদুর রহমান ইবন আওফকে সামনে দিয়ে (তাকে ইমাম বানিয়ে) সালাত আদায় করছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাকাত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জামাতে আদায় করলেন। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) সালাম ফিরানোর পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যাধিক পরিমাণে তাসবিহ পাঠ করতে লাগলেন। নবী (ﷺ) সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেন: তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশির সাথে বললেন: তোমরা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করো।
৮৩৯
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া পরিচ্ছেদ নাই
হামযাহ্‌ ইবনু মুগীরাহ্‌ (রাঃ)
আব্বাদ (রাঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবন আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও।
৮৪০
সালাত আদায়রত ইমামকে কোন ব্যাপারে সতর্ক করতে হলে পুরুষ মুসল্লীরা 'সুবহানাল্ল-হ' বলবে এবং মহিলা মুসল্লীরা হাততালি দিবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পুরুষদের জন্য তাসবিহ এবং মহিলাদের জন্য তাসফিক (হাততালি)।হারমালাহ তার বর্ণনায় আরো বলেছেন, ইবনু শিহাব বলেছেন, আমি কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আলিমকে দেখেছি তারা তাসবিহ বলতেন এবং ইশারা করতেন।