৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৮৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৮২১
তাকবীর ও অন্যান্য বিষয়ে ইমামের আগে যে কোন কাজ করা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইয়াহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম এ জন্য নিযুক্ত করা হয় যে, তাঁর অনুসরণ করা হবে। সে যখন তাকবির বলে, তোমরাও তাকবির বলো। সে যখন রুকু করে, তোমরাও রুকু করো। সে যখন “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে, তোমরা তখন “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ” বলো। সে যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো। সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় করো।
৮২২
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বললাম, আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (মৃত্যুকালীন) রোগের অবস্থার বর্ণনা করবেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (ﷺ)-এর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা সালাত আদায় করেছে কি? আমরা বললাম, না, আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন, অতঃপর উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, না, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি (ﷺ) বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন। অতঃপর উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন: আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করে উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারা আপনার অপেক্ষায় আছে।আয়িশা (রাঃ) বলেন, লোকেরা ইশার সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপেক্ষায় বসেছিল। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকরের কাছে লোক পাঠালেন। সংবাদ বাহক (আবু বকরের কাছে) এসে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু বকর (রাঃ) ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি বললেন, হে উমর! লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করো। উমর (রাঃ) বললেন, এজন্য আপনিই অধিক উপযুক্ত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ কয়দিন আবু বকর (রাঃ) সালাত আদায় করালেন।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থ হলেন। তিনি দুজন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যুহরের সালাত আদায় করতে বের হলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ)। ইতিমধ্যে আবু বকর (রাঃ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় শুরু করে দিয়েছিলেন, আবু বকর (রাঃ) তাঁকে দেখে পিছে সরে আসতে উদ্যত হলেন। নবী (ﷺ) তাঁকে ইশারায় বললেন: পিছনে হটে এসো না। তিনি তাদের উভয়কে বললেন, আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাঁকে আবু বকর (রাঃ)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবু বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে নবী (ﷺ) এর অনুকরণে সালাত আদায় করলেন এবং লোকেরা আবু বকর (রাঃ)-এর অনুকরণে সালাত আদায় করল। নবী (ﷺ) বসেই সালাত আদায় করলেন।উবাইদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, নবী (ﷺ)-এর অসুখ সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) যা বলেছেন, আমি কি তা আপনার সামনে পেশ করবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, বলো। আমি তাঁর কাছে আয়িশা (রাঃ) এর দেয়া বিবরণ তুলে ধরলাম। তিনি সামান্যতমও দ্বিমত করলেন না। শুধু বললেন, আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে যে অপর ব্যক্তি ছিলেন, তিনি কি তোমাকে তাঁর নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন আলী।
৮২৩
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বপ্রথম মাইমূনা (রাঃ)–এর ঘরে রোগাক্রান্ত হন। তিনি সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর [আয়িশা (রাঃ)–এর] ঘরে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের স্ত্রীদের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা তাঁকে অনুমতি দিলেন।আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি এক হাত ফজল ইবন আব্বাস (রাঃ)–এর কাঁধের উপর রেখে এবং অপর হাত অন্য এক ব্যক্তির কাঁধের উপর রেখে সামনের পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে) গেলেন।উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)–এর কাছে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি জানো, আয়িশা (রাঃ) যার নাম বলেননি তিনি কে? তিনি হলেন আলি (রাঃ)।
৮২৪
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং উত্তরোত্তর তা বাড়তে থাকল, তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে সেবা শুশ্রূষার জন্য আমার ঘরে আসার এবং থাকার অনুমতি চাইলেন। তাঁরা তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) এবং অপর এক ব্যক্তি কাঁধে ভর দিয়ে মাটিতে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (মসজিদে সালাত আদায় করতে) গেলেন। উবাইদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণনা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পেশ করলাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, আয়িশা (রাঃ) যে (দ্বিতীয়) ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি- তুমি তাঁকে চিনতে পেরেছ কি? উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, না। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন আলী (রাঃ)।
৮২৫
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্(রাঃ)
[রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবু বকর (রাঃ)-কে ইমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে] আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশ্যে আমি কথা কাটাকাটি করি নাই। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাঃ)-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন।
৮২৬
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ অবস্থায় আমার ঘরে এসে বললেনঃ আবু বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো।আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবু বকর (রাঃ) হলেন কোমল হৃদয়ের লোক। কুরআন পাঠ করার সময় তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারবেন না। আপনি যদি আবু বকর (রাঃ)-কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন!আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমার আশঙ্কা ছিল, লোকেরা কুলক্ষণ মনে করবে যে, এ সে ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি দুই-তিনবার আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলাম। কিন্তু তিনি আগের মতই বললেন; আবু বকর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুক। তোমরা তো ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনার মহিলাদের মতো।
৮২৭
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের কথা জানালেন। তিনি বললেন: আবু বকর (রাঃ)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো।বর্ণনাকারী [আয়িশা (রাঃ)] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আবু বকর (রাঃ) কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবে লোকদের (কিরাআত) শুনাতে পারবেন না, আপনি যদি উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিতেন।বর্ণনাকারী [আয়িশা (রাঃ)] বলেন, আমি হাফসা (রাঃ)-কে বললাম- তুমিও তাঁকে বলো। হাফসা তাঁকে বলল, 'আবু বকর কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, লোকদের কিরাআত শুনাতে সক্ষম হবেন না। আপনি যদি উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিতেন!তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সাথী মহিলাদের মতই। আবু বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করতে বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন।বর্ণনাকারী [আয়িশা (রাঃ)] বলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে (মসজিদে) রওয়ানা হলেন। তাঁর দুই পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি যখন মসজিদে ঢুকলেন আবু বকর (রাঃ) তাঁর আগমন অনুভব করে পিছে সরে আসতে প্রস্তুত হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইশারায় বললেন: নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে আবু বকরের বাম পাশে বসলেন।রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে বসে লোকদের সালাত আদায় করালেন এবং আবু বকর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আবু বকর (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অনুসরণ করলেন আর লোকেরা আবু বকরের সালাতের অনুসরণ করল।
৮২৮
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আ'মাশ (রহঃ)
এ সানাদে উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক ও মিনজাবের বর্ণনায় আছে: রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হলেন। ইবনু মুসহিরের বর্ণনায় আছে: রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে আসা হলো এবং তাঁর (আবু বকর) পাশে বসিয়ে দেয়া হলো। নবী (ﷺ) লোকদের সালাত আদায় করালেন এবং আবু বকর তাঁদেরকে তাকবির শুনালেন। ঈসার বর্ণনায় আছে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বসলেন এবং লোকদের সালাত আদায় করালেন। আবু বকর তাঁর পাশেই ছিলেন। আবু বকর লোকদের মুকাব্বির হলেন।
৮২৯
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অসুস্থাবস্থায় আবু বকর (রাঃ)-কে লোকদের সালাতের ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তিনি তাদের সালাত আদায় করাতেন।উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। তিনি সালাত আদায় করার জন্য বের হলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) লোকদের ইমামতি করছিলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁর আগমন বুঝতে পেরে পিছু হটতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইশারায় বললেনঃ যেভাবে আছ সেইভাবে থাকো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সোজা আবু বকরের পাশে বসে গেলেন। সালাতের মধ্যে আবু বকর (রাঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণ করলেন এবং লোকেরা আবু বকরের অনুসরণ করল।
৮৩০
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবু বকর (রাঃ) তাঁদের সালাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা সালাতের লাইনে দাঁড়ানো ছিল, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তাঁর মুখমণ্ডল মুসহাফ তথা কুরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল।রসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। আমরা সালাতের মধ্যে থেকেই নবী (ﷺ)-এর আগমন অনুভব করে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আবু বকর (রাঃ) অনুমান করলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করো।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের হুজরায়) প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন।