৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৮১
যারা বলে, বিসমিল্লা-হ, সূরাহ্ বারাআহ্ (তাওবাহ্) ছাড়া আর সব সূরারই অংশ তাদের দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি ইবনু মুসহির বর্ণিত (উপরোল্লিখিত) হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর অচেতন ভাব দেখা গেল। ..... ইবনু মুসহির-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, কাওসার একটি সুন্দর ঝর্ণার নাম। আমার প্রতিপালক জান্নাতের এ ঝর্ণাধারা আমাকে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এ বর্ণনায় ‘তারকার মতো অসংখ্য পানপাত্রের’ কথা উল্লেখ নেই।
৭৮২
তাকবীরে তাহরীমার পর বুকের নিচে কিন্তু নাভির উপরে বাঁ হাতের উপর দান হাত রাখবে এবং সাজদাহরত অবস্থায় উভয় হাত কাঁধ বরাবর মাটিতে রাখবে পরিচ্ছেদ নাই
ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-কে দেখলেন, তিনি সালাত শুরু করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবির বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন; অতঃপর চাদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বাঁ হাতের উপর রাখলেন। তিনি যখন রুকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতঃপর উভয় হাত উত্তোলন করলেন, অতঃপর তাকবির বলে রুকুতে গেলেন, তিনি যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললেন দু’হাত উঠালেন। তিনি যখন সিজদায় গেলেন, দু’হাতের মাঝখানে সিজদা করলেন।
৭৮৩
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে সালাত আদায় করার সময় (বৈঠকে) বলতাম, ‘আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক’।একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ্‌ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলে, “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাতু আসসালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন” অর্থাৎ “যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।”যখন সে এ কথাগুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দাদের নিকট পৌঁছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। (অতঃপর বলবে) “আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহ” অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল।” অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দু’আ পড়তে পারে।
৭৮৪
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
মানসূর (রহঃ)
উল্লেখিত সূত্রে একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় “অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দোয়া পড়তে পারে।” এ কথাটুকু উল্লেখ নেই।
৭৮৫
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদা ইবনু হুমায়দ- এর সানাদে মানসুর
একই হাদিস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হচ্ছে: অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দোয়া পড়তে পারে।
৭৮৬
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
আমরা যখন নবী (ﷺ) এর সাথে সালাতের মধ্যে বসতাম ... মানসুরের হাদিসের অনুরূপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দোয়া পাঠ করবে।
৭৮৭
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত তাঁর উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, (অধস্তন রাবী আব্দুল্লাহ ইবনু সাখবরা বলেন), অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) অনুরূপ তাশাহুদের বর্ণনা করেছেন।
৭৮৮
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ “আত্তাহিয়্যাতুল মুবারাকাতুস সালাওয়াতুৎ তায়্যিবাতু লিল্লাহিস্ সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা-ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ”।অর্থাৎ “যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা, প্রাচুর্য, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।” ইবনু রুমহ-এর বর্ণনায় আছে: তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন।
৭৮৯
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
(রাসূলুল্লাহ ﷺ) আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন।
৭৯০
সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা পরিচ্ছেদ নাই
হিততান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর্ রাকাশী (রহঃ)
আমি আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদে বসলেন, জামাতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ‘সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরজ করা হয়েছে’। রাবী বললেন, আবূ মূসা (রাঃ) সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে?” লোকেরা নীরব থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে?” এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, “হে হিতান! সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ।” তিনি (হিতান) বললেন, “আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্যে রেগে যান কি না!” এমন সময় লোকদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, “আমি এরুপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম।”আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, “নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবির বলবে, তোমরাও তাকবির বলবে। সে যখন ‘গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায্ যাল্লীন’ বলবে তোমরা তখন ‘আমীন’ বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবির বলে রুকুতে যাবে, তোমরাও তাকবির বলে রুকুতে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকুতে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে।”রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ “এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সিজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে, তোমরা তখন ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ’ বলবে, আল্লাহ তোমাদের এই কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (ﷺ) এর ভাষায় বলেছেনঃ ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবির বলবে এবং সিজ্‌দায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সিজ্‌দায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সিজ্‌দায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজ্‌দা থেকে উঠবে।”রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ “তোমাদের তাকবীর ও সিজ্‌দা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ ‘আত্তাহিয়্যাতু তাইয়্যিবাতুস সালাওয়াতু লিল্লাহ, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।’ অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।”