৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৭১
প্রতি রাক’আতে সুরাহ্‌ ফা-তিহাহ্‌ পড়া অপরিহার্য, কেউ যদি (ভালভাবে) সূরাহ্‌ ফা-তিহাহ্‌ পড়তে বা শিখতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন তার সুবিধামত স্থান থেকে কিরাআত পাঠ করে নেয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন, অতঃপর এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে তাঁকে সালাম দিলে তিনি তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেনঃ যাও পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে সালাম করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ যাও তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তোমার সালাত আদায় হয়নি। তিনি পরপর তিনবার তাকে এ রকম নির্দেশ দিলেন। অতঃপর লোকটি বলল, সে সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন; আমি এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যখন সালাতে দাঁড়াও, তাকবির বল, অতঃপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ মনে হয় তা থেকে পাঠ কর। অতঃপর রুকুতে যাও এবং শান্তভাবে রুকুতে থাক। অতঃপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াও, অতঃপর সিজদায় যাও এবং সিজদার মধ্যে শান্তভাবে থাক, অতঃপর সিজদা থেকে উঠে আরামে বস। সমস্ত সালাত তুমি এভাবে আদায় কর।
৭৭২
প্রতি রাক’আতে সুরাহ্‌ ফা-তিহাহ্‌ পড়া অপরিহার্য, কেউ যদি (ভালভাবে) সূরাহ্‌ ফা-তিহাহ্‌ পড়তে বা শিখতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন তার সুবিধামত স্থান থেকে কিরাআত পাঠ করে নেয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্(রাঃ)
এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মসজিদের) এক প্রান্তে বসা ছিলেন, হাদিসের পরবর্তী অংশ পূর্বের হাদিসের মতোই। কিন্তু এ বর্ণনায় আরও আছেঃ তুমি যখন সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ কর তখন ভালো করে অজু করে নাও। অতঃপর কেবলামুখী হও, অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বল।
৭৭৩
ইমামের পিছনে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করা মুক্তাদীদের জন্য নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যুহর অথবা আসরের সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে আমার পিছনে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى পাঠ করেছ? এক ব্যক্তি বলল, আমি। এর মাধ্যমে কল্যাণই কামনা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছ থেকে কুরআন ছিনিয়ে নিচ্ছে।
৭৭৪
ইমামের পিছনে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করা মুক্তাদীদের জন্য নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এক লোক তাঁর পিছনে সূরা ‘সাব্বিহিস্‌মা রাব্বিকাল আ’লা’ পাঠ করল। সালাত শেষে নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কে সূরা পাঠ করেছে? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেনঃ আমি অনুসন্ধান করেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কোরআন) পাঠ ছিনিয়ে নিচ্ছে।
৭৭৫
ইমামের পিছনে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করা মুক্তাদীদের জন্য নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহর সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) ছিনিয়ে নিচ্ছে।
৭৭৬
‘বিসমিল্লাহ’ সশব্দে না পড়ার পক্ষে দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। আমি তাদের কাউকে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ (সশব্দে) পড়তে শুনিনি।
৭৭৭
‘বিসমিল্লাহ’ সশব্দে না পড়ার পক্ষে দলীল পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ (রহঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ ‏.‏ وَزَادَ قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ أَسَمِعْتَهُ مِنْ أَنَسٍ قَالَ نَعَمْ نَحْنُ سَأَلْنَاهُ عَنْهُ ‏.‏
৭৭৮
‘বিসমিল্লাহ’ সশব্দে না পড়ার পক্ষে দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আবদাহ
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এ কথাগুলো উচ্চস্বরে পড়তেনঃ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ অর্থাৎ “হে আল্লাহ, তোমারই পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং তোমারই শুকর আদায় করি, তোমার নাম বড়ই বরকতপূর্ণ, তোমার মর্যাদা সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া আর কেউ মা’বুদ নেই।” কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) তাকে বলেছেনঃ আমি নবী (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তারা সকলে সালাতে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দিয়ে শুরু করতেন। তারা কিরাআতের শুরুতেও بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ পড়তেন না, শেষেও না।
৭৭৯
‘বিসমিল্লাহ’ সশব্দে না পড়ার পক্ষে দলীল পরিচ্ছেদ নাই
ইসহাক্ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ তালহাহ্ (রহ)
তিনি আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছেন।
৭৮০
যারা বলে, বিসমিল্লা-হ, সূরাহ্ বারাআহ্ (তাওবাহ্) ছাড়া আর সব সূরারই অংশ তাদের দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ তাঁর উপর অচেতন ভাব চেপে বসল। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি বললেনঃ এইমাত্র আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি পাঠ করলেনঃ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’। নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে ‘কাওসার’ দান করেছি। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় কর এবং কুরবানি দাও। তোমার কুৎসা রটনাকারীরাই মূলত শিকড়কাটা, নির্মূল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান ‘কাওসার’ কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ঝর্ণা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেওয়ার জন্য ওয়াদা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে, আমার উম্মতের লোকেরা কেয়ামতের দিন এ হাউযের পানি পান করতে আসবে। এ হাউযে রয়েছে তারকার মত অসংখ্য পানপাত্র (গ্লাস)। এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি তখন বলবঃ প্রভু! সে আমার উম্মতেরই লোক। আমাকে তখন বলা হবে, তুমি জান না, তোমার মৃত্যুর পর এরা কি অভিনব কাজ (বিদআত) করেছে।ইবনু হুজরের বর্ণনায় আরো আছে: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আমাদের কাছে এসেছেন এবং আল্লাহ বলবেন, এ ব্যক্তি আপনার পরে বিদআত চালু করেছে।