৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৪২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৪১১
(রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর) হিজরতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাযিঃ)
একদা আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) আমার পিতার কাছে আসলেন এবং তাঁর থেকে একটি সাওয়ারী ক্রয় করলেন। তারপর তিনি আমার পিতা আযিবকে বললেন, তুমি তোমার ছেলেকে আমার সঙ্গে পাঠাও, সে তা আমার সাথে বহন করে আমার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে আসবে। আমার পিতা আমাকে বললেন, তুমি তা উঠিয়ে নাও। আমি সেটা উঠিয়ে নিলাম। অতঃপর মূল্য আদায়ের জন্য আমার পিতাও তাঁর সঙ্গে বের হলেন। পথিমধ্যে আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু বকর! যে রাতে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফর করেছিলেন তখন আপনারা কি করেছিলেন, তা আমার কাছে আপনি খুলে বলুন।জবাবে তিনি বললেন, “তাহলে শোন, আমরা পুরো রাত সফর করেছি। পরিশেষে যখন দিন হলো, ঠিক দুপুরের সময় হলে রাস্তা সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেল এবং কোন লোকজন আর রাস্তা অতিক্রম করছে না, তখন আমরা বৃহদাকায় পাথর দেখতে পেলাম। এর ছায়া মাটিতে পড়ছিল এবং তখন পর্যন্ত সেখানে রৌদ্র আসেনি। তাই আমরা সেখানে গেলাম এবং আমি নিজে পাথরটির নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘুমানোর জন্য একটু স্থান সমান্তরাল করলাম। এরপর আমি একটি কম্বল তাতে বিছিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন, আমি এলাকাটা একটু পর্যবেক্ষণ করে আসি।” তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। আর আমি তাঁর পার্শ্ববর্তী স্থানসমূহে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। হঠাৎ একজন বকরীর রাখালকে দেখতে পেলাম। সেও আমাদের মতো একই উদ্দেশে পাথরটির দিকে এগিয়ে আসছে।আমি তার সঙ্গে দেখা করলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, “হে! তুমি কার গোলাম?” সে বলল, “আমি শহরবাসী এক লোকের গোলাম।” আমি বললাম, “তোমার বকরীতে দুধ আছে কি?” সে বলল, “হ্যাঁ, আছে।” আমি বললাম, “তাহলে আমার জন্য দুধ দোহন করবে কি?” সে বলল, “হ্যাঁ করব।” তারপর সে একটি বকরী নিয়ে এলো। তখন আমি তাকে বললাম, “প্রথমে পশম, মাটি এবং খড়কুটা হতে স্তনটি একবার ঝেড়ে নাও।” রাবী বলেন, এ সময় আমি বারা ইবনু আযিবকে এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে ঝাড়তে দেখেছি। অতঃপর সে কাঠের একটি পেয়ালাতে আমার জন্য অল্প দুধ দোহন করল।আবু বকর (রাঃ) বলেন, “আমার কাছে একটি পাত্র ছিল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পান করা ও ওজু করার জন্য তাতে আমি পানি রাখতাম। তারপর আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। কিন্তু তাঁকে ঘুম থেকে জাগাতে আমার ইচ্ছা হল না। তবে তাঁর প্রতি আমি চেয়ে দেখি যে, তিনি নিজে নিজেই জেগে গেছেন। তারপর দুধের মাঝে আমি পানি মিশালাম। ফলে তা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ থেকে একটু দুধ পান করে নিন।” তিনি দুধ পান করলেন, তাতে অত্যন্ত খুশী হলাম। অতঃপর তিনি বললেন, “এখনো কি যাত্রার সময় হয়নি?” আমি বললাম, “হ্যাঁ হয়েছে।”সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়লে আমরা পুনরায় যাত্রা শুরু করলাম। এদিকে সুরাকাহ ইবনু মালিক আমাদের পিছু ধাওয়া করল। আমরা তখন এক শক্ত ভূমিতে অবস্থান করছিলাম। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদেরকে তো ধরে ফেলা হলো।” তিনি বললেন, “চিন্তান্বিত হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর বদ-দোয়া করলেন। এতে তার ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ধ্বসে গেল। আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম। তারপর সে বলল, “আমি জানি, তোমরা আমার জন্য বদ-দোয়া করেছ। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তো তোমাদের সন্ধানে বের হয়েছিলাম, এখন আমি তোমাদের সন্ধানকারীকে ফিরিয়ে দিবো। সুতরাং তোমরা আমার জন্য দোয়া করো।” রসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। এতে সে মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর সে ফিরে গেল এবং যে কোন কাফিরের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বলত, “এদিকে আমি সব দেখে এসেছি। এদিকে কোন কিছুই নেই।” মোটকথা, যার সাথেই তার দেখা হত সে তাকে ফিরিয়ে দিত। আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেন, সুরাকাহ তার ওয়াদা পুরো করেছে।
৭৪১২
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাযিঃ)
আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) আমার পিতার কাছ থেকে তের দিরহামের বিনিময়ে একটি হাওদা কিনেছিলেন। তারপর তিনি যুহাইর-এর সানাদে ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে ইসরাইল উসমান ইবন উমর (রহঃ)-এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে বর্ণনা করেছেন যে, সে কাছাকাছি হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বদ-দোয়া করলেন। এতে পেট পর্যন্ত তার ঘোড়ার পা জমিনে গেড়ে যায়।সুরাকাহ সেখান হতেই লাফিয়ে পড়ল এবং (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করে) বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি জানি, এটা তোমারই কাজ। আমি যে বিপদে আছি এ থেকে যেন আল্লাহ আমাকে মুক্তি দেন, এ বিষয়ে তুমি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো। আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমার পেছনে যারাই তোমার সন্ধানে থাকবে আমি তাদের থেকে তোমার অবস্থান লুক্কায়িত করব এবং এ হচ্ছে আমার তীরদানী, এ থেকে তুমি একটি তীর নিয়ে যাও। কিছু দূর যেতেই অমুক স্থানে তুমি আমার উট ও গোলামদেরকে দেখতে পাবে, সেখান থেকে তুমি তোমার প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ে যাবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার উটের আমার কোন দরকার নেই। আবু বকর (রাঃ) বলেন, রাতে আমরা মদিনায় পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কার গৃহে অবস্থান করবেন, এ নিয়ে লোকেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলো। তখন তিনি বললেন, আমি আবদুল মুত্তালিবের মামার বংশ বানু নাজ্জারে অবস্থান করব এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। অতঃপর পুরুষ লোকেরা ও মহিলাগণ নিজ নিজ গৃহের ছাদে এবং বালক ও ক্রীতদাসগণ পথে পথে বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। সকালে অভ্যর্থনা জানিয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলতে লাগল যে, হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রাসূল! হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)!
৭৪১৩
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কয়েকটি হাদীস আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: বনী ইসরাঈলদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় সিজদাবনত হয়ে প্রবেশ কর এবং বলো, “حِطَّةٌ” আমাদেরকে ক্ষমা কর। তাহলে আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিব। কিন্তু তারা এ কথার পরিবর্তন করত: পাছার উপর ভর করে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল এবং (ক্ষমা মার্জনার স্থলে) حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ অর্থাৎ- ‘যবের শীষে দানা দাও’।
৭৪১৪
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
ইন্তিকালের পূর্বে ও ইন্তিকাল পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ধারাবাহিকভাবে ওহী অবতীর্ণ করেন। যেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন, সেদিনও তাঁর প্রতি অনেক ওহী অবতীর্ণ হয়।
৭৪১৫
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ)
ইয়াহুদী লোকেরা উমর (রাঃ)-কে বলল, তোমরা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকো তা যদি আমাদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হত, তবে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসবের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাঃ) বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন, কোথায় ও কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যখন তা অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও জানি। আয়াতটি আরাফার দিন অবতীর্ণ হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নি‘আমাত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিলাম”- (সূরা আল মায়িদা ৫:৩)। এ আয়াতটি যেদিন অবতীর্ণ হয়েছিল তা জুমু’আর দিন ছিল কি-না, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান।
৭৪১৬
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ)
জনৈক ইয়াহুদী ‘উমার (রাঃ)-কে বলল, ……… অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”- (সূরা আল মায়িদাহ ৫:৩) এ আয়াতটি আমাদের ইয়াহুদী সম্প্রদায় সম্বন্ধে অবতীর্ণ হলে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। আমরা জানি, কোন্ দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।রাবী বলেন, এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, কোন্ দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, কোন্ সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় ছিলেন, তাও আমি সম্যক অবগত আছি। এ আয়াতটি মুযদালিফার রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ‘আরাফার মাঠে ছিলাম।
৭৪১৭
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ)
জনৈক ইয়াহুদি ব্যক্তি উমর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবের মধ্যে এমন একটি আয়াত আপনারা তিলাওয়াত করে থাকেন। যদি তা আমাদের ইয়াহুদি সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হত তাহলে ঐ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আয়াতটি কি? সে বলল, আয়াতটি হলো, "আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম"-(সূরা আল-মায়িদাহ ৫ : ৩)। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, যে দিন, যে স্থানে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে অবশ্যই আমি তা জানি। আয়াতটি জুমুআর দিন আরাফাতের ময়দানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে।
৭৪১৮
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ)
তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করলেনঃ “তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে স্ত্রীলোকদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়। (সূরাহ্ আন্ নিসা) দু’ , তিন অথবা চার” –এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হে ভাগ্নে! যেসব ইয়াতীম মেয়েরা তাদের তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবকদের সম্পদের অংশীদার হত, তার সম্পদের লালসা ও রূপ-যৌবনের সৌন্দর্যের প্রতি উক্ত অভিভাবক তাকে অন্যরা যে পরিমাণ মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে প্রস্তুত, ইনসাফের নীতি অনুযায়ী উক্ত পরিমাণ মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে চাইতো না। এ আয়াতে তাদেরকে ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে তাদের মোহরানা প্রদানের ব্যাপারে সর্বোত্তম রীতিনীতি অনুসরণ করলে তা স্বতন্ত্র কথা। অন্যথায় তাদের পছন্দমত অন্য মেয়েদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উরওয়াহ্ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কতিপয় লোক বিষয়টি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা ‘ইরশাদ করেনঃ “এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে—যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান করো না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও নিপীড়িত শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। আর যে সৎকাজ তোমরা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১২৭)। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ-এর দ্বারা প্রথম আয়াতটিকে বুঝানো হয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে দু’ , তিন অথবা চার। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ এর মানে হচ্ছে, অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন কম থাকার কারণে তোমাদের কেউ ইয়াতীম মেয়েদের বিবাহ করতে অপছন্দ করলে—তাদেরকে অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবনবতী ইয়াতীম স্ত্রীলোককে পছন্দ হলেও বিয়ে করতে বারণ করা হয়েছে। তবে অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন না থাকার কারণে পছন্দনীয় না হলেও যদি ইনসাফের ভিত্তিতে মোহরানা পরিশোধ করে তবে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
৭৪১৯
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
‘উরওয়াহ্ (রাযিঃ)
তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আল্লাহর বাণী “তোমরা যদি শঙ্কিত হও যে, ইয়াতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না”- (সূরা আন নিসা ৪:৩) এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। অতঃপর রাবী ইউনুসের সানাদে যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি رَغْبَةَ أَحَدِكُمْ عَنِ الْيَتِيمَةِ الَّتِي تَكُونُ فِي حَجْرِهِ حِينَ تَكُونُ قَلِيلَةَ الْمَالِ وَالْجَمَالِ এর পরিবর্তে مِنْ أَجْلِ رَغْبَتِهِمْ عَنْهُنَّ إِذَا كُنَّ قَلِيلاَتِ الْمَالِ وَالْجَمَالِ অর্থাৎ “যখন তারা সামান্য সম্পদ ও কম সৌন্দর্যের অধিকারী হয় তখন আর তাদের তত্ত্বাবধায়করা এদেরকে বিয়ে করতে সম্মত হয়না”- কথাটি বর্ণনা করেছেন।
৭৪২০
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাযিঃ)
তিনি মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী “তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না”- (সূরা আন-নিসা ৪:৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ পুরুষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; যার তত্ত্বাবধানে ইয়াতীম মহিলা রয়েছে এবং এ পুরুষই তাঁর ওলী ও অভিভাবক, আর এ মেয়েটির কিছু ধন-সম্পদ আছে। কিন্তু তার পক্ষ সমর্থন করার জন্য সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ওলী এ ধরনের মেয়েকে তার সম্পদের উদ্দেশে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দিতে এবং তার সাথে নিষ্ঠুরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে না। এ ব্যক্তি সম্পর্কেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ তোমরা যদি শঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মাঝে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় দুই, তিন অথবা চার, অর্থাৎ- যে মহিলাদেরকে আমি তোমাদের জন্য হালাল করেছি তাদেরকে বিবাহ করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তুমি নিষ্ঠুর আচরণ করছ তাদের থেকে দূরে থাকো।