৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৪৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৪৩১
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাযি:)
কুফাবাসী লোকেরা মহান আল্লাহর এ বাণী “কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা’নত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন” (সূরা আন-নিসা ৪:৯৩) কে কেন্দ্র করে মতভেদে লিপ্ত হল। এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলে আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছে। সুতরাং অন্য কোন আয়াত সেটাকে মানসুখ করতে পারেনি।
৭৪৩২
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্ (রহ:)
কিন্তু মুহাম্মাদ ইবন জাফার-এর বর্ণনায় আছে – فِي آخِرِ مَا أُنْزِلَ। ঐ আয়াত সর্বশেষ নাজিল হওয়া আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর নাযর-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে – إِنَّهَا لَمِنْ آخِرِ مَا أُنْزِلَتْ। নিশ্চয় ঐ আয়াত সর্বশেষ নাজিল হওয়া আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
৭৪৩৩
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাযি:)
আবদুর রহমান ইবন আবজা (রাঃ) আমাকে নিম্নোক্ত দুইটি আয়াতের ব্যাপারে ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য আদেশ দিলেন। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, “কেউ স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করলে”-(সূরা আন নিসা ৪:৯৩)। এর হুকুম সম্বন্ধে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, কোন আয়াত এ আয়াতটিকে রহিত করেনি। আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে, “এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মা‘বুদকে আহ্বান করে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না”- (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। এ সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এ আয়াতটি মুশরিকদের বিষয়ে নাযিল হয়েছিল।
৭৪৩৪
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি:)
“এবং তারা আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কেয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে স্থায়ী হবে লাঞ্ছিত অবস্থায়”- (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। উক্ত আয়াতটি মক্কা-য় অবতীর্ণ হবার পর মুশরিকরা বলতে আরম্ভ করল যে, ইসলাম গ্রহণ করলে আমাদের কি উপকার হবে, আমরা তো আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্থাপন করেছি, যাদেরকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাদের হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়েছি। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন, “তারা নয় যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপরাশি পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” – (সূরা আল ফুরকান ২৫:৭০)। অতঃপর ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল এবং ইসলাম সম্বন্ধে যথাযথ উপলব্ধি অর্জন করল তারপর হত্যা করল, তার তাওবা কবূলযোগ্য নয়।
৭৪৩৫
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাযি:)
আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, যে লোক স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে কি? তিনি বললেন, না, গ্রহণযোগ্য হবে না। এরপর আমি তাঁর কাছে সূরা আল ফুরকানে বর্ণিত উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করলাম, “যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মাবুদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন, যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারও করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে” – (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। তিনি বললেন, এটা তো হচ্ছে মক্কী আয়াত। মদিনা আয়াত সেটাকে মানসূখ করে দিয়েছে। আর তা হলো, “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার আজাব জাহান্নাম” –(সূরা আন নিসা ৪:৯৬)। কিন্তু ইবনু হাশিম-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, অতঃপর আমি তাঁর কাছে সূরা আল ফুরকানে উল্লেখিত إِلاَّ مَنْ تَابَ (সূরা আল ফুরকান ২৫ঃ ৭০) আয়াতটি তিলাওয়াত করলাম।
৭৪৩৬
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ্‌ (রহঃ)
আমাকে ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “তোমার কি জানা আছে?” হারূন (রহঃ) বলেন, “তিনি বলেছেন, কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা কোনটি?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, তা হলো إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ।” তিনি বললেন, “তুমি সত্য বলেছ।” ইবন আবু শাইবা বর্ণনায় آخر (সর্বশেষ)-এর পরিবর্তে تَعْلَمُ أَىُّ سُورَةٍ কথাটি উল্লেখ রয়েছে।
৭৪৩৭
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ উমায়স (রহঃ)
উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় "آخِرَ سُورَةٍ" বলেছেন এবং তিনি ইবনু সুহাইলের পরিবর্তে শুধু আব্দুল মাজীদ বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।
৭৪৩৮
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
এক লোক একটি ছোট বকরির পাল চরাচ্ছিল, এমতাবস্থায় কতক মুসলিম তার কাছে আগমন করলে সে বলল, “আসসালামু আলাইকুম।” এতদসত্ত্বেও তারা তাকে পাকড়াও করল। অতঃপর তারা তাকে হত্যা করল এবং তার এ ছোট বকরির পালটি নিয়ে নিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলো: “যারা তোমাদেরকে সালাম করে, ইহ-জীবনের সম্পদের লালসায় তাকে বলো না, ‘তুমি ঈমানদার নও’” (সূরা আন-নিসা ৪৯৪)। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, তবে কেউ কেউ আলিফ ছাড়া পাঠ করেছেন।
৭৪৩৯
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
আনসাররা হজ সমাপ্তি শেষে বাড়ি ফেরার পর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের দিক থেকে ঘরে প্রবেশ করত। অতঃপর এক আনসার সাহাবি দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এ ব্যাপারে তাকে কিছু (ভাল-মন্দ) বলা হলে "পেছনের দিক দিয়ে তোমাদের বাড়িতে ঢোকায় কোনো সওয়াব নেই" (সূরা আল বাকারা ২: ১৮৯) এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো।
৭৪৪০
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
আমাদের ইসলাম গ্রহণ করা ও নিম্নোক্ত আয়াত তথা "যারা ঈমান আনে আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর কি ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি"- (সূরা আল হাদীস ৫৭: ১৬) এর দ্বারা আমাদেরকে তিরস্কার করার মধ্যে চার বছরের ব্যবধান ছিল।