৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৪৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৪৪১
মহান আল্লাহর বাণী : “প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বন করবে" পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
স্ত্রীলোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত এবং বলত, "কে আমাকে একটি কাপড় ধার দিবে?'' এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বীয় লজ্জাস্থান ঢাকা। আর এটাও বলত, "আজ খুলে যাচ্ছে কিয়দংশ বা পূর্ণাংশ। তবে যে অংশটা খুলে সেটা আমি আর কখনো হালাল করব না।" তখন অবতীর্ণ হলো, "প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বন করবে" - (সূরা আল আরাফ ৭:৩১)।
৭৪৪২
মহান আল্লাহর বাণী : “তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না" পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল তার বাঁদীকে বলত, যাও বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করে নিয়ে এসো। তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন, “তোমাদের বাদীদেরকে সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত করতে বাধ্য করবে না। আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে তাদের (দাসীদের) উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো (দাসীদের জন্য) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আন-নূর ২৪:৩৩)।
৭৪৪৩
মহান আল্লাহর বাণী : “তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না" পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর দুইজন বাদী ছিল। একজনের নাম ছিল মুসাইকাহ এবং অপরজনের নাম ছিল উমাইমা। সে দুইজনকে দিয়ে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাতো। তাই তারা এ বিষয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাজিল করলেন : “তোমাদের বাদীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে পার্থিব জীবনের ধন-লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে জোর-জবরদস্তি করবে না। আর যে তাদেরকে জোরজবরদস্তি করে তবে তাদের (বাদীদের) উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
৭৪৪৪
মহান আল্লাহর বাণী : “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে" পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রা:)
তিনি মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী : “তারা যাদেরকে আহ্বান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় খোঁজে”- (সূরা আল ইসরা ১৭:৫৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদা একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করলো। (একদল মানুষ) তাদের (জিনদের) পূজা করতো। কিন্তু পূজায় রত এ লোকগুলো তাদের পূজাতেই অটল থাকল। অথচ জিনের একদল ইসলাম গ্রহণ করেছে।
৭৪৪৫
মহান আল্লাহর বাণী : “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে" পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি মহান আল্লাহর বাণী “তারা যাদেরকে আহ্বান করে তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য অর্জনের উপায় সন্ধান করে”- (সূরা ইসরা ১৭:৫৭)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, একদল মানুষ কয়েকটি জিনের পূজা করত। তারপর জিনের দলটি ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু এ লোকগুলো তাদের পূজার উপর অটল থাকে। তখন অবতীর্ণ হলো "তারা যাদেরকে ডাকে, তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য অর্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সূরা ইসরা ১৭:৫৭)।
৭৪৪৬
মহান আল্লাহর বাণী : “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে" পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান (রাঃ)
অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৭৪৪৭
মহান আল্লাহর বাণী : “তারা যাদেরকে আহবান করে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে" পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)
মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় খোজ করে"- (সূরাহ্ আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অত্র আয়াতটি আরবের এক দল লোক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা কতগুলো জিনের আরাধনা করত। অতঃপর জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করলো; কিন্তু তাদের ইবাদাতে রত এ মানুষগুলো তা বুঝতে পারল না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্যার্জনের উপায় সন্ধানে লিপ্ত থাকে"- (সুরা আল ইসরা ১৭ঃ ৫৭)।
৭৪৪৮
সূরাহ বারাআহ (আত তাওবাহ্), আল আনফাল ও আল হাশর পরিচ্ছেদ নাই
সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)
একদা আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, সূরা আত-তাওবাহ, বরং এটা হচ্ছে অপমানকারী সূরা। এ সূরাতে কেবল এদের মধ্যে, এদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। ফলে মানুষেরা ধারণা করতে লাগল যে, এ সূরায় আমাদের কেউ আলোচনা ব্যতীত অবশিষ্ট থাকবে না, সকলের দুর্বলতা তুলে ধরবে। অতঃপর আমি বললাম, সূরা আল-আনফাল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, এ সূরা তো বদর যুদ্ধের পটভূমিতে নাযিল হয়েছে। এরপর আমি সূরা আল-হাশরের কথা বললাম। তিনি বললেন, এতো বানু নযীর গোত্র সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
৭৪৪৯
মদ্যপান হারাম হওয়ার বিধান নাযিলের প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু উমার (রাঃ)
একদিন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বারে উঠে খুতবা প্রদান করলেন। প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করলেন। অতঃপর বললেন- মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হয়েছে, তখন তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হতো: গম, যব, খেজুর, আঙ্গুর এবং মধু হতে। আর যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার প্রত্যাশা, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে দাদার (পরিত্যক্ত সম্পত্তি), কালালাহ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে (আরো স্পষ্ট) বলে যেতেন।
৭৪৫০
মদ্যপান হারাম হওয়ার বিধান নাযিলের প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ কুরায়ব (রা:) ইবনু উমর (রাঃ)
আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বারে উঠে খুতবাহরত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, অতঃপর হে লোক সকল! মদ হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। তা পাঁচটি জিনিস হতে বানানো হয়—আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব হতে। আর যা মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত করে দেয়, তা-ই মদ। আর তিনটি বিষয়, হে লোক সকল! আমার মনের কামনা, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (নিম্নোক্ত কতিপয় বিষয়ে) আরো বিশদভাবে সুস্পষ্টভাবে বলে যেতেন, তবে তো আমরা এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে পারতাম। আর তা হচ্ছে, দাদার (মীরাস বন্টন), কালালাহ (নিঃসন্তান ব্যক্তির পরিত্যাজ্য সম্পত্তি) এবং সুদের কতিপয় বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান বলে দিতেন।