৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৪১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৪০১
অগ্নিকুণ্ডের অধিপতি যাদুকর, ধর্মযাজক ও যুবকের ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ব (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যামানায় এক বাদশাহ ছিল। তার ছিল এক যাদুকর। বার্ধ্যক্যে পৌঁছে সে বাদশাহকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন যুবককে আপনি আমার কাছে প্রেরণ করুন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। অতঃপর যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তার কাছে এক যুবককে প্রেরণ করল। বালকের যাত্রাপথে ছিল এক ধর্মযাজক। যুবক তার কাছে বসল এবং তার কথা শুনল। তার কথা যুবকের পছন্দ হলো। তারপর যুবক যাদুকরের কাছে যাত্রাকালে সর্বদাই ধর্মযাজকের কাছে যেত এবং তার নিকট বসত। তারপর সে যখন যাদুকরের কাছে যেত তখন সে তাকে মারধর করত। ফলে যাদুকরের ব্যাপারে সে ধর্মযাজকের কাছে অভিযোগ করল। তখন ধর্মযাজক বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে ভয় হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে দেয়নি। আর যদি তুমি তোমার গৃহকর্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করো তবে বলবে, যাদুকর আমাকে বিলম্বে ছুটি দিয়েছে।এমনিভাবে চলতে থাকাবস্থায় একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হলো, যা লোকেদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না ধর্মযাজক উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের চাইতে ধর্মযাজক আপনার কাছে পছন্দনীয় হয়, তবে এ পাথরাঘাতে এ হিংস্র প্রাণীটি নিঃশেষ করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে সেটার প্রতি পাথর ছুঁড়ে দিল এবং সেটাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত শুরু করল। এরপর সে ধর্মযাজকের কাছে এসে তাকে সম্পূর্ন ঘটনা বলল। ধর্মযাজক বলল, বৎস! আজ তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে শীঘ্রই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা গোপন রাখবে।এদিকে যুবক আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতে লাগল এবং লোকদের সমুদয় রোগ-ব্যাধির নিরাময় করতে লাগল। বাদশাহর পরিষদবর্গের এক লোক অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু হাদিয়া ও উপঢৌকন নিয়ে তার নিকট আসলো এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এসব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে যুবক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারিনা। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ তা‘আলা। তুমি যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনো তবে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করব, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। তারপর সে আল্লাহর উপর ঈমান আনলো। আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে রোগ মু্ক্ত করে দিলেন। এরপর সে বাদশাহর কাছে এসে অন্যান্য দিনের ন্যায় এবারও বসল।বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করল, কে তোমর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল, আমার পালনকর্তা। এ কথা শুনে বাদশাহ তাকে আবার প্রশ্ন করল, আমি ছাড়া তোমার অন্য কোন পালনকর্তাও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই মহান আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন। অতঃপর বাদশাহ তাকে পাকড়াও করে অবিরতভাবে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ঐ বালকের সন্ধান দিল, অতঃপর বালককে নিয়ে আসা হলো। বাদশাহ তাকে বলল, হে প্রিয় বৎস! তোমার যাদু এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তুমি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকেও নিরাময় করতে পার। বালক বলল, আমি কাউকে নিরাময় করতে পারিনা। নিরাময় করেন আল্লাহ। ফলে বাদশাহ তাকে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ধর্মযাজকের (দরবেশের) কথা বলে দিল।এরপর ধর্মযাজককে ধরে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে এসো। সে অস্বীকার করল, ফলে তার মাথার তালুতে করাত রেখে সেটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হলো। এতে তার মাথাও দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। অবশেষে ঐ যুবকটিকে আনা এবং তাকেও বলা হলো। তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে এসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তার কিছু সহচরের হাতে তাকে অর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকেসহ পাহাড়ে আরোহণ করো। পর্বত শৃঙ্গে পৌঁছার পর সে যদি তার ধর্ম থেকে ফিরে আসে তবে ভাল। নতুবা তাকে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারবে।তারপর তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকেসহ পর্বতে আরোহণ করল। তখন সে দু‘আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষ করো। তৎক্ষণাৎ তাদেরকেসহ পাহাড় কেঁপে উঠল। ফলে তারা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করল, তোমার সাথীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের চক্রান্ত হতে সংরক্ষণ করেছেন।আবারও বাদশাহ তাকে তার কতিপয়র সহচরের হাতে সমর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে নাও এবং নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তার দ্বীন (ধর্ম) হতে ফিরে আসে তবে ভাল, নতুবা তোমরা তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তারা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দু‘আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা তুমি আমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরসহ উল্টে গেল। ফলে তারা সকলেই পানিতে ডুবে গেল। আর যুবক হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে আবার প্রশ্ন করল, তোমার সঙ্গীগণ কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করবে। বাদশাহ বলল, সে আবার কি? যুবক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকদেরকে জমায়েত করো। অতঃপর একটি কাষ্ঠের শূলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রাখে। এরপর بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে আমার দিকে তীর নিক্ষেপ কর। এ যদি করো তবে তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে।তার কথা অনুসারে বাদশাহ লোকদেরকে এক মাঠে জমায়েত করল এবং তাকে একটি কাষ্ঠের শূলীতে চড়ালো। অতঃপর তার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রেখে بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে তার দিকে তা নিক্ষেপ করল। তীর তার কানের নিম্নাংশে গিয়ে বিঁধল। অতঃপর সে তীরবিদ্ধ স্থানে নিজের হাত রাখল এবং সাথে সাথে প্রাণ ত্যাগ করল। এ দৃশ্য দেখে রাজ্যের লোকজন বলে উঠল, آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ আমরা এ যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান আনলাম।এ সংবাদ বাদশাহকে জানানো হলো এবং তাকে বলা হলো, লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশঙ্কা করছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে আশঙ্কাজন পরিস্থিতিই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সকল মানুষই যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান এনেছে। এ দেখে বাদশাহ সকল রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খননকরা হলো এবং ওগুলোতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করা হলো। অতঃপর বাদশাহ আদেশ করল যে, যে লোক তার ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে ওগুলোতে নিপতিত করবে। কিংবা সে বলল, তাকে বলবে, যেন সে অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল। পরিশেষে এক মহিলা একটি শিশু নিয়ে অগ্নিগহ্বরে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল। এ দেখে দুধের শিশু তাকে (মাকে) বলল, ওহে আম্মাজান! সবর করুন, আপনি তো সত্য দ্বীনের (ধর্মের) উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।
৭৪০২
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
‘উবাদাহ্ ইবনু ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ)
একদিন আমি এবং আমার পিতা আনসারী সাহাবীদের ইন্তিকালের পূর্বে আনসারী সাহাবাদের এ এলাকায় ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের হলাম। প্রথমে আমাদের যার সাথে দেখা হলো, তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবা আবুল ইয়াসার (রাঃ)। এক বোঝা কিতাব নিয়ে তাঁর সাথে ছিলেন এক গোলাম। তখন আবুল ইয়াসার (রাঃ)-এর শরীরে ছিল একটি চাদর এবং একটি মু‘আফিরী কাপড়। অনুরূপভাবে তাঁর গোলামের গায়েও একটি চাদর এবং একটি মু‘আফিরী কাপড় বিদ্যমান ছিল।অতঃপর আমার আব্বা তাঁকে বললেন, “হে চাচাজান! আপনার চেহারায় যে ক্রোধের নিদর্শন লক্ষ্য করছি।” তিনি বললেন, “হ্যাঁ; কারণ, বনী হারাম গোত্রের অমুকের পুত্র অমুকের কাছে আমি মাল পাওনা আছি। তাগাদার উদ্দেশ্যে আমি তার বাড়ীতে গেছি। অতঃপর আমি সালাম দিয়ে বললাম, অমুক কোথায়, সে বাড়ি আছে কি?” গৃহের ভিতর হতে তারা বলল, “সে গৃহে নেই।” এমতাবস্থায় তার এক শিশু ছেলে বাইরে আমার কাছে এলো। আমি তাকে বললাম, “তোমার বাবা কোথায়?” সে বলল, “আপনার আওয়াজ শুনে আমার আম্মার খাটের ভেতর পালিয়ে রয়েছে।”আমি তাকে বললাম, “আমার কাছে এসো। অবশ্যই আমি জানি তুমি কোথায় রয়েছো।” অতঃপর সে বেরিয়ে আসলো। আমি তাকে বললাম, “আমার থেকে আত্মগোপন করার বিষয়ে কিসে তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছে?” সে বলল, “আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে যা বলব, তা মিথ্যা বলব না। আল্লাহর শপথ, আপনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবা, তাই এ বিষয়টিকে আমি ভয়ানক মনে করেছি যে, আমি আপনার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলব অথবা প্রতিশ্রুতি করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করব। আল্লাহর শপথ! আমি একজন অভাবগ্রস্ত লোক।”আমি বললাম, “আল্লাহর শপথ করে বলছো?” সে বলল, “হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ করে বলছি।” আমি আবারো বললাম, “আল্লাহর শপথ করে বলছ?” সে বলল, “হ্যাঁ আল্লাহর শপথ করে বলছি।” অতঃপর এতদসংশ্লিষ্ট দলিল আনা হলো এবং আবুল ইয়াসার স্বীয় হাতে সেটা মুছে দিলেন। তারপর তিনি বললেন, “আমার ঋণ পরিশোধ করার টাকা যদি তোমার হস্তগত হয় তবে তুমি তা পরিশোধ করবে। অন্যথায় তুমি আমার পক্ষ থেকে এ ঋণ হতে মুক্ত।”অতঃপর আবুল ইয়াসার (রাঃ) দুইটি আঙ্গুল তার চক্ষুদ্বয়ের উপর রেখে বললেন, “আমার উভয় চোখের দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে, আমার উভয় কান শ্রবণ করেছে এবং হৃদয় ধমণীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বললেন, আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন অভাবগ্রস্তকে সুযোগ দেয় বা ক্ষমা করে দেয় আল্লাহ তাকে তাঁর স্বীয় ছায়ার নীচে আশ্রয় দিবেন।”
৭৪০৩
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ্ (রাযিঃ)
আমি তাকে (আবুল ইয়াসারকে) বললাম, হে চাচাজান! যদি আপনি আপনার গোলামের শরীর হতে চাদরটি নিয়ে তাকে আপনার মু‘আফিরী কাপড়টি পরিয়ে দেন অথবা তার মু‘আফিরী কাপড়টি নিয়ে আপনি যদি তাকে আপনার চাদরটি পরিয়ে দেন তবে তো আপনার এক জোড়া কাপড় এবং তারও এক জোড়া কাপড় হয়ে যায়। এ কথা শুনে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আপনি এ বাচ্চার মধ্যে বারাকাত দিন। এরপর বললেন, হে ভাতিজা! আমার এ দুই চোখ দেখেছে, আমার এ দুই কান শুনেছে এবং অন্তরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বললেন, আমার এ অন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সংরক্ষণ করেছে। তোমরা যা খাও, তাদেরকেও তা খাওয়াও, তোমরা যা পরো তাদেরকেও তা পরাও। অধিকন্তু তিনি বললেন, কেয়ামতের দিন তা আমার সওয়াব নিয়ে যাওয়ার তুলনায় দুনিয়াতে তাকে পার্থিব বস্তু দান করা অধিকতর সহজসাধ্য।
৭৪০৪
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ্ (রাযিঃ)
অতঃপর আমরা (উবাদা এবং তার পিতা) সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি তাঁর মসজিদে ছিলেন এবং মাত্র একটি কাপড় গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। এটা দেখে আমি লোকদের উপর দিয়ে একেবারে সামনে তাঁর ও কিবলার মাঝখানে গিয়ে বসলাম। অতঃপর আমি বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। আপনি একটি মাত্র কাপড় পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করছেন। অথচ আপনার পাশেই আপনার চাদর রয়েছে। এ কথা শুনে তিনি আঙ্গুলগুলো প্রশস্ত করতঃ তাদেরকে কামানের মতো বাঁকা করে আমার বুকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, তোমার ন্যায় কোন নির্বোধ লোক আমার কাছে এসে আমি যা করছি তা প্রত্যক্ষ করবে। অতঃপর সেও অনুরূপ আচরণ করবে।শোনো, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবন ত্বাব নামের খেজুর গাছের একটি ডাল হাতে আমাদের এ মসজিদে আসলেন এবং মসজিদের পশ্চিম দিকে কফ দেখতে পেয়ে তিনি ডাল দ্বারা ঘষে তা পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ তোমাদের কে চায় যে, আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন? জাবির (রাঃ) বলেন, এতে আমরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে গেলাম। তারপর তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমাদের কেউ পছন্দ করবে কি যে, আল্লাহ তা’আলা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন? তিনি বলেন, এবারও আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম, তৎপর পুনরায় তিনি বললেনঃ তোমাদের কে চায় যে তার থেকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর মুখ ফিরিয়ে নেন? জবাবে আমরা বললাম, না! হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ এমনটি কখনোই প্রত্যাশা করে না।এরপর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহ তা’আলা তার মুখোমুখী থাকেন। সুতরাং মুসল্লি যেন সম্মুখের দিকে কিংবা ডান দিকে থু-থু না ফেলে; বরং সে যেন বাম দিকে বাম পায়ের নিচে থু-থু ফেলে আর যদি তড়িৎ কফ চলে আসে তবে সে যেন কাপড়ের উপর এভাবে থু-থু ফেলে এবং পরে যেন এক অংশকে অন্য অংশের উপর এভাবে গুটিয়ে নেয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকট সুগন্ধি নিয়ে আসো। তখন আমাদের গোত্রের একজন যুবক দ্রুতগতিতে উঠে দৌড়িয়ে তার গৃহে গেল এবং হাতের তালুতে করে সুগন্ধি নিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে সুগন্ধি নিয়ে ডালের মাথায় মেখে কফের দাগ ছিল সেটাতে তা লাগিয়ে দিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, এখান হতেই তোমরা তোমাদের মসজিদে সুগন্ধি মাখতে শিখেছো।
৭৪০৫
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বুওয়াত প্রান্তরের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তিনি মাজদী ইবন আমর আল জুহানী কাফিরকে খোঁজ করছিলেন। এ সফরে একটি উটে আমাদের পাঁচজন, ছয়জন, সাতজন ব্যক্তি পালাক্রমে আরোহণ করত। তারপর এক আনসারী ব্যক্তির আরোহণের পালা আসলে সে তার উটটিকে বসিয়ে এর উপর আরোহণ করল এবং তাকে চালাল। চলমান অবস্থায় উটটি তার উপর কিছু ধূলাবালি উড়াল। ফলে সে রাগতস্বরে বলে উঠল, আল্লাহ তোমার প্রতি অভিসম্পাত করুন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ লোকটি কে যে তার উটের প্রতি অভিসম্পাত করল? সে বলল, আমি, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এর থেকে নেমে যাও। আর অভিশপ্ত উটটি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারবে না। তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপর এবং নিজের ধন-সম্পদের উপরও বদদোয়া করো না। এমন যেন না হয় যে, তোমরা এমন মুহূর্তে বদদোয়া করবে যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া হয় এবং তা কবুল হয়।
৭৪০৬
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আমরা আবার রওনা হলাম। সন্ধ্যা হলে আমরা আরবের এক কূপের কাছাকাছি পৌঁছলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কে আছে, (নেকীর উদ্দেশে) যে আমাদের আগে গিয়ে হাওযটি পরিচ্ছন্ন করবে এবং নিজেও পান করবে আর আমাদেরকেও পান করাবে? জাবির (রাঃ) বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, জাবিরের সাথে আর কে যাবে? তখন জাব্বার ইবনু সাখর (রাঃ) দাঁড়ালেন। তারপর আমরা দুইজন কূপের কিনারায় গেলাম এবং এক বা দুইটি বালতি কূয়াতে ছাড়লাম। এরপর আমরা কূয়াটি মাটি দ্বারা লেপন করলাম। পরে আমরা কূয়া হতে পানি উঠাতে শুরু করলাম এবং পানি দ্বারা হাওযটি কানায় কানায় ভরে দিলাম।অতঃপর সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে এলেন এবং বললেন, তোমরা কি আমাকে অনুমতি দাও? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর তিনি তাঁর উষ্ট্রী ছাড়লেন পানি পানের জন্য। উষ্ট্রী পানি পান করল। অতঃপর তিনি তাঁর উষ্ট্রীকে টান দিলে সেটা পানি পান বন্ধ করল এবং পেশাব করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরে সেটাকে অন্যত্র নিয়ে গেলেন এবং বসালেন। তারপর আবার তিনি হাওযের কাছে এসে ওজু করলেন, পরে আমিও উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওজুর স্থান হতে ওজু করলাম। জাব্বার ইবনু সাখর (রাঃ) শৌচকার্যের জন্য বের হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায়ের উদ্দেশে দাঁড়ালেন।আমার গায়ে ছিল একটি চাদর। আমি তার উভয় আঁচল বিপরীত দিকে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তা সংকুলান হলো না। তবে সেটাতে কতগুলো রেশমের একগুচ্ছ পশম ছিল। তাই সেটাকে আমি উল্টো করলাম ও এর দুইপাশ বিপরীতভাবে দুইকাঁধের উপর রাখলাম এবং গর্দানের সাথে সেটাকে বাঁধলাম। এরপর আমি এসে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। অতঃপর জাব্বার ইবনু সাখর (রাঃ) এসে ওজু করলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দুইজনের হাত ধরে আমাদেরকে পশ্চাৎদিকে সরিয়ে দিলেন এবং আমাদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার প্রতি তীক্ষ্ণভাবে তাকাতে শুরু করলেন, কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না। পরিশেষে আমি বুঝতে পারলাম। তখন তিনি আমাকে নিজ হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, তুমি তোমার কোমর বেঁধে নাও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায়ের পর বললেন, হে জাবির! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, চাদর যদি ছোট হয় তবে সেটাকে তোমার কোমরে বেঁধে নিবে।
৭৪০৭
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আবার চলতে শুরু করলাম। তখন জীবিকা হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেই একটি করে খেজুর পেত, তা সে চুষত এবং পরে আবার সেটা কাপড়ের মধ্যে রেখে দিত। তখন আমরা আমাদের ধনুকের দ্বারা গাছের পাতা পাড়তাম এবং সেটা খেতাম। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। এ সময় একদিন এক লোক খেজুর ভাগাভাগি করল এবং ভাগাভাগির প্রাক্কালে এক লোককে দিতে ভুলে গেল। আমরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে চললাম এবং তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বললাম, তাকে তার অংশের খেজুর দেয়া হয়নি। পরিশেষে তাকেও খেজুর দেয়া হলে সে তা নিয়ে চলে গেল।
৭৪০৮
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে পুনরায় আমরা পথ অতিক্রম করতে লাগলাম। এমন সময় আমরা এক প্রশস্ত উপত্যকায় অবস্থান নিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচকার্যের জন্য গমন করলেন, আমিও পানির পাত্র নিয়ে তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টিপাত করলেন; কিন্তু আড়াল করার মতো কিছুই পেলেন না।হঠাৎ পাহাড়ের এক প্রান্তে দুইটি গাছ দেখতে পেলেন। তাই তিনি এর একটির সন্নিকটে গেলেন এবং এর একটি ডাল ধরে বললেন, “আল্লাহর আদেশে তুমি আমার অনুগত হয়ে যাও।” তখন ডালটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনুগত্য স্বীকার (ঝুঁকে পড়ল) করে নিল, লাগাম পরিহিত ঐ উটের মতো যা তার চালকের অনুসরণ করে। তারপর তিনি দ্বিতীয় গাছটির কাছে এসে এর একটি ডাল ধরে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার অনুগত হয়ে যাও।” এটিও অনুরূপ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিল। অতঃপর তিনি যখন উভয় বৃক্ষের মাঝখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি ডাল দুইটি এক সাথে মিলিয়ে বললেন, “আল্লাহর হুকুমে তোমরা আমার সম্মুখে সমবেত হয়ে যাও, মিলে যাও।” তারা উভয়েই মিলে গেল।জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি এ ভয়ে দৌড়িয়ে চলে এলাম যে, না জানি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সন্নিকটে হবার বিষয়টি জেনে ফেলেন এবং আরো দূরে চলে যান। ইবনু আব্বাদ يبتعد এর স্থলে فتعبد উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ “দূরে সরে যান”।অতঃপর আমি বসে মনে মনে কিছু বলছিলাম। এমতাবস্থায় দৃষ্টি উঠিয়েই আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখ দিক হতে এগিয়ে আসছেন। উভয় বৃক্ষই তখন পৃথক হয়ে প্রত্যেকটি স্বীয় কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাথা দ্বারা ডানে ও বামে ইঙ্গিত করলেন। এ স্থলে বর্ণনাকারী আবূ ইসমাঈলও তার মাথা দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।তারপর তিনি সম্মুখে এগিয়ে এসে আমার পর্যন্ত পৌঁছে আমাকে বললেন, “হে জাবির! তুমি তো আমার অবস্থানের স্থান দেখেছ?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)!” তখন তিনি বললেন, “তুমি ঐ গাছ দুইটির কাছে গমন কর এবং তাদের প্রত্যেকটির একটি করে ডাল কেটে নিয়ে এসো। এরপর তুমি আমার এ স্থানে পৌঁছে একটি ডাল ডান দিকে এবং অপরটি বাম দিকে রেখে দিবে।”জাবির (রাঃ) বলেন, আমি উঠলাম এবং একটি পাথর হাতে নিয়ে সেটাকে ভেঙ্গে ধারালো করলাম। ফলে তা ভীষণ ধারালো হলো। অতঃপর আমি গাছ দুইটির কাছে আসলাম এবং প্রত্যেকটি বৃক্ষ হতে এক একটি করে ডাল কাটলাম। তারপর ডাল দুইটি হেঁচড়িয়ে নিয়ে আমি রওনা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অবস্থান স্থলে পৌঁছে একটি ডাল আমার ডান পাশে এবং অন্য ডালটি আমার বাম পাশে রেখে দিলাম।তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি যা বলেছেন আমি তা পূরণ করেছি। তবে এর কারণ কি?” উত্তরে তিনি বললেন, “দুইটি কবরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম কালে আমি দেখেছি, তাদের কবরে শাস্তি হচ্ছে। আমি তাদের জন্য সুপারিশ করার ইচ্ছা করছি। সম্ভবত তাদের এ ‘আজাবকে কমিয়ে দিবে, যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল দুইটি সতেজ থাকবে।”
৭৪০৯
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
অতঃপর আমরা সেনা ছাউনিতে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে জাবির! ওজু করার জন্য ঘোষণা দাও।” আমি ঘোষণা করলাম, “হে লোক সকল! ওজু করো, ওজু করো, ওজু করো।” তারপর আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! কাফেলার কাছে এক ফোঁটা পানিও নেই।” কাফেলায় এক আনসারী সাহাবী ছিলেন। তিনি কাঠের ডালে ঝুলন্ত একটি মশকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য পানি ঠাণ্ডা করার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, “তুমি অমুকের ছেলে অমুক আনসারীর নিকট যাও এবং দেখো তার মশকে কিছু পানি আছে কিনা?” আমি তার কাছে গেলাম এবং দেখলাম, মশকের তলাতে শুধু এ ফোঁটা পানি রয়েছে। সেটা যদি আমি পাত্রে ঢালতে যাই তবে শুষ্ক মশকই সেটা খেয়ে নিঃশেষ করে দিবে। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! মশকের মুখে এক ফোঁটা পানি ছাড়া আর কোনো পানিই মশকের অভ্যন্তরে নেই। সেটাও যদি পাত্রে ঢালা হয় তবে মশকের শুষ্কতা তা চুষে শেষ করে দিবে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যাও সেটা নিয়ে এসো।”জাবির (রাঃ) বলেন, সেটা আমি নিয়ে আসলাম। তিনি সেটা হতে নিয়ে কি যেন পাঠ করতে শুরু করলেন। আমি তা উপলব্ধি করতে পারছিলাম না এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজ হাত দ্বারা সেটা টিপতে শুরু করলেন। এরপর তিনি মশকটি আমার হাতে দিয়ে বললেন, “হে জাবির! একটি বড় পাত্র নিয়ে আসার ঘোষণা দাও।” আমি ঘোষণা করলাম, “হে কাফেলা! একটি বড় পাত্র, একটি বড় পাত্র”; অতঃপর বহন করতঃ আমার নিকট একটি বড় পাত্র নিয়ে আসা হলো। আমি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে নিয়ে রাখলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাত উক্ত পাত্রের উপর বুলালেন এবং স্বীয় হাতের আঙুলগুলো ফাঁকা করে হাত প্রশস্ত করতঃ পাত্রের অভ্যন্তরে রাখলেন এবং বললেন, “হে জাবির! ঐ মশকটি নিয়ে এসো এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তার পানি আমার হাতের উপর ঢালো।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আমি সেটার পানি ঢাললাম। অমনি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আঙুলসমূহের মধ্য হতে পানি উথলিয়ে উঠছে। পরিশেষে পাত্রও উথলিয়ে উঠল এবং পাত্রে পানি চক্কর খেতে শুরু করল। এমনকি পাত্র পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তখন আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে জাবির! ঘোষণা দাও, যার যার পানির প্রয়োজন আছে।” জাবির (রাঃ) বলেন, লোকজন সবাই আসলো, পানি পান করলো এবং আত্মতৃপ্ত হলো। তারপর আমি বললাম, “পানির দরকার রয়েছে, এমন কোনো লোক অবশিষ্ট রয়েছে কি?” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্র হতে নিজ হাত উঠিয়ে নিলেন তখনও পাত্র পানিতে পরিপূর্ণ হয়েই রইল।
৭৪১০
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
অতঃপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ক্ষুধা নিবারণের ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, “শীঘ্রই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে খাদ্য প্রদান করবেন।” অতঃপর আমরা সমুদ্র উপকূলে আসলাম। সমুদ্রের ঢেউ উঠলে একটি মাছ আমাদের সামনে নিপতিত হল। আমরা সমুদ্র তীরে অগ্নি প্রজ্বলিত করে সেটা রান্না করলাম, ভুনা করলাম এবং তৃপ্ত সহকারে ভক্ষণ করলাম। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি এবং অমুক অমুকসহ পাঁচজন চোখের গোলাকৃতির মাঝে প্রবেশ করলে আমাদেরকে কেউ দেখছিল না। অতঃপর আমরা তার পাঁজরের বাঁকা হাড়সমূহের একটি হাড় হাতে নিলাম এবং সেটাকে ধনুকের মতো বানিয়ে বৃহৎ যীন পরিহিত অবস্থায় কাফেলার সর্ববৃহৎ উষ্ট্রীতে আরোহণ করতঃ কাফেলার বৃহদাকায় এক লোককে এর তলদেশ দিয়ে প্রবেশ করার জন্য আহ্বান জানালাম। সে এর নিচ দিয়ে মাথা না ঝুঁকিয়ে প্রবেশ করে বেরিয়ে আসলো।