৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৩৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৩৭১
রসনার সংযম (অর্থাৎ এমন কথা আলোচনা করা যার কারণে জাহান্নামে পতিত হবে) এবং অন্য নুসখায় রয়েছে বাকশক্তি নিয়ন্ত্রণ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, বান্দা এমন কথা বলে, যার কারণে সে জাহান্নামের মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম আকাশের মধ্যস্থিত দূরত্বের তুলনায়ও বেশি দূরে গিয়ে নিপতিত হবে।
৭৩৭২
রসনার সংযম (অর্থাৎ এমন কথা আলোচনা করা যার কারণে জাহান্নামে পতিত হবে) এবং অন্য নুসখায় রয়েছে বাকশক্তি নিয়ন্ত্রণ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: বান্দা এমন কথা বলে, যার ক্ষতির ব্যাপারে সে অবহিত নয়, পরিশেষে সে জাহান্নামে পূর্ব ও পশ্চিম আকাশের মধ্যস্থিত দূরত্বের তুলনায়ও অধিক দূরে গিয়ে নিপতিত হয়।
৭৩৭৩
যে ব্যক্তি নেক কাজের আদেশ দেয়, কিন্তু নিজে করে না এবং খারাপ কাজে বাধা দেয়, কিন্তু স্বয়ং তা থেকে দূরে থাকে না, তার শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ)
একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি উসমান (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে আলোচনা করেন না কেন? উত্তরে তিনি বলেন, তোমরা কি এটা মনে করছ যে, শুধু আমি তোমাদেরকে নিয়েই তার সাথে কথা বলি? আল্লাহর শপথ! আমার ও তাঁর মধ্যকার যে কথা বলবার, আমি তাকে তা বলেছি। তবে আমি এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চাই না, যে ব্যাপারে কথা বললে আমিই হব এর প্রথম ব্যক্তি। আর যে লোক আমার আমীর বা নেতা, তাদের কারো ব্যাপারে আমি এ কথাও বলতে চাই না যে, তিনিই সর্বোত্তম ব্যক্তি।কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, কেয়ামত দিবসে এক লোককে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে ফেলে দেয়া হবে। ফলে তার পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এরপর গাধা যেমন চাক্কীর চারপাশে ঘুরে, অনুরূপভাবে সেও এগুলো নিয়ে ঘুরতে থাকবে। এ দেখে জাহান্নামীরা তার চারপাশে এসে একত্রিত হবে এবং তাকে বলবে, হে অমুক! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি ভালো কাজের আদেশ দিতে না এবং মন্দ কাজ হতে দূরে থাকতে বলতে না? জবাবে সে বলবে, হ্যাঁ, তবে আমি ভালো কাজের আদেশ দিতাম; কিন্তু স্বয়ং তা পালন করতাম না এবং মন্দ কাজে বাধা দিতাম, কিন্তু নিজেই আবার তা করতাম।
৭৩৭৪
যে ব্যক্তি নেক কাজের আদেশ দেয়, কিন্তু নিজে করে না এবং খারাপ কাজে বাধা দেয়, কিন্তু স্বয়ং তা থেকে দূরে থাকে না, তার শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)
একদিন আমরা উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক লোক তাকে বললেন, আমীরুল মু’মিনীন ‘উসমান (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে কথোপকথন করতে আপনাকে বাধা দিচ্ছে কিসে? ….. অতঃপর জারীর (রহঃ) অবিকল হাদীস বর্ণনা করলেন।
৭৩৭৫
নিজের গোপন দোষ-ত্রুটি বহিঃপ্রকাশ না করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, নিজের অপরাধ প্রকাশকারী ছাড়া আমার সমস্ত উম্মতের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। নিজের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করার মানে হচ্ছে এই যে, মানুষ রাতে কোন ধরনের অপরাধজনিত কাজ করে, তারপর সকাল হয় আর তার পালনকর্তা সেটা লুক্কায়িত রাখেন। এতদসত্ত্বেও সে বলে, হে অমুক! গতরাতে আমি এ কাজ করেছি। অথচ রাতে তার পালনকর্তা সেটাকে গোপন রেখেছেন এবং অবিরত তার পালনকর্তা সেটাকে গোপন রাখছিলেন আর সে রাত অতিবাহিত করছিল। কিন্তু সকালে সে তার পালনকর্তার গোপনীয় বিষয়টিকে উন্মোচন করে দেয়। রাবী যুহাইর (রহঃ) الإِجْهَارِ -এর পরিবর্তে الْهِجَارِ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
৭৩৭৬
হাঁচির উত্তর দেয়া ও হাই তোলা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
দুইজন ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে হাঁচি দেওয়ার পর তিনি একজনের হাঁচির উত্তর দিলেন, কিন্তু অপরজনের হাঁচির উত্তর দিলেন না। এ দেখে নবী (ﷺ) যার হাঁচির উত্তর দেননি, সে বলল, “অমুক হাঁচি দিয়েছে আর আপনি তার উত্তর দিয়েছেন, তবে আমি হাঁচি দিয়েছি কিন্তু আপনি আমার হাঁচির কোনো উত্তর দেননি।” এ কথা শুনে নবী (ﷺ) বললেনঃ “সে তো আল্লাহর প্রশংসা করেছে; কিন্তু তুমি আল্লাহর কোনো প্রশংসা করনি।”
৭৩৭৭
হাঁচির উত্তর দেয়া ও হাই তোলা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)-এর সনদে নাবী (সাঃ)
অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৭৩৭৮
হাঁচির উত্তর দেয়া ও হাই তোলা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বুরদাহ্ (রাযিঃ)
একদিন আমি আবু মূসা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি ফাজল ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর মেয়ের ঘরে ছিলেন। তখন আমি হাঁচি দিলাম; কিন্তু আবু মূসা (রাঃ) তার কোন প্রত্যুত্তর দিলেন না। তারপর ফাজল-এর মেয়ে হাঁচি দিল, তিনি এর উত্তর দিলেন। আমি আমার মায়ের কাছে ফিরে এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জানালাম।তারপর কোন এক সময় আবু মূসা (রাঃ) আমার মায়ের কাছে আসলে তিনি তাঁকে বললেন, “তোমার কাছে আমার ছেলে হাঁচি দিয়েছিল, তুমি উত্তর দাওনি। কিন্তু ফাজলের মেয়ে হাঁচি দিলে তুমি উত্তর দিয়েছ।” এ কথা শুনে আবু মূসা (রাঃ) বললেন, “তোমার ছেলে হাঁচি দিয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসা করেনি। তাই আমিও তার হাঁচির উত্তর দেইনি। আর ঐ মহিলা হাঁচি দিয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসা করেছে তাই আমিও তার হাঁচির উত্তর দিয়েছি। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি হাঁচি দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করে তাহলে তোমরা তার হাঁচির উত্তর দিবে। আর যদি সে আল্লাহর প্রশংসা না করে তবে তোমরাও তার হাঁচির উত্তর দিও না।”
৭৩৭৯
হাঁচির উত্তর দেয়া ও হাই তোলা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাযিঃ)
এক লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে হাঁচি দেয়ার পর তিনি তাকে বললেন, “আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন।” অতঃপর সে আরেকবার হাঁচি দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত।”
৭৩৮০
হাঁচির উত্তর দেয়া ও হাই তোলা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ হতে আসে। তোমাদের কেউ যদি হাই তোলে তবে যথাসাধ্য সে যেন তা ব্যাহত করার চেষ্টা করে।