৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭২৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭২৪১
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ(রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবনু সায়িদকে প্রশ্ন করেছেন, জান্নাতের মাটি কিরূপ হবে? সে বলল, হে আবুল কাসিম! জান্নাতের মাটি ময়দার মতো সাদা এবং খাঁটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি সত্য বলেছ।
৭২৪২
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্‌রী (রাযিঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জান্নাতের মাটি কেমন হবে– এ সম্পর্কে ইবনু সাইয়াদ নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, জান্নাতের মাটি ময়দার ন্যায় শুভ্র এবং খাঁটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে।
৭২৪৩
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)
আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ইবনু সাইয়াদই হলো প্রকৃতপক্ষে দাজ্জাল। আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নামে কসম করে এ কথা বলছেন? তিনি বললেন, আমি উমর (রাঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে কসম খেতে শুনেছি। অথচ নবী (ﷺ) তাঁর এ কথাকে অগ্রাহ্য করেননি।
৭২৪৪
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
একদিন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একদল মানুষসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর সঙ্গে ইবনু সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার কিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রিড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনু সাইয়্যাদ বয়ঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? এ কথা শুনে ইবনু সাইয়্যাদ তাঁর প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) রাসূল। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্তু তিনি বললেনঃ আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলদের প্রতি। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুক্কায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবনু সাইয়্যাদ বলল, তা হচ্ছে دخ (ধুয়া)। তৎপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করতে পারবি না। তারপর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।
৭২৪৫
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ)
আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং উবাই ইবন কা‘ব আনসারী (রাঃ) সে বাগিচার দিকে চললেন, যেখানে ইবনু সাইয়্যাদ বসবাস করত। বাগিচার মধ্যে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গাছের আড়ালে লুকাতে চেষ্টা করছিলেন, যাতে ইবনু সাইয়্যাদ তাঁকে দেখার আগেই তিনি তার কথা শুনে নেন।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখলেন যে, সে তার বিছানায় একটি মখমলের চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে এবং তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এদিকে ইবনু সাইয়্যাদের মা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখল যে, তিনি গাছের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করছেন। সে হঠাৎ ইবনু সাইয়্যাদকে বলে উঠল, ‘হে সাফ!’ - এটা ইবনু সাইয়্যাদ-এর নাম। ‘মুহাম্মাদ এসে গেছে।’ এ কথা শুনতেই ইবনু সাইয়্যাদ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার মা তাকে সতর্ক না করলে সে রহস্য উদঘাটিত হতো।
৭২৪৬
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
সালিম (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের উদ্দেশে একটি বক্তৃতা দিলেন। তাতে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করে দাজ্জালের কথা বর্ণনা করে বললেন: “আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনার ব্যাপারে সাবধান করছি, যেমন প্রত্যেক নবী তাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন, এমনকি নূহ (আঃ)-ও তাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন। তবে এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি, যা কোনো নবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি। তা হলো এই যে, তোমরা জেনে রাখো, দাজ্জাল কানা হবে। আল্লাহ তা‘আলা কানা নন।”ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে উমর ইবন সাবিত আল আনসারী জানিয়েছেন, জনৈক সাহাবা আমাকে অবহিত করেছেন, যেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকেদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেছেন সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছেন, “তার চক্ষুদ্বয়ের মধ্যস্থলে ‘কাফির’ লেখা থাকবে। যে ব্যক্তি তার কার্যক্রম পছন্দ করবে না সে তা পাঠ করতে পারবে কিংবা প্রত্যেক মুমিন মাত্রই তা পাঠ করতে সক্ষম হবে।” তিনি এ-ও বলেছেন যে, “তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের কোনো লোক মৃত্যুর আগে তার রবকে কক্ষনো দেখতে পারবে না।”
৭২৪৭
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি:)
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সাহাবীর সাথে রওয়ানা হলেন। তাঁদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন। ইবন সাইয়্যাদ বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তিনি তাকে বানী মু’আবিয়্যার কিল্লার কাছে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলাধুলা অবস্থায় দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি উমর ইবনু সাবিত-এর হাদীসের শেষ পর্যন্ত ইউনুস-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়া’কূব-এর এ হাদীসের মধ্যে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, আমার পিতা লَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন لَوْ تَرَكَتْهُ أُمُّهُ بَيَّنَ أَمْرَهُ অর্থাৎ তার মা যদি তাকে ঐ অবস্থায় ছেড়ে দিতো তবে তার ব্যাপারটি উম্মোচন হয়ে যেত।
৭২৪৮
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাযি:)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সাহাবীদের নিয়ে ইবনু সাইয়্যাদ-এর কাছে গেলেন। এদের মাঝে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন। এমন সময় সে বানী মাগালার দুর্গের পাশে একদল বালকের সঙ্গে ক্রীড়ারত অবস্থায় ছিল। তখন সে বালক ছিল। বর্ণনাকারী এ হাদীসটি ইউনুস এবং মালিক-এর অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ইবনু উমর–এর হাদীস তথা উবাই ইবনু কা‘বের সঙ্গে নবী (ﷺ)-এর বাগানের দিকে রওয়ানার হাদীসটি উল্লেখ করেননি।
৭২৪৯
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
মদিনার কোনো এক রাস্তায় ইবন উমর (রাঃ) ইবন সাইয়াদের সাথে দেখা হলে তিনি তাকে এমন কতিপয় কথা বলেন, যার ফলে সে ক্রোধান্বিত হয়ে গেল। সে ক্রোধে এমন ফুলে উঠল যে, সমস্ত রাস্তা জুড়ে ফেলল। অতঃপর ইবন উমর (রাঃ) হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তিনি আগেই এ ঘটনার ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত ছিলেন। তিনি বললেন, “আল্লাহ তা’আলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি ইবন সাইয়্যাদ সম্পর্কে কী ইচ্ছা পোষণ করছেন? আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জাল সর্বপ্রথম ক্রোধের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।”
৭২৫০
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, ইবনু সাইয়্যাদ-এর সঙ্গে আমার দুইবার দেখা হয়েছে। একবার দেখার পর আমি জনৈক লোককে প্রশ্ন করলাম, আপনি বলেন যে, ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল? উত্তরে সে বলল, আল্লাহর শপথ, কখনো না। আমি বললাম, তাহলে তো তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছো। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এক লোক তো আমাকে এ মর্মে খবর দিয়েছে যে, সে মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের চাইতে সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সন্তান-সন্ততি সম্পন্ন না হবে। আজ তো অনুরূপই হয়েছে বলে সে মন্তব্য করছে। তারপর ইবনু সাইয়্যাদ আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করল। এরপর আমি তার থেকে সরে পড়লাম।ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে আরেকবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তখন তার চোখ ফোলা অবস্থায় ছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার চোখের এ কি অবস্থা, আমি কি দেখতে পাচ্ছি? সে বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, তোমার মাথায় চোখ অথচ তুমি জান না! তারপর সে বলল, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার এ লাঠিতেও তিনি চোখ সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এরপর সে গাধার চেয়েও বিকট শব্দে চিৎকার করল যা আমি ইতোপূর্বে শুনিনি। আমার কোন সাথী ধারণা করছে যে, আমি তাকে আমার সাথে থাকা লাঠি দ্বারা সজোরে আঘাত করেছি যাতে লাঠি ভেঙ্গে গেছে। আল্লাহর শপথ, অথচ এ সম্পর্কে আমি একেবারে অজ্ঞাত ছিলাম।নাফি (রহঃ) বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ)-এর নিকট এলেন এবং তার কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ইবনু সাইয়্যাদ–এর নিকট আপনার কি প্রয়োজন ছিল? আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কারো প্রতি ভীষণ রাগই সর্বপ্রথম দাজ্জালকে মানুষের সম্মুখে প্রকাশ ঘটবে।