৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭২৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭২৬১
দাজ্জাল এর বর্ণনা, তার পরিচয় এবং তার সাথে যা থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
রিব’ঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ)
একদা হুযাইফা (রাঃ) ও আবু মাসউদ (রাঃ) একত্রিত হলেন। তখন হুযাইফা (রাঃ) বললেন, দাজ্জালের সঙ্গে যা থাকবে এ সম্পর্কে আমি তার থেকে সর্বাধিক জ্ঞাত। তার সঙ্গে একটি পানির ঝর্ণা এবং একটি আগুনের নহর থাকবে। যেটাকে বাহ্যত অগ্নি মনে হবে সেটাই হবে পানি, আর যেটাকে বাহ্যত পানি মনে হবে সেটাই হবে অগ্নি। তোমাদের কেউ যদি এ সময়কাল পায় এবং সে পানি পান করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন যা দৃশ্যত অগ্নি মনে হবে তা থেকে পান করে। কেননা এখানেই সে পানি পাবে। বর্ণনাকারী আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমিও এমনটিই নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি।
৭২৬২
দাজ্জাল এর বর্ণনা, তার পরিচয় এবং তার সাথে যা থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি দাজ্জালের বিষয়ে তোমাদেরকে কি এমন একটি হাদীস বলব না, যা কোন নবী তাঁর কওমকে অদ্যাবধি বলেননি? শুনো, দাজ্জাল কানা হবে এবং তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম নামে দুইটি প্রতারণার বস্তু থাকবে। সে যাকে জান্নাত বলবে, সেটি আসলে হবে জাহান্নাম। দেখো, দাজ্জাল সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে ভীতি-প্রদর্শন করছি, যেমন নূহ (আঃ) তাঁর কওমকে সতর্ক করেছিলেন।
৭২৬৩
দাজ্জাল এর বর্ণনা, তার পরিচয় এবং তার সাথে যা থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
নাও্ওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযি:)
একদা সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন, পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, “তোমাদের ব্যাপার কি?” আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগানের মধ্যেই বিদ্যমান।” এ কথা শুনে তিনি বললেন, “দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব, তোমাদের প্রয়োজন হবেনা। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মু’মিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির আবদুল উয্যা ইবনু কাতান-এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহ্‌ফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে।” আমরা প্রশ্ন করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “চল্লিশ দিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।” আমরা প্রশ্ন করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে?” উত্তরে তিনি বললেন, “না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নেবে।” আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে?” তিনি বললেন, “বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দেবে। অতঃপর সে আকাশমন্ডলীকে আদেশ করবে, আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুঁজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কওমের কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফরির প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দেবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, ‘তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও।’ তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রব্বুল আলামীন ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-কে প্রেরণ করবেন। তিনি দুই ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং-এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশ্‌ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তাঁর মাথা ঝুঁকাবেন তখন ফোঁটা ফোঁটা ঘাম তাঁর শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কাফিরের কাছে যাবেন সে তাঁর শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে ‘বাবে লুদ’ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ‘ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দেবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ‘ঈসা (আঃ)-এর প্রতি এই মর্মে ওহী অবতীর্ণ করবেন যে, ‘আমি আমার এমন বান্দাদের অবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মু’মিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও।’ তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়া’জুজ-মা’জুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি “বুহাইরায়ে তাবারিয়া”র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, ‘এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি?’ তারা আল্লাহর নবী ‘ঈসা (আঃ) এবং তাঁর সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ’ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ‘ঈসা (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া’জুজ-মা’জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি ‘আজাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ‘ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যেথায় তাদের পঁচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, ‘হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বরকত ফিরিয়ে দাও।’ সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নিচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মু’মিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মু’মিন মুসলিমদের রুহ কবজ করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কেয়ামত সংঘটিত হবে।
৭২৬৪
দাজ্জাল এর বর্ণনা, তার পরিচয় এবং তার সাথে যা থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবির (রাযি:)
কিন্তু এতে “এখানেও একসময় পানি ছিল” এ কথার পর বর্ধিত এ কথাও উল্লেখ রয়েছে যে, এরপর তারা অগ্রসর হতে থাকবে। পরিশেষে যেতে যেতে তারা ‘জাবালে খামার’ নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছবে। এ হলো, বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি পর্বত। এখানে পৌঁছে তারা বলবে, আমরা তো পৃথিবীবাসীদেরকে নিঃশেষ করে দিয়েছি। এসো, আকাশমণ্ডলির সত্তাকেও নিঃশেষ করে দেই। এ বলেই তারা আকাশের পানে তীর ছুঁড়তে থাকবে। আল্লাহ তা’আলা তীর রক্তে রঞ্জিত করে তাদের প্রতি আবার ফিরিয়ে দিবেন। বর্ণনাকারী ইবনু হুজরের বর্ণনায় এ কথাও বর্ধিত আছে যে, আল্লাহ বলবেন, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি কারো নেই।
৭২৬৫
দাজ্জালের পরিচিতি, তার জন্য মদীনাহ্ (প্রবেশ) হারাম এবং কোন মু’মিনকে হত্যা ও জীবিত করণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্রী (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এক লম্বা বর্ণনা দিলেন। দাজ্জালের বিষয়ে তিনি এ-ও বললেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, কিন্তু মদিনার পথে ঘাটে প্রবেশ করা তার জন্য নিষিদ্ধ ও হারাম হবে। অতঃপর মদিনার নিকটবর্তী কোনো এক রাস্তায় পৌঁছলে ঐ দিনই মদিনা হতে এক লোক তার নিকট যাবে, যে ব্যক্তি সে সময়কার শ্রেষ্ঠ মানব হবে। সে এসে তাকে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই সে দাজ্জাল, যার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে শুনিয়েছিলেন।দাজ্জাল বলবে, হে লোক সকল! যদি আমি এ লোককে হত্যা করার পর পুনরায় জীবিত করি তবে তোমাদের মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে কি? লোকেরা বলবে, না। অতঃপর সে তাকে হত্যা করবে; তারপর জীবন দান করবে; জীবন দান করার পর সে লোক বলবে, আল্লাহর শপথ! এখন তো তোমার ব্যাপারে আমার জ্ঞান আরো বেড়ে গেছে, যা ইতোপূর্বে কখনো ছিল না। দাজ্জাল আবারো তাকে হত্যা করতে মনস্থ হবে, কিন্তু আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না। আবু ইসহাক বলেন, কথিত আছে যে, উক্ত ব্যক্তি (যাকে দাজ্জাল হত্যা করবে) খিজির (আঃ)।
৭২৬৬
দাজ্জালের পরিচিতি, তার জন্য মদীনাহ্ (প্রবেশ) হারাম এবং কোন মু’মিনকে হত্যা ও জীবিত করণ পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
অবিকল বর্ণনা করা হয়েছে।
৭২৬৭
দাজ্জালের পরিচিতি, তার জন্য মদীনাহ্ (প্রবেশ) হারাম এবং কোন মু’মিনকে হত্যা ও জীবিত করণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর কোন এক মুসলিম লোক তার দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর পথে অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সঙ্গে তার দেখা হবে। তারা তাকে প্রশ্ন করবে, কোথায় যাবে? সে বলবে, আবির্ভূত দাজ্জালের কাছে যাব। তারা তাকে আবারো প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আননি? সে বলবে, আমাদের প্রতিপালক গুপ্ত নন। দাজ্জালের লোকেরা তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমরা তাকে হত্যা করে দাও। তখন তারা একে অপরকে বলবে, আমাদের রব কাউকে তার সামনে নেয়া ব্যতিরেকে হত্যা করতে কি তোমাদের বারণ করেননি? তারপর তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে।দাজ্জালকে দেখামাত্রই সে বলবে, হে লোক সকল! এ তো সেই দাজ্জাল, যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন। তারপর দাজ্জাল তার লোকদেরকে আগন্তুক লোকের মাথা ছিন্ন-ভিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলবে, তাকে ধর এবং তার মাথা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দাও। তারপর তার পেট ও পিঠে আঘাত করা হবে। আবার দাজ্জাল তাকে প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে না। সে বলবে, তুমি তো মাসীহ দাজ্জাল।বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দাজ্জাল তার ব্যাপারে নির্দেশ দিবে। দাজ্জালের হুকুমে মাথা হতে পা পর্যন্ত তাকে করাতে চিরে দুই টুকরো করে দেয়া হবে। তারপর দাজ্জাল উভয় টুকরার মধ্যস্থলে দণ্ডায়মান হয়ে তাকে সম্বোধন করে বলবে, উঠো। সে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? অতঃপর আগন্তুক ব্যক্তি বলবে, তোমার সম্পর্কে কেবল আমার মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা বেড়েই চলবে।তারপর আগন্তুক লোক বলবে, হে লোক সকল! আমার পর দাজ্জাল আর কারো সঙ্গে এমন আচরণ করতে সক্ষম হবে না। এরপর যবাহ করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা ও ঘাড় তামায় রূপান্তর করা হবে। ফলে দাজ্জাল তাকে যবাহ করতে সক্ষম হবে না। উপায়ান্তর না দেখে দাজ্জাল তখন তার হাত-পা ধরে তাকে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। বস্তুত সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের কাছে এ লোকই হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শাহাদাতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
৭২৬৮
দাজ্জালের (অলেৌকিকত্ব) আল্লাহর নিকট অধিক সহজ পরিচ্ছেদ নাই
মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ (রাযি:)
দাজ্জালের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ জিজ্ঞেস করেনি। তোমার কাছে যেটা পীড়াদায়ক, তা তোমার কোনো ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হবে না। জবাবে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকেরা বলাবলি করছে যে, তার সাথে খাদ্য এবং পানির ঝর্ণা থাকবে। তখন নবী (ﷺ) বললেন: এটা তো আল্লাহর কাছে তার চেয়েও অনেক সহজ।
৭২৬৯
দাজ্জালের (অলেৌকিকত্ব) আল্লাহর নিকট অধিক সহজ পরিচ্ছেদ নাই
মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ (রাযি:)
দাজ্জালের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর কাছে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আর তিনি আমাকে বলেছেন, তোমার কি প্রশ্ন? তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, লোকেরা কথোপকথন করছে যে, তার সাথে রুটি ও গোশতের পর্বত এবং পানির ঝর্ণা থাকবে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা তো আল্লাহর কাছে তার তুলনায় সহজ।
৭২৭০
দাজ্জালের (অলেৌকিকত্ব) আল্লাহর নিকট অধিক সহজ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ,
ইবরাহীম ইবন হুমায়দ অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াযীদের হাদীসে এ কথা বর্ধিত রয়েছে যে, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে প্রিয় বৎস!’