৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭২৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭২৩১
কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, এমনকি এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মুসীবাতের কারণে মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার কামনা করবে পরিচ্ছেদ নাই
সিমাক (রহঃ)
সিমাক (রহঃ) বলেন, আমি আমার ভাইকে বলতে শুনেছি। জাবির (রাঃ) বলেছেন, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।
৭২৩২
কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, এমনকি এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মুসীবাতের কারণে মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার কামনা করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) বলেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন হয়। আগমনের পর তারা প্রত্যেকেই দাবী করবে, সে আল্লাহর রসূল।
৭২৩৩
কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, এমনকি এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মুসীবাতের কারণে মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার কামনা করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে এতে يُبْعَث এর স্থলে يَنْبَعِثَ বর্ণিত রয়েছে।
৭২৩৪
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় আমরা কতক বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তাদের মাঝে ইবনু সাইয়্যাদও ছিল। বালকেরা পালিয়ে গেল কিন্তু ইবনু সাইয়্যাদ বসে রইল। তার এরূপ আচরণ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা অপছন্দ করলেন।তারপর নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার উভয় হাত ভূলুণ্ঠিত হোক। তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, না। বরং আপনি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল। এ কথা শুনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে সুযোগ দিন, আমি তাকে নিঃশেষ করে দিই। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি যা মনে করছ, যদি সে তাই (দাজ্জাল) হয়, তবে তো তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।
৭২৩৫
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে হাঁটছিলাম। নবী (ﷺ) ইবনু সাইয়াদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “তোমার বিষয়ে আমি একটি কথা লুক্কায়িত রেখেছি।” ইবনু সাইয়াদ বলল, “আপনার হৃদয়ে دُخٌّ (ধুয়া) শব্দটি লুক্কায়িত রয়েছে।” এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর পরিমণ্ডল অতিক্রম করতে পারবি না।” তখন উমর (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ছেড়ে দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছ সে যদি ঐ লোকই হয়ে থাকে তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।”
৭২৩৬
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ (রাযিঃ)
একদিন মদিনার কোনো পথে ইবনু সাইয়াদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবনু সাইয়াদকে বললেন: তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও, আমি আল্লাহর রাসূল? উত্তরে সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি তো আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি ও তাঁর কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ? সে বলল, আমি পানির উপর আরশ দেখতে পাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি তো সমুদ্রের উপর ইবলীসের ‘আরশ দেখতে পাচ্ছ। তুমি আর কি দেখতে পাচ্ছ?সে বলল, আমি কিছু সংখ্যক সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে অথবা কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: একে ছেড়ে দাও। সে বিষয়ে নিজেই সন্দেহ পোষণ করছে।
৭২৩৭
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
একদা নবী (ﷺ) ইবনু সাইয়্যাদকে দেখলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আবু বকর ও উমর (রাঃ)-ও ছিলেন এবং কিছু বালকের সাথে ইবনু সাইয়্যাদ ছিল। তারপর তিনি জুরাইরী (রহঃ)-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৭২৩৮
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্‌রী (রাযিঃ)
একদিন মক্কা যাওয়ার পথে ইবনু সাইয়াদ মক্কা পর্যন্ত আমার সফর সঙ্গী ছিল। পথে সে আমাকে বলল, এমন কতিপয় লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা ধারণা করে যে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। তখন সে বলল, আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জাল মক্কা ও মদিনায় ঢুকতে পারবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি।সে বলল, মনে রাখুন, আমি তো মদিনায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন মক্কা যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) বলেন, অতঃপর এসব কথা বলার পর পরিশেষে সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই জানি দাজ্জালের জন্মস্থান, বাসস্থান এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে। আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) বলেন, (এ কথা বলে) সে আমাকে দ্বিধা ও সংশয়ে ফেলে দিল।
৭২৩৯
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্‌রী (রাযিঃ)
একদিন ইবনু সাইয়াদ আমার সঙ্গে কিছু কথা বলেছে যাতে আমার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে গেছে। তা হচ্ছে ইবনু সাইয়াদ-এর এ বক্তব্যঃ আমি মানুষকে এ বলে ওযর পেশ করছি। হে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সঙ্গী-সাথীগণ! আমার ব্যাপারে তোমাদের কি হয়েছে? আল্লাহর নবী (ﷺ) কি এ কথা বলেননি যে, দাজ্জাল ইয়াহুদি হবে? কিন্তু আমি তো মুসলিম।দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না অথচ আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। তিনি তো এ-ও বলেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের উপর মক্কা প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। অথচ আমি হজ্জও করেছি। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, সে অনর্গল এমনভাবে বলে যেতে লাগল, যার ফলে আমি তাকে সত্যবাদী মনে করার কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম।অতঃপর সে বলল, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি জানি, দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে। আমি তার পিতামাতাকেও চিনি। লোকেরা ইবনু সাইয়াদ কে জিজ্ঞাসা করল, তুমি যদি দাজ্জাল হও, তাতে কি তুমি আনন্দিত হবে? উত্তরে সে বলল, যদি আমাকে দাজ্জালরূপে সাব্যস্ত করা হয়, তবে আমি তাতে নারাজ হব না।
৭২৪০
ইবনু সাইয়্যাদ- এর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্‌রী (রাযিঃ)
একবার আমরা হজ্জ বা উমরার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। আমাদের সঙ্গে ইবনু সাইয়্যাদ ছিল। তারপর কোন এক মঞ্জিলে আমরা অবতরণ করলাম। লোকেরা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। কেবল আমি এবং সে থেকে গেলাম। লোকেরা ইবনু সাইয়্যাদ-এর ব্যাপারে যে কথা কথোপকথন করছে, এ কারণে আমি তার প্রতি অত্যধিক ভীত ও ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলাম।ইবনু সাইয়্যাদ তার দ্রব্য-সামগ্রী আমার সাথে এনে রাখল। আমি বললাম, গরম খুব বেশী মনে হচ্ছে। তুমি যদি তোমার দ্রব্য-সামগ্রী ঐ গাছের নিচে রাখতে তবে ভালো হতো। এ কথা শুনে সে তা-ই করল। তারপর আমাদের জন্য কতগুলো ছাগল নিয়ে আসা হলো। এ দেখে ইবনু সাইয়্যাদ সেখানে গেল এবং এক পাত্র দুধ নিয়ে এলো। এরপর সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ। তুমি দুধ পান করে নাও। আমি বললাম, গরম খুব বেশী। দুধও গরম। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, তার হাতে দুধ পান করা বা তার হাত হতে দুধ গ্রহণ করা আমি পছন্দ করিনি।এ দেখে ইবনু সাইয়্যাদ বলল, হে আবু সাঈদ! লোকেরা আমার ব্যাপারে যে সব কথাবার্তা বলছে, এখন আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি একটি রশি নিয়ে সেটা গাছে লটকিয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাই এবং তা থেকে পরিত্রাণ লাভ করি। তারপর সে বলল, হে আবু সাঈদ! তোমাদের আনসার সম্প্রদায়ের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস আর কারো কাছে অজানা নেই? তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, সে ব্যক্তি (দাজ্জাল) কাফির হবে? অথচ আমি মুসলিম। তিনি কি বলেননি যে, দাজ্জাল নিঃসন্তান? আর তার কোন সন্তান হবে না? অথচ মদিনায় আমি আমার সন্তান রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, দাজ্জাল মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদিনা থেকে এসেছি এবং মক্কা যাবার ইচ্ছা করছি।আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, তার কথায় আমি তাকে বিশ্বাস করার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলাম। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ বললঃ আল্লাহর শপথ! আমি তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার জন্মস্থান চিনি এবং এখন সে কোথায় অবস্থান করছে, তাও আমি জানি। এ কথা শুনে আমি বললাম, তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক, অকল্যাণকর হোক।