৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭১৬১
সমুদ্রের তরঙ্গের মতো যে ফিতনা তরঙ্গায়িত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রাযিঃ)
আবূ মু‘আবিয়া অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা (রহঃ)-এর সানাদে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি হুযাইফা (রাঃ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি।
৭১৬২
সমুদ্রের তরঙ্গের মতো যে ফিতনা তরঙ্গায়িত হবে পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)
উমর (রাঃ) বললেন, ফিতনা সম্পর্কীয় হাদীস আমাকে কে শুনাতে পারবে? তারপর সুফিয়ান (রহঃ) পূর্ববর্তীদের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৭১৬৩
সমুদ্রের তরঙ্গের মতো যে ফিতনা তরঙ্গায়িত হবে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ (রহঃ)
জুনদুব (রাঃ) বললেন, আমি জারা‘আয় (কুফার নিকটবর্তী একটি স্থানে) আসলাম। দেখলাম এক লোক বসে আছে। আমি বললাম, আজ তো এখানে কয়েকটি খুন হবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, কক্ষনো না। আল্লাহর শপথ! খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই খুন হবে। সে আবারো বলল, আল্লাহর শপথ! খুন কক্ষনো হবে না। এ ব্যাপারে আমি একটি হাদীস শুনেছি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।আমি বললাম, আজ থেকে তুমি আমার একজন অপ্রীতিকর সঙ্গী। কারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ যে, আমি তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছি। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস শোনা সত্ত্বেও তুমি আমাকে নিষেধ করছ না। তারপর আমি বললাম, এ অসন্তুষ্টির কি কারণ? তাই আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম পরে জানতে পারলাম, তিনি হলেন হুযাইফা (রাঃ)।
৭১৬৪
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: কেয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না ফুরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দেয়। লোকেরা এ নিয়ে যুদ্ধ করবে এবং একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন মৃত্যুবরণ করবে। তাদের সকলেই বলবে, আমার মনে হয় আমি জীবন্ত থাকব।
৭১৬৫
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ল (রহঃ)
অবিকল বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এতে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তোমরা ঐ পাহাড় দেখো তবে তোমরা এর নিকটেও যেও না।
৭১৬৬
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থিত স্বর্ণভাণ্ডার বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে।
৭১৬৭
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ বের করে দিবে। তাই এ সময় যারা সমুপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে।
৭১৬৮
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু নাওফাল (রহঃ)
আমি উবাই ইবনু কাআব (রাঃ)-এর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতঃ মানুষ জাগতিক সম্পদ উপার্জনের কাজে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। আমি বললাম, হ্যাঁ, ঠিকই। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থিত স্বর্ণসম পর্বত বের করে দিবে। এ কথা শুনামাত্রই লোকজন সেদিকে চলতে রওনা হবে। সেখানকার লোকেরা বলবে, আমরা যদি লোকদেরকে ছেড়ে দেই তবে তারা সমস্ত কিছুই নিয়ে চলে যাবে। এ নিয়ে তারা পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং এতে একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন লোকই নিহত হবে। বর্ণনাকারী আবূ কামিল (রহঃ) তার হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, আমি এবং উবাই ইবনু কাআব (রাঃ) হাস্‌সান-এর কিল্লার ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
৭১৬৯
ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ফুরাত তার মধ্যস্থিত পাহাড়সম স্বর্ণ উন্মোচন না করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইরাক তার রৌপ্য মুদ্রা এবং কফীজ দিতে বারণ করবে। সিরিয়াও তার মুদ এবং স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাবে। অনুরূপভাবে মিশরও তাদের আরদাব এবং স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাবে। পরিশেষে তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, তোমরা পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। এ কথার প্রতি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর রক্ত-মাংস সাক্ষ্য দিচ্ছে।
৭১৭০
কুস্তনতিনিয়া (ইস্তাম্বুলের একটি শহর) বিজয়, দাজ্জালের আগমন এবং ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ :) –এর অবতরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না রোমীয় (সিরিয়ার অন্তর্গত) সেনাবাহিনী আ‘মাক অথবা দাবিক নহরের কাছে অবতরণ করবে। তখন তাদের মুকাবিলায় মদিনা হতে এ দুনিয়ার সর্বোত্তম মানুষের এক দল সৈন্য বের হবে। তারপর উভয় দল সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবার পর রোমীয়গণ বলবে, তোমরা ঐ সমস্ত লোকেদের থেকে পৃথক হয়ে যাও, যারা আমাদের লোকেদেরকে বন্দী করেছে। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব।তখন মুসলিমগণ বলবে, আল্লাহর শপথ! আমরা আমাদের ভাইদের থেকে কখনো সম্পর্কচ্ছেদ করব না। পরিণামে তাদের পরস্পর যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধে মুসলিমদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পলায়নপর হবে। আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাদের তওবা গ্রহণ করবেন না। সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে এবং তারা হবে আল্লাহর কাছে শহীদদের মাঝে সর্বোত্তম শহীদ। আর সৈন্যদের অপর তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে। জীবনে আর কখনো তারা ফিতনায় আক্রান্ত হবে না। তারাই কুস্তুনতুনিয়া বিজয় করবে।তারা নিজেদের তলোয়ার যাইতুন বৃক্ষে লটকিয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভাগ করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে শয়তান উচ্চস্বরে বলতে থাকবে, দাজ্জাল তোমাদের পেছনে তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ কথা শুনে মুসলিমরা সেখান থেকে বের হবে। অথচ এ ছিল মিথ্যা সংবাদ। তারা যখন সিরিয়া পৌঁছবে তখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে। যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করা মাত্র সালাতের সময় হবে। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন এবং সালাতে তাদের ইমামত করবেন। আল্লাহর শত্রু তাকে দেখামাত্রই বিচলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়। যদি ‘ঈসা (আঃ) তাকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আঃ)-এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ‘ঈসা (আঃ)-এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে দেখিয়ে দিবেন।