৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭১৫১
এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
সাওবান (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তা‘আলা আমার সম্মুখে উপস্থিত করলেন। আমি এর পূর্বপ্রান্ত হতে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দেখে নিলাম, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দুইটি ধনভাণ্ডার দান করেছেন। অতঃপর কাতাদাহ (রহঃ) আইয়ুব-এর সূত্রে আবু কিলাবা (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীস-এর অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৭১৫২
এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
সা‘দ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আলিয়াহ থেকে এসে বানু মু’আবিয়া-র অবস্থিত মসজিদের সন্নিকটে গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আমরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ সময় দোয়া করলেন এবং দোয়া শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন। তারপর তিনি বললেন, “আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুইটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দোয়া কবুল করেছেন। তাঁর নিকট এ-ও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দোয়াও কবুল করেছেন। আমি তাঁর নিকট এ মর্মেও দোয়া করেছিলাম যে, যেন মুসলিমরা পরস্পর একে অপরের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি আমার এ দোয়া কবুল করেননি।”
৭১৫৩
এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আমির ইবনু সা‘দ (রাযিঃ)
তিনি সাহাবীদের একটি দলের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে কোথাও থেকে আসলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু মু‘আবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইবনু নুমাইর-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৭১৫৪
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইদরীস খাওলানী (রহঃ)
হুযাইফা ইবন ইয়ামান (রাঃ) বলেন, “আমার ও কেয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ের মাঝে ঘটমান বিপদাপদ সম্পর্কে আমি সর্বাধিক জ্ঞাত। বস্তুতঃ বিষয়টি এমন নয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্যদের কাছে বর্ণনা না করে শুধুমাত্র আমার কাছেই এ ব্যাপারটি বর্ণনা করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এক বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। এতে তিনি ফিতনার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করছিলেন। আর এগুলোর তিনটি এমন, যা কোনো কিছুকেই ছাড় দিবে না। এর কিছু সংখ্যক গ্রীষ্মের ঝঞ্ঝা বায়ুর মতো। আবার কিছু সংখ্যক ছোট এবং কিছু সংখ্যক বড়।” হুযাইফা (রাঃ) বলেন, “উক্ত মাজলিসে উপস্থিত লোকদের মধ্যে আমি ছাড়া প্রত্যেকেই এ দুনিয়া হতে চির বিদায় নিয়েছেন।”
৭১৫৫
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সকল বিষয় ও ফিতনার কথা বর্ণনা করলেন। তারপর যে স্মরণ রাখার সে স্মরণ রাখল এবং যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেল। আমার এ সঙ্গীগণ জানেন যে, তন্মধ্যে কতক বিষয় এমন আছে, যা আমি ভুলে গেছি। কিন্তু সেটা সংঘটিত হতে দেখে আমার তা আবার মনে পড়ে যায়। যেরূপ কোন লোক দূরে চলে গেলে তার চেহারার কথা মানুষ ভুলে যায়। অতঃপর তাকে দেখে সে চিনে নেয়।
৭১৫৬
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রহঃ)
অর্থাৎ “যে ভুলে গেছে সে ভুলে গেছে” পর্যন্ত অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফিয়ান (রহঃ) উল্লেখ করেননি।
৭১৫৭
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)
কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমুদয় ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। ফিতনা সম্পর্কীয় কতক বিষয় সম্পর্কে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি। তবে মদিনাবাসীকে কোন কারণে মদিনা হতে বের করা হবে সে সম্পর্কে আমি তাঁকে প্রশ্ন করিনি।
৭১৫৮
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নাবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রহঃ)
অবিকল হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
৭১৫৯
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে নাবী (সাঃ)-এর সংবাদ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যায়দ (রাযিঃ)
একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর মিম্বারে আরোহণ করে ভাষণ দিলেন। পরিশেষে যুহরের সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি মিম্বার হতে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর পুনরায় মিম্বারে উঠে তিনি ভাষণ দিলেন। এবার আসরের সালাতের ওয়াক্ত হলে তিনি মিম্বার থেকে নেমে সালাত আদায় করে পুনরায় মিম্বারে উঠলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবা দিলেন, এমনকি সূর্যাস্ত হয়ে গেল, এ ভাষণে তিনি আমাদেরকে পূর্বে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে ইত্যাকার সম্পর্কে সংবাদ দিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যে লোক এ কথাগুলো সর্বাধিক মনে রেখেছেন আমাদের মধ্যে এ সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে বেশি জানেন।
৭১৬০
সমুদ্রের তরঙ্গের মতো যে ফিতনা তরঙ্গায়িত হবে পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)
আমরা উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনা বিষয়ক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী তোমাদের কার মনে আছে? আমি বললাম, আমার মনে আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ব্যস! তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বলো? তারপর আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, স্বীয় নফস, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় জড়িত হয়, তার সাওম, সালাত, সদাকা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দানই হলো এগুলোর জন্য কাফ্‌ফারা।এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, আমি তো এ ফিতনার ব্যাপারে শুনতে চাইনি। বরং সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো যে ফিতনা নিপতিত হতে থাকবে, আমি তো শুধু তাই শুনতে চেয়েছি। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কী সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনা ও আপনার মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ দ্বার কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না, বরং ভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, তবে তো তা আর কক্ষনো বন্ধ হবে না।বর্ণনাকারী শাকীক (রহঃ) বলেন, আমরা হুযাইফা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, কে সে দ্বার, উমর (রাঃ) তা কি জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামী দিনের পর রাত, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রূপ ঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক (রহঃ) বলেন, কে সে দরজা, এ বিষয়ে হুযাইফা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক (রহঃ)-কে বললাম, আপনি তাঁকে প্রশ্ন করুন। তিনি হুযাইফা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন। হুযাইফা (রাঃ) বললেন, এ দরজা হচ্ছে স্বয়ং উমর (রাঃ)।