৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭১৪১
বৃষ্টি বর্ষণের মতো বিপদাপদ পতিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, অচিরেই ফিতনা দেখা দিবে। তখন ঘুমন্ত লোক জাগ্রত লোক থেকে ভাল থাকবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি তখন দাঁড়ানো ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে এবং দণ্ডায়মান লোক দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে। তখন যদি কোন লোক আশ্রয়স্থল অথবা মুক্তস্থান পায় তবে তাতে তার আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।
৭১৪২
বৃষ্টি বর্ষণের মতো বিপদাপদ পতিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
উসমান আশ্ শাহ্‌হাম (রহঃ)
মুসলিম ইবনু আবু বকরাহ (রহঃ) তার স্বীয় ভূমিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি ও ফারকাদ সাবাখী তার নিকট গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে বিপদাপদ সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি আবু বকরাহ (রহঃ)-কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই দুর্যোগ দেখা দিবে। সাবধান, সেখানে ফিতনা দেখা দিবে। তখন বসে থাকা লোক চলমান লোক থেকে নিরাপদ থাকবে। আর চলমান লোক তখন দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে।সাবধান যখন ফিতনা আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে কি করবে? জবাবে তিনি বললেন, সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ্ন অংশ চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক।অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যদি চাপ সৃষ্টি করে দুই সারির কোন একটিতে অথবা দুই দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে।
৭১৪৩
বৃষ্টি বর্ষণের মতো বিপদাপদ পতিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
উসমান আশ্ শাহ্‌হাম (রহঃ)
ইবনু আবূ আদী (রহঃ)-এর হাদীসটি হাম্মাদ-এর হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। কিন্তু إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ অর্থাৎ “নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক” পর্যন্ত ওয়াকী’ (রহঃ)-এর হাদীসটি সমাপ্ত হয়েছে। এর পরবর্তী অংশটি তিনি আর বর্ণনা করেননি।
৭১৪৪
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
আহনাফ ইবনু কায়স (রাযিঃ)
একদিন আমি বের হলাম। এ লোকটিকে সহযোগিতা করা আমার অভিপ্রায় ছিল। এমন সময় আবু বাকরাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে আমার দেখা হলো। তখন তিনি বললেন, হে আহ্নাফ! তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচাত ভাই আলী (রাঃ)-কে সহযোগিতা করার জন্য আমি যেতে চাচ্ছি।আহ্নাফ (রাঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আহ্নাফ! চলে যাও। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, যখন দুইজন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধ করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি দুজনেই জাহান্নামী হবে। এ কথা শুনে আমি বললাম অথবা বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! হত্যাকারীর অবস্থা তো এই, তবে নিহত ব্যক্তির অপরাধ কি? জবাবে তিনি বললেন, সে তার সাথীকে হত্যা করার প্রচেষ্টায় জড়িত ছিল।
৭১৪৫
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকরাহ্‌ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যদি দুইজন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে হত্যাকারী ও নিহত দুই ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে।
৭১৪৬
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
আইয়ূব (রহঃ)
আবূ কামিল-এর সনদে হাম্মাদ-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
৭১৪৭
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকরাহ্‌ (রাযিঃ)
যদি দুইজন মুসলিমের একজন তার অন্য ভাইয়ের উপর অস্ত্র ধারণ করে তবে তারা দুইজনেই জাহান্নামের প্রান্তে এসে উপনীত হয়; তারপর যখন তাদের একজন অন্য সাথীকে হত্যা করে ফেলে, তখন তারা উভয়েই জাহান্নামে প্রবেশ করে।
৭১৪৮
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কতিপয় হাদীস বর্ণিত করেছেন। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামত ঐ পর্যন্ত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না দুইটি বড় দল পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে এক ভয়ংকর যুদ্ধ হবে। অথচ তাদের উভয়ের দাবি হবে একই।
৭১৪৯
দু’জন মুসলিম যখন তরবারিসহ পরস্পর মুখোমুখি হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত কায়েম হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ‘হার্‌জ’ বেড়ে যায়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ‘হার্‌জ’ কি? উত্তরে তিনি বললেন, হত্যা, হত্যা।
৭১৫০
এ উম্মাতের এক অংশ অন্য অংশ দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
সাওবান (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সম্মুখে রেখে দিলেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব পৌঁছবে। আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দুই প্রকারের গুপ্তধন দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে এ দোয়া করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ছাড়া এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙে ছিন্নভিন্ন করে দিবে। এ কথা শুনে আমার পালনকর্তা বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো পরিবর্তন হয় না, আমি তোমার দোয়া কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক একত্রিত হয়ে প্রচেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ নিজের মধ্যে পরস্পর একে অপরকে হত্যা করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।