৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭০১
মৃত জন্তুর চামড়া পাকা (দাবাগত) করার পর পবিত্র হয়ে যায়। [৯৯] পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ওয়া’লাহ্‌ আস্‌ সাবায়ী (রহঃ)
আমি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমরা পশ্চিম দেশে থাকি। সেখানে আমাদের কাছে অগ্নিপূজকরা মশক নিয়ে আসে, সেটাতে পানি এবং চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে (আমরা সেগুলো ব্যবহার করব কি?)।তিনি বললেন, তা পান করে নাও। আমি বললাম, এটা কি আপনার নিজের অভিমত?ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া পাকা (দাবাগাত) করলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।
৭০২
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোনো এক সফরে আমরা তাঁর সাথে বের হলাম। আমরা যখন বাইদা অথবা যাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমার হার খুলে পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খোঁজ করতে সেখানে থামলেন। আর লোকজনও তাঁর সাথে থামলেন। তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি ছিল না এবং তাদের নিজেদের কাছেও পানি ছিল না।অতঃপর লোকজন আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলতে লাগল, “আপনি দেখছেন না আয়িশা (রাঃ) কী করলো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আটকে দিয়েছে এবং সেই সাথে সমস্ত লোককে আটকে রেখেছে। অথচ তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি নেই আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে।”অতঃপর আবু বকর (রাঃ) আমার কাছে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি এসে বললেন, “তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং সমস্ত লোকজনকে আটকে রেখেছ। অথচ না তারা পানির কাছাকাছি রয়েছে, আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে।”আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) আমাকে ভৎসনা করলেন এবং যতদূর বলার বললেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার পাঁজরে আঘাত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়তেও পারলাম না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়েই রইলেন। এমনি করে পানিবিহীনভাবে সকাল হয়।অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল করলেন। অতঃপর তারা তায়াম্মুম করলেন। তখন উসায়দ ইবনু হুযায়র যিনি ছিলেন নকীব (দলপতি)-দের অন্যতম বললেন, “হে আবু বকর পরিবার। এটাই আপনার প্রথম বরকত নয়।”আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটিকে চলার জন্যে উঠালাম। তখন উক্ত হারটি তার নিচে পাওয়া গেল।
৭০৩
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি আসমা (রাঃ) থেকে একটি হার ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর তা হারিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোককে খুঁজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সালাতের সময় হয়ে গেল। তখন তারা ওজু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসাইদ ইবন হুযাইর বললেন, আল্লাহ আপনাকে (আয়িশা) উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার উপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে, তখন আল্লাহ আপনার জন্য এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাতে বরকত রেখেছেন।
৭০৪
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
শাকীক (রহঃ)
আমি একবার আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) ও আবু মূসা (রাঃ)-এর কাছে বসেছিলাম। তখন আবু মূসা (রাঃ) বললেন, হে আবু আবদুর রহমান! কোনো লোক যদি জুনুবী হয় (যার ফলে তার গোসল ফরজ হয়) এবং সে এক মাস যাবৎ পানি না পায় তাহলে সে কিভাবে সালাত আদায় করবে? আবদুল্লাহ বললেন, সে তায়াম্মুম করবে না যদিও একমাস পানি না পায়।আবু মূসা (রাঃ) বললেন, তাহলে সূরা মায়েদা এর এ আয়াত- “যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর”- (সূরা আল মায়েদা ৫ : ৬) এর কি হবে? আবদুল্লাহ বললেন, এ আয়াতের দ্বারা তাদেরকে যদি তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যে) পানি ঠান্ডা বোধ হলে তারা মাটি দিয়ে তায়াম্মুম শুরু করবে।আবু মূসা (রাঃ) তখন আবদুল্লাহ-কে বললেন, আপনি কি আম্মার-এর বর্ণনা শোনেননি (তিনি বলেন) যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন এক প্রয়োজনে পাঠালেন। (পথিমধ্যে) আমি অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম না। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম চতুষ্পদ জন্তু যেভাবে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললাম। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার জন্যে দুই হাত দিয়ে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তাঁর দুই হাত একবার মাটিতে মারলেন। তারপর বামহাত দিয়ে ডানহাত মাসাহ করলেন এবং উভয় হাতের কব্জির উপরিভাগ ও মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখোনি যে, উমর (রাঃ) আম্মার (রাঃ)-এর কথা যথেষ্ট মনে করেননি?
৭০৫
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
শাকীক (রহঃ)
আবূ মূসা আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, এরপর আবূ মু’আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার জন্যে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তাঁর উভয় হাত মাটিতে মারলেন। অতঃপর ঝেড়ে মুখমণ্ডল এবং উভয় কব্জি মাসাহ করলেন।
৭০৬
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ)
এক লোক উমর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, “আমি অপবিত্র হয়েছি কিন্তু পানি পাইনি (তখন কি করব)?” তিনি বললেন, “তুমি সালাত আদায় করো না।”তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, “আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমি ও আপনি কোন এক অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উভয়েই অপবিত্র হয়ে পড়লাম। আর কোথাও পানি পেলাম না। তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না, কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ ঘটনা জানালে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি দু’হাত জমিনে মারতে, তারপর ফুঁক দিয়ে আলগা ধুলা ফেলে দিতে, তারপর উভয় হাতের কব্জি দ্বারা মাসাহ করতে তোমার দু’হাতে ও চেহারা’।”উমর (রাঃ) বললেন, “আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর।” তিনি [আম্মার (রাঃ)] বললেন, “আপনি চাইলে আমি এটা আর বর্ণনা করব না।”হাকাম বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আব্‌যার পুত্র তার পিতা আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যার্‌-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, “তোমার বর্ণনায় দায়-দায়িত্ব তোমার উপর।”
৭০৭
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ)
এক লোক উমর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি এবং পানি পাইনি (তখন কী করব?)-(এরপর রাবী পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত আছে যে, আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ তা’আলার আমার ওপর আপনার যে হক রেখেছেন (অর্থাৎ আপনাকে খলীফা বানিয়েছেন) তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলছিঃ আপনি চাইলে আমি আর কারও কাছে এটা বর্ণনা করব না এবং সালামা আমার কাছে যার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন কথাটি উল্লেখ করেননি।
৭০৮
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তকৃত দাস ‘উমায়র
তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমি এবং উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা (রাঃ)-এর মুক্তকৃত দাস আবদুর রহমান ইবনু ইয়াসার একবার আবু জাহম ইবনুল হারিস ইবনুস সিম্মা আল-আনসারীর কাছে গেলাম। তখন আবু জাহম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার 'বিঈর জামাল' (মাদিনার নিকটবর্তী একটি স্থান)-এর দিক থেকে আসছিলেন, অতঃপর পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে সালাম দিল কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না বরং একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ করলেন। তারপর তার সালামের জবাব দিলেন।
৭০৯
তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন প্রস্রাব করছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম করল, কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না।
৭১০
মুসলিম অপবিত্র (নাপাক) হয় না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি একবার মাদিনার কোন এক রাস্তায় নবী (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবু হুরায়রা) তখন জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তিনি আস্তে করে পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। নবী (ﷺ) তাঁকে খুঁজলেন। যখন তিনি আসলেন, নবী (ﷺ) বললেন, “হে আবু হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে?” তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয়, তখন আমি অপবিত্র অবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মাজলিসে বসা ভালো মনে করিনি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না।”