৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৯৫১
জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ দশজন ইয়াহূদী ব্যক্তি যদি আমার অনুসরণ করত, তাহলে এ ভূখণ্ডে মুসলিম হওয়া ছাড়া কোন ইয়াহূদী আর অবশিষ্ট থাকত না।
৬৯৫২
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়াহূদীদের রূহ্‌ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও আল্লাহর বাণীঃ “ওরা আপনাকে রূহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে” পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এক ফসলি জমিতে চলছিলাম। সে সময় তিনি একটি খেজুর শাখার ছড়ির উপর ভর দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তারা একজন আরেকজনকে বলাবলি করতে লাগল, রূহ সম্বন্ধে তাঁকে প্রশ্ন করো।তাদের কেউ বলল, কি সন্দেহ তৈরি হয়েছে তোমাদের যে, তোমরা তাকে প্রশ্ন করবে? তোমাদের যেন এমন কথার সম্মুখীন না হতে হয়, যা তোমরা অপছন্দ করো। এরপরও তারা বলল, তাকে অবশ্যই প্রশ্ন করো। পরিশেষে তাদের কেউ উঠে গিয়ে তাঁকে রূহ সম্বন্ধে প্রশ্ন করল।রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) চুপ রইলেন। তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। রাবী বলেন, আমি নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে রইলাম। এরপর ওহী অবতীর্ণ শেষ হলে তিনি বললেন, “তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, রূহ আমার প্রতিপালকের একটি আমর (আদেশ) মাত্র এবং তোমাদের অতি নগণ্য জ্ঞান দেয়া হয়েছে” (সূরা আল-ইসরা ১৭ : ৮৫)।
৬৯৫৩
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়াহূদীদের রূহ্‌ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও আল্লাহর বাণীঃ “ওরা আপনাকে রূহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে” পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে মদিনার একটি ফসলি জমিতে হাঁটছিলাম। তারপর তিনি হাফসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াকী'-এর হাদীসে আছে- وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً আর খাশরামের সূত্রে বর্ণিত 'ঈসার হাদীসে রয়েছে- وَمَا أُوتُوا।
৬৯৫৪
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়াহূদীদের রূহ্‌ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও আল্লাহর বাণীঃ “ওরা আপনাকে রূহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে” পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ) কোন এক খেজুর বাগানে খেজুর ডালের লাঠির উপর ভর করে চলছিলেন। এরপর তিনি আ’মাশ হতে বর্ণিত হাদীস এর হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনার মধ্যে রয়েছে অর্থাৎ- “এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে”।
৬৯৫৫
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়াহূদীদের রূহ্‌ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও আল্লাহর বাণীঃ “ওরা আপনাকে রূহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে” পরিচ্ছেদ নাই
খাব্বাব (রাঃ)
‘আস ইবন ওয়াইল-এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। এর উসূলান্তে আমি তার নিকট গেলাম। সে বলল, “যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার পাওনা দিব না।” এ কথা শুনে আমি তাকে বললাম, “আমি কখনো মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অস্বীকার করব না, তুমি মরার পর আবার জীবিত হয়ে আসলেও।” সে বলল, “আমি কি মৃত্যুর পর আবার জীবিত হয়ে উঠব? তাহলে তখনই আমি আমার সম্পদ এবং সন্তানাদি লাভ করে তোমার পাওনা পরিশোধ করব।” তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, “আপনি কি দেখেছেন তাকে যে আমার আয়াতসমূহ উপেক্ষা করে এবং বলে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি দেয়া হবে।” “..... আর সে আমার কাছে একাকী আসবে” - তখন এ আয়াতটি নাজিল হয়।’
৬৯৫৬
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়াহূদীদের রূহ্‌ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও আল্লাহর বাণীঃ “ওরা আপনাকে রূহ্‌ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে” পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রহঃ)
ওয়াকী-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে জারীর-এর হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত আছে যে, খাব্বাব (রাঃ) বলেন, জাহিলী যুগে আমি কর্মকার ছিলাম। তখন আস ইবন ওয়ায়েলকে আমি একটি কাজ করে দিয়েছিলাম। এরপর আমি তা আদায় করার জন্য তার কাছে গেলাম।
৬৯৫৭
মহান আল্লাহর বাণীঃ “আপনি তাদের মাঝে অবস্থানকালে কক্ষনো আল্লাহ তাদেরকে ‘আযাব দিবেন না” পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একদা আবু জাহল বলল, ‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার তরফ থেকে সত্য হয়, তাহলে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদের কঠিন আযাব দাও।’ তখন অবতীর্ণ হলো: ‘আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন আর তিনি তাদের আযাব দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা মার্জনা প্রার্থনা করবে আর তিনি তাদের আযাব দিবেন। আর তাদের কি বা বলার আছে যে, আল্লাহ তাদের আযাব দিবেন না, যদিও তারা লোকেদের মসজিদুল হারাম হতে নিবৃত্ত করে?’ (সূরা আল-আনফাল ৮ : ৩৩-৩৪) ..... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
৬৯৫৮
মহান আল্লাহর বাণীঃ “অবশ্যই মানুষ নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে, ফলে সে সীমালঙ্ঘন করে” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
আবু জাহল বলেছিল, মুহাম্মাদ কি তোমাদের মাঝে তাঁর মুখমণ্ডল জমিনের উপর রাখে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ রাখে। তখন সে বলল, আমি লাত এবং উজ্জার শপথ করে বলছি, আমি যদি তাকে এমন করতে দেখি তবে নিশ্চয়ই আমি তার ঘাড় পদদলিত করব, অথবা তার মুখমণ্ডল আমি মাটিতে মেখে দিব। (নাউযুবিল্লাহ) তারপর একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায়ে রত ছিলেন। এমন সময় আবু জাহল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গর্দানকে পদদলিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসল। একটু অগ্রসর হয়ে অকস্মাৎ সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মুখ ফিরিয়ে দ্রুত পিছনে সরে আসল এবং দুইহাত দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে লাগল। এ দেখে তাকে প্রশ্ন করা হলো, তোমার কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল, আমি দেখেছি যে, আমার এবং তাঁর মধ্যে আগুনের একটা প্রকাণ্ড খাদক, ভয়াবহ অবস্থা এবং কতগুলো ডানা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে যদি আমার নিকটে আসত, তবে ফেরেশতাগণ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলতো।
৬৯৫৯
ধুম্র প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
মাসরূক (রহঃ)
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে জনৈক লোক এসে বলল, “হে আবু আবদুর রহমান! কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, কুরআনে বর্ণিত ধোঁয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হবে।” এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমাদের কেউ কোন কথার জ্ঞান থাকলে সে যেন তা-ই বলে। আর যে না জানে সে যেন বলে- আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভাল জানেন। কারণ আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে বলেছেন, “বলো, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিফল চাই না এবং আমি মিথ্যা দাবিদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।”প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন লোকেদের মাঝে দীনবিমুখতা দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “হে আল্লাহ! ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত কর।” তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিল। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোন লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধু ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত। অতঃপর আবু সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, “হে মুহাম্মাদ! আপনি তো আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করেন এবং আত্মীয়তার হক আদায় করার আদেশ দিয়ে আসছেন, অথচ আপনার সম্প্রদায় তো ধ্বংস হয়ে গেলো। আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।” (এ প্রসঙ্গে) আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ “অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং সেটা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে কঠিন শাস্তি। ..... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।” এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। (সূরা আদ-দুখান ৪৪ : ১০-১২)আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হবে? (আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন), “যেদিন আমি তোমাদের সুদৃঢ়ভাবে পাকড়াও করব, অবশ্যই সেদিন আমি তোমাদের নিকট থেকে প্রতিশেষ নিব।” (সূরা আদ-দুখান ৪৪ : ১৬) অনুরূপ এ আয়াতে ‘বাতশা’ দ্বারা বদরের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান (ধোয়ার নিদর্শন), আল বাতশা (পাকড়াও), লিযাম (আবশ্যিক শাস্তি) এবং রুম (রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী) এসব অতীত হয়ে গেছে।
৬৯৬০
ধুম্র প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
মাসরূক (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, “আমি মসজিদে এক লোককে দেখে এসেছি, সে কুরআনের ইচ্ছামাফিক তাফসির করছে। সে يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছে যে, কেয়ামতের দিন ধোঁয়া এসে লোকদের আবৃত করে ফেলবে ও তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলবে, এমনকি এতে লোকদের সর্দির ন্যায় অবস্থা হয়ে যাবে।” এ কথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, “যে ব্যক্তি যে বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা অনুচিত, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, এ কথা বলাই মানুষের পরিপূর্ণ জ্ঞানের লক্ষণ। কারণ এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরাইশরা নবী (ﷺ)-এর অবাধ্যতা করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করেন যেন ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের সাত বছরের মতো অভাব-অনটন তাদের উপর নিপতিত হয়। এরপর তাদের উপর অভাব-অনটন এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে নিপতিত হলো যে, কেউ আকাশের দিকে তাকালে সে ধোঁয়াচ্ছন্ন দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করল।