৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৯৪১
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
আহলে কিতাবদের জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আল্লাহ তা'আলা আকাশমণ্ডলী এক আঙ্গুলে, ভূমণ্ডল এক আঙ্গুলে, গাছপালা ও আর্দ্র মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। এরপর তিনি বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই রাজা। রাবী বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তাঁর মাড়ি মুবারকের দাঁতগুলো প্রকাশ পেলো। এরপর তিলাওয়াত করলেন, (অর্থ) “তারা আল্লাহর যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেনি”।
৬৯৪২
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রহঃ)
তবে তাদের সকলের বর্ণনাতেই রয়েছে যে, ‘বৃক্ষরাজি এক আঙ্গুলে এবং আর্দ্র মাটি এক আঙ্গুলে’। তবে জারীর (রাঃ)-এর হাদীসে “সকল প্রকার সৃষ্টি এক আঙ্গুলে” কথাটি উল্লেখ নেই। অবশ্য তাঁর হাদীসে “পাহাড়সমূহ এক আঙ্গুলে” কথাটি রয়েছে। জারীর (রাঃ)-এর হাদীসে রয়েছে যে, তার কথায় অবাক হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে সমর্থন করেন।
৬৯৪৩
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সারা পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্টিতে নিয়ে নিবেন এবং আকাশমণ্ডলী ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতের মুঠোয় নিবেন। তারপর তিনি বলবেন, আমিই বাদশাহ। পৃথিবীর বাদশাহগণ কোথায়?’
৬৯৪৪
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আকাশমণ্ডলী পেঁচিয়ে নিবেন। তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে ডান হস্তে ধরে বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় শক্তিশালী লোকেরা? কোথায় অহংকারীরা? এরপর তিনি বাম হস্তে গোটা পৃথিবী গুটিয়ে নিবেন এবং বলবেন, আমিই বাদশাহ। কোথায় অত্যাচারী লোকেরা, কোথায় বড়ত্ব প্রদর্শনকারীরা?
৬৯৪৫
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু মিকসাম (রহঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে থাকলেন, কিভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আকাশমণ্ডলী ও সারা পৃথিবী তাঁর হস্তদ্বয়ে তুলে ধরবেন এবং বলবেন, আমিই আল্লাহ। তিনি স্বীয় আঙ্গুল সংকোচন ও সম্প্রসারণ করে বলবেন, আমিই বাদশাহ। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, এমনকি তখন আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে, মিম্বরের নিম্নাংশের কিছু দুলছিল। তখন আমি ভাবছিলাম, মিম্বরটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে পড়ে যায় কিনা?
৬৯৪৬
কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বারের উপর এমন অবস্থায় দেখেছি যে, তিনি বলছেন, “মহাপরাক্রমশালী সত্তা আকাশমণ্ডলী ও গোটা পৃথিবী স্বীয় হস্তদ্বয়ে তুলে ধরবেন।” পরবর্তী অংশ ইয়াকুব-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৬৯৪৭
সৃষ্টির সূচনা এবং আদম (‘আঃ)-এর সৃষ্টি পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা'আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। এ দিনে তিনি পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমু'আর দিন আসরের পর জুমু'আর দিনের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন।
৬৯৪৮
পুনরুত্থান, হাশ্‌র-নাশর ও কিয়ামাত দিবসে পৃথিবীর অবস্থা পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন লোকেদেরকে ময়দার রুটির ন্যায় (গোল) লালচে সাদা জমিনের উপরে জমায়েত করা হবে। সেখানে কারো কোন বিশেষ নিদর্শন মওজুদ থাকবে না।
৬৯৪৯
পুনরুত্থান, হাশ্‌র-নাশর ও কিয়ামাত দিবসে পৃথিবীর অবস্থা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল্লাহর বাণী: (يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ) (অর্থ) “যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হয়ে যাবে এবং আকাশমণ্ডলীও” - (সূরা ইব্রাহিম ১৪ : ৪৮) সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তবে সেদিন লোকেরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেন, (জাহান্নামের উপরে নির্মিত) সেতুর উপরে অবস্থান করবে।
৬৯৫০
জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কেয়ামতের দিন সমস্ত ভূখণ্ড একটি রুটির মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ সেটি নিজ হাতে এপাশ-ওপাশ করবেন, যেমন তোমাদের মাঝে কেউ সফরের সময় নিজ রুটি এপাশ-ওপাশ করে। এ দিয়ে হবে জান্নাতবাসীর জন্য আতিথেয়তা। এমন সময় এক ইহুদি লোক এসে বলল, ‘হে আবুল কাসিম! রহমান আপনার প্রতি বারাকাত দান করুন। কেয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা সম্পর্কে আপনাকে জানাব কি?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ইহুদি বলল, ‘এ পৃথিবীটি একটি রুটির রূপ ধারণ করবে,’ যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে লক্ষ্য করে এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর মাড়ির মুবারক দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল। ইহুদি বলল, ‘তাদের তরকারি কি হবে তা কি আপনাকে বলব?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ সে বলল, ‘বালাম এবং নূন।’ সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, ‘তা কি?’ সে বলল, ‘ষাঁড় এবং মাছ—যাদের কলিজার বাড়তি অংশ থেকে সত্তর হাজার লোক আহার করতে পারবে।’