৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৯২১
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ (রহঃ)
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তারপর হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুনাফিকদের সালাতে জানাযা আদায় করা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করলেন।
৬৯২২
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
বাইতুল্লাহর কাছে তিনজন লোক একত্রিত হলো। এদের দুইজন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দুইজন সাকাফী এবং একজন কুরাইশী ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষ্মজ্ঞান খুব কমই ছিল, তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ কথা কি তোমরা মনে করো? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন, তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “তোমরা গোপন করতে পারবে না এজন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:২২)।
৬৯২৩
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
৬৯২৪
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
নবী (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কতক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সফরসঙ্গী হয়েও ফিরে আসলো। তাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ দুই দলে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলল, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ফেলব; আর কেউ বলল, আমরা তাদের হত্যা করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, “তোমাদের কি হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দলে ভাগ হয়ে গেলে?” (সূরা নিসা ৪ : ৮৮)
৬৯২৫
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রাঃ)
এ সূত্রেও তিনি অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৯২৬
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবিতাবস্থায় কতক মুনাফিক লোকের অভ্যাস এই ছিল যে, নবী (ﷺ) যখন যুদ্ধের জন্য বের হতেন তখন তারা পিছনে গা ঢাকা দিয়ে থাকত এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান করাতেই তারা উল্লাস প্রকাশ করত। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে আসতেন তখন তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করত, কসম করত এবং প্রত্যাশা করত যেন তারা প্রশংসিত হয় এমন কার্যের উপর যা তারা করেনি। তখন অবতীর্ণ হলঃ “যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দোল্লাস করে এবং যা নিজেরা করেনি এমন কর্মের জন্য প্রশংসিত হতে পছন্দ করে, তারা ‘আযাব থেকে রেহাই পাবে- আপনি কক্ষনো এমন মনে করবেন না। তাদের জন্য আছে কঠিন আযাব”- (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৮)।
৬৯২৭
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)
একদা মারওয়ান তার দারোয়ান রাফিকে বললেন, “তুমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে যাও এবং বলো, ‘নিজে যা করেছে তাতে খুশি হয় এবং যা করেনি তাতে প্রশংসিত হতে চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ যদি আযাব পায় তবে আমরা সবাই আযাবে পড়ব’।”ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “এ আয়াতের সঙ্গে তোমাদের কি সম্পর্ক? এ আয়াত তো আহলে কিতাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।” এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত পাঠ করলেন- “স্মরণ করো, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল, আল্লাহ তাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।” তারপর ইবন আব্বাস (রাঃ) পড়লেন, “যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কক্ষনো মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ আযাব।”তারপর ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, “নবী (ﷺ) কিতাবীদের নিকট কোন ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করলো এবং তার উত্তরে ভিন্ন কথা বলে দিল। তারপর তারা এমন ভনিতা করে বের হলো যে, জিজ্ঞাসিত বিষয়ের যথাযথ জবাব তারা নবী (ﷺ)-কে দিয়েছে। তারা এতে নবী (ﷺ)-এর কাছে প্রশংসা কামনা করেছিল এবং জিজ্ঞাসিত বিষয়টি গোপন করার মাধ্যমে তারা খুবই আনন্দিত হয়েছিল।”
৬৯২৮
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
কায়স (রাঃ)
আমি ‘আম্মার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, তোমরা আমাকে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করো যা তোমরা ‘আলি (রাঃ)-এর ব্যাপারে গ্রহণ করেছো। একি তোমাদের সিদ্ধান্ত না এ সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) তোমাকে কোন আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণকে যে কথা বলেননি, এমন কোন কথা তিনি আমাদেরকেও বলে যাননি। তবে হুযাইফা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের মাঝে বারোজন মুনাফিক লোক আছে। এদের আটজনের জান্নাতে প্রবেশ করা এমনিভাবে অসম্ভব যেমনিভাবে সূচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্রের প্রবেশ করা অসম্ভব। ‘দুবাইলাহ’ (এক প্রকার বড় ধরনের ফোড়া) আটজন লোককে শেষ করে দেবে। আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, বাকী চার লোক সম্বন্ধে শু‘বাহ কি বলেছেন, আমার তা মনে নেই।
৬৯২৯
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
কায়স ইবনু ‘উবাদ (রাঃ)
আমরা আম্মার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সংগ্রামের ব্যাপারে বলুন তো, তা কি আপনাদের স্বীয় মতের ভিত্তিতে? যা ভুলও হতে পারে, সঠিকও হতে পারে। কিংবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আপনাদের আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণকে যে আদেশ দেননি, এমন কিছু তিনি বিশেষভাবে আমাদেরকেও বলেননি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মাঝে... বর্ণনাকারী শুবা (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের মাঝে বারোজন মুনাফিক হবে। তাদের জান্নাতে ঢোকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া তেমন অসম্ভব যেমন সূঁচের ছিদ্রপথে উটের ঢোকা অসম্ভব। তাদের মাঝে আটজনের (ধ্বংসের) জন্য ‘দুবাইলাহ’ যথেষ্ট হবে। ‘দুবাইলাহ’ হলো অগ্নিশিখা, যা কাঁধের মাঝে প্রকাশ পেয়ে অন্তঃকরণকে ছেয়ে ফেলবে।
৬৯৩০
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তুফায়ল (রাঃ)
আকাবার অধিবাসী এক ব্যক্তির সাথে হুযাইফা (রাঃ)-এর মাঝে মানুষের মধ্যে যেমন মনোমালিন্য হয়ে থাকে তেমন কিছু ছিল। সে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, বলুন, আকাবায় উপস্থিত লোকেদের সংখ্যা কত ছিল? হুযাইফা (রাঃ)-কে লোকেরা অনুরোধ করল, সে যেহেতু প্রশ্ন করেছে, তাই আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ। আর যদি তুমিও তাদের মধ্যে হয়ে থাকো, তবে তাদের সংখ্যা হবে পনের।আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, এদের বারোজন দুনিয়া এবং কেয়ামতের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর শত্রু। বাকি তিনজন অজুহাত পেশ করে বলল, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘোষকের আওয়াজ শুনিনি এবং কওমের লোকদের প্রয়াসও আমাদের জানা ছিল না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রস্তরময় মাঠে ছিলেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে এগিয়ে চললেন এবং বললেন, (আমাদের গন্তব্যস্থলের) পানি অতি সামান্য। কেউ আমার পূর্বে সেখানে যাবে না। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন যে, কতক লোক তাঁর আগমনের পূর্বেই চলে এসেছে। সেদিন তিনি তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন।