৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৯০১
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্‌রী (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের আগেকার লোকেদের মধ্যে এক লোক ছিল। সে নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করেছে। তারপর জিজ্ঞেস করল, এ দুনিয়াতে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান লোক কে? তাকে এক ‘আলিম দেখিয়ে দেওয়া হয়। সে তার নিকট এসে বলল যে, সে নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করেছে। এমতাবস্থায় তার জন্য কি তওবা আছে? ‘আলিম বলল, না। তখন সে ‘আলিমকেও হত্যা করে ফেলল। সুতরাং সে ‘আলিমকে হত্যা করে একশ’ সম্পূর্ণ করল। অতঃপর সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, এ দুনিয়াতে সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তখন তাকে জনৈক ‘আলিম লোকের সন্ধান দেওয়া হলো। সে ‘আলিমকে বলল যে, সে একশ’ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, তার জন্য কি তওবা আছে?‘আলিম লোক বললেন, হ্যাঁ। এমন কে আছে যে ব্যক্তি তার মাঝে ও তার তওবার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক দেশে যাও। সেখানে কিছু লোক আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন আছে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হও। নিজের ভূমিতে আর কখনও প্রত্যাবর্তন করো না। কেননা এ দেশটি ভয়ঙ্কর খারাপ। তারপর সে চলতে লাগল। এমনকি যখন সে মাঝপথে পৌঁছে তখন তার মৃত্যু আসলো। এবার রহমতের ফেরেশতা ও আজাবের ফেরেশতার মধ্যে তার ব্যাপারে বাক-বিতন্ডা দেখা গেল। রহমতের ফেরেশতারা বললেন, সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তওবার উদ্দেশে এসেছে। আর আজাবের ফেরেশতারা বললেন, সে তো কখনও কোন সৎ কাজ করেনি। এমতাবস্থায় মানুষের আকৃতিতে এক ফেরেশতা আসলেন। তাঁরা তাঁকে তাঁদের মাঝে মধ্যস্থতা বানালেন। তিনি উভয়কে বললেন, তোমরা উভয় স্থান পরিমাপ কর (নিজ ভূখণ্ড ও যাত্রাকৃত ভূখণ্ড)। এ দুইটি ভূখণ্ডের মধ্যে যা সন্নিকটবর্তী হবে সে অনুযায়ী তার ফায়সালা হবে। তারপর উভয়ে পরিমাপ করে দেখলেন যে, সে ঐ ভূখণ্ডেরই বেশি নিকটবর্তী যেখানে পৌঁছার জন্যে সংকল্প করেছে। অতঃপর রহমতের ফেরেশতা তার রূহ কবজ করে নিলেন। কাতাদা (রহঃ) বলেন, হাসান (রহঃ) বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন তার মৃত্যু এলো, তখন সে বুকের উপর ভর দিয়ে কিছু এগিয়ে গেল।
৬৯০২
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্‌রী (রাঃ)
নবী (ﷺ) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই লোককে হত্যা করে বলাবলি করতে লাগল, তার কি তাওবার সুযোগ আছে? অবশেষে সে এক বিশিষ্ট আলিমের নিকট এসে এ ব্যাপারে জানতে চায়। আলিম বলল, তোমার জন্য তাওবার সুযোগ নেই। তখন সে আলিমকে হত্যা করল। তারপর সে পুনরায় লোকদের জিজ্ঞেস করতে থাকলো। এরপর সে এক জনপদ হতে অন্য জনপদের দিকে যাত্রা করলো যেখানে কিছু সৎ লোকের বসবাস ছিল। অতঃপর যখন সে রাস্তায় ভ্রমণরত ছিল তখন তার মৃত্যু এসে গেল। তখন সে বুকের উপর ভর করে সম্মুখে এগিয়ে গেল। তারপর সে মারা গেল। তখন রহমতের ফেরেশতা ও আজাবের ফেরেশতা তার সম্পর্কে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লো। তখন দেখা গেল যে, সে সৎ লোকদের জনপদের দিকে এক বিঘত পরিমাণ বেশি নিকটবর্তী রয়েছে। তাই তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
৬৯০৩
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্ (রাঃ)
এ সনদে মুয়ায ইবনু মুয়ায-এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত করেছেন। তবে এ হাদীসে বর্ণনা করেছে যে, তখন আল্লাহ এ ভূমির প্রতি আদেশ করলেন যেন তা দূরবর্তী হয়ে যায় এবং ঐ ভূমির প্রতি আদেশ করলেন যেন তা নিকটবর্তী হয়ে যায়।
৬৯০৪
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন খ্রিস্টান বা ইয়াহূদী দিয়ে বলবেন, এ হচ্ছে তোমার জন্য জাহান্নামের অগ্নি হতে মুক্তিপণ।
৬৯০৫
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বুরদার পিতা আবূ মূসা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, যখনই কোনো মুসলিম মারা যায় তখন আল্লাহ তা‘আলা তার স্থানে একজন ইহুদি বা খ্রিস্টান লোককে জাহান্নামে প্রবেশ করান। তারপর উমর ইবন আব্দুল আজিজ (রহঃ) আবু বুরদা (রাঃ)-কে, যিনি ভিন্ন কোনো মা‘বুদ নেই সে আল্লাহর শপথ দিয়ে তিনবার প্রশ্ন করলেন যে, তার পিতা কি সত্যিই এ কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনে তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি শপথ করে বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। এ কথাটি সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেননি। রাবী বলেন, “উমর ইবন আব্দুল আজিজ (রহঃ) তাকে কসম দিয়েছেন সাঈদ এ কথা বলেননি এবং আউন-এর কথাটিও অস্বীকার করেননি।”
৬৯০৬
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্‌ (রহঃ)
এ সূত্রে আফ্‌ফানের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে রয়েছেন আউন ইবন উতবা।
৬৯০৭
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বুরদাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, কিছু মুসলিম পাহাড়সম পাপ নিয়ে কেয়ামতের ময়দানে আসবে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের পাপ মার্জনা করে দিবেন। আর তা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের উপর রেখে দিবেন। রাবী হাদীসের শেষের কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। রাবী আবু রাওহ (রহঃ) বলেন, কার পক্ষ থেকে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তা আমি জানি না। আবু বুরদা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি উমর ইবনু আব্দুল আজীজ (রহঃ)-এর কাছে বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার পিতা এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সরাসরি শুনে তোমার কাছে বর্ণনা করেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ।
৬৯০৮
হত্যাকারীর তাওবাহ্‌ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বর্ণনা; যদিও বহু হত্যা করে থাকে পরিচ্ছেদ নাই
সাফ্‌ওয়ান ইবনু মুহরিয (রহঃ)
এক লোক ইবনু উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, নাজওয়া (আল্লাহ ও বান্দার গোপন কথা) সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিভাবে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিনে মু’মিন ব্যক্তিকে তার রব্বের নিকটবর্তী করা হবে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা তার উপর পর্দা ঢেলে দিবেন এবং তার পাপের ব্যাপারে তার থেকে জবানবন্দি নিবেন। তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি তোমার পাপ সম্বন্ধে জান কি? সে বলবে, হে রব্ব! আমি জানি। এরপর তিনি বলবেন, তোমার এ পাপ দুনিয়ায় আমি লুক্কায়িত রেখেছিলাম। আজ তোমার এ পাপগুলোকে আমি মাফ করে দিলাম। এরপর তার নেকীর আমলনামা তার কাছে দেয়া হবে। এরপর কাফির ও মুনাফিক লোকদেরকে উপস্থিত সকল মানুষের সম্মুখে ডেকে বলা হবে, এরাই তারা যারা আল্লাহ তা‘আলার উপর মিথ্যারোপ করেছে।
৬৯০৯
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ও তাঁর দু’ সাথীর তাওবার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে শারীক হন। তার উদ্দেশ্য ছিল, সিরিয়ার আরব খ্রিস্টান ও রোমকরা। ইবনু শিহাব বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহঃ) অবিহিত করেছেন যে, প্রকৃতপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব বলেছেন, কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সন্তানদের মাঝে তিনি ছিলেন তার চালক। আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে তাবুক যুদ্ধে রসূলের সাথে অংশগ্রহণ না করার ইতিবৃত্ত স্বীয় মুখে বর্ণনা করতে শুনেছি।
৬৯১০
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ও তাঁর দু’ সাথীর তাওবার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
ইবনু শিহাব (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) থেকে অবিকল এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।