৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৯১১
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ও তাঁর দু’ সাথীর তাওবার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) যিনি (তার বাবা) কা‘ব (রাঃ) অন্ধ হয়ে যাবার পর তাঁকে আনা নেয়া করতেন, তিনি (উবাইদুল্লাহ) বলেছেন, তাবূক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে অংশগ্রহণ না করে ঘরে বসে থাকার সম্পর্কে কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর তিনি অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেদিকে যুদ্ধ করার জন্যে যেতেন সাধারণত তিনি আলোচনায় ঐ স্থানের কথা আলোচনা না করে অন্য জায়গার কথা আলোচনা করতেন। তবে এ যুদ্ধের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিলেন। যুহরীর ভ্রাতুষ্পুত্রের এ হাদীসের মধ্যে আবু খায়সামার কথা এবং নবী (ﷺ)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাতের কথা আলোচনা নেই।
৬৯১২
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ও তাঁর দু’ সাথীর তাওবার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রাঃ)
কাব (রাঃ) চক্ষু রোগে আক্রান্ত হবার পর উবাইদুল্লাহ তাঁকে পরিচালনা করতেন। তিনি তাঁর কওমের মাঝে সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান লোক ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের হাদীস বেশি হিফাযাতকারী ছিলেন। যে তিনজন লোকের তাওবা গ্রহণ করেছিলেন, আমার পিতা কাব ইবনু মালিক (রাঃ) ঐ তিন লোকের অন্যতম ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত যুদ্ধ করেছেন এর মধ্যে তিনি দুইটি ছাড়া আর কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পেছনে থাকেননি। তারপর তিনি পূর্বের অনুরূপ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বহু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের সংখ্যা দশ হাজারের চেয়েও বেশি ছিল। কোন তালিকায় তাঁদের নাম লিখে রাখা ছিল না।
৬৯১৩
মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনাকারীর তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
হাব্বান ইবনু মূসা
তাঁরা সকলেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-এর ঐ কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন, অপবাদ রটনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে যে অপবাদ দিয়েছিল। তারপর রটানো অপবাদ হতে আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ বর্ণনা করলেন। রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, তাঁরা সবাই আমার কাছে হাদীসের এক এক অংশ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অন্যের চেয়ে উক্ত হাদীসের কঠোর সংরক্ষণকারী ছিলেন এবং তা ভালভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম ছিলেন। তাঁরা আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বর্ণনা আমি যথাযথভাবে আয়ত্ত করে নিয়েছি। একজনের হাদীস অন্যের হাদীসকে সত্যায়িত করে। তাঁরা সকলেই উল্লেখ করেছেন যে, নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে যাওয়ার সংকল্প করতেন তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারী করতেন। যাঁর নাম আসত তাঁকেই তিনি তাঁর সাথে সফরে নিতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক যুদ্ধ-সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লটারী করলেন এবং এতে আমার নাম উঠল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সে যুদ্ধে শরীক হই। পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর এ যুদ্ধে আমি শরীক হয়েছিলাম। আরোহী অবস্থায় আমাকে ভিতরে রাখা হতো এবং অবতরণের সময়ও হাওদার ভিতর থাকতাম। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ হতে অব্যাহতির পর ফিরে এসে মদিনার কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছার পর এক রাতে তিনি রওনা হবার আদেশ দিলেন। লোকজন যখন রওনা হবার ব্যাপারে ঘোষণা দিল, তখন আমি দাঁড়িয়ে চলতে লাগলাম; এমনকি আমি সৈন্যদেরকে ছাড়িয়ে দূরে চলে গেলাম।এরপর আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব পায়খানা) সেরে আরোহীর নিকট এলাম এবং নিজ বক্ষে হাত দিয়ে দেখলাম, যিফারী পুতির প্রস্তুত আমার হারটি হারিয়ে গিয়েছে। তাই আগের স্থানে ফিরে গিয়ে আমি আমার হারটি সন্ধান করলাম। (এতে আমার দেরী হয়ে গেল।) এদিকে হাওদা বহনকারী লোকজন এসে দ্রব্য-সামগ্রী উঠিয়ে আমার বহনকারী উটের উপর রেখে দিল। তারা ধারণা করেছিল, আমি হাওদার ভিতরেই আছি। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখনকার মহিলারা হালকা-পাতলা গঠনেরই হতো। না বেশি ভারী, না বেশি মোটা। কেননা তারা কম খানা খেত। তাই উঠানোর সময় হাওদার ওজন তাদের কাছে সাধারণ অবস্থা হতে ব্যতিক্রম মনে হয়নি। অধিকন্তু তখন আমি অল্প বয়সী ছিলাম। পরিশেষে লোকেরা উট দাঁড় করিয়ে পথ চলতে শুরু করে দিল। সৈন্যদের রওনা হয়ে যাবার পর আমি আমার হার খুঁজে পেলাম। এরপর আমি আগের স্থানে ফিরে এসে দেখলাম, তথায় কোন জন-মানুষের শব্দ নেই আর সাড়া দেয়ার মতো কোন লোকও তথায় নেই। তখন আমি সংকল্প করলাম, আমি যেখানে বসা ছিলাম সেখানেই বসে থাকব এবং আমি ভাবলাম, লোকেরা যখন খুঁজে আমাকে পাবে না তখন নিশ্চয়ই তারা আমার খোঁজে আমার নিকট ফিরে আসবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি আমার সে স্থানে বসা অবস্থায় ঘুম এলো আর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সাফওয়ান ইবন মুয়াত্তাল আস-সুলামী আয-যাকওয়ানী নামক এক লোক ছিল। আরামের উদ্দেশ্যে সৈন্যদের পেছনে শেষ রাত্রে সে আগের জায়গায়ই রয়ে গিয়েছিল। পরে সে রওনা হয়ে প্রত্যূষে আমার স্থানে পৌঁছল। দূর থেকে সে একটি মানব দেহ দেখতে পেয়ে আমার কাছে এলো এবং আমাকে দেখে সে চিনে ফেলল। কেননা পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে সে আমাকে দেখেছিল। আমাকে চিনে সে “ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন। তাঁর “ইন্না-লিল্লাহি .....” এর শব্দে আমার ঘুম ছুটে গেল। অকস্মাৎ আমি আমার চাদর দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল আবৃত করে নিলাম। আল্লাহর শপথ! সে আমার সাথে কোন কথা বলেনি এবং “ইন্না-লিল্লাহি .....” পাঠ ব্যতীত আর তার কোন কথাই আমি শুনিনি। এরপর সে তার উট বসিয়ে নিজ হাত বিছিয়ে দিলেন। আমি তার উটের উপরে উঠলাম। আর সে পায়ে হেঁটে আমাকে সহ উট হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। যেতে যেতে আমরা সৈন্য দলের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন তারা দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সওয়ারী থেকে নেমে ভূমিতে অবস্থান করছিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমার (অপবাদের) সম্পর্কে জড়িত হয়ে কতক লোক নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে আর এ সম্পর্কে যে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তার নাম ‘আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল। পরিশেষে আমরা মদিনায় পৌঁছলাম। মদিনায় পৌঁছার পর এক মাস যাবৎ আমি অসুস্থ ছিলাম। এদিকে মদিনার মানুষজন অপবাদ রটনাকারীদের কথা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে লাগল। এ সম্পর্কে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে এ অসুস্থ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তরফ থেকে পূর্বের ন্যায় স্নেহ না পাওয়ার ফলে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ঢুকে কেবল সালাম করে বলতেন, এই তুমি কেমন আছো? এ আচরণ আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল। আমি সে (মন্দ) বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। তারপর কিছুটা সুস্থ হবার পর আমি মানাসি‘ প্রান্তরের দিকে বের হলাম। আমার সাথে মিসতাহ-এর আম্মাও ছিল। তা আমাদের শৌচাগার ছিল। আমরা রাতে বের হতাম এবং রাতেই চলে আসতাম। এ হলো আমাদের গৃহের নিকট শৌচাগার নির্মাণের পূর্ববর্তী সময়ের ঘটনা। তখন আগের দিনের আরব মানুষের মতো মাঠে গিয়ে আমরা শৌচকার্য সারতাম। আর আমরা ঘরের কোণে শৌচাগার তৈরি করা পছন্দ করতাম না। অতএব আমি এবং মিসতাহ-এর মা যেতে লাগলাম। সে ছিল আবূ রুহম ইবন মুত্তালিব ইবন আব্দ মান্নাফ-এর কন্যা এবং তার মা ছিল আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর খালা সাখর ইবন আমির-এর মেয়ে। তাঁর সন্তানের নাম ছিল মিসতাহ ইবন উসাসাহ ইবন আব্বাদ ইবন মুত্তালিব। মোটকথা, আমি ও বিনতু আবু রহম (মিসতাহ-এর মা) নিজ নিজ শৌচকার্য সেরে ঘরের দিকে রওনা হলাম। তখন মিসতাহ-এর মা স্বীয় চাদরে পেঁচিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর সে বলে উঠে মিসতাহ ধ্বংস হোক। তখন আমি বললাম, তুমি অন্যায় কথা বলেছো। তুমি কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লোককে বকছ? সে বলল, হে অবলা নারী! মিসতাহ কি বলেছে, তুমি কি শোননি? আমি বললাম, সে কি বলেছে? আয়েশা (রাঃ) বলেন, তারপর সে অপবাদ রটনাকারীরা যা বলেছে, সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিল। এতে আমার অসুস্থতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেল। আমি যখন ঘরে ফিরে আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে সালাম দিলেন এবং বললেন, এই তুমি কেমন আছো? তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আমাকে আমার বাবা-মায়ের বাড়ীতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন? আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি আমার বাবা-মায়ের ঘরে গিয়ে এ বিষয়টির খোঁজ করার সংকল্প করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার মাতা-পিতার নিকট চলে আসলাম। তারপর আমি আমার মাকে বললাম, আম্মাজান! লোকেরা কী কথা বলছে? তিনি বললেন, মা! এদিকে কান দিয়ো না এবং একে মন্দ মনে করো না। আল্লাহর শপথ! কারো যদি কোন সুন্দরী সহধর্মিণী থাকে ও সে তাকে ভালবাসে আর ঐ মহিলার কোন সতীনও থাকে তবে সতীনরা তার দোষচর্চা করবে না এমন খুব কমই হয়। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! লোকেরা এ কথা রটাতে শুরু করেছে? এরপর কেঁদে কেঁদে আমি সারা রাত কাটালাম। এমনকি সকালেও অশ্রু বন্ধ হলো না। আমি ঘুমোতে পারিনি। প্রভাতে আমি কাঁদছিলাম। এদিকে আমাকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) এবং উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে ডাকলেন। তখন ওহী স্থগিত ছিল। উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবিদের সতীত্ব এবং তাঁদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভালবাসার ক্ষেত্রে যা জানতেন সে দিকেই তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইশারা করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আয়েশা আপনার সহধর্মিণী, ভাল ছাড়া তাঁর সম্পর্কে কোন কথাই আমাদের জানা নেই। আর আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তো আপনার উপর কোন সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি। আয়েশা (রাঃ) ব্যতীতও অনেক স্ত্রীলোক রয়েছে। আপনি যদি দাসী (বারীরাহ)-কে প্রশ্ন করেন তবে সে সত্য বলে দিবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাহ (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, হে বারীরাহ! সন্দেহমূলক কোন কর্মে আয়েশাকে তুমি কখনো দেখেছ কি? বারীরাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি যদি তাঁর মাঝে কোন কিছু দেখতাম তবে নিশ্চয়ই এর ত্রুটি আমি উল্লেখ করতাম। তবে সে একজন অল্প বয়সী কন্যা। পরিবারের জন্যে আটার খামীর রেখেই সে ঘুমিয়ে থাকতো আর বকরী এসে তা খেয়ে ফেলতো। এ ত্রুটি ছাড়া বেশি কোন ত্রুটি আয়েশার মাঝে আছে বলে আমার জানা নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল হতে প্রতিশোধ আশা করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, হে মুসলিম সমাজ! আমার পরিবারের ব্যাপারে যে লোকের পক্ষ হতে কষ্টদায়ক বাক্যের খবর আমার নিকট পৌঁছেছে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করার মতো কোন লোক এখানে আছে কি? আমি তো আমার স্ত্রীর ব্যাপারে উত্তম ছাড়া অন্য কোন কথা জানি না এবং যে লোকের ব্যাপারে তারা অপবাদ রটনা করছে তাকেও আমি সৎলোক বলে জানি। সে তো আমাকে ছাড়া আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করতো না। এ কথা শুনে সা‘দ ইবন মু‘আয আল আনসারী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি আপনার তরফ হতে প্রতিশোধ নিবো। অপবাদ রটনাকারী লোক যদি আওস গোত্রের হয় তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব। আর যদি সে আমাদের ভ্রাতা খাযরাজ গোত্রের হয় তবে আপনি আমাদেরকে আদেশ দিন। আমরা আপনার আদেশ পালন করব। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন খাযরাজ সর্দার সা‘দ ইবন উবাদা (রাঃ) দাঁড়ালেন। তিনি একজন নেক্কার লোক ছিলেন। তবে তখন বংশীয় আত্মমর্যাদা তাঁকে মূর্খ বানিয়ে ফেলেছিল। তাই তিনি সা’দ ইবন মু‘আযকে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। আল্লাহ শপথ! তুমি তাকে হত্যা করবে না। তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। এ কথা শুনে সা‘দ ইবন মু‘আয (রাঃ)-এর চাচাতো ভাই উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) দাঁড়িয়ে সা‘দ ইবন উবাদা (রাঃ)-কে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমরা তাকে হত্যা করব। নিশ্চয়ই তুমি মুনাফিক। তাই মুনাফিকদের পক্ষে কথা বলছো। এ সময় আওস ও খাযরাজ দুই গোত্রের লোকেরা একে অপরের উপর উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি তারা যুদ্ধের ইচ্ছা করে বসলো। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনও তাদের সম্মুখে মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে থামিয়ে শান্ত করলেন। তারা নীরব থাকলো এবং তিনি নিজেও আর কোন কথা বললেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, সেদিন আমি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করলাম। অবিরত ধারায় আমার অশ্রুপাত হচ্ছিল। রাত্রে একটুও আমার ঘুম আসলো না। অতঃপর সামনের রাতেও আমি কেঁদে কাটালাম। এ রাতেও অঝোর ধারায় আমার অশ্রুপাত হলো এবং একটুকুও নিদ্রা যেতে পারলাম না। এ দেখে আমার আব্বা-আম্মা মনে করছিলেন যে, কান্নায় আমার কলিজা টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমি কাঁদতে ছিলাম, আমার আব্বা-আম্মা আমার নিকটে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন আনসার মহিলা আমার কাছে আসার অনুমতি চাইলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে এসে বসে কাঁদতে লাগল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমাদের যখন এ অবস্থা এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং আমাদেরকে সালাম করে বসলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, অথচ আমার সম্বন্ধে যা বলাবলি হচ্ছে তারপর থেকে তিনি কখনো আমার কাছে বসেননি। এমনিভাবে এক মাস অতিক্রান্ত হলো। আমার সম্পর্কে তাঁর কাছে কোন ওহী আসলো না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে তাশাহুদ পড়লেন। এরপর বললেন, যা হোক হে আয়েশা! তোমার ব্যাপারে আমার কাছে এমন এমন খবর পৌঁছেছে। যদি তুমি এ বিষয়ে নিষ্পাপ এবং পবিত্র হও, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তা’আলা তোমার পবিত্রতার বিষয়ে ঘোষণা করবেন। আর যদি তোমার দ্বারা কোন পাপ হয়েই থাকে তবে তুমি আল্লাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা এবং তাওবা করো। কেননা বান্দা পাপ স্বীকার করে তাওবা করলে আল্লাহ তার তাওবা গ্রহণ করেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁর কথা সমাপ্ত করলেন, তখন আমার অশ্রুধারা বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি তারপর আর এক ফোটা অশ্রুও আমি অনুভব করলাম না। তারপর আমি আমার পিতাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বললেন, আমার তরফ হতে তার উত্তর দিন। তিনিও বললেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কি উত্তর দিব, আমার তা অজানা। এরপর আমি আমার মাকে বললাম, আমার তরফ হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উত্তর দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কি উত্তর দিব, আমি তা জানি না। আমি বললাম, তখন আমি ছিলাম কম বয়সী কিশোরী। কুরআন মাজীদও অধিক পাঠ করতে পারতাম না। এ অবস্থা দেখে আমিই তখন বললাম, আল্লাহ শপথ! আমি জানি, আপনারা এ অপবাদের কথা শুনেছেন, মনে তা গেঁথে গেছে এবং আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। কাজেই এখন যদি আমি বলি, আমি নিষ্কলুষ তবে এ বিষয়ে আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আমি মেনে নেই, যে সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, আমি নিষ্পাপ, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন। আল্লাহর শপথ! আমার ও আপনাদের জন্য (নবী) ইউসুফ (আঃ)-এর পিতার কথার দৃষ্টান্ত ছাড়া ভিন্ন কোন দৃষ্টান্ত আমার দৃষ্টিতে পড়ে না। তিনি বলেছিলেন, “কাজেই পরিপূর্ণ ধৈর্যই উত্তম, তোমরা যা বলছো সে ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল।” তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, অতঃপর আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং বিছানায় শুয়ে পড়লাম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তো ঐ সময়েও জানেন যে, নিশ্চয়ই আমি নিষ্পাপ এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতা উন্মোচন করে দিবেন। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি মনে করিনি যে, আল্লাহ তা’আলা আমার এ ব্যাপারে ওহী অবতীর্ণ করবেন, যা পড়া হবে। কেননা আমার ব্যাপারে পড়ার মতো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আয়াত অবতীর্ণ করা হবে আমার অবস্থা তার চেয়ে বেশি নিম্নমানের বলে আমি মনে করতাম। তবে আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, স্বপ্নের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন কোন বিষয় দেখবেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দিবেন। আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনো তাঁর জায়গা ছেড়ে যাননি এবং গৃহের লোকও কেউ বাইরে যায়নি। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীর উপর ওহী অবতীর্ণ করেন। ওহী অবতীর্ণের প্রাক্কালে নবী (ﷺ)-এর উপর যে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা দেখা দিত তার অনুরূপ অবস্থা দেখা দিলো। এমনকি তাঁর প্রতি অবতীর্ণকৃত বাণীর ওযনের কারণে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের দিনেও তাঁর শরীর হতে মুক্তার মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে পড়তো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা চলে গেলে তিনি হাসতে লাগলেন এবং প্রথমে যে কথাটি বললেন তা হলো : হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। এ কথা শুনে আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সম্মান প্রদর্শন করো। আমি বললাম, আমি তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবো না এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কারো প্রশংসা করবো না। তিনিই আমার পবিত্রতার ব্যাপারে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতার ব্যাপারে দশটি আয়াত (সূরা আন নূর ২৪ : ১১-২১) অবতীর্ণ করেছেন। “যারা অপবাদ রটনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল, একে তোমরা তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর মনে করো না; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” ..... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আত্মীয়তার বন্ধন ও দারিদ্রের কারণে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) মিসতাহকে আর্থিক সাহায্য করতেন। কিন্তু আয়েশা সম্বন্ধে সে যা বলেছিল সে কারণে আবু বকর (রাঃ) শপথ করে বসলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আর কোন সময় মিসতাহকে আর্থিক সহযোগিতা দিব না। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন : “তোমাদের মাঝে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, তারা দান করবে না আত্মীয়-স্বজনকে .....। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের মাফ করেন”..... পর্যন্ত। হাব্বান ইবন মূসা (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) বলেছেন, আল-কুরআনের মধ্যে এ আয়াতটিই অধিক আশাব্যঞ্জক। তারপর আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, আল্লাহ শপথ! আমি অবশ্যই ভালোবাসি যে, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিন। এরপর মিসতাহ (রাঃ)-এর জন্যে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন তা পুনরায় খরচ করতে শুরু করলেন। আর বললেন, তাকে আমি এ অর্থ দেয়া কোন সময় বন্ধ করবো না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রী যাইনাব বিন্ত জাহ্শ (রাঃ)-কে আমার সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যাইনাবকে বলেছিলেন, তুমি আয়েশা সম্বন্ধে কি জানো বা দেখেছো? জবাবে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার কান ও চোখকে হিফাযাত করেছি। আল্লাহর শপথ! তাঁর ব্যাপারে আমি উত্তম ব্যতীত কিছুই জানি না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীদের মাঝে তিনিই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ ভীতির মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে হিফাযাত করেছেন। অথচ তাঁর বোন হামনা বিনত জাহ্শ তাঁর পক্ষাবলম্বন করে ঝগড়া করে, আর এভাবে সে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, ঐ লোকদের নিকট থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা এ হাদীস। তবে রাবী ইউনুসের হাদীসের মধ্যে রয়েছে, ‘গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করে।’
৬৯১৪
মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনাকারীর তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
ইউনুস এবং মামার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ্-এর হাদীসে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে অজ্ঞতামূলক আচরণ করতে উত্তেজিত করেছিল। মামার তাঁর বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহ-এর হাদীসের মধ্যে ইউনুসের বর্ণনার মতো এতে রয়েছে অর্থাৎ- ‘গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করলো।’ সালিহ-এর হাদীসে এটাও রয়েছে যে, উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) হাসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে কটু বাক্য বলার বিষয়টিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, হাসান তো নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেছেন, “আমার পিতা-মাতা, আমার ইজ্জত সবই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইজ্জত-সম্মানের জন্যে রক্ষাকবচ।” এতে এটাও বর্ধিত রয়েছে যে, আয়িশা (রাঃ) বলেন, যে লোকের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি কখনও কোন মহিলার আবরণ খুলিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শহীদ হন। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম-এর হাদীসে রয়েছে مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ। আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুর রাজ্জাককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, لْوَغْرَةُ অর্থ কঠিন গরম।
৬৯১৫
মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনাকারীর তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার সম্পর্কে মানুষেরা যখন কুৎসা রটাতে শুরু করল, যা আমি জানি না, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বক্তব্য দেয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে তাশাহুদ পড়লেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, “অতঃপর যারা আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে অপবাদ রটাচ্ছে তাদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর শপথ! আমি আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে খারাপ কোন কিছুই জানি না এবং তারা যার ব্যাপারে অপবাদ রটাচ্ছে তাঁর সম্পর্কেও খারাপ কিছু আমি জানি না। আমার অনুপস্থিতিতে সে আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করেনি এবং আমি যখন সফরে বের হয়েছি সেও তখন আমার সঙ্গে সফরে বের হয়েছে।” অতঃপর বর্ণনাকারী সম্পূর্ণ ঘটনাসহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।অবশ্য এতে বর্ধিত রয়েছে যে, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করে আমার দাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলল, “আল্লাহর শপথ! আয়িশা (রাঃ)-এর মধ্যে আমি কোনো ত্রুটি দেখিনি। তবে তিনি নিদ্রায় যেতেন, আর ছাগল এসে মথিত আটা খেয়ে ফেলত।” অথবা বললেন, “খামির খেয়ে ফেলত।” বর্ণনাকারী হিশাম এতে সন্দেহ করেছেন। তখন নবী (ﷺ)-এর কোনো সাহাবা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, “তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সত্য কথা বলো।” এমনকি তাঁরা তার সম্মুখে ঘটনা উত্থাপন করলেন। তখন বারিরা বললেন, “সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! স্বর্ণকার খাঁটি স্বর্ণের টুকরো সম্পর্কে যেমন জানে আমিও আয়িশা সম্পর্কে অনুরূপ জানি।”যে লোক সম্পর্কে এ অপবাদ রটানো হচ্ছিল তার কাছে এ সংবাদ পৌঁছার পর তিনিও বললেন, “সুবহানাল্লাহ। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো কোনো মহিলার আবরণ খুলিনি।” আয়িশা (রাঃ) বলেন, পরে তিনি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হন। এতে আরো বর্ধিত রয়েছে যে, অপবাদ রটনাকারীদের মাঝে ছিলেন মিসতাহ, হামনাহ, হাসান। আর মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই সে ছিল ঐ লোক যে খুঁজে খুঁজে বের করে এসব জমা করত। সে এবং হামনাই এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
৬৯১৬
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা সন্দেহমুক্ত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উম্মু ওয়ালাদের (দাসীদের) সঙ্গে এক লোকের প্রতি অভিযোগ আসে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে বললেন, যাও, তার শিরশ্ছেদ কর। আলী (রাঃ) তার কাছে গিয়ে দেখলেন, সে কুয়ার মধ্যে শরীর ঠাণ্ডা করছে। আলী (রাঃ) তাকে বললেন, বেরিয়ে এসো। সে আলী (রাঃ)-এর দিকে হাত এগিয়ে দিলো। তিনি তাকে বের করলেন এবং দেখলেন, তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কাটা, তার লিঙ্গ নেই। তখন আলী (রাঃ) তাকে হত্যা করা হতে বিরত থাকলেন। তারপর তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে তো লিঙ্গকাটা, তার লিঙ্গ নেই।
৬৯১৭
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কোন এক সফরে আমরা বের হলাম। এ সফরে মানুষজন অনেক কষ্টে পড়ে। সে সময় আবদুল্লাহ ইবন উবাই তার সাথীদেরকে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথীদের জন্যে তোমরা কিছু ব্যয় করো না, যাতে তারা তাঁর কাছ হতে দূরে চলে যায়। যুহাইর (রহঃ) বলেন, এ হলো ঐ লোকের তিলাওয়াত যে, শব্দের পরিবর্তে পড়ে শক্তিশালীগণ বেশি দুর্বলগণকে বহিষ্কার করে দিবে। আর সে এটাও বলল, আমরা মদিনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে নিশ্চয়ই বেশি দুর্বলকে বহিষ্কৃত করবে শক্তিশালী ব্যক্তি। এ কথা শুনে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তার এ কথাবার্তার ব্যাপারে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। সে জোরদার শপথ করে বলল যে, সে এমন কর্ম করেনি। আর বলল, যায়দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। যায়দ (রাঃ) বলেন, তাদের এ কথায় আমি মনে কঠিন কষ্ট পেলাম। তখন আল্লাহ আমার সততার পক্ষে অবতীর্ণ করেন, ... তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এজন্য আহ্বান করলেন যে, তিনি তাদের জন্যে মার্জনা প্রার্থনা করবেন। তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নিল। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা দেয়ালে ভর দেয়া কাঠের স্তম্ভ স্বরূপ। যায়দ (রাঃ) বলেন, বাহ্যিকভাবে তারা ছিল খুবই সুন্দর মানুষ।
৬৯১৮
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
নবী (ﷺ) আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কবরের কাছে আসলেন এবং তাকে তার কবর থেকে উঠিয়ে নিজ হাঁটুর উপর রাখলেন এবং তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজ জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই এ ব্যাপারে পূর্ণ অবগত।
৬৯১৯
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবুন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে কবরে ঢুকানোর পর নবী (ﷺ) তার কাছে আসলেন; হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফিয়ান হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৬৯২০
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর মৃত্যুর পর তার সন্তান আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁর পিতার কাফনের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জামাটি চাইলেন। তিনি তাঁকে জামাটি দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর পিতার সালাতে জানাযা আদায়ের জন্য অনুরোধ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। এমতাবস্থায় উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় টেনে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার জানাযা কি আপনি আদায় করাবেন? আর আল্লাহ তা'আলা তার সালাতে জানাযা আদায় করাতে আপনাকে বারণ করেছেন।এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তা'আলা আমাকে এ কথা বলে স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করুন- উভয়ই সমান, আপনি সত্তরবারও যদি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন- সবই সমান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি সত্তরের উপরে বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কপট ছিল। এরপরও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন- “তাদের মাঝে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দণ্ডায়মান হবেন না”- (সূরা আত তাওবা ৯:৮৪)।