৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৯০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৮৯১
আল্লাহর আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীল কাজ হারাম হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা হতে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই।
৬৮৯২
আল্লাহর আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীল কাজ হারাম হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিন আত্মমর্যাদা হিফাজত করে। আল্লাহ তা’আলা সর্বাধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন।
৬৮৯৩
আল্লাহর আত্মমর্যাদা এবং অশ্লীল কাজ হারাম হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
‘আলা (রহঃ)
আলা (রহঃ) হতে এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৬৮৯৪
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
(তিনি বলেন,) এক লোক কোন মহিলাকে চুম্বন করে। তারপর সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে এ বিষয়টি বর্ণনা করল। রাবী বলেন, তখন আয়াত নাযিল হলো: “সালাত প্রতিষ্ঠা করবে দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিয়দংশে। নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমূহকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য এক উপদেশ”- (সূরা হূদ ১১ : ১১৪)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিধান কি একমাত্র আমার জন্য? তিনি বললেন, আমার উম্মতের যে কেউ এ আমল করবে তার জন্যও (এ বিধান)।
৬৮৯৫
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
জনৈক লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, সে জনৈক মহিলাকে চুম্বন করেছে বা স্বীয় হাত দ্বারা স্পর্শ করেছে কিংবা এ রকম কোন কিছু করেছে। এ বলে সে যেন এর কাফ্‌ফারার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জানতে চাচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আল্লাহ তা‘আলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তিনি ইয়াযীদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৬৮৯৬
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান আত্ তাইমী (রহঃ)
জনৈক ব্যক্তি যিনায় জড়িত হওয়া ব্যতীত এক মহিলার সঙ্গে কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণ করল। এরপর সে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে আসলে উমর (রাঃ) তার এ কর্মটিকে মারাত্মক অন্যায় মনে করলেন। অতঃপর সে আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আসলে তিনিও কর্মটি কঠিন অপরাধ মনে করলেন। পরিশেষে সে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসলে বর্ণনাকারী হাদীসটি ইয়াজিদ এবং মু’তামির (রাঃ)-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
৬৮৯৭
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
এক লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মদিনার এক প্রান্তে এক মহিলাকে কাবু করার জন্যে চেষ্টা তদবীর করেছি। সহবাস ব্যতিরেকে তার সাথে আমি একান্তে মিলিত হয়েছি। আমিই সে লোক। আপনি আমার ব্যাপারে যা ইচ্ছা সিদ্ধান্ত দিন। তখন উমর (রাঃ) তাকে বললেন, আল্লাহ তো তোমার অন্যায়কে লুক্কায়িত রেখেছেন। তুমিও যদি তোমার স্বীয় বিষয়টি গোপন রাখতে! রাবী বলেন, কিন্তু নবী (ﷺ) তাকে আর কোন জবাব দেননি। এরপর লোকটি উঠে যেতে লাগল। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) এক লোককে তার পিছনে পাঠালেন, যেন সে তাকে ডেকে আনে।অতঃপর তিনি তার সামনে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ “সালাত প্রতিষ্ঠা করবে দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিয়দংশে। অবশ্যই নেককর্ম অসৎকর্মকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এ হলো তাদের জন্য এক উপদেশ।” তখন লোকেদের মধ্য হতে জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর নবী! এ বিধান কি তার জন্য নির্দিষ্ট? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং সকল মানুষের জন্যই এ বিধান কার্যকর।
৬৮৯৮
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি নবী (ﷺ) হতে আবূ আহওয়াস-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে আছে, তখন মু‘আয (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ হুকুম কি শুধু তার জন্য, না আমাদের সবার জন্য সার্বিকভাবে প্রযোজ্য? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং তোমাদের সবার জন্য সার্বিকভাবে প্রযোজ্য।
৬৮৯৯
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
এক লোক নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। অতএব আপনি আমার উপর তা প্রয়োগ করুন। রাবী বলেন, তখন সালাতের সময় হলো এবং লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করল। সালাত আদায় হয়ে গেলে লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি হদ্দযোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনি আল-কুরআনের বিধানানুসারে আমার উপর হদ্দ কার্যকর করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি আমাদের সাথে সালাত আদায় করেছিলে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাকে মাফ করা হয়েছে।
৬৯০০
মহান আল্লাহর বাণী : “নিশ্চয়ই সৎকর্ম গুনাহসমুহকে দূর করে দেয় ।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ১১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ উমামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে বসে ছিলাম। তখন জনৈক লোক এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! হদ্দযোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। অতএব আপনি আমার উপর হদ্দ কার্যকর করুন।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন। সে আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি হদ্দযোগ্য অন্যায় করে ফেলেছি। তাই আপনি আমার উপর হদ্দ কার্যকর করুন।’ এবারও রাসূল (ﷺ) নীরব থাকলেন। লোকটি তৃতীয়বার পুনরাবৃত্তি করল। এমন সময় সালাত শুরু হলো। সালাত শেষ হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এলেন। রাবী আবু উমামা (রাঃ) বলেন, লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পশ্চাদ্ধাবন করল। আবু উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকটিকে কি উত্তর দেন তা দেখার জন্য তিনি সালাত শেষে ফিরে এলে আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তারপর প্রশ্নকারী লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার উপর হদ্দ হওয়ার মতো অপরাধ করে ফেলেছি। তাই আমার উপর হদ্দ কার্যকর করুন।’ আবু উমামা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘ঘর হতে বের হবার সময় খেয়াল করেছ কি? তুমি কি ভালোভাবে ওযু করোনি?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, হে আল্লাহর রাসূল!’ এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আমাদের সাথে সালাত আদায় করোনি?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমার হদ্দ মাফ করে দিয়েছেন।’ কিংবা বললেন, ‘তোমার পাপ মাফ করে দিয়েছেন।’