৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৮৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৮৭১
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
একসময় কয়েকজন বন্দী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসা হলো। বন্দীদের মধ্যে থেকে একজন নারী কেবলই অনুসন্ধানে রত ছিল। সে বন্দীদের মধ্যে কোনো শিশুকে পাওয়া মাত্র তাকে কোলে নিয়ে পেটের সাথে জড়িয়ে ধরে তাকে দুগ্ধ পান করাত। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রশ্ন করলেন, এ মহিলাটি কি তার সন্তানদেরকে আগুনে ফেলতে রাজি হবে? আমরা বললাম, না। আল্লাহর শপথ! সে কোনো সময় তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সন্তানের উপর এ মহিলাটির দয়া হতেও আল্লাহ বেশি দয়ালু।
৬৮৭২
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে যে কি পরিমাণ শাস্তি রয়েছে, ঈমানদারগণ যদি তা জানত তবে কেউ তাঁর কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা করত না। এমনিভাবে আল্লাহর কাছে যে পরিমাণ দয়া আছে, অবিশ্বাসীরা যদি তা জানত তবে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হত না।
৬৮৭৩
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জনৈক লোক যে জীবনে কখনো কোন প্রকার সওয়াবের কাজ করেনি, যখন সে মারা যাবে তার পরিবার পরিজনকে ডেকে বলল, “মৃত্যুর পর তোমরা তাকে পুড়ে ফেলবে, সেটার অর্ধেক স্থলভাগে বাতাসে উড়িয়ে দিবে এবং অর্ধেক পানিতে নিক্ষেপ করবে। কারণ আল্লাহর কসম! আমাকে যদি আল্লাহ পুনঃ একত্রিত করতে পারেন তাহলে তিনি আমাকে অবশ্যই এমন আজাব দিবেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে কখনো দেননি।” তারপর লোকটি যখন ইন্তিকাল করল তখন তার পরিবারের লোকেরা তার নির্দেশ অনুযায়ী তদ্রূপ করল। তখন আল্লাহ তা’আলা স্থলভাগকে আদেশ দিলেন সে তার মধ্যস্থিত যা কিছু আছে (ছাই) একত্রিত করলো। এরপর পানিতে মিশ্রিত ভাগকে নির্দেশ দিলেন। সে-ও তার মধ্যস্থিত সব কিছু একত্রিত করে দিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি এমনটি কেন করলে?” সে বলল, “হে আমার রব! আপনার ভয়ে। আপনি তো সর্বজ্ঞ।” তখন আল্লাহ তা’আলা সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দিলেন।
৬৮৭৪
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এক লোক নিজের উপর সীমাহীন পাপ করেছে। এরপর যখন মৃত্যু সমুপস্থিত, তখন সে তার সন্তান-সন্ততিদেরকে ওসিয়ত করে বলল, “আমার ইন্তিকালের পর তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাইগুলোকে ভালোভাবে পিষবে। তারপর আমাকে সমুদ্রের মধ্যে বাতাসে ছেড়ে দেবে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি আমাকে পেয়ে যান, তবে নিশ্চিতই তিনি আমাকে এমন ‘আযাব দিবেন, যা তিনি আর কাউকে দেননি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “সন্তানগণ তার সঙ্গে হুবহু তাই করল। এরপর আল্লাহ তা’আলা মাটিকে বললেন, ‘তুমি তার যে ছাই ধারণ করছ, তা একত্রিত করে দাও।’ ফলে সে সোজা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কর্ম করার কারণে কিসে তোমাকে উৎসাহিত করেছে? উত্তরে সে বলল, خَشْيَتُكَ يَا رَبِّ অথবাمَخَافَتُكَ আপনার ভয়ে। এ কথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দেন।
৬৮৭৫
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
জনৈক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল; অথচ তাকে কোনো আহারও প্রদান করেনি এবং জমি থেকে কীট-পতঙ্গ বা ঘাসপাতা খাবার জন্য তাকে ছেড়েও দেয়নি। এমনিভাবে বিড়ালটির মৃত্যু হয়।যুহরী (রহঃ) বলেন, উপরোল্লিখিত হাদীস দু’টো এ কারণেই আলোচনা করা হয়েছে, যেন মানুষ ‘আমল পরিত্যাগ করে আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে (পাপরাশিতে ডুবে না থাকে) এবং যেন মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে (‘আযাবের ভয়ে) নিরাশ না হয়ে যায়।
৬৮৭৬
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, একজন গোলাম তার নিজের আত্মার প্রতি যুল্‌ম করেছিল অর্থাৎ সীমাহীন পাপ করেছিল। তারপর তিনি فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ পর্যন্ত মা‘মার-এর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে বিড়ালের কাহিনী সম্পর্কিত মহিলার হাদীসটি বর্ণনা করেননি। তবে যুবাইদী (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে, তারপর আল্লাহ তা‘আলা- যারা তার সর্বাঙ্গ গ্রাস করেছে তাদের বললেন, তার যে যে অংশে তোমরা খেয়ে ফেলেছো, তা সমন্বিত করে দাও।
৬৮৭৭
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আগের যুগের এক লোক ছিল। আল্লাহ তাকে অনেক সন্তান এবং অনেক প্রাচুর্য দিয়েছিলেন। সে তার সন্তান-সন্ততিদের বলল, আমি যা তোমাদের আদেশ করব অবশ্যই তোমরা তা করবে নচেৎ আমি অন্য কাউকে আমার ধন-সম্পদের উত্তরাধিকার করে দিব। আমি যখন মরে যাব, তখন তোমরা আমাকে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় যে, সে এও বলেছে যে, তারপর আমাকে পিষে বাতাসে উড়িয়ে দিবে। কারণ আল্লাহর কাছে আগে আমি কোন সওয়াব পাঠাইনি। আল্লাহ আমাকে সাজা দেয়ার উপর শক্তি রাখেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এ বিষয়ে সে তার সন্তানদের থেকে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করল। এরপর তারা তার পিতার ক্ষেত্রে তেমনি করল। আমার রবের কসম! এরপর আল্লাহ তাকে প্রশ্ন করলেন, এ কর্ম করার বিষয়ে কিসে তোমাকে উৎসাহিত করেছে? সে বলল, আপনার ভয়ে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে আর কোন আযাব দেননি।
৬৮৭৮
আল্লাহ তা‘আলার রহ্‌মাতের ব্যাপকতা যা তার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্‌ (রহঃ)
তারা সকলেই শু‘বার সনদের ন্যায় উক্ত হাদীসটি শু‘বার হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। শাইবান-এর হাদীসে رَاشَهُ اللَّهُ-এর স্থলে رَغَسَهُ-(আল্লাহ তাকে দান করেছেন) বর্ণিত আছে। আর আত তামিমির হাদীসের মধ্যে لَمْ أَبْتَهِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا-এর স্থলে لَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا বর্ণিত আছে। কাতাদাহ্‌ (রহঃ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, সে আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ই একত্রিত করেনি। শাইবান-এর হাদীসে আছে, مَا ابْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا এবং আবূ আওয়ানার হাদীসে আছে مَا امْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا বা অক্ষরের স্থলে মীম অক্ষর আছে।
৬৮৭৯
বার বার পাপ করা ও তাওবাহ্‌ করার কারণেও তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি (ﷺ) স্বীয় রব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হতে বর্ণনা করেন। জনৈক বান্দা পাপ করে বলল, হে আমার রব! আমার পাপ মার্জনা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে ধরেন। এ কথা বলার পর সে আবার পাপ করল এবং বলল, হে আমার রব! আমার পাপ ক্ষমা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার এক বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছেন যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে শাস্তি দিতে পারেন। তারপর সে পুনরায় পাপ করে বলল, হে আমার রব! আমার পাপ মাফ করে দাও। এ কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বলেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন প্রভু আছেন, যিনি বান্দার পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে পাকড়াও করেন। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে বান্দা! এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল করো। আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দিয়েছি। বর্ণনাকারী আবদুল আ’লা বলেন, “এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল করো” কথাটি আল্লাহ তা‘আলা তৃতীয়বারের পর বলেছেন, না চতুর্থবারের পর বলেছেন, তা আমি জানি না।
৬৮৮০
বার বার পাপ করা ও তাওবাহ্‌ করার কারণেও তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ আন্ নার্সী (রহঃ)
উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।