৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৮৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৮৫১
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
সিমাক (রহঃ)
একদা নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবার কারণে ঐ লোক হতেও বেশি আনন্দিত হন যে তার একটি উটের উপর সহায় সম্বল বহন করে সফরে বের হয়েছে। আর অবশেষে এক জনমানবহীন মাঠে উপস্থিত হয়। এমতাবস্থায় দুপুর হয়ে যায়। তখন সে নেমে বৃক্ষের তলায় বিশ্রাম করতে থাকে। সে গভীর ঘুমে নিমগ্ন হয় এবং তার উটটি চলে যায়। সে সজাগ হয়ে ওই টিলায় দৌড়ে গেল, অতঃপর সে কোন কিছু দেখতে পেল না।তারপর সে অপর টিলায় দৌড়ে উঠল কিন্তু সেখানেও কোন কিছু দেখতে পেল না। তারপর সে তৃতীয় এক টিলার উপরে উঠে, কিন্তু সেখানেও কোন কিছু দেখতে পেল না। অবশেষে হতাশ হয়ে সে বিশ্রামাগারে ফিরে গিয়ে সেখানে এসে বসে থাকে। এমন সময় হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে উটটি তার কাছে চলে আসে। অমনি সে তার হাতে এর লাগাম চেপে ধরে। আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ উট প্রাপ্ত লোকের চেয়েও বেশি খুশি হন। বর্ণনাকারী সিমাক (রহঃ) বলেন, শা‘বি (রহঃ) বলেন, নু’মান এ হাদীসটি নবী (ﷺ) হতে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে আমি (সিমাক) নু’মান (রাঃ)-কে হাদীসটি মারফূ‘ভাবে বর্ণনা করতে শুনিনি।
৬৮৫২
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ সম্বন্ধে তোমরা কী বললে যে, এক লোক যার নিকট পানাহারের কোন কিছু নেই, এমন মরুভূমিতে উট চলে যায় এবং এর লাগাম মাটিতে টেনে চলতে থাকে, অথচ এর উপর রয়েছে সে লোকের পানাহারের সামগ্রী। তারপর সে তা খোঁজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর এহেন মুহূর্তে উক্ত সওয়ারী কোন বৃক্ষের তলা দিয়ে যাওয়ার সময় যদি এর লাগাম ঐ গাছের কাণ্ডের সাথে আটকে যায়, আর আটকানো অবস্থায় যদি সে লোকটি সেটি পেয়ে যায়, তাহলে এ লোক কি পরিমাণ খুশী হবে? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে অত্যন্ত খুশী হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ স্বীয় বান্দার তাওবার কারণে সওয়ারী প্রাপ্ত ঐ লোকের থেকেও আল্লাহ তা‘আলা অনেক বেশি খুশী হন। জা‘ফার (রহঃ) বলেন, ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ইয়াদ তাঁর পিতা হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
৬৮৫৩
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তওবা করে তখন আল্লাহ ঐ লোকের চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে মরুভূমিতে নিজ সাওয়ারির উপর আরোহিত ছিল। তারপর সাওয়ারিটি তার হাতে হারিয়ে যায়। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। এরপর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় এসে আরাম করে এবং তার উটটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হঠাৎ উটটি তার কাছে এসে দাঁড়ায়। তখনই সে তার লাগাম ধরে ফেলে। এরপর সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা, আমি তোমার রব। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে ভুল করে ফেলেছে।
৬৮৫৪
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দার তাওবার কারণে তোমাদের ঐ লোকের চেয়েও বেশি খুশি হন, যে সজাগ হয়ে তার ঐ উটটি ফিরে পায়, যা সে মরুভূমিতে হারিয়ে ফেলেছিল।
৬৮৫৫
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৮৫৬
ইস্তিগ্‌ফার ও তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আইয়ূব (রাঃ)
যখন তাঁর মৃত্যু সমুপস্থিত, তখন তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শোনা একটি হাদীস আমি তোমাদের নিকট হতে গোপন রেখেছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, যদি তোমরা পাপ না করতে, তবে আল্লাহ তা‘আলা এমন মাখলুক বানাতেন যারা পাপ করত এবং আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দিতেন।”
৬৮৫৭
ইস্তিগ্‌ফার ও তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন পাপ না থাকত যা আল্লাহ মাফ করে দেন, তবে অবশ্যই আল্লাহ এমন সম্প্রদায় বানাতেন যাদের পাপ হত এবং তিনি তা মাফ করে দিতেন।
৬৮৫৮
ইস্তিগ্‌ফার ও তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তাঁর কসম করে বলছি, তোমরা যদি পাপ না করতে তবে অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে এমন সম্প্রদায় বানাতেন যারা পাপ করে ক্ষমা চাইত এবং তিনি তাদের মাফ করে দিতেন।
৬৮৫৯
সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিক্‌র ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা ও আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকা এবং কোন কোন সময় তা ছেড়ে দেয়া ও দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত থাকা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাতিব হান্‌যালাহ্‌ আল্‌ উসাইয়িদী (রাঃ)
একদা আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, “হে হানযালা! তুমি কেমন আছ?” তিনি বলেন, জবাবে আমি বললাম, “হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে।” সে সময় তিনি বললেন, “সুবহানাল্লাহ! তুমি কি বলছ?” হানযালা (রাঃ) বলেন, “আমি বললাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। সুতরাং আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্নিকটে থেকে বের হয়ে আপনজন স্ত্রী-সন্তান এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই, তখন আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই।”আবু বকর (রাঃ) বললেন, “আল্লাহর কসম! আমারও একই অবস্থা। নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ করবো।” তারপর আমি এবং আবু বকর (রাঃ) রওনা করলাম এবং এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তা কী?” আমি বললাম, “আমরা আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদের জান্নাত-জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দেন, যেন আমরা তা সরাসরি দেখতে পাই। তারপর আমরা যখন আপনার নিকট হতে বের হই এবং স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হই, সে সময় আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তাঁর কসম করে বলছি। আমার কাছে থাকাকালে তোমাদের যে অবস্থা হয়, যদি তোমরা সবসময় এ অবস্থায় অনড় থাকতে এবং সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিকরে পড়ে থাকতে, তাহলে অবশ্যই ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও রাস্তায় তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। কিন্তু হে হানযালা! এক ঘণ্টা (আল্লাহর যিকরে) আর এক ঘণ্টা (দুনিয়াবী কাজে ব্যয় করবে) অর্থাৎ আস্তে আস্তে (চেষ্টা কর)।” এ কথাটি তিনি (ﷺ) তিনবার বললেন।
৬৮৬০
সার্বক্ষণিক আল্লাহর যিক্‌র ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা করা ও আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকা এবং কোন কোন সময় তা ছেড়ে দেয়া ও দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত থাকা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
হানযালাহ্‌ (রাঃ)
আমরা এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে ওয়ায করলেন এবং জাহান্নামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তারপর আমি গৃহে আসলাম এবং সন্তান-সন্তানদের সাথে খেল-তামাশা করলাম এবং স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করলাম। এরপর আমি বাড়ি থেকে রওনা করলাম। পথে আবু বকর (রাঃ)-এর সাথে দেখা করলাম। আমি তাঁর সাথে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমিও তো এমনই করি, যেমন তুমি বললে। তারপর আমরা দুইজনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তারপর তিনি বললেন, তা কী? তারপর আমি আমার সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলাম। এরপর আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমিও তো এমনই করি যেমন হানযালা করেছে। তিনি বললেন, হে হানযালা! কিছু সময় আল্লাহর স্মরণের জন্য এবং কিছু সময় দুনিয়াবী কাজের জন্য। ওয়ায-নসীহতের মুহূর্তে তোমাদের মন যেমন থাকে, সবসময় যদি তা এ রকম থাকত তবে ফেরেশতাগণ অবশ্যই তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। এমনকি প্রকাশ্যে রাস্তায় তারা তোমাদের সালাম করত।