৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৮৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৮৪১
জান্নাতীদের অধিকাংশই দুঃস্থ-গরীব এবং জাহান্নামীদের অধিকাংশই মহিলা আর মহিলা জাতির ফিতনাহ্‌ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সানাদে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অবশ্যই দুনিয়াটা চাকচিক্যময় মিষ্টি ফলের মতো আকর্ষণীয়। আল্লাহ সেখানে তোমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তিনি লক্ষ্য করছেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করো? তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সতর্ক থেকো। কেননা বনী ইসরাঈলের মাঝে প্রথম ফিতনা নারীকেন্দ্রিক ছিল। ইবনু বাশার (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীস-এ فَيَنْظُرُ-এর স্থানে لِيَنْظُرَ কথাটি আছে।
৬৮৪২
তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এক সময় তিনজন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পড়ে তাদের গর্তের মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তের মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহূর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ আমলের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎকর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের এ মহাবিপদ হতে (পাথরটি সরিয়ে) নিষ্কৃতি দেবেন।তখন তাদের একজন বলল, “হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের জীবিকার জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোকে দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ফিরে এসে আমি তাদের দুইজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহূর্তে আমার সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু’পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেল। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যার দ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই।” অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন।অপর জন বলল, “হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল। কোনো পুরুষ কোনো নারীকে ভালোবাসার মতই আমি তাকে অত্যধিক ভালোবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং অবশেষে একশ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যতীত সতীত্ব নষ্ট করো না।’ এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও।” তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন।অন্য লোকটি বলল, “হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, ‘আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন।’ আমি এক ফারাক শস্য তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, ‘আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না।’ আমি বললাম, ‘তুমি এ সমস্ত গরু ও রাখাল নিয়ে যাও।’ সে বলল, ‘আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না।’ আমি বললাম, ‘সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও।’ অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও।” তখন আল্লাহ তা'আলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন।
৬৮৪৩
তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ নাই
ইসহাক্ ইবনু মানসূর ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ
মূসা বিন উকবা (রহঃ)-এর সূত্রে আবূ যামরা (রহঃ)-এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, ‘তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল’। সালিহ (রহঃ)-এর হাদীসে ‘তারা পায়ে হেঁটে চলছিল’ বর্ণনা রয়েছে। উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে “তারা বের হলো” বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি।
৬৮৪৪
তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ নাই
ইমাম যুহরী (রাঃ)
সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মতের মাঝে তিনজন লোক একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন। তারপর নাফি বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন।তবে ইবন উমর (রাঃ) বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিলেন। আমি কখনো তাঁদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবন উমর) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ বিশটি দীনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনাটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল।
৬৮৪৫
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সানাদে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন: আমার উপর বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে আছি। সে যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, শূন্য মাঠে তোমাদের কেউ হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে আনন্দিত হয় আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবার কারণে এর চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। যদি কেউ এক বিঘত সমান আমার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যদি কেউ এক হাত সমান আমার প্রতি অগ্রসর হয়, তাহলে আমি এক গজ সমান তার প্রতি অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি।
৬৮৪৬
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কোন লোক হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে সমান আনন্দিত হয়, তোমাদের তাওবার কারণে আল্লাহ তা‘আলা এর চেয়েও বেশি খুশি হন।
৬৮৪৭
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
৬৮৪৮
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
হারিস ইবনু সুওয়াইদ (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ ছিলেন। তাঁর সেবা করার জন্য কোন এক সময় আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমাকে দুইটি হাদীস বর্ণনা করলেন। একটি নিজের পক্ষ হতে এবং অন্যটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুমিন বান্দার তওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সাথে থাকে খাদ্য পানীয়সহ একটি সাওয়ারি। এরপর ঘুম হতে সজাগ হয়ে দেখে যে, সাওয়ারি কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহার সামগ্রী বহনকারী সাওয়ারিটি তার কাছে। (সাওয়ারি এবং পানাহার সামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মুমিন বান্দার তওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।
৬৮৪৯
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ)
তবে তাঁর হাদিসে আছে, মরুভূমির সে ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।
৬৮৫০
তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা পরিচ্ছেদ নাই
‘উমারাহ্‌ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ)
আমি হারিস ইবন সুয়াইদকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আমার কাছে দুইটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এবং অপরটি তাঁর নিজের তরফ থেকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার তওবার কারণে বেশি খুশি হন, জারীর-এর হাদীসের অবিকল।