৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৮০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৭৯১
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি তাঁর দোয়ায় বলতেন, "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন্‌ শাররি মা- আমিলতু ওয়া মিন্‌ শারি মা লাম আ’মাল" অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই সেসব কর্মের খারাপি হতে, যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি তা থেকেও।”
৬৭৯২
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাব্‌তু ওয়াবিকা খ-সামতু আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযু বিইয্‌যাতিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আন তুযিল্লানী আনতাল হাইয়্যুল্লায়ী লা- ইয়ামতু ওয়াল জিননু ওয়াল ইন্‌সু ইয়ামূতুন", অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করেছি, আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই ফিরে যাচ্ছি এবং আপনার সহযোগিতায়ই শত্রুদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছি। হে আল্লাহ! আপনার সম্মানের নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি আমাকে বিভ্রান্তির পথ থেকে বাঁচান। আপনি চিরঞ্জীব সত্তা, যার মৃত্যু নেই। আর জিন জাতি ও মানব জাতি মারা যাবে।”
৬৭৯৩
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) যখন ভ্রমণে থাকতেন তখন সকালবেলা বলতেন, “সামি’আ সা-মিউন বিহামদিল্লা-হি ওয়া হুসনি বালা-য়িহি ’আলাইনা- রব্বানা- স-হিব্‌না- ওয়া আফযিল আলাইনা- ’আ-য়িযান্‌ রিল্লা-হি মিনান্না-র" অর্থাৎ, “শ্রবণকারী শ্রবণ করুক এবং আল্লাহর দেয়া কল্যাণ ও নিয়ামতের উপর আমাদের প্রশংসার সাক্ষী থাকুক। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের সাথী হোন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ দান করুন। আমি মহান আল্লাহর নিকট জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই।”
৬৭৯৪
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আল আশ‘আরী (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন, “আল্লাহুম্মাগ্ ফিরলী খতিয়াতি ওয়া জাহলি ওয়া ইসরাফি ফি আমরি ওয়া মা আন্তা আ‘লামু বিহি মিন্নি, আল্লাহুম্মাগ্ ফিরলী জিদ্দি ওয়া হাযলি ওয়া খতয়ি ওয়া আমদি ওয়া কুল্লু যালিকা ইন্দি, আল্লাহুম্মাগ্ ফিরলী মা কদ্দামতু ওয়া মা আখ্খার্তু ওয়া মা আসরার্তু ওয়া মা আ‘লান্তু ওয়া মা আন্তা আ‘লামু বিহি মিন্নি, আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুয়াখখিরু ওয়া আন্তা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর”, অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপ, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজের সীমালঙ্ঘনকে মার্জনা করে দিন। আপনি এ বিষয়ে আমার চেয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দিন আমার আন্তরিকতাপূর্ণ ও রসিকতামূলক অপরাধ এবং আমার ইচ্ছাকৃত ও ভুলক্রমে সব রকমের অপরাধগুলো (যা আমি করেছি)। হে আল্লাহ! মাফ করে দিন যা আমি আগে করে ফেলেছি এবং যা আমি পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি। আর আপনি আমার চাইতে আমার সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত। আপনিই একমাত্র অগ্রবর্তী এবং আপনিই একমাত্র পরবর্তী। আপনি সব বিষয়ে উপর ক্ষমতাবান।”
৬৭৯৫
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রাঃ)
এ সূত্রে তিনি অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৭৯৬
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা আসলিহলী দীনিয়াল্লিয়ী হুওয়া ইসমাতু আমরী ওয়া আস্‌লিহলী দুন্‌ইয়াল্লাতী ফীহা মা’আ-শী ওয়া আসলিহলী আ-খিরতিল্লাতী ফীহা মাআ-দী ওয়াজ আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান্‌ লী ফী কুল্লি খইরি ওয়াজ আলিল মাওতা রা-হাতান মিন্‌ কুল্লি শাররিন" অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন পরিশুদ্ধ করে দিন, যে দ্বীনই আমার নিরাপত্তা। আপনি শুদ্ধ করে দিন আমার দুনিয়াকে, যেখানে আমার জীবনোপকরণ রয়েছে। আপনি সংশোধন করে দিন আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আপনি আমার আয়ুষ্কালকে বৃদ্ধি করে দিন প্রত্যেকটি ভালো কর্মের জন্য এবং আপনি আমার মৃত্যুকে বিশ্রামাগার বানিয়ে দিন সব প্রকার খারাপী থেকে।”
৬৭৯৭
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি এই বলে দোয়া করতেন, “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল “আফা-ফা ওয়াল গিনা” অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথনির্দেশ, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও সচ্ছলতার জন্য দোয়া করছি।”
৬৭৯৮
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ইসহাক্ (রহঃ)
এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে পার্থক্য এই যে, ইবনুল মুসান্না তার বর্ণিত হাদীসে الْعَفَافَ এর স্থলে الْعِفَّةَ (হারাম থেকে পবিত্রতা) শব্দ বর্ণনা করেছেন।
৬৭৯৯
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
আমি তোমাদের নিকট তেমনই বলব যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন। তিনি (ﷺ) বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল আজ্‌যি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুৱ্‌নি ওয়াল বুখ্‌লি ওয়াল হারামি ওয়া আযা-বিল কবরি, আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা ওয়াযাক্কিহা- আনতা খইরু মান্‌ যাককা-হা আনতা ওয়ালী ইউহা- ওয়া মাওলা-হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন ইলমিন লা- ইয়ান্‌ফা’উ ওয়ামিন কলবিনু লা- ইয়াখশাউ ওয়ামিন নাফসিন লা- তাশবাউ ওয়ামিন দা’ওয়াতিন লা- ইউসতাজা-বু লাহা-” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, বখিলতা, বার্ধক্যতা এবং কবরের শাস্তি থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে পরহেযগারিতা দান করুন এবং একে সংশোধন করে দিন। আপনি একমাত্র সর্বোত্তম সংশোধনকারী এবং আপনিই একমাত্র তার মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ইলম হতে যা কোন উপকারে আসে না, এমন অন্তর থেকে যা আপনার ভয়ে ভীত হয় না, এমন আত্মা থেকে যা কখনও তৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া থেকে যা কবুল হয় না।”
৬৮০০
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
যখন সন্ধ্যা হত তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ “আম্‌সাইনা- ওয়া আম্‌সাল মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু”, অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও, প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একক সত্তা, তাঁর কোন শরীক নেই।” হাসান (রহঃ) বলেন, আমাকে যুবাইদ (রহঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি ইব্রাহিম (রহঃ) হতে এ দোয়াটি মুখস্ত করেছেনঃ “লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, আল্ল-হুম্মা আসআলুকা খইরা হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া আউযুবিকা মিন্‌ শাররি হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা-বাদাহা আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূয়িল কিবারি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কবরি।” অর্থাৎ, “রাজত্ব তাঁর মালিকানাধীন, সকল প্রশংসা তাঁরই, তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এ রাতের কল্যাণ প্রত্যাশা করি এবং আশ্রয় চাই এ রাতের খারাবি হতে এবং এর পরবর্তী রাতের অনিষ্ট থেকেও। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা থেকে ও অহংকারের খারাবি থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে এবং কবরের শাস্তি থেকে।”