৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৭৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৭৮১
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন বলবে, “আল্ল-হুম্মাখ লাকতা নাফসী ওয়া আনতা তাওয়াফ্‌ফা-হা- লাকা মামা-তুহা ওয়া মাহইয়া-হা ইন্‌ আহ ইয়াইতাহা- ফাহফাযহা- ওয়া ইন্‌ আমাত্‌তাহা- ফাগফির লাহা- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল আ-ফিয়াহ” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমার জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং আপনিই তাকে (আমার জীবনকে) মৃত্যুদান করেন। আপনার কাছে (নাফসের) জীবন ও মরণ। যদি আপনি একে জীবিত রাখেন তাহলে আপনি এর হেফাজত করুন। আর যদি আপনি এর মৃত্যু দান করেন তাহলে একে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করছি।” তখন সে লোকটি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এটা উমর (রাঃ) হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, উমরের চেয়ে যিনি উত্তম (অর্থাৎ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি। ইবনু নাফি (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রহঃ) হতে, আর তিনি (আমাকে শুনেছি) শব্দটি বলেননি।
৬৭৮২
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ল (রহঃ)
আবু সালিহ আমাদেরকে আদেশ করতেন, যখন আমাদের কেউ ঘুমাতে যায় সে যেন ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শয্যাগ্রহণ করে। এরপর যেন বলেন, “আল্ল-হুম্মা রব্বাস সামা-ওয়া-তি ওয়া রব্বাল আরযি ওয়া রব্বাল আরশিল আযীম, রব্বানা ওয়া রব্বা কুল্লি শাইয়িন্‌ ফা-লিকাল হাব্বি ওয়ান্‌ নাওয়া ওয়া মুনযিলাত তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরকানি আউযুবিকা মিন শাররি কুল্লি শাইয়িন আনতা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহি, আল্ল-হুম্মা আন্‌তাল আওওয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাইউন ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা’দাকা শাইউন ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাইউন ওয়া আনতাল বা-তিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন ইকযি আন্নাদ দাইনা ওয়া আগনিনা- মিনাল ফাক্‌রি” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আকাশমণ্ডলী, জমিন ও মহান ‘আরশের রব। আমাদের রব ও সব কিছুর পালনকর্তা। আপনি শস্য ও বীজের সৃষ্টিকর্তা, আপনি তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনের অবতীর্ণকারী। আমি আপনার নিকট সকল বিষয়ের খারাপি হতে আশ্রয় চাই। আপনিই একমাত্র সব বিষয়ের পরিচর্যাকারী। হে আল্লাহ! আপনিই শুরু, আপনার আগে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং আপনিই শেষ, আপনার পরে কোন কিছু নেই। আপনিই প্রকাশ, আপনার ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আপনিই বাতিন, আপনার অগোচরে কিছু নেই। আমাদের ঋণকে আদায় করে দিন এবং অভাব থেকে আমাদেরকে সচ্ছলতা দিন।” তিনি (আবু সালিহ) নবী (ﷺ) হতে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সূত্রেও এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করতেন।
৬৭৮৩
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের আদেশ করতেন যে, যখন আমরা শয্যাগ্রহণ করি তখন যেন পড়ি। তারপর জারীর-এর হাদীসের হুবহু হাদীস। আর তিনি বলেছেন, “সকল জীবের অকল্যাণ হতে যাদের ধারণকারী আপনিই।”
৬৭৮৪
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে একজন খাদিমের জন্য আবেদন করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি বলো, “সাত আসমানের রব হে আল্লাহ! .....” তারপর সুহাইল-এর পিতা থেকে বর্ণিত হাদীস-এর অবিকল উল্লেখ করেছেন।
৬৭৮৫
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার শয্যাগ্রহণ করতে বিছানায় আসে, সে যেন তার কাপড়ের আঁচল দিয়ে বিছানাটি ঝাড়া দিয়ে নেয় এবং বিসমিল্লাহ পাঠ করে নেয়। কেননা সে জানে না যে, বিছানা ছাড়ার পর তার বিছানায় কি আছে। তারপর যখন সে শয্যাগ্রহণ করতে ইচ্ছা করে তখন যেন ডান কাত হয়ে শয্যাগ্রহণ করে। এরপর সে যেন বলে, “সুবহা- নাকাল্লা-হুম্মা রব্বী বিকা ওয়া যা’তু জামবী ওয়াবিকা আর ফা’উহু ইন্‌ আমসাক্‌তা নাফসী ফাগফির লাহা- ওয়া ইন্‌ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহি ইবা-দাকাস সালিহীন” অর্থাৎ: “আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আমার প্রতিপালক! আপনার নামেই আমি আমার পার্শ্ব (দেহ) রাখলাম, আপনার নামেই তা তুলব। আপনি যদি আমার প্রাণ আটকিয়ে রাখেন তাহলে আমাকে মাফ করে দিন। আর যদি আপনি তাকে উঠবার অবকাশ দেন তাহলে তাকে রক্ষা করুন, যেমন আপনি আপনার নেক বান্দাদের রক্ষা করে থাকেন।”
৬৭৮৬
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রহঃ)
হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরপর সে যেন বলে, “বিস্‌মিকা রব্বী ওয়াযা’তু জামবী ফা ইন্‌ আহ ইয়াইতা নাফসী ফারহামহা” অর্থাৎ- “হে আমার রব! তোমার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম। যদি আপনি আমাকে জীবিত রাখেন তাহলে তার উপর দয়া করুন।”
৬৭৮৭
বিছানা গ্রহণ ও ঘুমানোর সময় যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতেন তখন তিনি বলতেন, “আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত- আমানা ওয়া সাকা-না- ওয়া কাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম মিম্মান লা-কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা- মু’বিয়া” অর্থাৎ- “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জীবিকা দিয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন, তিনি আমাদেরকে দায়িত্ব বহন করেছেন, আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এমন অনেক আছে যাদের জন্য কোন দায়িত্ব বহনকারী নেই, আশ্রয়দাতাও নেই।”
৬৭৮৮
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
ফারওয়াহ্ ইবনু নাওফাল আল আশজা‘ঈ (রাঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নিকট কি কি দোয়া করতেন? আয়িশা (রাঃ) জবাব দিলেন, তিনি (ﷺ) বলতেন, "আল্লহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি মা- আমিলতু ওয়ামিন শারি মা- লাম আমল" অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনার নিকট সেসব কর্মের খারাপি থেকে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং তা থেকেও যা আমি করিনি।”
৬৭৮৯
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
ফারওয়াহ্ ইবনু নাওফাল (রহঃ)
আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দোয়ার সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বললেন, তিনি (ﷺ) বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শার্রি মা আমিলতু ওয়া মিন শার্রি মালাম আমাল” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সেসব আমলের খারাবি হতে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি।”
৬৭৯০
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না
অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবন জা‘ফারের হাদীসে "ওয়া মিন্‌ শারি মা- লাম আমল" অর্থাৎ— "এবং আমি যা করিনি তার খারাবি হতে" কথাটি উল্লেখ আছে।