৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৮১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৮০১
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
যখন সন্ধ্যা হয়ে যেত সে সময় নবী (ﷺ) বলতেনঃ “আম্‌সাইনা- ওয়া আমসাল মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু”, অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মা‘বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই।” রাবী বলেন যে, তিনি তাঁর দোয়ার মধ্যে বলেছেন, “লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, রব্বি আস্আলুকা খইরা মা- ফী হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া খইরা মা- বাদাহা- ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি মা- ফী হাযিহিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা- বাদাহা- রব্বি আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সুয়িল কিবারি রব্বি আউযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্‌না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কবরি”, অর্থাৎ- “রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনিই সব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট কল্যাণ চাই এ রাতের এবং পরবর্তী রাতেরও। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এ রাতের খারাপ থেকে এবং এর পরবর্তী রাতের খারাপ থেকেও। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, অহঙ্কারের অশুভ পরিণতি থেকে। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি থেকে।” আর যখন ভোর হতো, তিনি বলতেনঃ “আসবাহনা- ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লা-হি", অর্থাৎ “আমরা ভোরে পৌঁছেছি এবং আল্লাহর রাজ্যও ভোরে পৌঁছেছে।”
৬৮০২
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
যখন সন্ধ্যা হতো তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ "أَمْسَيْـنَا وَأَمْسَـى الْمُـلْكُ لِلَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ، اَللَّهُمََّ! إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وخَـيْرِ مَا فِيْهَا، وَأَعـوْذُ بِكَ مِنْ شَـرِّها وَشَرِّ مَا فِيْهَـا، اَللَّهُمََّ! إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَسُوْءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ". “আম্‌সাইনা- ওয়া আম্‌সাল্‌ মুল্‌কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহু, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা মিন খইরি হাযিহিল লাইলাতি ওয়া খইরি মা- ফীহা- ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শাররিহা- ওয়া শাররি মা- ফীহা-, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়া সূয়িল কিবারি ওয়া ফিতনাতিদ্‌ দুন্‌ইয়া ওয়া ‘আযা-বিন ফিল কব্‌রি”। অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় পৌঁছেছি এবং পৃথিবী আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় পৌঁছেছে। সকল প্রকার প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কল্যাণ চাই এ রাতের ও তার পরবর্তী রাতের এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এ রাত ও এর পরবর্তী রাতের খারাবী হতে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই। অলসতা, বার্ধক্য, অহঙ্কারের খারাবী, দুনিয়ার ফিতনাহ ও কবরের শাস্তি হতে।” হাসান ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেছেন, যুবায়দ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সানাদে মারফূ‘ সূত্রে একটু বর্ধিত বলেছেন। “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর”, অর্থাৎ “আল্লাহ ভিন্ন অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনিই সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।
৬৮০৩
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু আ ’আযযা জুন্‌দাহু ওয়া নাসারা ’আবদাহু ওয়া গলাবাল আহযাবা ওয়াহদাহু ফালা- শাইয়া বাদাহু", অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তিনি তাঁর সৈনিকদের সম্মান দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাকে সহযোগিতা করেছেন। আর তিনি একাই অসংখ্য কাফির বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছেন। এরপরে আর কোন কিছু নেই।”
৬৮০৪
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন: তুমি বলো- “আল্ল-হুম্মাহ্‌দিনী ওয়া সাদ্‌দিদ্‌নী ওয়ায্‌কুর বিলহুদা হিদা-ইয়াতাকাত তারীকা ওয়াস্ সাদা-দি সাদা-দাস্ সাহ্‌ম”, অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সোজা পথে পরিচালিত করুন।” তিনি আমাকে আরও বলেছেন, “আপনার হিদায়াতকে সঠিক পথের মাধ্যমে এবং তীর সোজা করাকে সরলতার মাধ্যমে স্মরণ করুন।”
৬৮০৫
কৃত ‘আমাল ও না করা ‘আমালের খারাবী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আসিম ইবনু কুলায়ব (রহঃ)
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এ রকম বলতে বলেছেনঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা ওয়াস্ সাদা-দ", অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত ও সরলপথ প্রার্থনা করছি।” অতঃপর তিনি তার মতই হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৬৮০৬
দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ পরিচ্ছেদ নাই
জুওয়াইরিয়াহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরবেলা ফজরের সালাত আদায় করে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। ওই সময় তিনি সালাতের স্থানে বসা ছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। এমতাবস্থায়ও তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন, "আমি তোমাকে যে অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছিলাম তুমি সে অবস্থায়ই আছো।" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" নবী (ﷺ) বলেন, "আমি তোমার নিকট হতে রওনার পর চারটি কালিমা তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওজন করা হলে এ কালিমা চারটির ওজনই ভারী হবে। কালিমাগুলো এই- “সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহি আদাদা খল্‌কিহি ওয়া রিযা- নাফসিহি ওয়াযিনাতা আরশিহি ওয়ামি দা-দা কালিমা-তিহি”, অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তাঁর মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ ও তাঁর কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।”
৬৮০৭
দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ পরিচ্ছেদ নাই
জুওয়াইরিয়াহ্‌ (রাঃ)
ফজরের সালাতের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট আসলেন অথবা ফজরের সালাতের পরে সকালে তিনি (ﷺ) আসলেন। তারপর রাবী তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তাতে পার্থক্য শুধু এই যে, তিনি বলেছেন, “সুবহানাল্লাহ আদাদা খালকিহি সুবহানাল্লাহ রিযা নাফসিহি সুবহানাল্লাহ যিনাতা আরশিহি সুবহানাল্লাহ মিদাদা কালিমাতিহি”, অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর অসংখ্য মাখলুকের পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালিমাসমূহের সংখ্যার সমান।”
৬৮০৮
দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
ফাতিমা (রাঃ) চাক্কি ঘুরাতে গিয়ে তাঁর হাতে ব্যথা অনুভব করলেন। তখন নবী (ﷺ)-এর কাছে বন্দি এসেছিল। তাই তিনি বন্দি হতে একজন খাদিমের জন্য নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলেন, কিন্তু নবী (ﷺ)-কে পেলেন না। তিনি আয়েশা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাঁকে ব্যাপারটি অবহিত করলেন।অতঃপর নবী (ﷺ) আগমন করলে তখন আয়েশা (রাঃ) তাঁর নিকট ফাতিমা (রাঃ)-এর তাঁর নিকট আগমনের বিষয়টি অবহিত করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন। এমন সময় আমরা আমাদের শয্যাগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উঠতে লাগলাম। নবী (ﷺ) বললেন, “তোমরা তোমাদের যথাস্থানে থাকো।” অতঃপর তিনি আমাদের দুইজনের মাঝে বসলেন। এমনকি আমি তাঁর পা মুবারকের শীতলতা আমার সীনার মধ্যে অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদের এমন বিষয় শিখিয়ে দিব না, যা তোমরা প্রার্থনা করছিলে তার চেয়ে উত্তম? যে সময় তোমরা তোমাদের শয্যাগ্রহণ করবে তখন ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’, ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ে নিবে। এটি তোমাদের জন্য খাদিমের চেয়ে উত্তম।”
৬৮০৯
দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্
এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মু‘আয-এর হাদীসেمِنَ اللَّيْلِ (রাতে) শব্দটি রয়েছে।
৬৮১০
দিনের শুরুতে ও ঘুমানোর সময়ের তাসবীহ পরিচ্ছেদ নাই
‘আলী (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ইবনু আবূ লাইলা
হাকাম (রহঃ) অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকাম (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে এটুকু বর্ধিত বলেছেন যে, ‘আলি (রাঃ) বলেছেন, “নবী (ﷺ) হতে শ্রবণ করার পর থেকে আমি কখনো তা ছাড়িনি।” তাকে প্রশ্ন করা হলো, “সিফফিনের রাতেও কি?” তিনি বললেন, “সিফফিনের রাতেও নয়।” ইবনু আবু লাইলা-এর সানাদে আতা বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সিফফিনের রাতেও কি ছেড়ে দেননি?”