৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৭৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৭৪১
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জনৈক গ্রাম্য লোক এসে বলল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি নিয়মিত পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বলো- “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শরীক লাহু আল্লাহু আকবার কবীরা ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীনা লা- হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আজীজিল হাকীম”। অর্থাৎ- “আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই, আল্লাহ মহান, সবচেয়ে মহান, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রাব্বিল আলামীনের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভাল কাজ করার এবং খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই।” সে বলল, এসব তো আমার রবের জন্য। আমার জন্যে কি? তিনি বললেন, বলো, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন। মূসা (রহঃ) বলেন, (আমার মনে হয়) তিনি عَافِنِي (‘আ-ফিনী) “আমাকে মাফ করুন” কথাটি বলেছেন। তবে আমি তাতে সংশয় আছি এবং আমি জানি না। আর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) তার হাদীসে মূসার উক্তি বর্ণনা করেননি।
৬৭৪২
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মালিক আল আশজা‘ঈ (রহঃ)
কোন লোক ইসলাম কবূল করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ দোয়া বলতে শিখিয়ে দিতেন, “আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহ্‌দিনী ওয়ারযুকনী”। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।
৬৭৪৩
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মালিক আল আশজা‘ঈ
যখন কোনো ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করত তখন নবী (ﷺ) তাকে প্রথমে সালাত আদায়ের শিক্ষা দিতেন। তারপর তিনি তাকে এই কালিমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেন, "আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহ্‌দিনী ওয়া’আ-ফিনী ওয়ারযুকনী।" “হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমার জীবিকা উপকরণ দান করুন।”
৬৭৪৪
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মালিক (রাঃ)
তিনি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন যে, তাঁর নিকট এক লোক এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি যখন আমার প্রতিপালকের নিকট দোয়া করব তখন কিভাবে তা প্রকাশ করব?’ তিনি বললেন, তুমি বলো, “আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াআ-ফিনী ওয়ারযুকনী।” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।” আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ছাড়া সব আঙ্গুল একত্র করে বললেন, এ শব্দগুলো তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাকে একসাথে করে দিবে।
৬৭৪৫
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাঃ)
আমার পিতা (সা‘দ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (বসা) ছিলাম। তখন তিনি বললেন, “তোমাদের মাঝে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে?” তখন সেখানে বসে থাকাদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করল, “আমাদের কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে?” তিনি বললেন, “সে একশ তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে এবং তার আমলনামা হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।”
৬৭৪৬
কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবত দূর করে দিবে, আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামতের দিন তার থেকে মুসীবত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন।যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে (কুরআন) অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শান্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকটবর্তীদের (ফেরেশতাগণের) মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমলে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ (মর্যাদা) তাকে অগ্রসর করে দিবে না।
৬৭৪৭
কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ..... আবু মু‘আবিয়া (রহঃ)-এর হাদীসের অবিকল। তবে আবু উসামার হাদীসে “দুঃস্থ লোকের অভাব লাঘব করার” বর্ণনা নেই।
৬৭৪৮
কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আগার আবূ মুসলিম (রহঃ)
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) ও আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) তাঁরা উভয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন জাতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার যিকির করতে বসলে একদল ফেরেশতা তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয়। আর তাদের উপর শান্তি নাযিল হয় এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের মধ্যে তাদের আলোচনা করেন।
৬৭৪৯
কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রাঃ)
হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৭৫০
কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্‌রী (রাঃ)
মু‘আবিয়াহ্ (রা.) মসজিদে একটি 'হালকা'র উদ্দেশে বের হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, কিসে তোমাদেরকে এখানে বসিয়েছে (তোমরা এখানে বসেছ কেন)? তারা বলল, আমরা আল্লাহর যিকির করতে বসেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! এছাড়া আর কোন বিষয় তোমাদেরকে বসায়নি? (তোমরা কি শুধু এ জন্যই বসেছ?) তারা বলল, আল্লাহর শপথ! এছাড়া অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার উদ্দেশে শপথ প্রার্থনা করিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দৃষ্টিতে আমার যে সম্মান ছিল সে অনুযায়ী আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারী কেউ নেই। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের একটি 'হালকা'র নিকটে গিয়ে বললেন, কিসে তোমাদের বসিয়েছে? তারা বলল, আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর তিনি ইহসান করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়েই বসিয়েছে? তারা বলল, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে একমাত্র ঐ বিষয় বসিয়েছে। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার জন্যে শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরিল (আঃ) এসে আমাকে অবহিত করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ফেরেশতাগণের নিকট তোমাদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করছেন।