৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৭৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৭৩১
দুনিয়াতে শাস্তি কার্যকরের জন্য দু‘আ করা অপছন্দনীয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৭৩২
আল্লাহর স্মরণ সভার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সনদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আল্লাহ তা‘আলার একদল ভ্রাম্যমাণ বর্ধিত ফেরেশতা রয়েছে। তাঁরা যিকিরের বৈঠকসমূহ সন্ধান করে বেড়ান। তাঁরা যখন কোনো যিকিরের বৈঠক পান তখন সেখানে তাদের (যিকিরকারীদের) সাথে বসে যান। আর পরস্পর একে অপরকে বাহু দ্বারা ঘিরে ফেলেন। এমনকি তাঁরা তাদের মাঝে ও নিকটতম আকাশের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে ফেলেন। আল্লাহর যিকিরকারীগণ যখন পৃথক হয়ে যান তখন তাঁরা আকাশমণ্ডলীতে আরোহণ করেন।তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোত্থেকে আসছো? অথচ তিনি তাঁদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অবহিত। তখন তাঁরা বলতে থাকেন, আমরা ভূমণ্ডলে অবস্থানকারী আপনার বান্দাদের কাছ থেকে আসছি, যারা আপনার তাসবিহ পড়ে, তাকবির পড়ে, তাহলীল বলে (‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’-এর) যিকির করে, আপনার প্রশংসা করে এবং আপনার নিকট তাদের প্রত্যাশিত বিষয় প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দারা আমার নিকট কী প্রার্থনা করে? তাঁরা বলেন, তারা আপনার নিকট আপনার জান্নাত প্রত্যাশা করে। তারা কি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করেছে? তাঁরা বলেন, না; হে আমাদের প্রভু! তিনি বলেন, তারা যদি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করত তাহলে তারা কী করত?তাঁরা বলেন, তাঁরা আপনার নিকট আশ্রয় চায়। কী বিষয় হতে তাঁরা আমার নিকট আশ্রয় চায়? তাঁরা বলেন, হে আমাদের প্রভু! আপনার জাহান্নাম হতে (মুক্তির জন্য)। তারা কি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেছে? তারা বলেন, না; তারা প্রত্যক্ষ করেনি। তারা যদি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করত তাহলে কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাঁদের মার্জনা করে দিলাম এবং তারা যা প্রার্থনা করছিল আমি তা তাঁদের প্রদান করলাম। আর তারা যা হতে আশ্রয় চেয়েছিল আমি তা থেকে তাঁদের মুক্তি দিলাম।অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব! তাদের মাঝে তো অমুক পাপী বান্দা ছিল, যে তাদের সাথে বৈঠকের নিকট দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে বসেছিল। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাকেও মাফ করে দিলাম। তারা তো এমন একটি কওম যাদের সঙ্গীরা দুর্ভাগা হয় না।
৬৭৩৩
হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো আর জাহান্নাম হতে আমাদের মুক্তি দাও- এ দু‘আর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল ‘আযীয ইবনু সুহায়ব (রাঃ)
কাতাদা আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নবী (ﷺ) কোন দোয়া সর্বাধিক পড়তেন? তিনি বললেন, তিনি যে দোয়া দ্বারা সর্বাধিক দোয়া করতেন তাতে বলতেন : “আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্‌দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- ’আযা-বান না-র”। অর্থাৎ- ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতে কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে বাঁচিয়ে রাখো।’ রাবী বলেন, আনাস (রাঃ) যখনই কোন দোয়া করার সংকল্প করতেন তখন তিনি [নবী (ﷺ)-এর ন্যায়] দোয়া করতেন। তারপর যখন তিনি কোন ব্যাপারে দোয়া করার সংকল্প করতেন তখন তাতে এ দোয়া পড়তেন।
৬৭৩৪
হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো আর জাহান্নাম হতে আমাদের মুক্তি দাও- এ দু‘আর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দোয়া পাঠ করতেন: "রব্বনা- আ-তিনা- ফিদ্‌দুনইয়া- হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- ’আযা-বান্‌ না-র", অর্থাৎ, ‘হে আমাদের রব! আমাদের পার্থিব জীবনে কল্যাণ দান করো, আখিরাতে কল্যাণ দান করো আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদের বাঁচাও।’
৬৭৩৫
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন কদীর।" অর্থাৎ- ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই; তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা; তিনিই সব বিষয়ের উপর শক্তিধর’- যে লোক এ দু‘আ প্রতিদিনে একশ’ বার পাঠ করে সে দশজন গোলামমুক্ত করার পুণ্য অর্জন করে, তার (‘আমালনামায়) একশ’ নেকী লেখা হয় এবং তার হতে একশ’ পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। আর তা ঐ দিন বিকাল পর্যন্ত শয়তান (তার কুমন্ত্রণা) হতে তার জন্যে রক্ষাকারী হয়ে যায়। সেদিন সে যা পুণ্য অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশি পুণ্যবান কেউ হবে না। তবে কেউ তার চাইতে বেশি ‘আমাল করলে তার কথা আলাদা। আর যে লোক দিনে একশ’ বার "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী"। অর্থাৎ- ‘আমি আল্লাহর সপ্রশংসা সহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি’ পাঠ করবে, তার সমস্ত পাপ মিটিয়ে দেয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সম পরিমাণ হয়।
৬৭৩৬
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সকালে ও সন্ধ্যায় "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী", অর্থাৎ- ‘আল্লাহ পবিত্র ও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই’ একশ বার পড়ে আখিরাতের দিবসে তার তুলনায় উত্তম আমল নিয়ে কেউ আসবে না। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে লোক তার সমান আমল করে অথবা তার তুলনায় বেশি আমল করে।
৬৭৩৭
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ)
যে ব্যক্তি দশবার "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়্যিন কদীর।" অর্থাৎ ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনিই সব বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ শক্তিধর’ পাঠ করবে সে যেন ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন।
৬৭৩৮
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান (রহঃ) রাবী‘ ইবনু খুসায়ম (রহঃ)
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি রাবীকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার কাছ থেকে তা শুনেছেন? তিনি বললেন, আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে। তখন আমি আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ)-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আপনি কার কাছ থেকে শুনেছেন? তিনি বলেন, (শা‘বী বলেন) অতঃপর আমি ইবনু লাইলার কাছে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, আবূ আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ) হতে, তিনি প্রত্যক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
৬৭৩৯
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দুইটি কালিমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী, রহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ)-এর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী সুবহা-নাল্ল-হিল আযীম”, অর্থাৎ- ‘আমি আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা ও পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি’।
৬৭৪০
তাহলীল (‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলা), তাসবীহ্ (‘সুবহা-নাল্লা-হ’ বলা) ও দু‘আর ফাযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি বলি- “سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ” অর্থাৎ- “আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, আল্লাহ মহান” পড়া আমার নিকট বেশি প্রিয়- সে সব বিষয়ের চেয়ে, যার উপর সূর্য উদিত হয়।