৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৬৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৬৬১
প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান পরিচ্ছেদ নাই
উম্মুল মু’মিন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি আনসার নাবালক বাচ্চার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হলেন। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ নাবালকটি তো সৌভাগ্যবান। সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের থেকে একটি চড়ুই পাখি। সে পাপকর্ম করেনি এবং পাপ তাকে স্পর্শ করেনি। তিনি বললেন, এছাড়া আরও কিছু আছে, হে আয়িশা! নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাতের জন্য উপযুক্ত অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে, যাদেরকে সে উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন, অথচ তখন তারা বাপ-দাদাদের ঔরসে ছিল। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন যাদেরকে জাহান্নামের জন্য, তাদেরও সে উদ্দেশ্যেই পয়দা করেছেন, আর তারা তখন তাদের বাপ-দাদাদের ঔরসে ছিল।
৬৬৬২
প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান পরিচ্ছেদ নাই
তালহাহ্ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) হতে ওয়াকী’ (রহঃ)
তালহা ইবন ইয়াহিয়া (রহঃ) হতে ওয়াকী (রহঃ) তাঁর হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৬৬৬৩
মৃত্যুক্ষণ, জীবিকা ইত্যাদি পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্যলিপি থেকে কম-বেশি হয় না পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর জীবনসঙ্গী উম্মু হাবীবা (রাঃ) বলেন, “হে আল্লাহ! আমার স্বামী নবী (ﷺ), আমার পিতা আবু সুফিয়ান ও আমার ভাই মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সাথে আমাকে সাচ্ছন্দ্য জীবন দান করুন।” আবদুল্লাহ বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ “তুমি তো আল্লাহর নিকট নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল, দিন-কাল সুনির্ধারিত কয়েকদিন এবং বণ্টনকৃত জীবনোপকরণ সম্পর্কে মুনাজাত করলে। এ বিষয়গুলো কখনো যথাসময়ের আগে বাড়বে না বা যথাসময়ের পরে বিলম্ব হবে না। যদি তুমি আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তি লাভের জন্য অথবা কবরের আযাব হতে মুক্তির জন্য দোয়া করতে তাহলে উত্তম কিংবা শ্রেয় হত।” তিনি বলেন, তাঁর নিকটে (বানী ইসরাঈলের) বানরে পরিণত হওয়ার কথা আলোচনা করা হলো। মিস'আর বলেন, “আমি মনে করি, শূকরে পরিণত হওয়ার কথাও আলোচনা করা হয়।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আল্লাহ তা’আলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন তাদের কোনো বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিল।”
৬৬৬৪
মৃত্যুক্ষণ, জীবিকা ইত্যাদি পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্যলিপি থেকে কম-বেশি হয় না পরিচ্ছেদ নাই
মিস’আর (রাঃ)
হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া ইবনু বিশ্‌র ও ওয়াকী’ হতে তাঁর হাদীসেمِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي (জাহান্নামের আগুন এবং কবরের শাস্তি থেকে) উল্লেখ রয়েছে।
৬৬৬৫
মৃত্যুক্ষণ, জীবিকা ইত্যাদি পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্যলিপি থেকে কম-বেশি হয় না পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
উম্মু হাবীবা (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহ! আমার স্বামী রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমার পিতা আবু সুফিয়ান ও আমার ভাই মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সাথে আমাকে সাচ্ছন্দ্য জীবন দান করুন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু হাবীবা (রাঃ)-কে বললেন, “তুমি তো আল্লাহর নিকটে আবেদন করলে নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল, সীমিত সুযোগ এবং বন্টিত জীবনোপকরণ, যার যথাসময় আসার পূর্বে বাড়বে না এবং যথাসময় আসার পরে দেরী হবে না। যদি তুমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে যেন তিনি তোমাকে জাহান্নাম হতে এবং কবরের শাস্তি হতে মুক্তি দান করেন তবে তা তোমার জন্য সবচেয়ে উত্তম হত।” বর্ণনাকারী বলেন, এক লোক জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রাসূল! এ বানর ও শূকরগুলোই তো অভিশপ্ত দল যাদের আকৃতি বিকৃতি করা হয়েছিল তাদের বংশধর?” নবী (ﷺ) বললেন, “আল্লাহ তা’আলা যে সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেন বা যে সম্প্রদায়কে (বিকৃতি ঘটিয়ে) শাস্তি দেন, তাদের বংশধর অবশিষ্ট রাখেন না। আর অভিশপ্ত বিকৃতি আকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিল।”
৬৬৬৬
মৃত্যুক্ষণ, জীবিকা ইত্যাদি পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্যলিপি থেকে কম-বেশি হয় না পরিচ্ছেদ নাই
সুফ্ইয়ান (রহঃ)
আবু দাউদ, সুলাইমান ইবনু মা‘বাদ (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়াও তিনি বলেন آثَارٍ مَوْطُوءَةٍ এর স্থানে آثَارٍ مَبْلُوغَةٍ (সীমিত নিদর্শন) রয়েছে। ইবনু মা‘বাদ (রহঃ) বলেছেন, কেউ قَبْلَ حِلِّهِ এর অর্থ করেছেন نُزُولِهِ অর্থাৎ আগমনের পূর্বে।
৬৬৬৭
শক্তি প্রয়োগ, অক্ষমতা পরিত্যাগ, আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা এবং আল্লাহ কর্তৃক ভাগ্যলিপি ও (আল্লাহর প্রতি) সমর্পণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, শক্তিধর ঈমানদার দুর্বল ঈমানদারের তুলনায় আল্লাহর নিকট উত্তম ও অতীব পছন্দনীয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে, যাতে তোমার উপকার রয়েছে তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তুমি অক্ষম হয়ে যেও না। এমন বলো না যে, যদি আমি এমন এমন করতাম তবে এমন হত না। বরং এ কথা বল যে, আল্লাহ তা‘আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা لَوْ (যদি) শব্দটি শয়তানের কর্মের দুয়ার খুলে দেয়।
৬৬৬৮
কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতের অনুকরণ নিষিদ্ধ হওয়া ও এর অনুসারীদের হতে সতর্কতা অবলম্বন এবং কুরআনে বর্ণিত বিষয়ে মতভেদ নিষিদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিলাওয়াত করলেনঃ “তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাবকে অবতীর্ণ করেছেন, যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট মজবুত সাংবিধানিক; এগুলো কিতাবের মূলনীতি আর অন্যগুলো অস্পষ্ট। যাদের হৃদয়ে বক্রতা রয়েছে, শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার জন্য যা অস্পষ্ট তার অনুকরণ করে। মূলতঃ আল্লাহ ভিন্ন অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না; আর যারা ইলমে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি, সবই আমাদের রবের নিকট থেকে সত্য এবং বুদ্ধিমান ছাড়া আর কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না” – (সূরা আলে ইমরান ৩ : ৭)। তিনি (আয়িশা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সেসব লোকদের দেখতে পাবে যারা অস্পষ্ট আয়াতের অর্থের অনুসরণ করে, এরাই সেসব ব্যক্তি, যাদের কথা আল্লাহ আলোচনা করেছেন, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাক।
৬৬৬৯
কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতের অনুকরণ নিষিদ্ধ হওয়া ও এর অনুসারীদের হতে সতর্কতা অবলম্বন এবং কুরআনে বর্ণিত বিষয়ে মতভেদ নিষিদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘ আম্‌র (রাঃ)
কোন একদিন ভোরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। একদা তিনি কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাপারে দুইজন লোকের মতপার্থক্যের আওয়াজ শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আসলেন, এ অবস্থায় তাঁর চেহারায় রাগের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছিল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীরা একমাত্র আল্লাহর কিতাবে দ্বিমত করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।
৬৬৭০
কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতের অনুকরণ নিষিদ্ধ হওয়া ও এর অনুসারীদের হতে সতর্কতা অবলম্বন এবং কুরআনে বর্ণিত বিষয়ে মতভেদ নিষিদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের হৃদয়ে তার প্রতি আকর্ষণ থাকে। আর যখন তোমরা তাতে মতভেদ করবে তখন উঠে যাবে।