৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৬৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৬৩১
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
শাইবান ইবনু ফার্রূখ
শাইবান ইবনু ফাররুখ, আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ, যুহাইর ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইব্রাহিম, ইবনু নুমাইর, ইয়াহিয়া ইবনুল ইয়াহিয়া ও ইবনু মুসান্না (রহঃ) সকলে সনদে ইয়াজিদ আর রিশক (রহঃ) হতে এ সূত্রে হাম্মাদ-এর হাদীস-এর অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এছাড়া আবদুল ওয়ারিস বর্ণিত হাদীস-এ রয়েছে, সে বলেছে, “আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)!”
৬৬৩২
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবুল আসওয়াদ আদ্ দিয়ালী (রহঃ)
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) আমাকে বললেন, আজকাল মানুষ যা আমল করে এবং তাতে যা কষ্ট করে, সে ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তা কি এমন বিষয় যা তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীতে সাব্যস্ত হয়ে গেছে যা তাদের উপর পূর্ব নির্ধারিত? নাকি ভবিষ্যতে করা হবে যা তাদের নিকট তাদের নবী (ﷺ) নিয়ে আসছেন এবং যাদের উপর দলিল-প্রমাণ সাব্যস্ত হয়েছে? আমি বললাম বরং বিষয়টি তো তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীত সাব্যস্ত হয়ে গেছে।তিনি (রাবী) বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, তা কি জুলুম হবে না? তিনি বললেন, এতে আমি অত্যন্ত ঘাবড়ে গেলাম এবং বললাম, প্রতিটি বিষয় আল্লাহর মাখলুক এবং তাঁর আওতাধীন। সুতরাং তিনি যা করেন, সে বিষয়ে জবাবদিহিতা নেই অথবা তাদেরকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। কিন্তু তারা যা করে সে বিষয়ে তাদের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করে আপনার অনুভূতি অনুমান করতে চেয়েছিলাম।মুযাইনা গোত্রের দুইজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকেরা আজকাল যেসব আমল করে এবং পরিশ্রম করে, সেগুলো কি তাদের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত ও অতীতে সাব্যস্ত হয়ে গেছে, আগে নির্দিষ্টতা থেকে? নাকি ভবিষ্যতে যে আমল করা হবে, যা নবী (ﷺ) তাদের নিকট নিয়ে আসছেন এবং তাদের উপর দলিল প্রমাণ সাব্যস্ত আছে? জবাবে তিনি বললেন, না; বরং বিষয়টি তাদের উপর সিদ্ধান্ত করা হয়েছে এবং অতীতে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহর কিতাবে তার সত্যায়ন: “আর শপথ মানুষের এবং তাঁর যিনি তাকে সম্পূর্ণ করেছেন, এরপর তার উপর তিনি পাপ-পুণ্যের জ্ঞান ঢেলে দিয়েছেন”— (সূরা আশ-শামস ৯১ : ৭-৮)।
৬৬৩৩
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন লোক দীর্ঘকাল জান্নাতীদের ন্যায় আমল করবে। এরপর জাহান্নামীদের আমলের সাথে তার আমল পরিসমাপ্ত হয়। আর এক লোক দীর্ঘকাল ধরে জাহান্নামীদের আমলের ন্যায় আমল করবে। তারপর জান্নাতীদের আমলের সাথে তার আমল পরিসমাপ্ত হবে।
৬৬৩৪
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ আস্ সা‘ইদী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত আমলের বিবেচনায় জান্নাতীদের আমলের ন্যায় আমল করবে; অথচ সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আর কোন ব্যক্তি জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত আমলের বিবেচনায় জাহান্নামীদের আমলের ন্যায় আমল করবে, অথচ সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।
৬৬৩৫
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
তাউস (রহঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে মাহরুম করেছেন এবং জান্নাত হতে আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন।এরপর আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি তো মূসা (আঃ)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আপনাকে চয়ন করেছেন এবং আপনাকে লিখিত কিতাব (তাওরাত) দিয়েছেন। আপনি কি এমন বিষয়ে আমাকে ভর্ৎসনা করছেন যা আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর আগে আল্লাহ তা‘আলা নির্ধারণ করে রেখেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বাক-বিতণ্ডায় জয়ী হলেন। আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বাক-বিতণ্ডায় জয়ী হলেন। আর ইবনু আবু উমর ও ইবনু আবদাহ বর্ণিত হাদীসে তাদের একজন বলেছেন, লিখে দিয়েছেন; অপরজন বলেছেন, তিনি তাঁর হস্তে আপনার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন।
৬৬৩৬
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পরের বাদানুবাদ করেন। এতে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হন। মূসা (আঃ) আদম-কে বললেন, “আপনি তো সে আদম (আঃ) যিনি মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং জান্নাত থেকে তাদেরকে বের করে দিয়েছেন।” তারপর আদম (আঃ) বললেন, “আপনি তো সে ব্যক্তি (নবী) যাকে আল্লাহ তা‘আলা সকল বস্তুর জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁকে মনোনীত করে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন?” মূসা (আঃ) বললেন, “হ্যাঁ।” আদম (আঃ) বললেন, “আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে ভর্ৎসনা করছেন, যা আমার জন্মের আগেই আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।”
৬৬৩৭
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তাঁদের রবের নিকট ঝগড়া করলেন। অতঃপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, “আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে আল্লাহ তা'আলা নিজ হস্তে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তিনি তাঁর রূহকে ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে আবাসন করে দিয়েছেন। তারপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানবজাতিকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন?”এরপর আদম (আঃ) বললেন, “আপনি তো সে মূসা (আঃ) যাকে আল্লাহ তা'আলা রিসালাত দিয়েছেন, তাঁর সাথে কথা বলার জন্য বাছাই করেছেন এবং আপনাকে দান করেছেন তক্তিসমূহ, তাতে সব বিষয়ের বর্ণনা লিখিত রয়েছে এবং নির্জনে আলাপচারিতার জন্যে নৈকট্য দান করেছেন। সুতরাং আমার জন্মের কত বছর পূর্বে আল্লাহ তা'আলা তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছেন তা কি আপনি দেখেছেন?” মূসা (আঃ) বললেন, “চল্লিশ বছর পূর্বে।” আদম (আঃ) বললেন, “আপনি কি তাতে পাননি- ‘আদম তাঁর রবের আদেশ অমান্য করেছেন এবং পথভ্রষ্ট হয়েছেন’?” আদম (আঃ) বললেন, “এরপর আপনি আমাকে আমার এমন কর্মের জন্য কেন ভর্ৎসনা করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বে আল্লাহ তা'আলা আমার উপর লিখে রেখেছেন?” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “এরপর আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।”
৬৬৩৮
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) বাদানুবাদ করেন। তখন মূসা (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে আদম (আঃ) যাকে তার ভুলে জান্নাত হতে বের করে দিয়েছে। এরপর আদম (আঃ) তাকে বললেন, আপনি তো সে মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলা যাকে তার রিসালাত ও কথা বলার জন্য বাছাই করেছেন। তারপরও তুমি আমাকে তিরস্কার করছ, এমন একটি ব্যাপারে, যা আমার জন্মের আগে আমার উপর ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত হয়েছিল। পরিশেষে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।
৬৬৩৯
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সনদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে তাঁদের হাদীসের মর্মের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৬৬৪০
আদাম (‘আঃ) ও মূসা (‘আঃ)-এর বাক-বিতণ্ডা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।