৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৬৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৬২১
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তুফায়ল
আমি আবু সারীহা হুযাইফা ইবন আসীদ আল গিফারি (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বলেন, আমি আমার এ কান দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, বীর্য জরায়ুতে চল্লিশ রাত স্থির থাকে। তারপর একজন ফেরেশতা তাকে আকৃতি প্রদান করেন। রাবী যুহাইর (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন, “যাকে তিনি তৈরি করেন” তখন তিনি বলতে থাকেন, হে আমার প্রভু! সে কি পুরুষ না মহিলা? তারপর আল্লাহ তাকে পুরুষ কিংবা মহিলা সৃষ্টি করেন।অতঃপর তিনি (ফেরেশতা) বলতে থাকেন, হে আমার রব! আপনি তাকে পূর্ণ সৃষ্টি করবেন না অপূর্ণ? তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ অথবা অপূর্ণ সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি বলেন, হে আমার প্রভু! তার জীবনোপকরণ, মৃত্যুক্ষণ, চরিত্র কি হবে? তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে হতভাগ্যবান কিংবা সৌভাগ্যবান বানিয়ে দেন।
৬৬২২
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবা হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত মারফূ‘
যখন আল্লাহ তাঁর আদেশে কোন কিছু সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা করেন তখন জরায়ুতে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করে দেন চল্লিশের কিছু বেশি দিন পরে। তারপর তিনি তাদের হাদীসের হুবহু হাদীস উল্লেখ করেন।
৬৬২৩
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে মারফূ
আল্লাহ তা’আলা জরায়ুতে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করে দেন। তখন ফেরেশতা বলতে থাকেন, ‘হে আমার প্রভু! এখন তা শুক্র। হে আমার রব! এখন তা জমাট রক্ত। হে আমার প্রতিপালক! এখন গোশতের খণ্ড।’ তারপর যখন আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত করেন তখন ফেরেশতা বলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! সে কি পুরুষ না মহিলা, দুর্ভাগ্যবান, না সৌভাগ্যবান হবে? তার রিজিক কি হবে? তার আয়ুষ্কাল কি হবে?’ তারপর এমনিভাবে মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় সবকিছু লিখে দেয়া হয়।
৬৬২৪
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
‘আলী (রাঃ)
আমরা বাকি গারকাদে একটি জানাজা সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর পাশাপাশি বসলাম। তাঁর সাথে ছিল একটি ছড়ি। তিনি মাথা নিচু করেছিলেন। সে সময় তিনি তাঁর ছড়ি দ্বারা জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই, যার পরিণাম আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্ধারণ করেননি এবং সে দুর্ভাগ্যবান হবে বা সৌভাগ্যবান হবে, তা লিপিবদ্ধ করেননি।”বর্ণনাকারী বলেন, তখন জনৈক লোক আবেদন করল, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কি আমাদের ভাগ্যলিপির উপর অটুট থেকে আমল ত্যাগ করব না?” তখন তিনি বললেন, “যে লোক সৌভাগ্যবান সে সৌভাগ্যবানদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। যে হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত সে হতভাগার আমলের প্রতি ধাবিত হবে।” তারপর তিনি বললেন, “তোমরা আমল করো। প্রত্যেকের পথ সহজ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সৌভাগ্যবান লোকদেরকে সৌভাগ্যের আমল করা সহজ করে দেওয়া হচ্ছে। হতভাগ্যদেরকে হতভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হচ্ছে।”তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সুতরাং যে দান করল, তাকওয়া অর্জন করল এবং যা উত্তম তা সত্যায়ন করল, আমি তাদের জন্য সফলতার পথ সুগম করে দিব এবং যারা বখিলী করল এবং নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী মনে করল আর যা উত্তম তা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, আমি তার জন্য কঠোর বিফল পথ সহজ করে দিব”- (সূরা আল-লায়ল ৯২ : ৫-১০)।
৬৬২৫
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
মানসূর (রাঃ)
তিনি (মানসূর) বলেন, তাছাড়া তিনি বলেছেন, “একটি লাকড়ি ধারণ করলেন এবং ছড়ি” শব্দটি তিনি বলেননি। ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) আবু আহওয়াস (রহঃ)-এর সানাদে তাঁর হাদীসে বলেছেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পড়লেন।
৬৬২৬
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক টুকরা লাকড়ি হাতে নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি তা দ্বারা জমিনে টোকা দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি নিজের মাথা উঠালেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তার ঠিকানা জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্ধারিত নেই।তারা সকলে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাহলে আমরা কেন কাজ-কর্ম করব? আমরা কি ভরসা করব না? তিনি (ﷺ) বললেন, না, বরং তোমরা ‘আমাল করতে থাকো। যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ করা হয়েছে।তারপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং যারা দান-সদকা করল, তাকওয়া অর্জন করল এবং যা ভাল তা সত্যায়ন করল, ….. ….. আমি কঠোর পরিণামের পথ সহজ করে দিব, এ পর্যন্ত”- (সূরা আল লায়ল ৯২ : ৫-১০)।
৬৬২৭
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
‘আলী (রাঃ)-এর সনদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আলী (রাঃ)-এর সনদে নবী (ﷺ) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৬২৮
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জু‘শুম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলেন, অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের সামনে আমাদের দ্বীন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন, যেন আমরা এই মাত্র সৃষ্ট হয়েছি। আজকের আমল কি ঐ বিষয়ের উপর যার সম্পর্কে কলম লিখে শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর তার উপর চলছে? নাকি আমরা ভবিষ্যতে তার সামনাসামনি হব? তিনি বললেন, না; বরং কলম যা কিছু লিখার লিখে শুকিয়ে গেছে ও সে অনুযায়ী তাকদীর জারি হয়ে গেছে। সুরাকাহ বললেন, তাহলে কিসের জন্য আমল করার প্রয়োজন? যুহাইর বলেন, অতঃপর আবু যুবাইর কিছু কথা বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। অতঃপর আমি (লোকদের) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি বললেন। জবাবে বললেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন, তোমরা আমল করতে থাকো; প্রত্যেকের জন্য সে পথ সহজ করা হয়েছে।
৬৬২৯
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সনদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সনদে নবী (ﷺ) হতে এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমলের পথ সহজ করে দেয়া হয়েছে।
৬৬৩০
মায়ের উদরে মানুষের সৃষ্টি রহস্য, তার ভাগ্যের রিয্‌ক, মুত্যুস্থান, ‘আমাল, হতভাগ্য ও সৌভাগ্য লিপিবদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! জাহান্নামীদের হতে জান্নাতীরা সুনির্দিষ্ট হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি (রাবী) বলেন, বলা হলো, তাহলে আমলকারী কিসের জন্য আমল করবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক লোকের জন্য সে কর্মটি সহজ করে দেওয়া হবে, যার জন্য তাকে বানানো হয়েছে।