৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৬০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৫৯১
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী মালিক
যুহরী মালিক-এর সূত্রে তাঁর হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া সুফইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো আছে- “সে জাহান্নামে গমন করবে না, শপথ কার্যকরী ব্যতীত।”
৬৫৯২
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু আনসারী নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোমাদের মধ্যে কারো তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করার পরও সে আল্লাহর প্রতিদানের আশা করে ধৈর্য ধারণ করলে সে জান্নাতে গমন করবে।” অতঃপর এক স্ত্রী বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দুইজন সন্তান মৃত্যুবরণ করলে?” তিনি বললেন, “দুইজনেও তাই।”
৬৫৯৩
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), পুরুষ লোকজন আপনার হাদীস শুনতে পায়। কাজেই আপনি আপনার নিকট হতে আমাদের (নারী সমাজের) জন্যে একটি দিন ঠিক করে দিন (যেদিন আমরা আপনার নিকট একত্র হই)। আর আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দান করেন তা হতে আমাদেরকে শিক্ষা দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, বেশ ভালো তো, অমুক অমুক দিন তোমরা সমবেত হবে।তারা (নির্দিষ্ট দিনে) একত্র হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সমীপে আসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা হতে তাদেরকে শেখালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে যে কোন মহিলা তার জীবিত থাকতে সন্তান থেকে তিনটি সন্তান পাঠালো (অর্থাৎ তিনটি সন্তান মারা গেল), সে সন্তানরা কেয়ামতের দিন তার জন্যে আড়াল হবে। তখন এক স্ত্রী বলল, দুইজন, দুইজন, দুইজন হলে (কি বিধান)? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, দুইজন, দুইজন, দুইজনেও এ বিধান।
৬৫৯৪
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনুল আসবাহানী (রাঃ)
আবদুর রহমান ইবন আসবাহানী (রাঃ) এ সূত্রে তার সমার্থ হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তারা সকলে আবদুর রহমান ইবন আসবাহানী (রাঃ) হতে এটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন যে, “তিনি বলেন, আমি আবু হাজিমকে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বলতে শুনেছি"। এমন তিনটি সন্তান যারা সাবালক হয়নি।
৬৫৯৫
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হাসসান (রাঃ)
আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বললাম, আমার দুইটি ছেলে সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে একটি হাদীস উল্লেখ করবেন, যাতে আমাদের মৃতদের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের মনে শান্তি দিতে পারেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, হ্যাঁ, তাদের জন্যে তাদের ছোটশিশুরা জান্নাতের ছোট মাছের ন্যায়। তাদের মাঝে কেউ তার পিতার সাথে মিলিত হবে, অথবা তিনি বলেছেন বাবা-মা দুইজনের সাথে মিলিত হবে।অতঃপর তিনি তার পরিধানের কাপড় কিংবা বলেছেন, হাত ধরবে, যেমনটি আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরছি। এরপর আর তারা তাদের ছাড়বে না, কিংবা রাবী বলেছেন, ধরে থাকা শেষ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁর বাবা-মাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সুওয়াইদ (রাঃ)-এর বর্ণনায় আরো রয়েছে, আবু সালীল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রাঃ) ... আত্ তাইমি (রাঃ) হতে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন কিছু শুনেছেন, যা আমাদের মৃতদের সম্পর্কে আমাদের হৃদয়কে খুশি করে দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
৬৫৯৬
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
জনৈক মহিলা একটি ছেলে সন্তান নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আপনি তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। আমি তিনটি সন্তান কবরস্থ করেছি। তিনি বললেন, “তুমি তিনটি সন্তান দাফন করেছ?” মহিলা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “তুমি তো অবশ্যই জাহান্নাম হতে একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করেছ।” তাদের মাঝ থেকে উমর তাঁর দাদার সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশিষ্টরা তাল্ক (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। তারা দাদার শব্দটি উল্লেখ করেননি।
৬৫৯৭
সন্তানের মৃত্যুতে যে লোক সাওয়াবের আশা করে তার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
এক মহিলা তার একটি ছেলে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর সমীপে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! নিশ্চয়ই সে অসুস্থ এবং তার ব্যাপারে আমি ভয় করছি। আর আমি তিনটি সন্তান কবরস্থ করেছি।” তিনি বললেন, “তুমি জাহান্নাম হতে বাঁচার জন্যে একটি শক্ত দেয়াল তৈরি করেছ।” যুহায়র (রহঃ) তালক হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি কুনইয়াত (উপনাম) উল্লেখ করেননি।
৬৫৯৮
আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দাকে মুহাব্বাত করেন তখন তাকে তার সকল বান্দাদের কাছেও প্রিয় করিয়ে দেন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যদি কোন বান্দাকে পছন্দ করেন তখন জিবরীল (আঃ) কে ডাক দেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুক লোককে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর। তখন জিবরীল (আঃ) তাকে পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীতে ঘোষণা দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক লোককে পছন্দ করেন, সুতরাং আপনারাও তাকে পছন্দ করুন। তখন আকাশবাসীরা তাকে পছন্দ করে।এরপর দুনিয়াতে তাকে নন্দিত, সমাদৃত করা হয়। আর আল্লাহ যদি কোন লোকের উপর রাগ করেন তখন জিবরীল (আঃ) কে ডাক দেন এবং বলেন, আমি অমুক বান্দার উপর রাগ করেছি, তুমিও তার প্রতি নারাজ হও। তিনি (ﷺ) বলেন, তখন জিবরীল (আঃ) তার উপর রাগাম্বিত হন। তারপর তিনি আকাশবাসীদেরকে ডাক দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা অমুকের উপর রাগান্বিত। কাজেই আপনারাও তার উপর ক্রোধাম্বিত হোন। তখন লোকেরা তার উপর দুশমনি পোষণ করে। তারপর তার জন্য পৃথিবীতে শত্রু বানিয়ে দেয়া হয়।
৬৫৯৯
আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দাকে মুহাব্বাত করেন তখন তাকে তার সকল বান্দাদের কাছেও প্রিয় করিয়ে দেন পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ল (রাঃ)
সুহায়ল (রাঃ) এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণিত। তাছাড়া আলা ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-এর হাদীসে الْبُغْضِ (শত্রুতা) শব্দটির উল্লেখ নেই।
৬৬০০
আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দাকে মুহাব্বাত করেন তখন তাকে তার সকল বান্দাদের কাছেও প্রিয় করিয়ে দেন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সালিহ্ (রহঃ)
আমরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলাম। তখন উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ) গমন করলেন। তিনি হজ্জের আমির ছিলেন, লোকেরা তাঁকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম, “হে আব্বাজান! আমার মনে হয়, আল্লাহ তা‘আলা উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ)-কে পছন্দ করেন।” তিনি বলেন, “সে কি? অর্থাৎ তুমি কিভাবে বুঝলে?” আমি বললাম, “এ কারণে যে, মানুষের হৃদয়ে তার ভালবাসা বদ্ধমূল হয়ে আছে।” তিনি বললেন, “তোমার পিতার শপথ! তুমি শুনেছ আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে।” তারপর তিনি সুহাইল (রাঃ) হতে জারীর বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন।