৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৩১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৩০১
আশ‘আরী গোত্রের লোকজনের ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি অবশ্যই আশআরী বন্ধুদের কুরআন তিলাওয়াতের কণ্ঠস্বর দিয়ে বুঝতে পারি যখন রাতে তারা প্রবেশ করেন। আর রাতের বেলা তাদের কণ্ঠস্বরের দ্বারা তাদের আবাসস্থল চিহ্নিত করতে পারি যদিও দিনের বেলা আমি তাদের মনজিলসমূহ দেখিনি। তাদের মাঝে আছে একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী লোক। যখন সে শত্রুপক্ষের বাহন অথবা খোদ শত্রুর মুখোমুখি হয়, তখন তাদের উদ্দেশে বলে, আমাদের লোকজন তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, একটু অবকাশ দাও অথবা একটু অপেক্ষা করো। অর্থাৎ আমরাও তৈরি।
৬৩০২
আশ‘আরী গোত্রের লোকজনের ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আশ‘আরী সম্প্রদায়ের লোকজন যখন যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয় কিংবা বলা হয়েছে মদিনায় তাঁদের পরিবার-পরিজনের যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন তাঁদের নিকট যা কিছু থাকে তা এক বস্ত্রে একত্রিত করে নেয়। তারপর তা নিজেদের একটি পেয়ালা দিয়ে সমভাবে ভাগ করে নেয়। তখন তিনি বললেন তাঁরা আমার হতে এবং আমি তাঁদের হতে। অর্থাৎ আমি তাঁদের প্রতি খুশী।
৬৩০৩
আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
মুসলিমরা আবু সুফিয়ানের প্রতি দৃষ্টি দিতেন না এবং তাঁর সাথে উঠাবসা করতেন না। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর নবি! তিনটি জিনিস আমাকে দিন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (আবু সুফিয়ান) বললেন, আমার নিকট আরবের সবচেয়ে উত্তম ও সুন্দরী উম্মু হাবীবা বিনতু আবু সুফিয়ান (রাঃ) আছেন, তাঁকে আমি আপনার সাথে বিবাহ দিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।আবু সুফিয়ান (রাঃ) পুনরায় বললেন, আমার পুত্র মুয়াবিয়াকে আপনি ওহী লেখক নিযুক্ত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। আবু সুফিয়ান (রাঃ) বললেন, আমাকে কাফিরদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিন, যেমন আমি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) মুসলিমদের বিপক্ষে অস্ত্র ধারণ করেছিলাম। তিনি বললেন, আচ্ছা।আবু যুমায়ল (রাঃ) বলেন, যদি তিনি এসব ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আবেদন না করতেন তাহলে তিনি তা দিতেন না। কারণ, তাঁর (আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর) নিকট চাওয়া হলে তিনি হ্যাঁ বলতেন।
৬৩০৪
জা’ফার ইবনু আবু তালিব, আসমা বিনতু ‘উমায়স ও তাদের নৌ সফর-সঙ্গীদের ফাজীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
যখন আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হিজরতের সংবাদ পৌঁছল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। তারপর আমি ও আমার দুই ভাই তাঁর নিকট মিলিত হওয়ার জন্য হিজরত করলাম। আমি ছিলাম তাদের ছোট। তাদের মধ্যে একজনের নাম ছিল আবু বুরদা (রাঃ), অন্যজন ছিলেন আবু রুহম (রাঃ)। তিনি হয়তো বলেছেন, তখন পঞ্চাশ জনের কিছু বেশি, নয়তো বলেছেন তিপ্পান্ন জন অথবা বাহান্ন জন ব্যক্তি ছিল আমাদের সম্প্রদায়ে। আমরা একটি নৌকায় আরোহিত হলাম। নৌকাটি আমাদের নিয়ে আবিসিনিয়ার সন্নিকটে উপস্থিত হল, যেখানে বাদশাহ ছিলেন নাজাশী। তখন আমরা তার কাছে জাফর ইবনু আবু তালিব (রাঃ) ও তার সাথীদের দেখা পেলাম। এরপর জাফর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন এবং অবস্থান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব আপনারা আমাদের সাথে অবস্থান করুন।আমরা তার সাথে থাকতে লাগলাম, পরিশেষে আমরা সকলে একসাথে মদীনা প্রত্যাবর্তন করলাম। তারপর খাইবার বিজয়ের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে একত্রিত হলাম। তিনি আমাদেরও গনীমতের সম্পদের অংশ দিলেন কিংবা তিনি বলেছেন, তিনি তা হতে আমাদেরও প্রদান করেছেন। তিনি তার সাথে যারা যুদ্ধের মাঠে সমবেত হয়েছিল তাদের ছাড়া কাউকে গনীমতের অংশ দান করেননি। তবে জাফর ও তার সাথীদের সাথে আমাদের নৌকায় আরোহী সাথীদেরও তাদের সাথে অংশ প্রদান করেছিলেন। রাবী বলেন, লোকদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের, অর্থাৎ—নৌকা আরোহীদের বলে বেড়াত যে, আমরা তোমাদের অগ্রে হিজরতকারী।
৬৩০৫
জা’ফার ইবনু আবু তালিব, আসমা বিনতু ‘উমায়স ও তাদের নৌ সফর-সঙ্গীদের ফাজীলাত পরিচ্ছেদ নাই
রাবী (আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ’আরী) (রহঃ)
অতঃপর আমাদের নৌকায় সফর সঙ্গিনী আসমা বিনত উমায়স (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হন। যাঁরা নাজাশীর নিকট হিজরত করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের একজন। ইত্যবসরে উমর (রাঃ) হাফসার নিকট আসলেন। তখন আসমা বিনত উমায়স (রাঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন উমর (রাঃ) আসমাকে দেখে বললেন, ইনি কে? হাফসা (রাঃ) বললেন তিনি আসমা বিনত উমায়স। উমর (রাঃ) বললেন ইনিই কি হাবশায় হিজরতকারিণী, নৌকায় আরোহণকারিণী? তখন আসমা (রাঃ) বললেন জি হ্যাঁ।উমর (রাঃ) বললেন, হিজরতের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী। অতএব তোমাদের চেয়ে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্বন্ধে বেশি হকদার। তখন আসমা (রাঃ) রাগান্বিত স্বরে বললেন, হে উমর! কথাটি সঠিক নয়। কক্ষনো সঠিক হতে পারে না, আল্লাহর শপথ! তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলে। তিনি তোমাদের ক্ষুধার্তদের খাবার দান করতেন, অজ্ঞদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করতেন। আর আমরা আবিসিনিয়ায় প্রবাসে বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এটা ছিল শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সান্নিধ্য লাভের জন্যই।আল্লাহর শপথ! তুমি যা বলেছ তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আলোচনা না করা পর্যন্ত আমি কোনো খাবার খাব না এবং পানীয় দ্রব্যও ছুঁবো না। আমার (বিদেশ বিভুঁইয়ে) সার্বক্ষণিক বিপদ ও ভয়ভীতির মাঝে দিনাতিপাত করতাম। আমি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উত্থাপন করব এবং প্রশ্ন করব। আল্লাহর শপথ! আমি মিথ্যাচার করব না, বিপথগামীও হব না এবং প্রকৃত ঘটনার চেয়ে বাড়িয়েও কিছু বলব না।রাবী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন তখন আসমা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! উমর (রাঃ) এই এই বলেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন “আমার প্রতি তোমাদের তুলনায় তার হক অধিক নেই। কারণ, তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য আছে কেবল একটি হিজরত। আর তোমাদের নৌকারোহীদের জন্য আছে দুইটি হিজরত।”তিনি (আসমা (রাঃ)) বলেন, আমি আবু মূসা (রাঃ) ও নৌকারোহীদের দলবেঁধে এসে আমার নিকট এ হাদিসটি প্রশ্ন করতে দেখেছি। তাঁদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তাঁদের নিকট এর চেয়ে বেশি আনন্দদায়ক এবং বড় ও মহৎ কোনো ব্যাপার ছিল না। আবু বুরদা (রাঃ) বলেন যে, আসমা (রাঃ) বলেছেন, আমি আবু মূসা (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি আমার নিকট হতে এ হাদিস আনন্দের আতিশয্যে বারবার শুনতে চাইতেন।
৬৩০৬
সালমান (রাঃ), সুহায়ব (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ)এর ফযিলত। পরিচ্ছেদ নাই
আয়িয ইবনু আমর (রাঃ)
আবু সুফিয়ান (রাঃ) একদল লোকের সঙ্গে সালমান ফারসি (রাঃ), সুহায়ব (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তখন তাঁরা বললেন, “আল্লাহর তলোয়ারসমূহ আল্লাহর শত্রুদের ঘাড়ে ঠিক সময়ে তার লক্ষ্যস্থলে এসে পড়েনি।” রাবী বলেন, আবু বকর (রাঃ) বললেন, “তোমরা কি একজন বয়োবৃদ্ধ কুরাইশ নেতাকে এরূপ কথা বলছ?” তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে ব্যাপারটি জানালেন।তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ “হে আবু বকর! তুমি মনে হয় তাঁদের অসন্তুষ্ট করেছ। তুমি যদি তাঁদের অসন্তুষ্ট করে থাক তবে তুমি তোমার প্রতি পালনকর্তাকেই অসন্তুষ্ট করলে।” তারপর আবু বকর (রাঃ) তাঁদের নিকট এসে বললেন, “হে আমার ভাইয়েরা! আমি তোমাদের অসন্তুষ্ট করেছি, তাই না?” তাঁরা বললেন, “না, হে আমার ভাই! আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন।”
৬৩০৭
আনসারদের (রাঃ) ফযিলত। পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
“তোমাদের দুইটি দল যখন কাপুরুষতা ও সাহসহীনতা দেখাবার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল, অথচ আল্লাহই সাহায্যকারী হিসেবে বর্তমান ছিলেন”— (সূরা আলে ইমরান ১২২) এ আয়াতটি আমাদের অর্থাৎ বানু সালিমা ও বানু হারিসা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। আর আমরা পছন্দ করতাম না যে, এ আয়াতটি অবতীর্ণ না হোক। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আল্লাহ এদের দুইজনের সাহায্যকারী ও অভিভাবক।
৬৩০৮
আনসারদের (রাঃ) ফযিলত। পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “হে আল্লাহ! আনসারদের মাফ করুন, মাফ করে দিন তাদের সন্তানদের ও নাতি-নাতনিদেরকে।”
৬৩০৯
আনসারদের (রাঃ) ফযিলত। পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ (রাঃ)
এ সূত্রে উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৬৩১০
আনসারদের (রাঃ) ফযিলত। পরিচ্ছেদ নাই
ইসহাক (রহঃ)
আনাস (রাঃ) তাঁকে শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। রাবী বলেন, আমি মনে করি যে, তিনি বলেছেন: আনসারদের সন্তান-সন্ততি ও তাদের গোলামদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। “এতে আমার কোন সংশয় নেই।