৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৩০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬২৯১
আবূ হুরাইরাহ্ আদ্-দুসী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আ‘রাজ (রহঃ)
আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা বলছ যে, আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অধিক হাদিস রিওয়ায়াত করছে। আর আল্লাহই হিসাব গ্রহণকারী। আমি ছিলাম একজন নিরীহ লোক। আমি সর্বদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সেবায় থাকতাম (খেয়ে না খেয়ে তাঁর সাহচর্যে থাকতাম) যখন মুহাজিরগণ বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করতেন এবং আনসারগণ তাদের ধন-সম্পদের সংরক্ষণ ও হিফাজতে ব্যস্ত থাকতেন।একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে লোক তার বস্ত্রের আঁচল বিছিয়ে দিবে সে আমার নিকট হতে যা কিছু শুনবে তা ভুলবে না। আমি আমার কাপড়ের আঁচল বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি হাদিস রিওয়ায়াত করলেন। তারপর আমি সে বস্ত্রটা আমার বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম। তখন হতে আমি তাঁর কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি তার কিছুই ভুলে যাইনি।
৬২৯২
আবূ হুরাইরাহ্ আদ্-দুসী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আ‘রজ (রহঃ)-এর সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
কিন্তু মালিক ইবন আনাস আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর উক্তি পর্যন্ত তাঁর হাদিসের রিওয়ায়াত শেষ করেছেন এবং তিনি তাঁর হাদিসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে “যে তার বস্ত্র বিছাবে” হতে বর্ণনার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি।
৬২৯৩
আবূ হুরাইরাহ্ আদ্-দুসী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
(হে উরওয়াহ!) তোমার নিকট কি বিস্ময়কর বলে মনে হয় না যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমার কক্ষে একদিকে বসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস রিওয়ায়াত করছেন এবং তিনি তা আমাকে শুনাচ্ছেন? কিন্তু আমি সে সময় তাসবিহ পাঠে (নফল সালাতে) মগ্ন ছিলাম। আর তিনি আমার তাসবিহ পাঠের ফারেগ হওয়ার আগেই উঠে চলে গেলেন। যদি আমি তখন তাকে পেতাম তাহলে তাকে প্রতিবাদ করতাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ রকম তাড়াতাড়ি করে কথাবার্তা বলতেন না যেমন তোমরা বলছ।ইবনু শিহাব ও ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, লোকেরা বলাবলি করত যে, আবু হুরায়রা বেশি সংখ্যক হাদীস রিওয়ায়াত করেন এবং আল্লাহই (এর প্রামাণ্যতা সম্পর্কে) অধিক অবহিত। ব্যক্তিরা এ মর্মে আরও নালিশ করত যে, মুহাজির ও আনসারগণ আবু হুরাইরার ন্যায় বেশি বেশি হাদীস রিওয়ায়াত করেননি কেন?এর প্রত্যুত্তরে আমি তোমাদের নিকট বলতে চাই যে, আমার আনসার ভাইয়েরা তো ফসলাদির কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন। আর আমার মুহাজির ভাইয়েরা হাট-বাজারে ব্যবসায়-বাণিজ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে মগ্ন থাকতেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সোহবত আমার জন্য আবশ্যকীয় করে নিতাম এবং খেয়ে না খেয়ে তাঁর সাহচর্যে থাকতাম। তাঁরা যখন উপস্থিত না থাকতেন তখন আমি উপস্থিত থাকতাম এবং তাঁরা ভুলে যেতেন আমি মুখস্থ করতাম।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা বললেনঃ তোমাদের মাঝে কে আছে, যে তার কাপড়ের আঁচল বিছিয়ে দিবে আর আমার হাদীস গ্রহণ করবে? এরপর তা আপন বক্ষে স্পর্শ করবে তাহলে সে যা শুনবে কখনো ভুলবে না। আমি আমার চাদর পেতে দিলাম এবং তিনি তাঁর হাদীস বর্ণনার ইতি টানলেন। তারপর আমি চাদরখানি আমার বুকে জড়িয়ে নিলাম। সেদিন থেকে আমি কোন ব্যাপারেই ভুলে যাইনি যা তিনি বলেছেন। (সবটুকুই মনে রয়েছে)।আল্লাহ তাঁর কিতাবে দুইটি আয়াত যদি অবতীর্ণ না করতেন তাহলে আমি কখনো হাদীস রিওয়ায়াত করতাম না। আয়াত দুইটি এই— “আমি যে স্পষ্ট নমুনা ও পথ নির্দেশ মানুষের জন্য নাজিল করেছি, কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরও যারা তা লুকিয়ে রাখে আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত দেন এবং অভিসম্পাতকারীরাও অভিশাপ দেয়; কিন্তু যারা তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, এ সমস্ত ব্যক্তি তারাই যাদের প্রতি আমি ক্ষমা করে দিব। কেননা আমি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”— (সূরা আল-বাকারা ২: ১৫৯-১৬০)।
৬২৯৪
আবূ হুরাইরাহ্ আদ্-দুসী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব ও আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, তোমরা বলাবলি করছ যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বেশি সংখ্যক হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। হাদিসের অবশিষ্টাংশ তাঁদের বর্ণিত হাদিসের অবিকল।
৬২৯৫
হাতিব ইবনু আবূ বালতা‘আহ্ এবং বদরী সহাবীগণ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি’ (রহঃ)
তিনি আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যুবায়র ও মিকদাদ (রাঃ)-কে (বিশেষ কাজে) প্রেরণ করে বললেনঃ তোমরা দ্রুত ‘রাওযা খাখ’ (মাদিনার নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) যাও। সেখানে উটারোহিণী এক নারী রয়েছে, তার কাছে একটি গোপনীয় পত্র রয়েছে। তোমরা তার নিকট হতে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহিত হয়ে ছুটে চললাম। সেখানে আমরা জনৈক নারীকে দেখতে পেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্র বের করে দাও। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তোমাকে পত্র বের করতেই হবে, আর না হলে গায়ের বস্ত্র খুলতে বাধ্য হব। তারপর সে তার চুলের বেণীর মাঝখান থেকে পত্র বের করে দিল। তখন আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। পত্র খুলে দেখা গেল যে, তা হাতিব ইবনু আবু বালতা (রাঃ)-এর পক্ষ হতে মক্কার কতিপয় মুশরিকের প্রতি লিখিত একটি চিঠি ছিল।তিনি এ চিঠিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কতক গুরুত্বপূর্ণ কাজের লুকানো তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে হাতিব! তুমি এমন কাজ কেন করলে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে অনুগ্রহ করে দ্রুত রায় ঘোষণা করবেন না। আমি এমন একজন লোক, কুরাইশদের সঙ্গে যার সম্পর্ক রয়েছে (কিন্তু আমি তাদের বংশের কেউ নই)। সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি তাদের মিত্র ছিলেন, কিন্তু তাদের (বংশোদ্ভূত) গোত্রভুক্ত ছিলেন না। আর আপনার মুহাজির সাহাবীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন সেখানে আছে, যাদের মাধ্যমে তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।তাই আমি স্থির করলাম যে, কুরাইশদের সাথে যখন আমার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই তখন এমন কোন কাজ করি যার দ্বারা আমার পরিবার-পরিজন মুক্তি পেতে পারে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির হয়ে গেছি অথবা মুরতাদ হয়েছি দ্বীন থেকে। আর আমি ইসলাম কবুলের পরে কুফরের প্রতি আসক্ত হইনি। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে সত্যই বলেছে। উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান কেটে দিব। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছিল এবং তুমি কি জান না যে, আল্লাহ বদরী সাহাবীদের সম্পর্কে অধিক অবহিত আছেন। “তোমরা যা খুশি করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।”এরপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- “হে মুমিনগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না”- (সূরা আল মুমতাহিনা ৬০: ১)। আবু বকর ও যুহায়র বর্ণিত হাদীসে আয়াতের বর্ণনা নেই। আর ইসহাক তাঁর বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফইয়ানের তিলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৬২৯৬
হাতিব ইবনু আবূ বালতা‘আহ্ এবং বদরী সহাবীগণ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং আবু মারসাদ গানাবী ও যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-কে প্রেরণ করলেন। আমরা সকলে অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা ‘রাওযায়ে খাখ’ নামক জায়গার দিকে রওনা হয়ে যাও। সেখানে এক মুশরিক নারী রয়েছে। তার কাছে হাতিবের পক্ষ হতে মুশরিকদের নিকটে লেখা একটি পত্র রয়েছে। তারপর তিনি (বর্ণনাকারী) আলী (রাঃ) হতে উবাইদুল্লাহ ইবনু আবু রাফি বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।
৬২৯৭
হাতিব ইবনু আবূ বালতা‘আহ্ এবং বদরী সহাবীগণ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
হাতিবের এক দাস রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর বিপক্ষে অভিযোগ উত্থাপন করল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে ঢুকবে।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “তুমি মিথ্যা বলেছ, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। কারণ সে বদর যুদ্ধে ও হুদাইবিয়ার প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছিল।” অধ্যায়ঃ হাতিব ইবনু আবু বালতা’আহ এবং বদরী সাহাবীগণ (রাঃ)-এর ফজিলত। ৫ম খন্ড, ৪৪৮ পৃষ্ঠা, আহলে হাদীস লাইব্রেরী ঢাকা প্রকাশিত।
৬২৯৮
বাই‘আতে রিযওয়ানে অংশগ্রহনকারী আসহাবে শাজারাহ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
আমাকে উম্মু মুবাশ্‌শার (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাফসা (রাঃ)-এর নিকট বলতে শুনেছেন, আল্লাহ চাইলে বৃক্ষের নিচে বসে বাই’আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে ঢুকবে না। তিনি (হাফসা) বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (কেন যাবে না) তখন তিনি তাকে নিন্দা করলেন।হাফসা (রাঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ বলেছেন, “তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তা অতিক্রম না করবে” অর্থাৎ- পুলসিরাত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তো এও বলেছেন; “যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদের মুক্তি দিব এবং জালিমদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় রেখে দিব।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৭১-৭২)
৬২৯৯
আবূ মূসা আশ‘আরী ও আবূ ‘আমির আশ‘আরী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সেবায় ছিলাম। সে সময় তিনি মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি জি'ইরানাহ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ)-ও ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক আরব বেদুইন এলো। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন, তা কি পূরণ করবেন না? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো।” তারপর সে তাঁকে (রাসূলুল্লাহকে) বলল, আপনি তো অনেকবারই বলেছেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো।”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে আবু মূসা ও বিলালের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, “দেখ, এ লোকটি সুসংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। অতএব তোমরা উভয়ে এগিয়ে এসো।” তখন তাঁরা উভয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা এগিয়ে এসেছি, আপনার সুসংবাদ গ্রহণ করেছি।” তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তিনি তাঁর দুই হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং তাতে কুলি করলেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমরা দু’জনে এ থেকে পানি পান করো এবং তোমাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে জড়িয়ে দাও। আর তোমরা দু’জনে সুসংবাদ গ্রহণ করো।”তারা উভয়ে পেয়ালাটি গ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ মুতাবিক কাজ করলেন। তখন উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রাঃ) পর্দার অন্তরাল হতে তাঁদের উভয়কে ডেকে বললেন, “তোমাদের মায়ের জন্য তোমাদের পেয়ালায় কিছু পানি রেখে দাও।” তারপর তাঁরা অবশিষ্ট পানি হতে তাঁকে অল্প পরিমাণ দিলেন।
৬৩০০
আবূ মূসা আশ‘আরী ও আবূ ‘আমির আশ‘আরী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আবূ আমির আশ’আরী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু আলা(রহঃ) আবূ বুরদাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) যখন হুনাইন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন তখন আবু আমির (রাঃ)-কে একটি বাহিনীর পরিচালনায় দিয়ে আওতাস অভিযানে পাঠান। তিনি দুরায়দ ইবনু সিম্মা পরস্পর একত্রিত হলেন। দুরায়দ ইবনু সিম্মা মৃত্যুবরণ করলো এবং আল্লাহ তাঁর বাহিনীকে বিজিত করলেন।তারপর আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তিনি (ﷺ) আমাকে আবু আমিরের সাথে প্রেরণ করেছিলেন। আবু আমিরের হাঁটুতে তীরের আঘাত লেগেছিল। বনি জুশাম সম্প্রদায়ের এক লোক সে তীরটি নিক্ষেপ করেছিল। এ তীরটি তাঁর হাঁটুতে বিদ্ধ হয়েছিল। তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং বললাম, চাচাজান! কে আপনাকে তীর বিদ্ধ করেছে? তখন আবু আমির-এর ইঙ্গিতে আবু মূসা (রাঃ) কে জানালেন, ঐ আমার ঘাতক, যাকে তুমি দেখতে পাচ্ছ, সে আমাকে তীরবিদ্ধ করেছে।আবু মূসা (রাঃ) বলেন, আমি তাকে আক্রমণ করে মারার ইচ্ছা পোষণ করলাম। আমি তার মুখোমুখি হলাম। সে আমাকে দেখামাত্র লুকিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে আক্রমণ করে বলছিলাম, হে বেহায়া, বেপরোয়া! পালাচ্ছ কেন? তুমি কি আরবীয় নও? বীরত্ব আছে তো দাঁড়িয়ে যাও, ভাগছো কেন? তখন সে থামল। তারপর সে ও আমি পরস্পর মুখোমুখি হলাম। আমরা পরস্পরে দুবার পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করলাম। আমি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে ধরাশায়ী করলাম এবং শেষাবধি মেরে ফেললাম।তারপর আমি আমির (রাঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললাম, আল্লাহ আপনার ঘাতককে মেরে ফেলেছেন। তখন আবু আমির (রাঃ) বললেন, এ তীরটি বের করে নাও। আমি তৎক্ষণাৎ তা বের করে ফেললাম। তখন তা থেকে পানি (রক্ত) বের হচ্ছিল। তারপর তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম পৌঁছে দিও। আর তাঁর নিকট গিয়ে আবেদন করবে, আবু আমির আপনাকে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া চেয়েছেন।তিনি (আবু মূসা) বলেন, উপস্থিত লোকদের সামনে আবু আমির আমাকে এ দায়িত্ব দিলেন এবং কতক সময় স্থির থাকলেন। তারপর তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে গণ্য হলেন। আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁর সেবায় উপস্থিত হলাম। তখন তিনি চাটাইপাতা খাটের উপর ছিলেন এবং ঐ খাটের উপর চাদর ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পৃষ্ঠে ও পাঁজরে চাটাইয়ের চিহ্ন বসে গিয়েছিল। তারপর আমি তাঁর নিকট আমাদের ও আবু আমিরের সংবাদ দিলাম এবং আমি তাঁকে বললাম, তিনি (আবু আমির) বলেছেন, তাঁর জন্য আপনাকে মাগফিরাতের দোয়া কামনা করতে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি আনালেন এবং তা দ্বারা ওযু করলেন। তারপর দু’হাত তুলে বললেন, “হে আল্লাহ! উবায়দ আবু আমিরকে ক্ষমা করে দাও।” তখন আমি তাঁর দু’বগলের শুভ্রতা দেখছিলাম। পুনরায় তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! তাকে কেয়ামতের দিন তোমার মাখলুকের মাঝে কিংবা মানুষের মধ্যে অনেকের উপরে জায়গা দিও।”তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার জন্যও মাগফিরাতের দোয়া করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবনু কায়সের গুনাহ মাফ করে দাও এবং তাকে কেয়ামতের দিনে সম্মানজনক জান্নাতে প্রবেশ করাও।” আবু বুরদা (রাঃ) বলেন, একটি দোয়া আবু আমিরের জন্য এবং অপরটি আবু মূসা আশআরীর জন্য।