৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬২২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬২১১
উম্মুল মু’মিনীন উম্মু আইমান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু আইমানের নিকট গেলেন। আমিও তাঁর সাথে গেলাম। তিনি তাঁর দিকে একটি শরবতের পাত্র এগিয়ে দিলেন। আমি জানি না যে, নবী (ﷺ) সিয়াম পালন করছিলেন, না এমনিতেই তা ফিরিয়ে দিলেন। উম্মু আইমান (রাঃ) এতে চিৎকার শুরু করে উঠলেন এবং তাঁর (ﷺ)-এর উপর (শরবত পানে) চাপ দিতে লাগলেন।
৬২১২
উম্মুল মু’মিনীন উম্মু আইমান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে বললেন, চলো উম্মু আইমানের নিকট যাই, তাঁর সাথে দেখা করতে যাবো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে দেখা করতেন। যখন আমরা তাঁর নিকট গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহ তা'আলার নিকট যা কিছু আছে তা তাঁর রাসূলের জন্য সর্বাধিক উত্তম।উম্মু আইমান (রাঃ) বললেন, এজন্য আমি কাঁদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে, তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য উত্তম; বরং এজন্য আমি কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল। উম্মু আইমানের এ কথা তাঁদেরকে কান্নাপ্লুত করে তুলল। অতএব তাঁরাও তাঁর সঙ্গে কাঁদতে শুরু করলেন।
৬২১৩
আনাস ইবনু মালিকের মা উম্মু সুলায়ম এবং বিলাল (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন স্ত্রীদের ব্যতীত অন্য কোন নারীর গৃহে ঢুকতেন না। কিন্তু উম্মু সুলায়মের নিকট যেতেন। লোকেরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, “এর উপর আমার বড় মায়া হয়। আমার সাথে থেকে তাঁর ভাই নিহত (শহীদ) হয়েছে।”
৬২১৪
আনাস ইবনু মালিকের মা উম্মু সুলায়ম এবং বিলাল (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে আমি কারও চলার আওয়াজ পেলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, কে? লোকেরা বলল, তিনি আনাস ইবন মালিকের মাতা গুমাইসা বিনত মিলহান (রাঃ)।
৬২১৫
আনাস ইবনু মালিকের মা উম্মু সুলায়ম এবং বিলাল (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে। আমি আবু তালহার সহধর্মিণীকে দেখলাম। তারপর আমার সম্মুখে পদধ্বনি শুনতে পেলাম। লক্ষ্য করে দেখি তিনি বিলাল।
৬২১৬
আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আবু তালহার ঔরসজাত উম্মু সুলায়েমের একটি ছেলে মৃত্যুবরণ করল। তখন উম্মু সুলায়েম (রাঃ) তাঁর পরিবার-পরিজনের ব্যক্তিদের বললেন, ‘আবূ তালহাকে তাঁর পুত্রের সংবাদ দিও না, যতক্ষণ আমি না বলি।’ আবূ তাল্‌হা (রাঃ) আসলেন। উম্মু সুলায়েম (রাঃ) রাতের খানা সম্মুখে নিয়ে আসলে তিনি খাবার খেলেন। এরপর উম্মু সুলায়েম আগের চাইতে ভাল মতো সাজগোজ করলেন। আবু তালহা (রাঃ) তাঁর সঙ্গে মিলিত হলেন। যখন উম্মু সুলায়েম (রাঃ) দেখলেন যে, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত, তখন তাঁকে বললেন, ‘হে আবূ তালহা! কেউ যদি কারো কোন জিনিস রাখতে দেয়, তারপর তা নিয়ে নেয় তবে কি সে তা ফিরাতে পারে?’ আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, ‘না।’ উম্মু সুলায়েম (রাঃ) বললেন, ‘তাহলে তোমার ছেলের ব্যাপারে মনে কর (আল্লাহ তাকে নিয়ে নিয়েছেন)।’আবু তালহা (রাঃ) রেগে গিয়ে বললেন, ‘তুমি আমাকে আগে বলোনি, এখন আমি অপবিত্র, এখন ছেলের সংবাদটা দিলে।’ অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে ছেলের যা ঘটেছে সব জানালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘তোমাদের গত রাতটিতে আল্লাহ তা'আলা বরকত দিন।’ উম্মু সুলায়েম গর্ভবতী হলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন, উম্মু সুলায়েমও এ সফরে তাঁর সাথে ছিলেন। রাসূল (ﷺ) যখন কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন রাতের বেলা মদীনায় ঢুকতেন না। যখন লোকেরা মদীনার কাছাকাছি পৌঁছলো তখন উম্মু সুলায়েমের প্রসব বেদনা আরম্ভ হলো।আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর নিকট থেকে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন। আбу তালহা (রাঃ) বললেন, ‘হে প্রতিপালক! তুমি তো জানো যে, আমার ভাল লাগে তোমার রাসূলের সঙ্গে বের হতে যখন তিনি বের হন এবং তাঁর সাথে প্রবেশ করত যখন তিনি প্রবেশ করেন। কিন্তু তুমি জানো, কেন আমি থেমে গেছি।’ উম্মু সুলায়েম (রাঃ) বললেন, ‘হে আбу তালহা! আগের মতো যন্ত্রণা আমার নেই। চলুন আমরা চলে যাই।’ স্বামী-স্ত্রী মদীনায় পৌঁছলে উম্মু সুলায়েমের ব্যথা আবার আরম্ভ হলো এবং তিনি একটি শিশু ছেলে প্রসব করলেন।আমার মা বললেন, ‘হে আনাস! শিশুটিকে যেন কেউ দুধ না খাওয়ায়, যতক্ষণ তুমি তাঁকে ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে না যাও।’ সকাল হলে আমি সন্তানটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর হাতে উট দাগানোর যন্ত্র। আমাকে যখন তিনি দেখলেন, বললেন, ‘হয়তো উম্মু সুলায়েম এ পুত্রটি প্রসব করেছে।’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি সে যন্ত্রটি হাত থেকে রেখে দিলেন। আমি শিশুটিকে নিয়ে তাঁর কোলে রাখলাম। তিনি মদীনার ‘আজওয়া’ খেজুর আনালেন এবং নিজের মুখে দিয়ে চিবুলেন। যখন খেজুর গলে গেল, তখন শিশুটির মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘দেখো আনসারদের খেজুর-প্রীতি!’ অবশেষে তিনি শিশুর মুখে হাত বুলিয়ে তার নাম ‘আবদুল্লাহ’ রাখলেন।
৬২১৭
আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবু তালহার একটি পুত্র মৃত্যুবরণ করল... –এর পরের অংশ উপরোল্লিখিত হাদিসের অবিকল।
৬২১৮
বিলাল (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরের সালাতের সময় বিলাল (রাঃ)-কে বললেন, “হে বিলাল! তুমি আমাকে বলো, ইসলামের মধ্যে তুমি এমন কোন আমল করেছো যেটার উপকারের বিষয়ে তোমার অধিক প্রত্যাশা। কারণ, আমি রাতে জান্নাতে আমার সম্মুখে তোমার জুতার শব্দ শুনেছি।” রাবী বলেন, বিলাল (রাঃ) বললেন, “ইসলামের মাঝে এর চেয়ে অধিক লাভের প্রত্যাশা আমি অন্য কোন আমলে করতে পারি না যে, আমি দিনে বা রাতে যখনই পূর্ণ ওজু করি তখনই আল্লাহ তা'আলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেন ততক্ষণ ঐ ওজু দিয়ে সালাত আদায় করে থাকি।”
৬২১৯
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) ও তাঁর মাতার ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
যখন এ আয়াত নাযিল হলো: “যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের খাদ্য বস্তুর মধ্যে কোন অসুবিধা নেই, যখন তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং মুমিন হয়” . . . (সূরা আল-মায়িদা ৫:৯৩) শেষ পর্যন্ত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।”
৬২২০
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) ও তাঁর মাতার ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান হতে আসলাম। আমরা অনেকদিন পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) ও তাঁর মাকে রাসূল-পরিবারেরই লোক বলে ভেবেছি। কারণ তাঁরা রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ঘন ঘন যাতায়াত করতেন এবং তাঁর কাছে অবস্থান করতেন।