৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬২০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬১৯১
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থ থাকাবস্থায় বলেছেন: কোনো নবীই ইন্তিকাল করেননি যে পর্যন্ত না তিনি জান্নাতে তাঁর জায়গাটি দেখে নিয়েছেন। আর তাঁকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসলো আর তাঁর মাথা আমার রানের উপর, তখন কিছু সময় তিনি বেহুঁশ হয়ে রইলেন। হুঁশ ফিরে আসলে তিনি ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত করো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, এখন আর তিনি আমাদের গ্রহণ করবেন না।আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমার ঐ হাদীসটি মনে পড়ল যেটি তিনি সুস্থ থাকাকালে বলেছিলেন যে, কোনো নবী মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি জান্নাতে তাঁর জায়গাটি দেখে নেন। তারপর তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতে যেটিকে ভার মনে করেন সেটি গ্রহণ করার অনুমতি দেয়া হয়। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এটাই ছিল শেষ কথা যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুদের সঙ্গে”।
৬১৯২
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে বের হতেন, তখন নিজ স্ত্রীদের সম্বন্ধে লটারী করতেন। একবার লটারিতে আয়েশা ও হাফসার নাম উঠল। দুজনেই তাঁর সঙ্গে বের হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রাতে সফর করতেন তখন তিনি আয়েশার সঙ্গে কথোপকথন করে চলতেন। হাফসা (রাঃ) আয়েশাকে বললেন, আজ রাতে তুমি আমার উটে চড় আর আমি তোমার উটে চড়ি। তারপর তুমি অপেক্ষা করবে আমিও অপেক্ষা করব।এরপর আয়েশা (রাঃ) হাফসার উটে আর হাফসা (রাঃ) আয়েশার উটে সাওয়ারি হলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশার উটের নিকট আসলেন এবং এসে সাওয়ার ছিলেন হাফসা (রাঃ) তখন তিনি সালাম দিলেন এবং তাঁর সঙ্গে চললেন। পরিশেষে মনযিলে গিয়ে অবতরণ করলেন। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে (ﷺ)-কে না পেয়ে চটে গেলেন।যখন সকলে মনযিলে যেয়ে নামলেন, আয়েশা তাঁর পা ‘ইযখির’ ঘাসের উপর রেখে চলতে লাগলেন, হে রব! একটা সাপ বা বিচ্ছু আমার দিকে পাঠিয়ে দিন যেন আমাকে দংশন করে। তিনি তো আপনার রাসূল। আমি তাঁকে কিছু বলতেও পারি না।
৬১৯৩
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, অন্যান্য মহিলাদের উপর ‘আয়িশার মর্যাদা সকল খাদ্যের উপর “সারীদের” শ্রেষ্ঠত্বের মতো।
৬১৯৪
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)-এর সনদে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অবিকল রিওয়ায়াত করেন। তাদের উভয়ের হাদীসে “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি” এ কথা নেই। ইসমাঈলের হাদীসে “আনাস (রাঃ) হতে শ্রবণ করেছি” আছে।
৬১৯৫
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, জিবরাইল (আঃ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আমি বললাম, তাঁর প্রতিও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
৬১৯৬
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
তাঁদের হাদিসের অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬১৯৭
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
যাকারিয়্যা (রহঃ)
উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬১৯৮
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: হে আয়েশা! এই যে জিবরাইল (আঃ) তোমাকে সালাম বলছেন। আয়েশা (রাঃ) বললেন, ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ— তাঁর উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তারপর আয়েশা (রাঃ) বললেন, তিনি তো এমন কিছু লক্ষ্য করেন যা আমি দেখতে পাই না।
৬১৯৯
উম্মু যার্’ই-এর হাদীস পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
এগারোজন মহিলা একত্রে বসে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা নিজ নিজ স্বামীর বিষয়ে কিছুই গোপন করবে না। প্রথম মহিলা বলল: আমার স্বামী দুর্বল উটের গোশতের মতো, যা দুর্গম এক পর্বতের চূড়ায় রক্ষিত। না ওখানে আরোহণ করা সম্ভব আর না এমন মোটা তাজা যা সংরক্ষণ করা যায়।দ্বিতীয় মহিলা বলল: আমি আমার স্বামীর সংবাদ প্রকাশ করতে পারব না। আমার আশঙ্কা হয়, আমি তাকে ছেড়ে না দেই। আমি যদি তার বর্ণনা দিতে যাই তবে তার প্রকাশ্য ও গোপনীয় সব ত্রুটিই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয় মহিলা বলল: আমার স্বামী খুব লম্বা। ওর ত্রুটি বললে আমি ত্যাজ্য হবো, আর চুপ থাকলে ঝুলে থাকব। চতুর্থ মহিলা বলল: আমার স্বামী ‘তিহামা’-এর রাত্রির মতো। নাতিশীতোষ্ণ (গরমও নয় আর ঠান্ডাও নয়) ভয়ও নেই, ক্লান্তিও নেই। পঞ্চম মহিলা বলল: আমার স্বামী যখন গৃহে প্রবেশ করে তখন চিতা বাঘ, আর যখন বাইরে যায় তখন সিংহ। সংরক্ষিত ধন-সম্পদ নিয়ে সে কোনো প্রশ্ন করে না।ষষ্ঠ মহিলা বলল: আমার স্বামী খেতে বসলে সব খেয়ে ফেলে, পান করলে একেবারে শেষ করে ফেলে। আর ঘুমাতে গেলে একেবারে হাত পা গুটিয়ে নেয়। আমার প্রতি হাত বাড়ায় না, যাতে আমার অবস্থা বুঝতে পারে। সপ্তম মহিলা বলল: আমার স্বামী বোকা, অক্ষম ও বোবার মতো। সব ত্রুটিই তার মধ্যে বিদ্যমান। ইচ্ছা করলে তোমার মাথায় আঘাত করবে কিংবা গায়ে মারবে অথবা উভয়টিই একত্রে সংঘটিত করবে। অষ্টম মহিলা বলল: আমার স্বামীর ‘যারনা‎ব’ নামক সুগন্ধির মতো, তার খরগোশের স্পর্শের ন্যায় কোমল। নবম মহিলা বলল: আমার স্বামী এমন যার প্রাসাদের খুঁটিগুলো সুউচ্চ, তরবারির খাপগুলো দীর্ঘ, বাড়ির উঠোনে অধিক ছাই। মজলিসের পাশেই তার গৃহ।দশম মহিলা বলল: আমার স্বামী ‘মালিক’। আর মালিক-এর কথা কি বলব, আমার এ প্রশংসার চেয়ে তিনি আরও শ্রেষ্ঠ। তার রয়েছে অনেক উট, উটশালায় উটের সংখ্যা অনেক, তবে চারণভূমিতে তার সংখ্যা কম। উটেরা যখন বাদ্য-বাজনার আওয়াজ শোনে তখন নিজেদের যাবাহের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়ে।একাদশ মহিলা বলল: আমার স্বামীর নাম আবূ যার্‘ঈ। কী চমৎকার আবূ যার্‘ঈ। অলংকার দিয়ে সে আমার দু’কান ঝুলিয়ে দিয়েছে, বাহুদ্বয় ভরপুর করেছে চর্বিতে। আমাকে মর্যাদা দিয়েছে, আমিও নিজেকে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করছি। সে আমাকে পাহাড়ের কিনারায় ভেড়া ও বকরিওয়ালাদের ভিতরে পেয়েছিল। তারপর সে আমাকে উট, ঘোড়া, জমি-জমা ও ফসল ফসলাদির অধিকারী বানিয়েছে। তার নিকট আমি কথা বললে সে তা ফেলে না। আমি শুইলে ভোর পর্যন্ত শুয়ে থাকি আর পান করলে আত্মতৃপ্তি লাভ করি।আবূ যার্‘-এর মা, কতই না ভালো আবূ যার্‘-এর মা। তাঁর সম্পদ-কোষ অনেক বড় আকারের। তাঁর কুঠরী প্রশস্ত। আবূ যার্‘-এর ছেলে, কতো ভালো আবূ যার্‘-এর ছেলে, তার শয্যা যেন তলোয়ারের কোষ। বকরির একটি হাতা খেয়েই সে তৃপ্তি বোধ করে। আবূ যার্‘-এর মেয়ে, কতই না ভাল আবূ যার্‘-এর মেয়ে। সে তার বাবা মায়ের অনুগত। পোশাক পরিচ্ছদে ভরপুর তার প্রতিবেশীদের ঈর্ষার পাত্র। আবূ যার্‘-এর দাসী। কতই না ভালো আবূ যার্‘-এর দাসী। আমাদের কথা বলে বেড়ায় না। আমাদের খাদ্য বিনষ্ট করে না, বাড়ি-ঘর ময়লাস্তুপে পরিণত করে না।উম্মু যার্‘ বলেন, একদিন আবূ যার্‘ বাইরে বের হলেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিল এই যে, বড় বড় দুধের মাখন উঠিয়ে নেয়া হত। সে সময় জনৈক নারীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তার সঙ্গে ছিল দু’টো শিশু। শিশু দু’টো ছিল দু’টো চিতার মতো। তারা তার কোলের নিচ দিয়ে দু’টি ডালিম নিয়ে খেলা করছিল। তখন আবূ যার্‘ আমাকে তালাক দেয় এবং সে মহিলাকে বিয়ে করে।এরপর আমি জনৈক লোককে বিয়ে করলাম। সে ছিল সরদার, খুব ভালো ঘোড়সওয়ার ও বর্শাধারী। সে আমার আস্তাবলে বহু চতুষ্পদ জন্তু জড়ো করে। প্রত্যেক প্রকার হতে সে আমাকে একেক জোড়া দান করে এবং সে আমাকে বলে, হে উম্মু যার্‘! তুমি খাও এবং তোমার আপনজনকে বিলিয়ে দাও। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী আমায় যা কিছু দিয়েছে তার সব যদি জমা করি তবুও আবূ যার্‘-এর ছোট্ট একটি পাত্রের সমতুল্য হবে না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন: তোমার জন্য আমি উম্মু যার্‘-এর জন্য আবূ যার্‘ঈ-এর ন্যায়।
৬২০০
উম্মু যার্’ই-এর হাদীস পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রাঃ)
উপরোক্ত সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তাতে নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম এতটুকু রয়েছে যে, عَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ । আরো আছে- قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ এবং রয়েছে- وَصِفْرُ رِدَائِهَا وَخَيْرُ نِسَائِهَا وَعَقْرُ جَارَتِهَا (অর্থাৎ- তার চাদর হলুদ রঙের চাদর বিশিষ্ট, অন্যান্য মহিলার মধ্যে ছিল শ্রেষ্ঠ, সতিনের ঈর্ষার পাত্রী) এবং বলেছেন- لاَ تَنْقُثُ مِيرَتَنَا (অর্থাৎ- সে আমাদের খাদ্যদ্রব্য বৃথা নষ্ট করে না)। আরো বলেছেন- أَعْطَانِي مِنْ كُلِّ ذَابِحَةٍ زَوْجًا (প্রত্যেক উপাদেয় বস্তু হতে আমাকে একজোড়া দিয়েছে)।