৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬২১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬২০১
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বারের উপর থেকে বলতে শুনেছেন, হিশাম ইবন মুগীরার ছেলেরা আমার নিকট অনুমতি চেয়েছে যে, তাদের কন্যাকে আলী ইবন আবু তালিবের নিকট তারা বিবাহ দিতে চায়। আমি তাদের অনুমতি দিব না, আমি তাদের দিব না, আমি তাদের দিব না। কিন্তু যদি আলী ইবন আবু তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়েকে বিবাহ করতে চায়, সেটা আলাদা কথা। কারণ আমার কন্যা আমারই একটা অংশ। যা তাকে সম্মানহানি করে তা আমাকেও সম্মানহানি করে, তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়।
৬২০২
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ফাতিমা আমারই অংশবিশেষ, তাকে যা কষ্ট দেয় তা আমার প্রতিও কষ্টদায়ক।
৬২০৩
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আলী ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
হুসাইন ইবন আলী (রাঃ)-এর শাহাদতের পর ইয়াজিদ ইবন মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর নিকট হতে যখন তাঁরা মদিনায় এলেন, মিসওয়ার ইবন মাখরামা তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁকে বললেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তলোয়ারটি কি আপনি আমাকে দান করবেন? কেননা আমার ভয় হয় যে, লোকেরা এটি আপনার নিকট হতে আয়ত্ত করে নিবে। আল্লাহর শপথ আপনি যদি সে তলোয়ারটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষণ আমার জীবন থাকে এটি কেউ ছুঁইতে পারবে না। (মিসওয়ার আরো বলেন) ফাতিমার জীবিতাবস্থায় আলী (রাঃ) আবু জাহলের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ ব্যাপার নিয়ে মানুষদের সম্মুখে মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে শুনেছি। আমি তখন সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বললেন, ফাতিমা আমারই অংশ। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে তার দ্বীনের সম্পর্কে ফিতনায় না পতিত হয়। তারপর তিনি ‘আব্দ-ই-শাম্‌স শামস গোষ্ঠীর তাঁর জামাতার আলোচনা করলেন, তার আত্মীয়তার প্রশংসা করলেন এবং বললেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে আমার সাথে ওয়াদা করেছে, আর তা পালন করেছে। আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না, বা হারামকে হালাল করি না, তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা কখনো এক স্থানে একত্র হতে পারে না।
৬২০৪
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ)
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) নাবী-তনয় ফাতিমাকে ঘরে রেখেই আবূ জাহ্‌লের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) যখন এ খবর শুনলেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, লোকেরা কথোপকথন করে যে, আপনি আপনার কন্যাদের সম্বন্ধে রাগ প্রকাশ করেন না। আর এই যে, ‘আলী (রাঃ) আবূ জাহ্‌লের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছেন।মিসওয়ার (রাঃ) বললেন, তখন নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন। এ সময় আমি শুনলাম, তিনি তাশাহুদ পড়লেন এবং বললেনঃ আবূল ‘আস ইবনু রবী‘র নিকট বিয়ে দিয়েছি, সে আমাকে যা বলেছে তা বাস্তবে পরিণত করেছে। আর মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা আমারই একটা টুকরা, আমি অপছন্দ করি যে, লোকে তাঁকে ফিতনায় ফেলুক। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের মেয়ে ও আল্লাহর শত্রুর মেয়ে কোন লোকের নিকট কক্ষনো একসাথে মিলিত হতে পারে না। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ) প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন।
৬২০৫
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬২০৬
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কন্যা ফাতিমাকে ডেকে চুপিসারে কিছু বললেন। তখন তিনি ক্রন্দন করলেন। পুনরায় চুপিসারে তিনি কিছু বললেন, তখন তিনি হেসে ফেললেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি ফাতিমাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে চুপিচুপি কি বললেন যে, তুমি কান্নাকাটি করে ফেললে এবং এরপর কি বললেন যে, তুমি হেসে ফেললে? ফাতিমা বললেন, চুপিসারে তিনি আমাকে তাঁর মৃত্যু সংবাদ দিলেন, তাই আমি কান্নাকাটি করলাম। অতঃপর চুপিচুপি তিনি বললেন, তাঁর পরিবার-পরিজনদের মাঝে সর্বপ্রথম তাঁর পেছনে যাবে আমি, তাই হাসলাম।
৬২০৭
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ সবাই তাঁর নিকট ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ বাদ ছিলেন না। এমন সময় ফাতিমা (রাঃ) আসলেন। তাঁর চলার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চলার ধরণ থেকে একটুও আলাদা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি এ বলে খোশ-আমদেদ জানালেন, মারহাবা, হে আমার আদরের মেয়ে! তারপর তাঁকে তাঁর ডানদিকে অথবা বামদিকে বসালেন এবং তাঁর সঙ্গে চুপিসারে কিছু বললেন। এতে তিনি খুব কান্নাকাটি করলেন। যখন তিনি তাঁর অস্থিরতা দেখলেন, তিনি আবার তাঁর সাথে চুপেচুপে কিছু বললেন, তখন তিনি হেসে দিলেন। আমি তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীগণের উপস্থিতিতেই তোমার সাথে বিশেষভাবে কোন গোপন কথা বলেছেন। আবার তুমি কাঁদছ? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে গেলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার নিকট কী বলেছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোপন কথা প্রচার করব না।আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তখন আমি তার উপর আমার অধিকারের কসম দিয়ে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কী বলেছেন, আমাকে অবশ্যই বলতে হবে। তিনি বললেন, আচ্ছা, এখন তবে হ্যাঁ। প্রথমবার তিনি আমাকে গোপনে বললেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর একবার কি দুইবার আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করান। এ বছর তিনি দুইবার পুনরাবৃত্তি করালেন, আমার ধারণা হয় আমার সময় সন্নিকটে এসে গেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্যধারণ করো। কারণ, আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসূরি। তখন আমি কাঁদলাম, যা আপনি দেখেছেন। তারপর আমার অস্থিরতা দেখে তিনি দ্বিতীয়বার চুপিসারে বললেন, হে ফাতিমা! মুমিন নারীদের প্রধান ও এই উম্মতের সকল নারীর নেত্রী হওয়া কি তুমি অপছন্দ করো? ফাতিমা (রাঃ) বললেন, তখন আমি হাসলাম, আমার যে হাসি আপনি তা প্রত্যক্ষ করেছেন।
৬২০৮
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর সকল স্ত্রীগণ একত্রিত হলেন। তাঁদের মাঝে একজনও বাকী রইলেন না। তখন ফাতিমা (রাঃ) হেঁটে আসলেন। তার হাঁটার ধরণ যেন একেবারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চলার ন্যায়। তিনি বললেন, “হে কন্যা! তোমাকে স্বাগতম।” অতঃপর তিনি তাকে তাঁর ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন এবং চুপিসারে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমা (রাঃ) কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। এরপর তিনি তাঁকে চুপিসারে আবার কিছু বললেন, এতে তিনি হাসলেন।আমি তাঁকে বললাম, কিসে তোমাকে কাঁদাল? তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে পারি না।” আমি বললাম, “আমি আজকের ন্যায় কোন আনন্দকে বেদনার এতো কাছাকাছি দেখিনি।” আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাদ দিয়ে তোমাকে তাঁর কথা বলার জন্য বিশেষত্ব দান করলেন। আর তুমি কাঁদছ?” পুনরায় তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বলেছেন, তা প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোপন কথা ফাঁস করতে পারি না।”পরিশেষে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত হলেন তখন আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি বললেন, “তিনি (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর একবার তাঁর সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর এ বছর তিনি তাঁর সাথে দুইবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। এতে আমার ধারণা হয় নিশ্চয় মৃত্যু আমার সন্নিকটে। আর তুমিই আমার পরিবার পরিজনদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। তোমার জন্য কতই না উত্তম অগ্রগামী।” তখন আমি কেঁদেছি।তারপর তিনি আমাকে চুপিসারে বললেন, “তুমি মু’মিনা নারীদের প্রধান কিংবা এ উম্মতের নারীদের নেত্রী হবে তা কি পছন্দ করো না?” এ কথা শুনে আমি হেসেছি।”
৬২০৯
উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সালমান (রাঃ)
তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তবে বাজারে প্রবেশকারীদের মাঝে তুমি প্রথম হয়ো না এবং সেখান থেকে বহির্গমনকারীদের মাঝে তুমি শেষ লোক হয়ো না। কেননা বাজার হলো শয়তানের আড্ডাখানা। আর সেখানেই সে তার ঝাণ্ডা উঁচু করে রাখে।সালমান (রাঃ) বলেন, আমাকে এ সংবাদও দেয়া হয়েছে যে, জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট আসলেন। তখন তাঁর পাশে উম্মু সালামা (রাঃ) ছিলেন। জিবরীল (আঃ) কথা বলতে লাগলেন এবং পরে চলে গেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামাকে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে ছিলেন? অথবা এমন কথা বললেন। উম্মু সালামা (রাঃ) জবাব দিলেন, ইনি দিহিয়া কালবী (রাঃ)। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে দিহিয়া কালবী বলেই মনে করেছিলাম। যে পর্যন্ত না রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তৃতা শুনলাম। তিনি আমাদের কথা বলছিলেন, কিংবা এমন বলছিলেন। অর্থাৎ- জিবরীল (আঃ)-এর প্রবেশের বিবরণ দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাবী আবূ উসমানকে প্রশ্ন করলাম যে, আপনি এ হাদীস কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে।
৬২১০
উম্মুল মু’মিনীন যাইনাব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মাঝে সর্বপ্রথম সেই আমার সঙ্গে দেখা হবে যার হাত অধিক লম্বা। অতএব সব স্ত্রীরা নিজ নিজ হাত মেপে দেখতে লাগলেন কার হাত অধিক লম্বা। আয়িশা (রাঃ) বলেন, পরিশেষে আমাদের মাঝে জয়নাবের হাতই সবচেয়ে লম্বা বলে ঠিক হলো। কেননা, তিনি হাত দ্বারা কাজ করতেন এবং দান করতেন।