৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬১৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬১৩১
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধের দিবসে তাঁর জন্য নিজের পিতা ও মাতাকে একসাথে উৎসর্গ করেছিলেন। সা’দ (রাঃ) বলেন, মুশরিকদের এক ব্যক্তি মুসলিমদের উপর অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে সা’দ! তীর নিক্ষেপ করো। আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি তাকে কেন্দ্র করে একটা তীর বের করলাম, যাতে ধারালো অংশটি ছিল না। ওটা তাঁর পাঁজরে লাগতেই সে পড়ে গেল, এতে তার গুপ্তাঙ্গ উন্মোচিত হয়ে গেল। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন: আমি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখতে পেলাম।
৬১৩২
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রাঃ)
তাঁর সম্বন্ধে কুরআনের কতক আয়াত নাযিল হলো। তাঁর মা কসম করে ফেলেছে যে, তিনি ইসলামকে যতক্ষণ না অস্বীকার করবেন ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন না, খাবেনও না, পানও করবেন না। সে বলল, আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ করেছেন, পিতা-মাতার কথা মেনে চলতে। আর আমি তোমার মা। আমি তোমাকে এ আদেশ করছি। মা তিন দিন পর্যন্ত কোনো খাদ্য গ্রহণ করল না। যাতনায় সে অজ্ঞান হয়ে গেলে উমারা নামের তার এক পুত্র তাকে পানি পান করাল। মা সা’দের উপর বদদোয়া করতে লাগল। তখন আল্লাহ কুরআন মাজিদে এ আয়াত নাযিল করলেন: ‘আমি মানুষকে আদেশ করেছি তার পিতা-মাতার প্রতি উত্তম আচরণ করতে। তবে ওরা যদি তোমার উপর শক্তি প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরীক করতে যার সম্বন্ধে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের আনুগত্য করো না’- (সূরা আল আনকাবুত ২৯:৮)। ‘আর পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করবে’- (সূরা লুকমান ৩১:১৫)। সা’দ বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আসলো। এতে একটি তরবারি ছিল। আমি সেটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললাম, এ তরবারিটি আমাকে দিন। আর আমার অবস্থা কি তা আপনি জানেনই। তিনি বললেন, এটা যেখান থেকে নিয়েছ সেখানেই রেখে দাও। আমি গেলাম এবং ইচ্ছে করলাম যে, এটাকে ভাণ্ডারে রেখে দেই; কিন্তু আমার মন আমাকে বঞ্চনা করল। অমনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে আসলাম। বললাম, আমায় এটা দান করুন। তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললেন, এটা যেখান থেকে এনেছ সেখানে রেখে দাও। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: ‘তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে’-(সূরা আল আনফাল ৮:১)। আমি অসুস্থতাবশতঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আসতে বললাম, তিনি আসলেন। আমি বললাম আমাকে অনুমতি দান করুন, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে আমার ধন-সম্পদ ভাগ করে দিয়ে দেই। তিনি অস্বীকার করলেন। আমি বললাম, তবে অর্ধেক ধন-সম্পদ দিয়ে দেই। তিনি তাও স্বীকৃতি দিলেন না। আমি বললাম, তবে এক তৃতীয়াংশ সম্পদই দিয়ে দেই। তিনি চুপ হয়ে রইলেন। পরবর্তীতে এক তৃতীয়াংশ ধন-সম্পদ দান করাই অনুমোদিত হলো। সা’দ বলেন, একবার আমি আনসার ও মুহাজিরদের কতিপয় ব্যক্তির নিকট গেলাম। তারা আমাকে বলল, এসো তোমায় আমরা আহার করাব এবং মদ পান করাব, এ ঘটনা মদ হারাম হওয়ার পূর্বের। আমি তাদের নিকট একটি বাগিচায় গেলাম। সেখানে উটের মাথার গোশত ভুনা হয়েছিল আর মদের একটা মশক ছিল। আমি তাদের সাথে গোশত খেলাম এবং মদ পান করলাম। সেখানে মুহাজির ও আনসারদের আলোচনাকালে আমি বললাম, মুহাজিররা আনসারদের তুলনায় উত্তম। এক ব্যক্তি মাথার একটি হাড় দিয়ে আমাকে আঘাত করল। আমার নাকে যখম হয়ে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তা উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহ আমার সম্বন্ধে আয়াত অবতীর্ণ করলেন: ‘মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর ঘৃণ্য বস্তু যা শয়তানের কাজ’- (সূরা আল-মায়িদা ৫:৯০)।
৬১৩৩
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রাঃ)
তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। অতঃপর পূর্বোল্লিখিত হাদিসের অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করলেন। শু’বাহ কেবল এটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন- ‘সা’দ (রাঃ) বলেন, মানুষেরা আমার মাকে খাবার খাওয়ানোর সময় একটি কাঠি দিয়ে তাঁর মুখ খুলত, পরে তাঁর মুখে খাদ্য দিত।’ এ বর্ণনায় এরূপ রয়েছে, ‘সা’দের নাকে আঘাত হানল তাতে তাঁর নাক ভেঙে গেল। আর সা’দের নাক ভাঙাই ছিল’।
৬১৩৪
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সাদ (রাঃ)
যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আহ্বান করে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না। (সূরা আল আন’আম ৬:৫২)। এ আয়াতটি ছয়জন লোক সম্পর্কে নাযিল হয়। তন্মধ্যে আমিও একজন ছিলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদও ছিলেন। মুশরিকরা বলত, এ ধরণের লোককে আপনি সঙ্গে রাখবেন না।
৬১৩৫
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা‘দ (রাঃ)
আমরা ছয়জন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। মুশরিকরা বলল, আপনি এসব লোকদেরকে আপনার নিকট হতে বিতাড়িত করুন, যাতে তারা আমাদের মাঝে আগমনের সাহস না পায়। সা’দ (রাঃ) বলেন, তন্মধ্যে আমি, ইবনু মাসঊদ, বানু হুযাইলের এক লোক, বিলাল এবং আরও দু’জন লোক ছিলাম, যাদের নাম আমি নিচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মনে আল্লাহ যা চাইলেন তা জাগল। তিনি মনে মনেই কথা বললেন। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন: ‘যারা তাদের প্রতিপালককে সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আহ্বান করে তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না’- (সূরা আল আন'আম ৬:৫২)।
৬১৩৬
তালহা ও যুবায়র (রাঃ)-এর ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ‘উসমান (রাঃ)
যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন, তখন কোন কোন দিন তালহা ও সা'দ (রাঃ) ছাড়া আর কেউই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিল না। এটি তাদের দুইজন বর্ণিত হাদীস।
৬১৩৭
তালহা ও যুবায়র (রাঃ)-এর ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
খন্দকের যুদ্ধের দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের জিহাদের অনুপ্রেরণা দিলেন। যুবাইর (রাঃ)-এই আহ্বানে সাড়া দিলেন। আবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) ডাকলেন; তখনও যুবাইর (রাঃ) সাড়া দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় ডাকলেন, তখনও যুবাইরই সাড়া দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেক নবীরই একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী থাকে, আর আমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলো যুবাইর।
৬১৩৮
তালহা ও যুবায়র (রাঃ)-এর ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। হাদীসটি তিনি ইবন উয়ায়নার হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন।
৬১৩৯
তালহা ও যুবায়র (রাঃ)-এর ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
খন্দকের দিবসে আমি এবং উমর ইবন আবু সালামা, হাসান (ইবন সাবিত)-এর কিল্লায় নারীদের সঙ্গে ছিলাম। আমি দেখতাম কখনো তিনি আমার দিকে ঝুঁকে পড়তেন আর কোনো সময় আমি ঝুঁকে পড়তাম, তিনি দেখতেন। আমার বাবাকে আমি চিনে ফেলতাম, যখন তিনি যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় ঘোড়ায় চড়ে বানু কুরাইযার দিকে যেতেন।অপর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ) বলেন, তারপর আমি বাবাকে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, পুত্র! তুমি আমায় দেখেছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য তাঁর পিতা-মাতা উভয়কে একত্রে উৎসর্গ করেছেন এবং বলেছেন: তোমার উপর আমার বাবা-মা কুরবান হোক।
৬১৪০
তালহা ও যুবায়র (রাঃ)-এর ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
খন্দকের দিবসে আমি এবং উমর ইবনু আবু সালামা (রাঃ) ঐ কিল্লায় ছিলাম, যেখানে মহিলারা ছিলেন অর্থাৎ নবী (ﷺ) সহধর্মিণীগণ। এ সূত্রেই ইবনু মুসহিরের হাদীসের হুবহু হাদীস রিওয়ায়াত করেন। তবে আবদুল্লাহ ইবনু উরওয়ার বর্ণনা হাদীসে হয়নি। কিন্তু হিশাম তাঁর বাবার সূত্রে ইবনু যুবায়ের হতে বর্ণিত হাদীসে এ কাহিনীটি উল্লেখ করেছেন।