৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬১২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬১১১
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে বলেছেন: “তুমি আমার কাছে তেমন, যেমন মূসা (আঃ)-এর কাছে হারুন (আঃ)। তবে আমার পর আর কোন নবী আসবেন না।” সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি মনে করলাম যে, হাদীসটি প্রত্যক্ষভাবে সাদ (রাঃ) হতে শ্রবণ করি। অতএব আমি সাদের সঙ্গে একত্রিত হলাম এবং আমির আমাকে যা বলেছেন আমি তাঁকে বললাম। তিনি বললেন, আমি একথা শুনেছি। আমি বললাম, আপনি কি এ কথা শুনেছেন? তিনি দুই কানে দুইটি আঙুল ঢুকিয়ে বললেন, “হ্যাঁ শুনেছি, না শুনে থাকলে এ কান দুইটি বধির হয়ে যাবে।”
৬১১২
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
তাবূকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে মদীনায় তাঁর প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মহিলা ও শিশুদের নিকট রেখে যাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এতে খুশি হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মূসা (আঃ)-এর কাছে হারুন (আঃ)-এর মতো? এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী আসবেন না।
৬১১৩
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ)
শু'বাহ (রহঃ) হতে এ সূত্রেই রিওয়ায়াত করেছেন।
৬১১৪
আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাঃ) সাদ (রাঃ)-কে ‘আমির (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, আপনি আলী (রাঃ)-কে কেন মন্দ বলেন না? সাদ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সম্বন্ধে যে তিনটি কথা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমি মনে রাখব ততক্ষণ পর্যন্ত কখনও তাঁকে খারাপ বলব না। সেসব কথার মধ্য হতে একটিও যদি আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর হত।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আলী (রাঃ)-এর উদ্দেশে বলতে শুনেছি- আলী (রাঃ)-কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মধ্যে আমাকে রেখে যাচ্ছেন, হে আল্লাহর রাসূল? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা (আঃ)-এর নিকট হারুন (আঃ)-এর মতো? এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী নেই। খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক লোককে পতাকা (ইসলামের ঝাণ্ডা) দেব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা (অধীর আগ্রহে) অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, আলীকে ডাকো। আলী (রাঃ) আসলেন, তাঁর চোখ (অসুস্থ হয়েছিল) উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চোখে থুতু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাঁর হাতেই বিজয়মালা (পতাকা) তুলে দিলেন। আর যখন আয়াত: ‘চলো আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি’- (সূরা আলে ইমরান ৩: ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাঃ), ফাতিমা (রাঃ), হাসান (রাঃ) ও হুসাইন (রাঃ)-কে ডাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার-পরিজন।
৬১১৫
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
নবী (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে বললেন: তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার সম্মান আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারুন (আঃ)-এর ন্যায়।
৬১১৬
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবারের দিন বললেনঃ “নিশ্চয়ই আমি ঐ লোকের হাতে পতাকা তুলে দিবো, যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে। তাঁর হাতেই আল্লাহ তা‘আলা বিজয় দেবেন।” উমর (রাঃ) বলেন, “শুধু ঐ দিনটি ব্যতীত আমি কখনো নেতৃত্ব লাভে আশা করিনি। এ প্রত্যাশা নিয়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী ইবনু আবু তালিবকে ডেকে তাঁর হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ “অগ্রসর হও, এদিক-ওদিক দৃষ্টি দিও না যতক্ষণ আল্লাহ তোমাকে বিজয় দেন।”অতঃপর আলী (রাঃ) সামান্য অগ্রসর হয়ে থেমে গেলেন, এদিক-সেদিক দেখেননি। এরপর চিৎকার করে বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল! কোন কথার উপর আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব?” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই, আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে তখনই তারা তাদের প্রাণ ও ধন-মাল তোমার হাত হতে মুক্ত করে ফেলবে। তবে কোন প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে মুক্ত হবে না। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।”
৬১১৭
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবারের যুদ্ধের দিন বলেছেন: অবশ্যই আমি এমন এক লোকের হাতে পতাকা তুলে দিব যার হাতে আল্লাহ তা’আলা বিজয় প্রদান করবেন। সে লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন।লোকেরা রাতভর এ কথোপকথনই করতে থাকল যে, কাকে এ পতাকা তুলে দেওয়া হবে। প্রত্যুষে সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলো। প্রত্যেকের এটাই প্রত্যাশা যে, তাঁকেই হয়তো দেয়া হবে এ পতাকা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আলী ইবনু আবূ তালিব কোথায়? লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর চোখে অসুখ।তারপর তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন, তাঁকে নিয়ে আসা হলো, তাঁর চোখে থুতু লাগালেন এবং দোয়া করলেন তাঁর জন্য। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন এমনভাবে যেন তাঁর চোখে কোনো রোগই ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে পতাকা তুলে দিলেন।আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি তোমার পথে চলে যাও এবং ওদের মাঝে অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান কর। আর তাদের উপর বর্তিত আল্লাহর হকগুলোর ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে দাও। কারণ, আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একটি মানুষকেও হিদায়াত করেন তবে তা তোমার জন্য লাল উট থেকেও উত্তম।
৬১১৮
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
খাইবারের দিন আলী (রাঃ) পিছনে রয়ে গেলেন। তাঁর চোখ উঠেছিল। তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে রেখে পিছনে পড়ে থাকব?” তিনি বের হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মিলিত হলেন।বিজয় প্রভাতের আগের দিন বিকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দিব কিংবা পতাকা এমন লোক গ্রহণ করবে, যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালবাসেন, কিংবা যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসেন। আল্লাহ তাঁর হস্তেই বিজয় দেবেন।”আকস্মাৎ আমরা আলী (রাঃ)-কে লক্ষ্য করলাম। আমরা তাঁকে প্রত্যাশা করিনি। মানুষেরা বলল, “ইনি তো আলী।” আর একেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পতাকা দিলেন এবং তাঁর হাতেই আল্লাহ বিজয় প্রদান করলেন।
৬১১৯
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াযীদ ইবনু হাইয়্যান (রহঃ)
আমি, হুসাইন ইবন সাবরা এবং উমর ইবন মুসলিম— আমরা যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তাঁর নিকট বসি তখন হুসাইন (রাঃ) তাকে বললেন, ‘হে যায়দ! আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছেন, তাঁর হাদীস শ্রবণ করেছেন, তাঁর সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। আপনি অনেক কল্যাণ অর্জন করেছেন, হে যায়দ! আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যা শ্রবণ করেছেন তা আমাদের বলুন।’যায়েদ (রাঃ) বললেন, ‘ভাতুষ্পুত্র! আমার বয়স বেড়েছে, আমি পুরনো যুগের মানুষ। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে যা আমি সংরক্ষণ করেছিলাম এর কিয়দংশ ভুলে গেছি। তাই আমি যা বলি তা গ্রহণ করো আর আমি যা না বলি সে সম্বন্ধে আমাকে কষ্ট দিও না।’ এরপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি ‘খুম্ম’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নাসীহাত করলেন। অতঃপর বললেন, ‘হুঁশিয়ার, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, অতি সত্ত্বরই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আসবে, আর আমিও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের নিকট ভারী দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং আলোকবর্তিকা আছে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করো, একে শক্ত করে আঁকড়ে রাখো।’ তারপর তিনি কুরআনের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। এরপর বলেন, ‘আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আহলে বায়ত। আর আমি আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আহলে বায়তের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি।’ হুসাইন (রাঃ) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহলে বায়ত কারা, হে যায়দ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবিগণ কি আহলে বায়তের অধিভুক্ত নন?’ যায়দ (রাঃ) বললেন, ‘বিবিগণও আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু আহলে বায়ত তাঁরাই তাঁর (মৃত্যুর) পর যাঁদের উপর যাকাত নেয়া নিষিদ্ধ।’ হুসাইন (রাঃ) বললেন, ‘এসব লোক কারা?’ যায়দ (রাঃ) বললেন, ‘এরা আলি, আকিল, জাফর ও আব্বাস (রাঃ)-এর পরিবার-পরিজনেরা।’ হুসাইন (রাঃ) বললেন, ‘এদের সবার জন্য যাকাত গ্রহণ নাজায়েয?’ যায়দ (রাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ।
৬১২০
‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।