৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬১১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬১০১
‘উমার (রাঃ) এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ‘উমার (রাঃ)
যখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল ওফাত হন, তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে আরজ করলেন, তিনি যেন নিজ জামা তাঁর পিতার কাফনের জন্য দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে প্রদান করলেন। এরপর আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর পিতার জানাযা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গায়ের কাপড় ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ওর জানাযা পড়বেন? কেননা আল্লাহ আপনাকে তার জানাযা আদায় করতে বারণ করেছেন?রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ অবশ্য আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। বলেছেন: “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, যদি আপনি সত্তরবারও এদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন” .. (সূরা আত তাওবাহ ৯:৭০)। অতএব আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিক মাফ চাইব। উমর (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করলেন: “মুনাফিকদের মাঝে কেউ মরে গেলে কখনো তার জানাযা আদায় করবেন না; আর তার কবরের সন্নিকটেও দাঁড়াবেন না।” (সূরা আত তাওবাহ ৯:৮৪)
৬১০২
‘উমার (রাঃ) এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ (রাঃ)
এ সনদে আবু উসামার হাদিসের সমার্থক হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন এবং বর্ধিত বলেছেন, ‘তারপর তিনি তাদের উপর জানাযা আদায় ছেড়ে দেন’।
৬১০৩
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন, তাঁর উরু কিংবা পায়ের নলা উন্মুক্ত ছিল। আবূ বকর (রাঃ) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথোপকথন করলেন। তারপর উমর (রাঃ) অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বললেন। উসমান (রাঃ) অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে বসলেন এবং তাঁর কাপড় ঠিক করলেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, এ বিষয়টি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি দাবি করি না। অতঃপর উসমান (রাঃ) এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রাঃ) বললেন, আবূ বকর (রাঃ) আসলেন, আপনি তাঁকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না, উমর (রাঃ) আসলেন আপনি তাঁকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না। উসমান (রাঃ) প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি কি সে লোককে লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাঁকে দেখলে লজ্জা পান।
৬১০৪
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ ও উসমান (রাঃ)
আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন নিজের বিছানায় আয়েশার চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবু বকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন, আবু বকর (রাঃ) তাঁর প্রয়োজন শেষে চলে গেলেন। তারপর উমর (রাঃ) অনুমতি চাইলে তাঁকেও অনুমতি দিলেন এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ অবস্থায়ই রইলেন। উমর (রাঃ) তাঁর কাজ সেরে চলে গেলেন।উসমান (রাঃ) বলেন, তারপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আয়েশাকে বললেন, ভালো মতো তোমার শরীরের কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলে আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কি ব্যাপার, আবু বকর ও উমর (রাঃ) আসলে আপনাকে এমন ব্যস্ত হতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উসমান (রাঃ) বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাঁকে আসতে বললে হয়ত সে তাঁর প্রয়োজন আমার নিকট উত্থাপন করতে পারবে না।
৬১০৫
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
উসমান ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, অবশিষ্টাংশ যুহরী (রহঃ) থেকে উকায়ল (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৬১০৬
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাড়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।” তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবু বকর (রাঃ)। আমি দরজা খুললাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম।তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।” তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাঃ)। দরজা খুলে দিলাম এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম।তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন: “খুলে দাও এবং তাঁকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও।” আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান (রাঃ) বললেন: “হে আল্লাহ! আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।”
৬১০৭
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাগিচায় গেলেন এবং আমাকে দরজায় পাহারা দিতে বললেন, তারপর উসমান ইবনু গিয়াস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেন।
৬১০৮
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)
তিনি তাঁর গৃহ থেকে ওযূ সেরে বেরিয়ে বলেন, “আজকের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে থাকবো।” তিনি মসজিদে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। লোকেরা বলল, “তিনি এ দিকে গিয়েছেন।” আবু মুসা (রাঃ) লোকদের নিকট প্রশ্ন করে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বি’রি আরীসে গিয়ে পৌঁছলেন। আবু মুসা (রাঃ) বলেন, “আমি চৌকাঠে বসলাম। এর দরজাটি ছিল খেজুরের ডালে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাজ শেষ করে অযূ করলে আমি তাঁর নিকট গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি ‘আরীস’ কূপের কিনারার মাঝখানে উপবিষ্ট হলেন। তাঁর পা দুইটি হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করে কূপের ভেতর ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিয়ে চৌকাঠের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আর বললাম, ‘অবশ্যই আমি আজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাহারাদার হবো’।” আবু বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম, “কে?” বললেন, “আবু বকর।” আমি বললাম, “দাঁড়ান।” এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর (রাঃ) এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন।” তিনি বললেনঃ “তাঁকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।” আমি এগিয়ে গিয়ে আবু বকরকে বললাম, “প্রবেশ করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।” আবু বকর (রাঃ) প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ডান পাশে কূপে পা লটকিয়ে বসলেন আর পা দুইটি হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করলেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছেন। এরপর আমি প্রত্যাবর্তন শেষে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি ওযূ করছিলেন। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তা’আলা যদি তাঁর মঙ্গল চান তাহলে তাঁকে এখনই এনে দেবেন। এমন সময় এক লোক দরজা নাড়ল। বললাম, “কে?” উত্তর দিলো, “উমর (রাঃ) ইবনুল খাত্তাব।” বললাম, “দাঁড়ান!” পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে সালাম দিয়ে বললাম, “উমর (রাঃ) এসেছেন, তিনি প্রবেশের অনুমতি চান।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “অনুমতি দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।” উমরের নিকট এসে বললাম, “আসুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন।” উমর (রাঃ) প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, “আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের ভাল চান তাহলে তাঁকে এনে দেবেন।” এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়ল। আমি বললাম, “কে?” বলল, “উসমান ইবনু আফফান।” বললাম, “দাঁড়ান!” আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ “তাঁকে প্রবেশ করতে দাও এবং আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দাও।” আমি এসে বললাম, “প্রবেশ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে একটি আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন।” উসমান (রাঃ) প্রবেশ করে দেখলেন কূপের একপাশ ভরাট হয়ে আছে। তিনি তাঁদের মুখোমুখি হয়ে কূপের অন্য পাশে বসলেন। শরীক (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন, “আমি এ বৈঠকের বিশ্লেষণ করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবরের অবস্থান।
৬১০৯
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্ধানে বের হয়ে দেখলাম তিনি বাগিচার দিকে গিয়েছেন। আমি একটি বাগিচায় গিয়ে দেখি তিনি কুয়ার চাকের উপর পা দুইটি ঝুলিয়ে বসে আছেন, তাঁর পা দুইটি হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করলেন। এখানে সা’ঈদ (রহঃ)-এর কথা আমি বিশ্লেষণ করলাম যে, তাদের কবরও এভাবে কথাটি উল্লেখ নেই।
৬১১০
উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোন প্রয়োজনে মদীনার এক বাগিচায় গেলেন। আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। তারপর সুলাইমান ইবনু বিলাল-এর হাদিসের অবিকলভাবে তিনি (রাবী) এ হাদিস রেওয়ায়াত করেন। এ হাদিসে এও বর্ণনা রয়েছে যে, ইবনু মুসাইয়্যিব (রাঃ) বলেন, আমি এর বিশ্লেষণ করলাম যে, তা হচ্ছে কবরের নিদর্শন। সকলে একত্রে আর পৃথকভাবে আছেন উসমান (রাঃ)।