৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬০৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬০৫১
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে রাতে আমার মি‘রাজ হয়েছিল সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। লাল বালুকা স্তূপের নিকট তাঁর কবরে তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।
৬০৫২
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি তাঁর কবরে সালাত আদায় করছিলেন। ‘ঈসার হাদীসে বর্ধিত আছে যে, “আমাকে যে রাতে মি‘রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে রাতে আমি যাচ্ছিলাম।”
৬০৫৩
ইউনুস (‘আঃ)-এর বর্ণনা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উক্তি- কারো এ কথা বলা ঠিক নয় যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেছেন, “আমার কোন বান্দার ক্ষেত্রেই এ কথা বলা ঠিক নয় যে, ‘ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ) হতে আমি উত্তম’।”
৬০৫৪
ইউনুস (‘আঃ)-এর বর্ণনা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উক্তি- কারো এ কথা বলা ঠিক নয় যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বান্দার পক্ষেই এ কথা বলা উচিত নয়, “আমি ইউনুস ইবনে মাত্তা (আঃ) হতে উত্তম।” ইউনুস (আঃ)-কে এখানে তাঁর পিতার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
৬০৫৫
ইউসুফ (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মানুষের মাঝে সবচাইতে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: তাদের মাঝে সর্বোত্তম মুত্তাকী ব্যক্তি। প্রশ্নকারীরা বললেন, আমরা এ ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করছি না। তিনি বললেন: তবে ইউসুফ (আঃ) আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর নবীর সন্তান, আল্লাহর নবীর সন্তান, যিনি আল্লাহর খলিলের পুত্র। তারা বলল, এ ব্যাপারেও আমরা আপনাকে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন: তবে কি তোমরা আরবের বংশ-উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করছ? জাহিলি যুগে যারা তাদের মাঝে উত্তম ছিল ইসলামের পরও তারাই উত্তম গণ্য, তারা যদি দ্বীনের ইলম অর্জন করে।
৬০৫৬
যাকারিয়্যা (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জাকারিয়া (আঃ) কাঠমিস্ত্রী ছিলেন।
৬০৫৭
খাযির (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)
আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নাওফ বিকালী বলেন যে, বনি ইসরাইলের নবী মূসা খিযির (আঃ)-এর সঙ্গী মূসা নন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যারোপ করেছে। আমি উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আঃ) বনি ইসরাইলের মধ্যে খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন লোক সর্বাধিক জ্ঞানী? তিনি জবাব দিলেন, “আমি সর্বাধিক জ্ঞানী।” আল্লাহ তা'আলা (এ উত্তরে) তাঁর প্রতি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করলেন। কেননা, মূসা (আঃ) জ্ঞানকে আল্লাহর প্রতি ন্যস্ত করেননি। তারপর আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী প্রেরণ করলেন যে, দুই সাগরের মধ্যস্থলে আমার বান্দাদের মাঝে এক বান্দা আছে, যে তোমার তুলনায় বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে প্রতিপালক! আমি কীভাবে তাঁর সন্ধান পাব? তাঁকে বলা হলো, থলের ভেতর একটি মাছ নাও। মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে সেখানেই তাঁকে পাবে। তারপর তিনি রওনা হলেন। তাঁর সাথে তাঁর খাদিম ইউশা ইবনু নূনও চললেন এবং মূসা (আঃ) একটি মাছ ব্যাগে নিয়ে নিলেন। তিনি ও তাঁর খাদিম চলতে চলতে একটি পাথরে উপস্থিত হলেন। এখানে মূসা (আঃ) শুয়ে পড়লেন। তাঁর সঙ্গীও শুয়ে পড়ল। মাছটি নড়েচড়ে ব্যাগ হতে বের হয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এদিকে আল্লাহ তা'আলা পানির গতিরোধ করে দিলেন। এমনকি একটি গর্তের মতো হয়ে গেল এবং মাছটির জন্য একটি সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে গেল। মূসা (আঃ) ও তাঁর খাদিমের জন্য এটি একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো।তারপর তাঁরা আবার দিবা-রাত্রি চললেন। মূসা (আঃ)-এর সঙ্গী সংবাদটি দিতে ভুলে গেল। যখন সকাল হলো মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেন, আমাদের নাস্তা বের করো। আমরা তো এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আদেশকৃত জায়গা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্লান্ত হননি। খাদিম বলল, আপনি কি জানেন, যখনই আমরা বড় পাথরটার নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম তখন আমি মাছের কথাটি ভুলে গেলাম? আর শয়তানই আমাকে আপনাকে বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে মাছটি সমুদ্রে তার নিজের পথ বের করে চলে গেছে। মূসা (আঃ) বললেন, এ স্থানটিই তো আমরা সন্ধান করছি। তারপর দুজনেই নিজ নিজ পায়ের চিহ্ন অনুকরণ করে বড় পাথর পর্যন্ত পৌঁছলেন। সেখানে চাদরে আচ্ছাদিত জনৈক লোককে দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। খিযির (আঃ) বললেন, তোমাদের এ ভূমিতে সালামের সূত্র কোথা থেকে? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। তিনি প্রশ্ন করলেন, বনি ইসরাইলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। খাযির বললেন, আল্লাহ তাঁর ইলম হতে এমন এক ইলম তোমাকে দিয়েছেন যা আমি জানি না এবং আল্লাহ তাঁর ইলম হতে এমন এক ইলম আমাকে দিয়েছেন যা তুমি জান না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি আপনার সঙ্গে থাকতে চাই যেন আপনার মতো ইলম আমাকে দান করেন। খিযির (আঃ) বললেন, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর কী করেই তুমি ধৈর্য ধারণ করবে, যা সম্পর্কে তুমি অজ্ঞাত? মূসা (আঃ) বললেন ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল অবস্থায় পাবেন। আর আপনার কোনো আদেশ আমি অমান্য করব না। খিযির (আঃ) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরণ করো তবে আমি নিজে কিছু বর্ণনা না করা পর্যন্ত কোনো ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। মূসা (আঃ) বললেন, আচ্ছা।খিযির এবং মূসা (আঃ) দুজনে সমুদ্রের তীর ধরে পথ চলতে লাগলেন। সামনে দিয়ে একটি নৌকা আসলো। তারা নৌকাওয়ালাকে তাঁদের তুলে নিতে বললেন। তারা খিযির (আঃ)-কে চিনে ফেলল, তাই দুইজনকে বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর খিযির (আঃ) নৌকার একটি তক্তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তা উঠিয়ে ফেললেন। (তা দেখে) মূসা (আঃ) বললেন, তারা তো এমন ব্যক্তি যারা আমাদের বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিয়েছে; আর আপনি তাদের নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে নৌকা ডুবে যায়? আপনি তো সাংঘাতিক কাজ করেছেন। খিযির (আঃ) বললেন, আমি কি তোমায় বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে সক্ষম হবে না। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি আমার এ ভুল মাফ করে দেবেন। আর আমাকে কঠিন অবস্থায় ফেলবেন না। তারপর নৌকার বাইরে এলেন এবং উভয়ে সমুদ্র তীর ধরে চলতে লাগলেন। হঠাৎ একটি বালকের সম্মুখীন হলেন, যে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলা করছিল। খিযির (আঃ) তাঁর মাথাটা হাত দিয়ে ধরে ছিঁড়ে ফেলে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত একটা নিষ্পাপ প্রাণকে শেষ করে দিলেন? আপনি তো বড়ই মন্দ কাজ করলেন! খিযির (আঃ) বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, আমার সঙ্গে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না এবং এ ভুল প্রথমটার তুলনায় আরও মারাত্মক। মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ! তারপর যদি আর কোনো ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি তাহলে আমাকে সাথে রাখবেন না। নিঃসন্দেহে আপনার প্রতি আমার ত্রুটি চরমে পৌঁছেছে। তারপর দুজনেই পথ চলতে লাগলেন এবং একটি গ্রামে পৌঁছে গ্রামবাসীর নিকট খাদ্য চাইলেন। তারা তাঁদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। তারপর তাঁরা একটি দেয়াল পেলেন, যেটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে অর্থাৎ- ঝুঁকে পড়েছে। খিযির (আঃ) নিজ হাতে সেটি ঠিক করে সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আমরা এ গোত্রের নিকট আসলে তারা আমাদের মেহমানদারি করেনি এবং খেতে দেয়নি। আপনি চাইলে এদের কাছ থেকে মজুরি নিতে পারতেন। খিযির (আঃ) বললেন, এবার আমার ও তোমার মাঝে ব্যবধান সূচিত হলো। এখন আমি তোমাকে এসব মর্মার্থ বলছি, যে সবের উপর তুমি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হওনি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন, আমার ইচ্ছা হয় যে, যদি তিনি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে আমাদের নিকট তাঁদের আরও ঘটনাসমূহের বর্ণনা দেয়া হতো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রথমটা মূসা (আঃ) ভুলবশত করেছিলেন। এ-ও বলেছেন, একটা চড়ুই পাখি এসে নৌকার কিনারে বসে সমুদ্রে চঞ্চু মারল। সে সময় খিযির (আঃ) মূসাকে বললেন, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় এতটাই কম, যতটা সমুদ্রের পানি হতে এ চড়ুইটি কমিয়েছে। সা‘ঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) পড়তেন: وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا (এদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, যে সকল ভাল নৌকা কেঁড়ে নিত) তিনি আরও পড়তেন, وَكَانَ الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا (আর সে বালকটি কাফির ছিল)।
৬০৫৮
খাযির (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ জুবায়র (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলা হলো, নাওফ দাবী করে যে, মূসা (আঃ) যিনি জ্ঞান অনুসন্ধানে বেরিয়ে ছিলেন, তিনি বনি ইসরাইলের মূসা নন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, হে সাঈদ! তুমি কি তাকে এ কথা বলতে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি বললেন, নাওফ মিথ্যারোপ করেছে।
৬০৫৯
খাযির (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, মূসা (আঃ) একদা তাঁর গোষ্ঠীর সম্মুখে আল্লাহর নিয়ামত এবং বালা-মুসীবত মনে করিয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলে ফেললেন, “দুনিয়াতে আমার তুলনায় উত্তম এবং অধিক জ্ঞানী কোন লোক আছে বলে আমার জানা নেই।” আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর প্রতি ওহী পাঠালেনঃ “আমি জানি মূসার চাইতে উত্তম কে বা কার নিকট কল্যাণ রয়েছে। পৃথিবীতে অবশ্যই এক লোক রয়েছে যে, তোমার তুলনায় অধিক জ্ঞানী।”মূসা (আঃ) বললেন, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাঁর পথ জানিয়ে দিন।” তাঁকে বলা হলো, “লবণাক্ত একটি মাছ সাথে নিয়ে যাও। এ মাছ যেখানে হারিয়ে যাবে সেখানেই সে ব্যক্তি আছে।” মূসা (আঃ) এবং তাঁর খাদিম রওনা হলেন, পরিশেষে তাঁরা একটি বড় পাথরের নিকট পৌঁছালেন। সে সময় মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গীকে রেখে গোপনে চলে গেলেন। তারপর মাছটি ছটফট করে পানিতে নেমে গেল এবং পানিও ছিদ্রের মতো রয়ে গেল, মাছের রাস্তায় সংমিশ্রণ হলো না। মূসা (আঃ)-এর খাদিম বললেন, “হ্যাঁ, আমি আল্লাহর নবীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাঁকে এ বিবরণ দিব।” তারপরে তিনি ভুলে গেলেন।তাঁরা যখন আরো সম্মুখে চলে গেলেন, তখন মূসা (আঃ) বললেন, “আমার নাশতা দাও, এ সফরে তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।” নবী (ﷺ) বলেন, “যতক্ষণ তাঁরা এ জায়গাটি ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের ক্লান্তি আসেনি।” তাঁর সাথীর যখন স্মরণে আসলো তখন বলল, “আপনি কি জানেন যখন আমরা পাথরের নিকট আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গেছি। আর শয়তানই আমাকে আপনার নিকট বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং অবাক করার মতো মাছটি সমুদ্রে তার রাস্তা করে নিয়েছে।” মূসা (আঃ) বললেন, “এ-ই তো ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।” সুতরাং তাঁরা পথ অনুসরণ করে প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তাঁর খাদিম মাছের জায়গাটি তাঁকে দেখালো। মূসা (আঃ) বললেন, “এ জায়গার বর্ণনাই আমাকে দেয়া হয়েছিল।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তারপর মূসা (আঃ) সন্ধান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি কাপড়ে ঢাকা খিযির (আঃ)-কে গলদেশের উপর চিৎ হয়ে ঘুমানো দেখতে পেলেন। কিংবা অন্য বর্ণনায়, গলদেশের উপর সোজাসুজি। মূসা (আঃ) বললেন, “আসসালামু ‘আলাইকুম।” খিযির (আঃ) মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, “ওয়া ‘আলাইকুমুস সালাম, তুমি কে?” মূসা (আঃ) বললেন, “আমি মূসা।” তিনি বললেন, “কোন্ মূসা?” মূসা (আঃ) উত্তর দিলেন, “বনী ইসরাঈলের মূসা।” খিযির (আঃ) বললেন, “তোমার এ মহান আগমন কিসের জন্য?” মূসা (আঃ) বললেন, “আমি এসেছি যেন আপনাকে যে জ্ঞান দান করা হয়েছে তা হতে আপনি আমায় কিছু শিক্ষা দেন।”খিযির (আঃ) বললেন, “আমার সাথে তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না। আর এমন ব্যাপারে কেমন করে তুমি ধৈর্য ধরবে, যার ইলম তোমাকে দেয়া হয়নি। এরূপ বিষয় হতে পারে যা করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তুমি যখন তা দেখবে তখন তুমি ধৈর্য ধারণ করবে না।” মূসা (আঃ) বললেন, “ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যেই পাবেন। আর আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।” খিযির (আঃ) বললেন, “তুমি আমার অনুগামী হও তবে আমাকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যতক্ষণ না আমি নিজেই এ ব্যাপারে বর্ণনা করি।”তারপর উভয়ই চললেন, পরিশেষে একটি নৌকায় চড়লেন। তখন খিযির (আঃ) নৌকার একাংশ ভেঙ্গে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, “আপনি কি নৌকাটি ভেঙ্গে ফেললেন, নৌকারোহীদের ডুবিয়ে ফেলার জন্যে? আপনি তো বড় মারাত্মক কাজ করলেন।” খিযির (আঃ) বললেন “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না?” মূসা (আঃ) বললেন, “আমি ভুলে গিয়েছি, আপনি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। আমার ব্যাপারটিকে আপনি কঠিন করবেন না।”পুনরায় উভয়ে চলতে লাগলেন। এক স্থানে দেখতে পেলেন বালকরা খেলায় লিপ্ত। খিযির (আঃ) অবলীলাক্রমে একটি শিশুর নিকট গিয়ে তাকে হত্যা করলেন। এতে মূসা (আঃ) খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, “আপনি প্রাণ বিনিময় ছাড়াই একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি বড়ই নৃশংস কাজ করেছেন।” এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের ও মূসা (আঃ)-এর উপর, তিনি যদি জলদি না করতেন তাহলে অবাক হওয়ার আরো মতো অনেক ঘটনা দেখতে পেতেন। তবে তিনি খিযির (আঃ)-এর সম্মুখে লজ্জিত হয়ে বললেন, “তারপর যদি আমি আপনাকে আর কোন কিছু জিজ্ঞেস করি তবে আপনি আমায় সাথে রাখবেন না। সত্যিই আমার ব্যাপার খুবই আপত্তিকর হয়েছে। যদি মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরতেন তাহলে আরো বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পেতেন।”যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন নবীর বর্ণনা করতেন, প্রথমে নিজেকে দিয়ে আরম্ভ করতেন আর বলতেন, “আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন এবং আমার অমুক ভাইয়ের উপরও।” এভাবে নিজেদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করতেন। অতঃপর দু’জনে চললেন এবং মন্দ লোকদের একটি লোকালয়ে গিয়ে উঠলেন। তারা লোকদের অসংখ্য জায়গায় ঘুরে তাদের নিকট খাবার চাইলেন। তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তাঁরা ধ্বসে পড়ার উপক্রম একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। খিযির (আঃ) সেটি মেরামত করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, “আপনি চাইলে এর বিনিময়ে মজুরি নিতে পারতেন।” খিযির (আঃ) বললেন, “এখানেই আমার আর তোমার মাঝে সম্পর্কছেদ।”খিযির (আঃ) মূসা (আঃ)-এর বস্ত্র ধরে বললেন, “তুমি যেসব বিষয়ের উপর ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছিলে সে সবের ঘটনা বলে দিচ্ছি। ‘নৌকাটি ছিল কিছু গরীব লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত’ – আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তারপর যখন এটাকে দখল করতে লোক আসলো, তখন ছিদ্রযুক্ত (অচলাবস্থা) দেখে ছেড়ে দিল। অতঃপর নৌকাওয়ালারা একটা কাঠ দ্বারা নৌকাটি মেরামত করে নিলো। আর বালকটি সূচনালগ্নেই ছিল কাফির। তার মা-বাবা তাকে বড়ই আদর করত। সে বড় হলে ওদের দু’জনকেই অবাধ্যতা ও কুফরির দিকে নিয়ে যেত। অতএব আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম, আল্লাহ যেন তাদেরকে এর বিনিময়ে আরো উত্তম পবিত্র স্বভাবের ও অধিক স্নেহভাজন ছেলে দান করেন। ‘আর দেয়ালটি ছিল শহরের দু’টো ইয়াতিম বালকের’- আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
৬০৬০
খাযির (‘আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ (রাঃ)
অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।