৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬০৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬০৩১
‘ঈসা (আঃ)এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
মারইয়াম (আঃ)-এর পুত্র ঈসা (আঃ) একজন লোককে চুরি করতে দেখলেন। সে সময় তিনি তাকে বললেন, তুমি চুরি করেছ। সে বলল, কখনো না। যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনো মাবুদ নেই, তাঁর কসম! (আমি চুরি করিনি)। তখন ঈসা (আঃ) বললেন, আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম আর আমি নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করলাম।
৬০৩২
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ)
জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে সৃষ্টির সেরা! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তিনি (সৃষ্টির সেরা) তো ইব্রাহিম (আঃ)।
৬০৩৩
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬০৩৪
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬০৩৫
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইব্রাহিম (আঃ) কুড়ালজাত অস্ত্র দ্বারা খাতনা করেছেন, সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল আশি বছর।
৬০৩৬
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আমরা ইব্রাহিম (আঃ)-এর চেয়ে সর্বাধিক সন্দেহপরায়ণ। যখন তিনি বলেছিলেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি মৃতকে কিভাবে জীবিত করেন, আমাকে দেখান। তিনি বললেন: তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেন: কেন করব না, তবে তা শুধু আমার আত্মার প্রশান্তির জন্য। লুত (আঃ)-কে আল্লাহ রহম করুন, তিনি মজবুত-কঠিন স্তম্ভের আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আমি যদি ইউসুফ (আঃ)-এর মত দীর্ঘ সময় জেলখানায় কারাবদ্ধ হতাম তবে আহ্বানকারীর ডাক শুনামাত্র সাড়া দিতাম।
৬০৩৭
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে ইউনুস তার সানাদে যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের মর্মে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬০৩৮
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সানাদে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আল্লাহ লূত (আঃ)-কে মাফ করে দিন, তিনি শক্ত-কঠিন খুঁটির আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।
৬০৩৯
ইব্‌রাহীম খলীল ‘(আঃ)- এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: নবী ইব্রাহিম (আঃ) কখনো মিথ্যা বলেননি; তিনবার ছাড়া। দু’বার আল্লাহ সম্পর্কিত। একবার তো তিনি বলেছিলেন, ‘আমি রোগগ্রস্ত’, আর তাঁর কথা, “বরং এদের বড়টাই এই কাজ করেছে”। অন্যটা ‘সারা’ সম্পর্কে। যে সময় তিনি এক জালিম শাসকের দেশে গিয়েছিলেন, সারা তাঁর সাথে ছিলেন। সারা ছিলেন সুন্দরীদের সেরা। সে সময় ইব্রাহিম (আঃ) সারাকে বললেন, এ জালিম শাসক যদি অবহিত হন যে, তুমি আমার সহধর্মিনী তবে তোমাকে জোরপূর্বক নিয়ে নেবে। সুতরাং তোমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, তুমি বলবে যে, তুমি আমার বোন। ইসলামের দিক দিয়ে তুমি তো আমার বোনই হও। কারণ তুমি আর আমি ব্যতীত দুনিয়াতে আর কোনো মুসলিম রয়েছে বলে আমার জানা নেই।যখন ইব্রাহিম (আঃ) সে জালিম শাসকের দেশে পৌঁছালেন, তখন শাসকের লোকজন তাঁর নিকট সারাকে দেখে শাসকের নিকট এসে বলল, আপনার ভূমিতে এমন একজন নারী এসেছে, আপনিই কেবল তার উপযুক্ত। শাসক সারাকে ডেকে পাঠালে ইব্রাহিম (আঃ) সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন সারা শাসকের নিকট পৌঁছালেন, সে বেহুঁশের মতো সারার দিকে হাত বাড়াতেই তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এঁটে গেল। শাসক বলল, তুমি আল্লাহর নিকট আমার হাত খুলে যাওয়ার দোয়া করো। আমি তোমাকে বিরক্ত করব না। তিনি দোয়া করলেন। আবার সে হাত বাড়াল, তখন প্রথম মুষ্ঠির চেয়ে অধিক শক্ত হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। সারাকে সে আগের মতোই বলল। তিনি দোয়া করলেন। পুনরায় সে হাত বাড়াল। তখন প্রথম দু’বারের চেয়ে আরো বেশি শক্তভাবে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। তখন শাসক বলল, তুমি আল্লাহর কাছে আমার হাত খুলে দেয়ার জন্য দোয়া করো, আল্লাহর শপথ! তোমাকে আমি উত্যক্ত করব না। তিনি দোয়া করলেন। তার হাত খুলে গেল। তখন সে ঐ ব্যক্তিটিকে ডাকলো যে সারাকে এনেছিল। বলল, তুই তো আমার নিকট শয়তান এনে দিয়েছিস, মানুষ আনিসনি। একে আমার ভূমি থেকে বের করে দে। সঙ্গে হাজরাকে দিয়ে দে।রাবী বলেন, সারা এগিয়ে চললেন। ইব্রাহিম (আঃ) তাঁকে দেখে এগিয়ে এলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করলেন, কি ঘটল? তিনি বললেন, ভালোই। আল্লাহ তা’আলা আমার উপর থেকে এই দুষ্কৃতিকারীর হাত ফিরিয়ে রেখেছেন। আর একটি সেবিকাও দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এ সেবিকাই তোমাদের মা, হে আকাশের পানির সন্তানেরা।
৬০৪০
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বনি ইসরাইলরা বস্ত্রবিহীন অবস্থায় গোসল করত। তারা পরস্পরের গুপ্তাঙ্গ দেখত। আর মূসা (আঃ) একাকী গোসল করতেন। লোকেরা বলত, মূসা আমাদের সঙ্গে গোসল করে না। কেননা [মূসা (আঃ)-এর] অণ্ডকোষে রোগ আছে।বর্ণনাকারী বলেন, একদা মূসা (আঃ) পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল দিচ্ছিলেন। সে সময় পাথরটি তাঁর বস্ত্র নিয়ে ছুটতে লাগল। তখন মূসা (আঃ) “ও পাথর! আমার কাপড় দে”, “হে পাথর! আমার কাপড় দে” বলে পাথরটির পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলেন, এতে বনি ইসরাইল (প্রকাশ্যে) তাঁর গুপ্তাঙ্গ দেখে ফেলল এবং বলল, আল্লাহর শপথ! মূসার তো কোন রোগ নেই। তারপর পাথরটি থেমে গেল, যখন ভালভাবে তা দৃষ্টিপাত হল। মূসা (আঃ) কাপড় নিলেন এবং পাথরটিকে মারতে শুরু করলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এ পাথরটির গায়ে মূসা (আঃ)-এর ছয় থেকে সাতটি মারের চিহ্ন রয়েছে।