৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬০৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬০৪১
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
মূসা (আঃ) অতি লজ্জাশীল লোক ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁকে কেউ বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখেনি। বনী ইসরাইলরা বলত, মূসার অণ্ডকোষ রোগগ্রস্ত। একদা তিনি পানিতে গোসল করতে গিয়ে কাপড়গুলো একটা পাথরের উপর রাখলেন। পাথরটি (কাপড়সহ) দৌড়ে পালাতে লাগল। তিনি তাঁর লাঠি হাতে পাথরটিকে মারতে মারতে এর পশ্চাতে ছুটলেন এবং বলতে লাগলেন, “হে পাথর! আমার কাপড়, হে পাথর! আমার কাপড়।”পাথরটি বনী ইসরাইলের এক জনসমাবেশে গিয়ে থামল। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাজিল হলঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের ন্যায় হয়ো না, যারা মূসা (আঃ)-কে অপবাদ দিয়েছে। তাদের দেয়া অপবাদ হতে আল্লাহ তাঁকে পবিত্র করে দিয়েছেন এবং তিনি আল্লাহর নিকট ছিলেন সম্মানিত।” (সূরা আল আহযাব ৩৩:৬৯)
৬০৪২
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
মালাকুল মাওতকে মুসা (আঃ)-এর নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। যখন ফেরেশতা তাঁর নিকট আসলেন তখন মুসা (আঃ) তাঁকে একটা চড় মারলেন। তাতে তাঁর একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেল। তারপর তিনি আল্লাহর নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না।বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতার দৃষ্টি পুনর্বহাল করে দিয়ে বললেন, পুনরায় তাঁর কাছে যাও এবং তাঁকে বলো, সে যেন তাঁর হাত একটি বলদের পৃষ্ঠের উপর রাখে। এতে যতগুলো লোম তাঁর হাতের নিচে পড়বে প্রতিটি লোমের পরিবর্তে সে এক বছর হায়াত পাবে।মুসা (আঃ) বললেন, তারপর কী হবে? আল্লাহ বলেন, তারপর মরণ। মুসা (আঃ) বললেন, তাহলে এখনই। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে পবিত্র ভূমির এক ঢিলের কাছাকাছি করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে পথের পাশে লাল বালির স্তূপের নিকট মুসা (আঃ)-এর কবর দেখিয়ে দিতাম।
৬০৪৩
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আঃ)-এর নিকট এসে বলল, মূসা! তোমার প্রতিপালকের নিকট চলো। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মূসা (আঃ) তাঁর চোখের উপর তাকে একটা চপেটাঘাত করলেন, এতে তাঁর চোখ নষ্ট হয়ে গেল। তারপর ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না এবং সে আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে।আল্লাহ তাঁর চোখ ঠিক করে দিলেন এবং বললেন, আমার বান্দার নিকট আবার যাও এবং বলো, তুমি কি আরও দীর্ঘায়ু চাও? যদি তা চাও তবে তোমার হাত একটি বলদের পৃষ্ঠের উপর রাখো। এতে তোমার হাতের নিচে যতগুলো পশম পড়বে, তত বছর তুমি জীবিত থাকবে। মূসা (আঃ) বললেন, তারপর কি? আল্লাহ বললেন, তারপর মৃত্যুবরণ করবে।মূসা (আঃ) বললেন, তবে এখনই ভাল। হে আল্লাহ! আমাকে পবিত্র ভূমি একটি পাথরের ঢিলের দূরত্বে নিয়ে মৃত্যু দান করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! যদি আমি সেখানে থাকতাম তবে পথের কিনারে লাল বালুকা স্তূপের পাশে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।
৬০৪৪
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক, মা’মার (রহঃ)
আবু ইসহাক (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া (রহঃ) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। মামার (রহঃ) অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৬০৪৫
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
এক ইহুদি কিছু মাল বিক্রি করছিল। দাম দেয়া হলে সে তাতে মনতুষ্ট হলো না, কিংবা এটাকে খারাপ মনে করল। সে বলল, না হবে না, তাঁর কসম যিনি মূসা (আঃ)-কে লোকদের জন্য মনোনীত করেছেন। এ কথা এক আনসারী শুনতে পেয়ে ইহুদির গালে একটি চড় মারলেন এবং বললেন, তুই বলিস, মূসা (আঃ)-কে লোকদের মধ্য হতে মনোনীত করেছেন অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদ্যমান রয়েছেন। ঐ ইহুদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমি যিম্মী এবং মুসলিম দেশের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত মানুষ, আমাকে অমুক লোক চড় মেরেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্ন করলেন, কেন তুমি তার গালে চড় দিলে? আনসারী বললেন, সে বলেছে যিনি মানুষের মধ্যে মূসা (আঃ)-কে মনোনীত করেছেন অথচ আপনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুব ক্রোধান্বিত হলেন। রাগের চিহ্ন তাঁর মুখমণ্ডলে ফুটে উঠল।আর বললেনঃ নবীদের মাঝে একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদা দিও না। কারণ যখন কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন আসমান ও জমিনের সবাই বেহুশ হয়ে পড়বে, কেবল আল্লাহ যাদের চাইবেন তাঁরাই ব্যতীত। এরপরে দ্বিতীয়বার যখন ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন সর্বপ্রথম আমিই উত্থিত হব এবং দেখতে পাব যে, মূসা (আঃ) ‘আরশ ধরে রয়েছেন। আমার জানা নেই যে, তূর পাহাড়ে তাঁর বেহুশ হওয়াটাই তাঁর এখনকার বেহুশ না হওয়ার কারণ, না আমার আগেই তাঁকে চেতনা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে? আর আমি এ কথাও বলি না যে, কোন পয়গম্বর ইউনুস ইবনে মাত্তা (আঃ)-এর তুলনায় অনেক মর্যাদাবান।
৬০৪৬
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল ‘আযীয ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাঃ)
একই সূত্রে হুবহু হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৬০৪৭
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
এক ইয়াহুদি ও এক মুসলিম পরস্পর গালাগালি করল। মুসলিম বলল, "তাঁর কসম! যিনি সারা দুনিয়ার মাঝে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নির্বাচিত করেছেন।" ইয়াহুদি বলল, "কসম তাঁর! যিনি মূসা (আঃ)-কে নির্বাচিত করেছেন সারা দুনিয়ার মাঝে!"বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় মুসলিম হাত তুলল এবং ইয়াহুদি’র গালে চড় মারল। অতঃপর ইয়াহুদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেল এবং তার ও মুসলিমের ঘটনা বলল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর মর্যাদা দিও না। কেননা মানুষেরা যখন বেহুঁশ হবে, সর্বপ্রথম আমি হুঁশ ফিরে পাব, তখন দেখতে পাব যে, মূসা (আঃ) ‘আরশের কিনারা ধরে রয়েছেন। জানি না, তিনি কি বেহুঁশ হয়ে আমার আগেই হুঁশ ফিরে পেয়েছেন, নাকি যারা বেহুঁশ হননি তিনি তাঁদের মাঝে রয়েছেন।"
৬০৪৮
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
এক মুসলিম ও ইহুদি পরস্পর গালাগালি করল-তারপর ইব্রাহিম ইবনু সাঈদ ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত হাদিসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৬০৪৯
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
এক ইয়াহুদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল তার গালে চড় দেয়া হয়েছে- যুহরীর হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি শুধু এ কথাই বলেছেন যে, “জানি না তিনি অচেতন হয়ে আমার পূর্বেই হুঁশ ফিরে পেয়েছেন, নাকি তূরের অচেতনই তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছে।”
৬০৫০
মুসা‘ (আঃ)-এর ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নবীদের মাঝে একের উপরে অন্যকে প্রাধান্য দিও না।