৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৯২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৯১১
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বোত্তম চরিত্রবান ছিলেন পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমস্ত লোকের মাঝে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
৫৯১২
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কেউ কিছু কামনা করলে কোন দিন তিনি ‘না’ বলেননি।
৫৯১৩
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদিরের সানাদে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
৫৯১৪
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তা দিয়ে দিতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জনৈক লোক নবী (ﷺ)-এর নিকট আসল। তিনি তাকে এত বেশি ছাগল দিলেন যাতে দু’উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর সে লোক তার গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবুল কর। কারণ মুহাম্মাদ (ﷺ) অভাবের আশঙ্কা না করে দান করতেই থাকেন।
৫৯১৫
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে দুই পাহাড়ের মাঝামাঝি ছাগলগুলো চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে লোক তার গোত্রের নিকট প্রত্যাবর্তন শেষে বলল, ‘হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবুল কর। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ (ﷺ) অভাবের আশঙ্কা না করে দান করেন।’ আনাস (রাঃ) বলেন, যদিও মানুষ শুধু ইহকালের উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করে তবুও ইসলাম গ্রহণ করতে না করতেই ইসলাম তার কাছে পৃথিবী এবং পৃথিবীর সকল প্রাচুর্যের চাইতে অধিকতর প্রিয় হয়ে যায়।
৫৯১৬
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ করেন। এরপর তাঁর সাথে যে সব মুসলিম ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বের হন। আর তাঁরা সবাই হুনাইনের যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের এবং মুসলিমদের সাহায্য করেন। সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফওয়ান ইবন উমাইয়াকে সাফওয়ান ইব্‌নু উমাইয়্যাহকে একশ’ উট দান করেন। এরপর একশ উট, পুনরায় আরও একশ উট প্রদান করেন। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, সাফওয়ান (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দান করলেন এবং এমন পরিমাণে আমাকে দান করলেন যে, তিনি আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় লোক ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে অবিরাম দান করতে থাকলেন এমনকি আমার নিকটে সবচেয়ে পছন্দের লোক হয়ে গেলেন।
৫৯১৭
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমাদের নিকট যদি বাহরাইন হতে মাল আসে তাহলে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব এবং তিনি উভয় হাত একত্র করলেন। এরপর বাহরাইন থেকে মাল আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরলোক গমন করেন।তারপর আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে বাহরাইন হতে মাল আসে। তিনি একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, নবী (ﷺ)-এর উপর যার কিছু ওয়াদা অথবা ঋণ রয়েছে সে যেন (আমার) নিকট আসে। তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন যে, বাহরাইন থেকে যদি আমাদের কাছে মাল আসে তবে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব। এ কথা শুনে আবূ বকর (রাঃ) এক অঞ্জলি উঠালেন এবং বললেন, গুনে দেখো। আমি তা গুনে দেখলাম তাতে পাঁচশ’ আছে। অতঃপর তিনি বললেন, এর চেয়ে আরো দ্বিগুণ তুমি নিয়ে নাও।
৫৯১৮
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো ‘না’ বলেননি এবং তাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
যখন নবী (ﷺ) ইন্তিকাল করলেন এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আলা ইবন হাযরামির তরফ হতে মাল আসলো। তখন আবু বকর (রাঃ) ঘোষণা দিলেন, যার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ঋণ রয়েছে কিংবা তাঁর তরফ হতে কোন ওয়াদা রয়েছে, সে যেন আমার কাছে চলে আসে। অবশিষ্টাংশ হাদিস ইবন উয়ায়নার অবিকল।
৫৯১৯
ছেলেদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দয়া, বিনয়, আন্তরিকতা এবং তাঁর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রাত্রে আমার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, আমি তার নাম আমার পিতা ইব্রাহীম (আঃ)-এর নামে রাখি। এরপর তিনি উম্মু সাইফ নামক একজন মহিলাকে ঐ সন্তানটি দিলেন। তিনি একজন কর্মকারের সহধর্মিণী। কর্মকারের নাম আবু সাইফ। নবী (ﷺ) একদিন আবু সাইফের নিকট যাচ্ছিলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিলাম। যখন আমরা আবু সাইফের গৃহে উপস্থিত হই তখন সে তার হাপর বা ফুঁকনীতে ফুঁক দিচ্ছিল, সারা গৃহ ধোঁয়ায় ভরপুর ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আগে দৌড়ে গিয়ে আবু সাইফকে বললাম, তুমি একটু থামো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসছেন। সে থামল। এরপর নবী (ﷺ) ছেলেকে ডাকলেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন এবং যা আল্লাহর ইচ্ছা রয়েছে তা বললেন।আনাস (রাঃ) বলেন, আমি এ ছেলেকে দেখলাম, সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে বড় বড় শ্বাস ফেলছিল। তা দেখে রসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর দু’নয়ন অশ্রু ভিজে গেল। আর তিনি বললেনঃ চোখ কাঁদছে, মন কাতর হচ্ছে, মুখে আমরা তাই বলব রব্বুল ‘আলামীন যা পছন্দ করেন। হে ইব্রাহিম! আল্লাহর শপথ! আমরা তোমার জন্য খুবই ব্যথিত।
৫৯২০
ছেলেদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর দয়া, বিনয়, আন্তরিকতা এবং তাঁর মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাইতে শিশুদের প্রতি বেশি দয়াশীল আর কাউকে আমি দেখিনি। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর ছেলে) ইব্রাহিম (রাঃ) মদিনার গ্রামাঞ্চলে দুধ পান করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দেখার জন্য সেখানে যেতেন আর আমরাও তাঁর সাথে যেতাম। তিনি ধাত্রীর গৃহে ঢুকতেন, আর সেখানে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকত। কেননা, তার দুধপিতা কর্মকার (কামার) ছিলেন। তিনি ছেলেকে কোলে তুলে চুমু খেতেন। পরে তিনি প্রত্যাবর্তন করতেন। আমর ইবনু সাঈদ (রাঃ) বলেন, যখন ইব্রাহিম (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইব্রাহিম আমার পুত্র, দুধ পান করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। তার জন্য দুধপিতা ও দুধমাতা রয়েছে, যারা জান্নাতে তাকে দুধ পান করার সময়-সীমা পর্যন্ত দুধ পান করাবে।