৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৭২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৭১১
জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
আবু তাহির (রহঃ) .... ইবন শিহাব (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে জুহরী (রহঃ) হতে মাকিল (রহঃ)-এর হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৫৭১২
জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে আনসারদের জনৈক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা এক রাত্রে নবী (ﷺ) এর সাথে বসা ছিলেন। সে সময় একটি নক্ষত্র পতিত হলো, যার দরুন আলোকিত হয়ে উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বললেন, এ ধরনের (তারকা) পতিত হলে অজ্ঞতার যুগে তোমরা কি বলতে? তারা বলল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক ভাল জানেন। আমরা বলতাম, আজ রাতে মনে হয় কোন মহান লোকের জন্ম হয়েছে অথবা কোন মহান লোক মৃত্যুবরণ করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জেনে রাখো যে, তা কারো মৃত্যু কিংবা কারো জন্মের কারণে পতিত হয় না; কল্যাণময় ও মহান নামের অধিকারী আমাদের প্রতিপালক যখন কোন বিষয়ের সমাধান করেন, তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করেন। অতঃপর তাসবীহ পাঠ করেন সে আকাশের ফেরেশতারা, যারা তাদের পার্শ্ববর্তী; পরিশেষে তাসবীহ পাঠ এ নিকটবর্তী (পৃথিবীর) আকাশের অধিবাসীদের পর্যন্ত পৌঁছে। অতঃপর আরশ বহনকারীদের পার্শ্ববর্তী যারা, তাঁরা আরশ বহনকারীদের বলেন, তোমাদের প্রতিপালক কি বললেন? সে সময় তিনি তাদের যা কিছু বলেছেন, তারা সে সংবাদ বর্ণনা করে। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আকাশসমূহের অধিবাসীরা একে অপরকে সংবাদ আদান-প্রদান করেন। পরিশেষে এ নিকটবর্তী আকাশে সংবাদ পৌঁছে। সে সময় জিনেরা অতর্কিতে গোপন খবরটি শুনে নেয় এবং তাদের দোসর জ্যোতিষীদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়, আর সাথে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দেয়। ফলে যা তারা ঠিকঠাকভাবে নিয়ে আসতে পারে, তাই ঠিক হয়; তবে তারা তাতে (কথামালা) সুবিন্যস্ত ও সংযোজন করে।
৫৭১৩
জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
যুহায়র ইবনু হারব, আবু তাহির হারমালাহ ও সালামা ইবনু শাবীব (রহঃ) ... জুহরী (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইউনুস (রহঃ) বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আনসার সাহাবীগণের কতিপয় লোক আমাকে বলেছেন। আর আওযাঈ (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তবে তারা সেটার মধ্যে (কথামালা) সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে দেয়। আর ইউনুস (রহঃ) এর হাদীসে আছে, এতে তারা অতিরিক্ত ও অতিরঞ্জিত করে।ইউনুস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে বাড়িয়ে বলেছেন, আল্লাহ বলেছেন, “পরিশেষে যখন তাদের অন্তর হতে সংশয় দূর করে দেয়া হয়, সে সময় তারা বলে, তোমাদের স্রষ্টা কি বললেন? তারা বলে ঠিকই বলেছেন”— (সূরা সাবা ৩৪: ২৩)। আর মাকিল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আওযাঈ (রহঃ) যেমন বলেছেন, তবে তাতে তারা সুবিন্যস্ত ও সংযোজিত করে এরই উল্লেখ আছে।
৫৭১৪
জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষীর কাছে গমনাগমন নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না আনাযী (রহঃ)
নবী (ﷺ)-এর কতক স্ত্রীর সানাদে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। যে লোক ‘আররাফ’ (অর্থাৎ হারানো জিনিসের সংবাদদাতা) এর (গণকের) নিকট গেল এবং তাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করল চল্লিশ রাত্রি তার কোন সালাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
৫৭১৫
কুষ্ঠ প্রভৃতি রোগাক্রান্ত ব্যক্তি হতে বেঁচে থাকা পরিচ্ছেদ নাই
আমর ইবনু শারীদ (রাঃ)
ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ... আমর ইবনু শরীদ (রাঃ) এর সানাদে তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। সাকীফ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে জনৈক কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। নবী (ﷺ) তার নিকট (খবর) পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বাই‘আত করে নিয়েছি, তুমি ফিরে যাও।
৫৭১৬
সর্প ইত্যাদি হত্যা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিঠে দুটি শুভ্র রেখাযুক্ত বিষধর সাপ হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। কারণ সেটা চোখের জ্যোতি হরণ করে নেয় এবং গর্ভস্থ সন্তানের উপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেলে।
৫৭১৭
সর্প ইত্যাদি হত্যা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) হিশাম (রহঃ) ... উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন এবং বলেন, ‘লেজবিহীন পিঠে দুইটি শুভ্র রেখাযুক্ত সর্প’।
৫৭১৮
সর্প ইত্যাদি হত্যা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
সালিম (রহঃ)
আমর ইবনু মুহাম্মাদ আন নাকিদ (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। এমন সব সাপ যেগুলোর পিঠে দুইটি শুভ্র রেখা যুক্ত ও লেজবিহীন সাপ মেরে ফেলে। কারণ, এই দুইটি গর্ভপাত ঘটায় এবং চোখের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।বর্ণনাকারী বলেন, তাই ইবন উমর (রাঃ) যে কোন সর্প পেলে সাথে সাথে তাকে মেরে ফেলতেন। (একদিন) আবু লুবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রহঃ) কিংবা যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে লক্ষ্য করলেন যে, তিনি একটি সাপ মারার জন্য ছুটছেন। তখন তিনি [আবু লুবাবা বা যায়দ (রাঃ)] বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর বাড়িতে বসবাসকারী (সাপ) হত্যা করতে বারণ করেছেন!
৫৭১৯
সর্প ইত্যাদি হত্যা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি কুকুর ধ্বংসের নির্দেশ প্রদান করতে শুনেছি- তিনি বলতেন, সাপ আর কুকুরগুলো মেরে ফেল। আর (বিশেষত) পিঠে ডোরাকাটা ও লেজকাটা সাপ মেরে ফেল। কেননা, এ দুইটি মানুষের চোখের শক্তি কেড়ে নেয় এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটায়। (সনদের মধ্যবর্তী) বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ) বলেন, আমাদের অনুমানে সেটি তাদের বিষের কারণে; তবে এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা সর্বাধিক জ্ঞাত।বর্ণনাকারী সালিম (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, তারপরে আমার অবস্থা এমন হলো যে, কোন সর্প দেখলেই আমি তাকে হত্যা না করে ছাড়তাম না। একদিনের ঘটনা, আমি গৃহে অবস্থান করে এমন একটি সাপ ধাওয়া করছিলাম। তখন যায়দ ইবন খাত্তাব (রাঃ) অথবা আবু লুবাবা (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর আমি ধাওয়া করছিলাম। তিনি বললেন, থামো! হে আবদুল্লাহ! তখন আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো এদের হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর-বাড়িতে অবস্থানকারী সাপ ধ্বংস করতে বারণও করেছেন।
৫৭২০
সর্প ইত্যাদি হত্যা প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
যুহ্‌রী (রহঃ)
হারমালা ইবনু ইয়াহিয়া, আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে (শেষ সানাদে) বর্ণনাকারী সালিহ (রহঃ) বলেছেন, ‘পরিশেষে আবু লুবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রাঃ) এবং যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে প্রত্যক্ষ করলেন... এবং তাঁরা উভয়ে বললেন যে, তিনি ঘরবাড়িতে অবস্থানকারী সাপ হত্যা করতে বারণ করেছেন। আর (প্রথম সূত্রের) বর্ণনাকারী ইউনুস (রহঃ) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে- ‘সব ধরনের সাপ মেরে ফেল’। তিনি ‘পিঠে ডোরাকাটা বিশিষ্ট ও লেজকাটা সাপ’ কথাটি উল্লেখ করেননি।