৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৫৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৫৮১
আগে এসে বসা বৈধ অবস্থান থেকে কোন মানুষকে উঠিয়ে দেয়া হারাম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। জুম্মার দিনে তোমাদের কেউ (মসজিদের কাতার হতে) তার ভাইকে উঠিয়ে দিয়ে তার বসার জায়গায় বসবে না; বরং সে বলবে, ‘বিস্তার করে দিন’।
৫৫৮২
কেউ আসন ছেড়ে উঠে গিয়ে আবার ফিরে আসলে সে অধিক হকদার হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সানাদে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ ‘তোমাদের কেউ’ যখন (তার স্থান থেকে) (কিছু সময়ের জন্যে) উঠে যায়......এ বর্ণনা কুতাইবা (রাঃ)-এর ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী আবদুল আজিজ (রহঃ)-এর এবং অপর ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী আবু আওয়ানাহ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে আছে, যে লোক তার জায়গা ছেড়ে উঠে যাওয়ার পর আবার সেখানে ফিরে আসে, তাহলে সে সেই স্থানে (পুনরায় বসার ব্যাপারে) বেশি হকদার।
৫৫৮৩
পরিচয়বিহীন (অমুহরিম) নারীদের নিকট হিজড়াকে প্রবেশে বাধাদান পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)
এক হিজড়া তার নিকট বসা ছিল। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ছিলেন। সে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর ভাইকে বলতে লাগল-হে আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া! যদি আগামী দিনে আল্লাহ তা'আলা আপনাদেরকে তায়েফ বিজয়ী করেন, তাহলে আমি আপনাকে গাইলান-কন্যাকে দেখাব, সে চারটি নিয়ে সম্মুখে আসে আর আটটি নিয়ে পশ্চাৎদিকে যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ ধরনের কথা বলতে শুনে বললেন, এ যেন তোমাদের নিকট প্রবেশ না করে।
৫৫৮৪
পরিচয়বিহীন (অমুহরিম) নারীদের নিকট হিজড়াকে প্রবেশে বাধাদান পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
এক হিজড়া, নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণীদের নিকট প্রবেশ করত। মানুষজন তাকে বুদ্ধিজ্ঞানহীন হিজড়াদের অন্তর্ভুক্ত মনে করত।বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) একদিন গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন সে তাঁর কোন এক স্ত্রীর নিকট ছিল আর সে এক মহিলার (দেহ সৌষ্ঠবের) বর্ণনা দিয়ে বলছিল- 'যখন সম্মুখে অগ্রসর হয় তখন চার নিয়ে অগ্রসর হয় এবং যখন পশ্চাতে ফিরে তখন আটটি নিয়ে ফিরে যায়।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সাবধান! এ তো দেখছি এখানকার (নারী রহস্যের) বিষয়াদি বুঝে শুনে। সে যেন তোমাদের নিকট কখনো প্রবেশ না করে।আয়েশা (রাঃ) বলেন, তারপর তারা তার থেকে পর্দা করত।
৫৫৮৫
অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ)
যুবাইর (রাঃ) আমাকে বিবাহ করলেন, সে সময় একটি ঘোড়া ছাড়া কোনো যোগ্য সম্পদ, গোলাম বা অন্য কোনো কিছু দুনিয়াতে তাঁর ছিল না। আসমা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর ঘোড়াটাকে ঘাস খাওয়াতাম, তাঁর পারিবারিক কাজকর্মও করতাম। আমি তাঁর যত্ন নিতাম, তাঁর পানিবাহী উটের জন্য খর্জুর বিচি কুড়াতাম, তাকে ঘাস খাওয়াতাম, পানি নিয়ে আসতাম, তাঁর ঢোল ইত্যাদি মেরামত করতাম এবং রুটির জন্য আটা মাখতাম। তবে আমি ভালো রুটি বানাতে পারতাম না। তাই আমার কতিপয় আনসারী সাথিনীরা আমাকে রুটি বানিয়ে দিত। তাঁরা ছিলেন স্বার্থহীন রমণী।আসমা (রাঃ) বলেন, আমি যুবাইর-এর জমি থেকে যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জায়গীর রূপে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে খেজুরের বিচি কুড়িয়ে আমার মাথায় করে বয়ে আনতাম। সে জমি ছিল এক ক্রোশের দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় দুই মাইল) দূরে অবস্থিত।আসমা (রাঃ) বলেন, আমি একদিন আসছিলাম আর বিচির বোঝা আমার মাথায় ছিল। পথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দেখা পেলাম, সে সময় তাঁর সাথে সাহাবীদের একটি ক্ষুদ্র দল ছিল। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তাঁর বাহন উটটিকে বসাবার জন্য ‘ইখ ইখ’ (আওয়াজ) করলেন যাতে আমাকে সেটির পেছনে উঠিয়ে নিতে পারেন। আসমা (রাঃ) বলেন, আমি লজ্জাবোধ করলাম আর আমি ছিলাম যুবাইর (রাঃ)-এর আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে জ্ঞাত। যুবাইর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমার মাথায় করে বিচি বয়ে আনাটা তাঁর সাথে তোমার আরোহণের চাইতে অনেক কঠিন (ও কষ্টকর)।আসমা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) আমার নিকট একজন খাদেম প্রেরণ করলেন। ঘোড়াটি দেখাশুনার কাজে সে আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে গেল। সে যেন আমাকে এ দায়িত্ব হতে মুক্ত করেছিল।
৫৫৮৬
অজ্ঞাত নারী পথ-শ্রান্ত হলে তাকে আরোহণের পিছে বসিয়ে দেয়া বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আবু মুলাইকাহ (রাঃ)
আসমা (রাঃ) বলেছেন, আমি পারিবারিক কাজে যুবাইর (রাঃ)-এর সেবা করতাম। তাঁর একটি ঘোড়া ছিল। আমি-ই তা দেখাশোনা করতাম। ঘোড়াটির দেখাশোনা করার চেয়ে কোন কর্ম আমার নিকট ভারী ছিল না। আমি তার জন্য ঘাস জোগাড় করতাম, তার দেখাশোনা ও সেবা-পরিচর্যা করতে থাকতাম।বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি একটি খাদেম পেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী এলে তিনি তাকে একটি খাদেম দিলেন। তিনি [আসমা (রাঃ)] বলেন, সে (খাদেম) ঘোড়ার দেখাশোনায় আমার জন্য যথেষ্ট হলো এবং আমি দায়িত্বমুক্ত হলাম।তখন এক অভাবী লোক আমার নিকট এসে বলল, হে আব্দুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। তিনি বললেন, তোমাকে আমি অনুমতি দিয়ে ফেললে যুবাইর (রাঃ) (সম্ভবত) তা বাতিল করবে। তাই এক কাজ করো, যুবাইর (রাঃ) উপস্থিত থাকা অবস্থায় তুমি এসে আমার নিকট প্রস্তাব করবে। ঠিক সময় এসে সে বলল, হে আব্দুল্লাহর মা! আমি একজন অভাবী মানুষ, আপনার গৃহের ছায়ায় বসে বেচাকেনা করার ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন, আমার গৃহ ব্যতীত তোমার জন্য মদীনায় আর কোন স্থান নেই (কি)? সে সময় যুবাইর (রাঃ) তাকে বললেন, একটা অভাবী মানুষকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দিতে তুমি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছো কেন? তারপর সে (সেখানে) ক্রয়-বিক্রয় করে (বেশকিছু) আয় করল, আমি খাদেমটি তার নিকট বিক্রি করে দিলাম। এ সময় যুবাইর (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশ করল-তখন ও তার (বিক্রয়কৃত) মূল্য আমার কোলের উপর ছিল। সে বলল ওগুলো আমাকে দান করে দাও। (আমি বললাম), আমি ওগুলো সদাকা করে দিয়েছি।
৫৫৮৭
তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাকে রেখে দু'জনের চুপি চুপি কথা বলা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যখন তিনজন থাকবে, তখন একজনকে রেখে দুইজনে কানে কানে কথা বলবে না।
৫৫৮৮
তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাকে রেখে দু'জনের চুপি চুপি কথা বলা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু উমর (রাঃ)-এর সানাদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে।
৫৫৮৯
তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাকে রেখে দু'জনের চুপি চুপি কথা বলা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন দুইজন আরেকজনকে বাদ দিয়ে চুপিচুপি কথা বলবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মিশে যাও- এ কারণে যে, তাহলে তাকে দুঃখ দিতে পারে।
৫৫৯০
তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাকে রেখে দু'জনের চুপি চুপি কথা বলা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন দুইজন তাদের সঙ্গীকে বাদ দিয়ে কানাঘুষা করবে না, (কারণ) তা তাকে দুর্ভাবনায় ফেলবে।