৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৬০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৫৯১
তৃতীয় ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাকে রেখে দু'জনের চুপি চুপি কথা বলা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আল্‌ আ’মাশ (রহঃ)
ইসহাক ইবন ইব্রাহিম ও ইবন আবু উমর (রহঃ) ... আল আমাশ (রহঃ)-এর সানাদে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫৫৯২
চিকিৎসা, ব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লে জিবরীল (আঃ) এ দোয়া পড়ে তাঁকে ফুঁকে দিতেন, তিনি বলতেন, আল্লাহর নামে-তিনি আপনাকে (ব্যাধি) সুস্থতা দান করুন, সব ব্যাধি থেকে আপনাকে মুক্ত করুন, আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে এবং সকল প্রকার কুদৃষ্টি ব্যক্তির ক্ষতি হতে।
৫৫৯৩
চিকিৎসা, ব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ (রাঃ)
জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (জিবরীল) বললেনঃ আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সে সব জিনিস হতে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব আত্মার খারাবী অথবা কুদৃষ্টি হতে আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।
৫৫৯৪
চিকিৎসা, ব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্‌ (রহঃ)
এ হলো ঐ সমস্ত (হাদীস), যা আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কয়েকটি হাদীস আলোচনা করেন। সেগুলোর অন্যতম একটি হলো- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুদৃষ্টির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাস্তব।
৫৫৯৫
চিকিৎসা, ব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সনদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত। ‘কুদৃষ্টির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাস্তব’। কোন বিষয় যদি ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত, তাহলে ‘কুদৃষ্টি’ ভাগ্যলিপিকে অতিক্রম করত এবং তোমাদের (কুদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের) -কে গোসল করতে বলা হলে তোমরা গোসল করাবে।
৫৫৯৬
যাদুকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
লাবীদ ইবনু আসাম নামে বানূ যুরাইক সম্প্রদায়ের এক ইয়াহুদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যাদু করল। এ যাদুর কারণে এমনও হত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্মরণ হত যে কোন (পার্থিব) কাজ তিনি করছেন, অথচ (প্রকৃতভাবে) তিনি তা করছেন না।পরিণামে একদিনে কিংবা এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন; আবার দোয়া করলেন, আবার দোয়া করলেন। অতঃপর বললেনঃ হে আয়েশা! তুমি কি অনুধাবন করতে পেরেছ যে, আল্লাহ আমাকে সে ব্যাপারে সমাধান দিয়েছেন, যে ব্যাপারে আমি তাঁর নিকট সমাধান চেয়েছিলাম? (তা এভাবে যে) (দু’জন ফেরেশতা) দু’লোক (মানুষের বেশ ধরে) আমার নিকট আসলো। তাদের একজন আমার মস্তকের নিকট এবং অপরজন আমার পায়ের নিকট বসল। অতঃপর আমার মাথার নিকটের লোক পায়ের নিকটের লোককে অথবা আমার পায়ের নিকটের লোকটি আমার মাথার নিকটের লোকটিকে বলল, লোকটির ব্যাধি কী? (অপরজন) বলল, ‘যাদুগ্রস্ত’। (প্রথম জন) বলল, কে তাকে যাদু করেছে? (দ্বিতীয় জন) বলল- লাবীদ ইবনু আসাম। (প্রথমজন) বলল, কোন জিনিসে? (দ্বিতীয় জন) বলল- চিরুনি, (আঁচড়ানোর সময় চিরুনির সঙ্গে) উঠা চুল, (আরও) বলল, পুরুষ খেজুরের ফুলের বেষ্টনীতে। (প্রথমজন) বলল, তা কোথায়? (দ্বিতীয় জন) বলল- ‘যী আরওয়ান’ কুয়ায়।তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কতিপয় সাহাবীকে সাথে নিয়ে সেখানে আসলেন। তারপর (ফিরে এসে) বললেন, হে আয়েশা! আল্লাহর কসম, সে (কূপের) পানি যেন ‘মেহেদীপাতা ভিজানো’ (পানি) এবং সেখানকার খেজুর গাছ যেন শয়তানের মস্তিষ্ক।তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আপনি তা (জনসমক্ষে) পুড়ে ফেললেন না কেন? তিনি বললেন, না, (আমি তা উচিত মনে করিনি)। কেননা, আল্লাহ আমাকে তো রোগমুক্ত করেছেন-আর লোকদেরকে কোন অকল্যাণে উত্তেজিত করা অপছন্দ করছি। আমি সে ব্যাপারে নির্দেশ দিলাম। ফলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
৫৫৯৭
যাদুকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জাদু করা হলো ...... আবু কুরাইব (রহঃ) এ হাদিসটি বিস্তারিত বর্ণনাসহ (উপরোক্ত) ইবনু নুমাইর (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের অর্থানুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাতে এ কথাটিও বলেছেন-পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কূপের নিকট গমন করলেন এবং সেটির (চার) দিকে লক্ষ্য করলেন। তাতে একটি খেজুর গাছ রয়েছে।তিনি [আয়িশা (রাঃ)] আরও বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আপনি তা (লোকালয়ে) বের করে ফেলেন। এ বর্ণনায় জ্বালিয়ে দেয়ার অংশটি বর্ণনা করেননি এবং আমি সে সম্পর্কে নির্দেশ দিলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো, (কথাটিও) বর্ণনা করেননি।
৫৫৯৮
বিষ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
এক ইহুদি নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বিষ মেশানো ছাগলের গোশত নিয়ে আসলো। তিনি সেখান হতে (কিয়দংশ) খেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি তার কাছে (সে কেন এমন করলো) এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলল, আমি আপনাকে হত্যা করার ইচ্ছা করছিলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এ বিষয়ে তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না অথবা তিনি বললেনঃ আমার উপরে ক্ষমতা দিবেন এমন নয়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা (সাহাবীগণ) বললেন, আমরা কি তাকে ‘হত্যা’ করবো না? তিনি বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আলজিভ ও তালুতে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমি সর্বদা লক্ষ্য করতাম।
৫৫৯৯
বিষ পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু যায়দ (রহঃ)
আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, একজন ইহুদি নারী গোশতে বিষ মিশিয়ে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসলো। ...... (উপরোক্ত রিওয়ায়াতের) বর্ণনাকারী খালিদ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদিসের অর্থানুযায়ী হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫৬০০
রোগীকে ঝাড়ফুঁক , মন্ত্র করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আমাদের কোন মানুষ পীড়িত হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ডান হাত দ্বারা তাকে মুছে দিতেন, তারপর বলতেনঃ أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا সমস্যা বিদূরিত করে দিন, হে জনগণের পালনকর্তা! আর সুস্থতা দান করুন, আপনিই সুস্থতা দানকারী। আপনার সুস্থতা ও মুক্তি ছাড়া আর কোন (প্রকৃতপক্ষে নির্ভরযোগ্য) শিফা নেই। এমন নিরাময় করুন যার পর কোন রোগ-ব্যাধি বাকী না থাকে।পরবর্তীতে যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পীড়িত হলেন তখন অসুখে অতি দুর্বল হয়ে পড়লেন, সে সময় আমি তাঁর হাত তুলে ধরলাম- যাতে আমিও তেমন করে (মুছে) দিতে পারি তিনি (ﷺ) যেমন করে (মুছে) দিতেন। কিন্তু তিনি আমার হাত থেকে তাঁর হাত টেনে (ছাড়িয়ে) নিলেন। অতঃপর বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে মহান সঙ্গীর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন! তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, হঠাৎ আমি দেখলাম যে, তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন (ইন্তেকাল করেছেন)।